নাগরিক কথা

মুজিবের বিচার চাই

মুজিবের বিচার চাই Neon Aloy

বঙ্গবন্ধু আপনি বলেছিলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী হতে চান না। আপনি নাকি এই দেশের মানুষের মুক্তি চান, আপনি চান এই দেশের স্বাধীনতা। কে বলেছিল আপনাকে এতো দরদ দেখাতে? আসলে আপনার ভেতর লোভ ছিল। লোভ ছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবার। কথায় আছে, লোভে পাপা আর পাপে মৃত্যু! ঠিক যেমনটা আপনার আর আপনার পরিবারের কপালে জুটেছে।

মুজিব আপনি যদি জানতেন, এই জাতি কতোটা বেঈমান, কতোটা অকৃতজ্ঞ তাহলে আপনি আর এই দেশের মুক্তি চাইতেন না। আপনি জানেন না, এইদেশে এখন আপনাকে কত গালি দেয়া হয়। আপনি চলে যাবার পর এই দেশে এখন মাতব্বরের অভাব নেই। যারা বলে- “আরে বঙ্গবন্ধু কি এমন করছে? উনি তো খালি মানুষ কে উসকায় দিয়ে পাকিস্তান চলে গেছে।” আরে গাধার দল, তোমরা তখন কোথায় ছিলা? তোমরাই উসকায় দিতা মানুষ কে। বঙ্গবন্ধু কে দরকার হলো কেন?

পাকিস্তানি, জামাতিদের পাশে বসিয়ে রেখে, তোমারই দিয়ে যাওয়া এই দেশের আলো-বাতাসে বাঁচে এরা আবার তোমার সাথে পাকিস্তানের যোগসাজশ খুঁজে বেড়ায়। তাদের বড় কষ্ট, কেন ৭ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করা হলো না। তাদের রাতের ঘুম আজও হারাম হয় টক শো তে বসে বসে এই চিন্তায় যে, কেন আপনি ২৫ মার্চ এতো গুলা মানুষের প্রাণ নিতে দিলেন। আহারে! বেচারাদের মন খারাপ! তাদের কাছে মনে হয় তাদের পাকিস্তানি পিতারা বলে গিয়েছিল যে, ৭ মার্চ ঘোষণা টা হলেই এক বাক্যে তারা মেনে নিব। ভুট্টো সাহেব ভুট্টা চিবাতে চিবাতে ইয়াহিয়াকে নিয়ে হাওয়া হয়ে যাবে।

আজকে এরা এক মেজর কে নিয়ে লাফায়! জিয়াই নাকি এদেশের মুক্তিদাতা! তাঁর নির্দেশেই নাকি ঘুম থেকে উঠেই সবাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লেগে গেল। দোকান থেকে ললিপপ কেনা আর স্বাধীনতা বোধ হয় একই রকম। চাইলেই পাওয়া যায়। রেডিওতে গিয়ে ঘোষণাটা দিলেই হলো। নগদ নগদ স্বাধীনতা হাজির! আল্লাহ্‌ই জানে কবে যেন এরা আবার কোন এক মেজর কে ধরে এনে ঢাকা কে স্বাধীন করে ফেলে!

বাঙ্গালী অনেক চালাক। কিন্তু নেতা আপনি বোকা! আপনি এদের আবার বিশ্বাস করতেন। আপনি যখন দেখলেন সাড়ে সাত কোটি কম্বল আসার পরেও এই দেশের মানুষের অভাব যায় না, তখনি আপনার বোঝার দরকার ছিল যে, এদের জন্য পাকিস্তানিরাই ভালো ছিল। ডান্ডার মাইরের ভয়ে সোজা থাকত এরা।

এদেশের মানুষ এখনো বিশ্বাস করে আপনি ছিলেন ভারতের দালাল। আপনি না মরলে দেশ বেইচা দিতেন। আপনার ছেলেরা ছিল ডাকাত। আপনার বেঁচে থাকাই পাপ ছিল।

কেন স্বাধীন করলেন এই দেশ? এই সব দেখার জন্য?

আপনি নাকি এদের ধর্মনিরপেক্ষতা শিখিয়েছিলেন? কই? আজ তারা ভাতের চেয়েও আস্তিক-নাস্তিক বেশি খায়। যারা এক ওয়াক্ত নামায ঠিক মতো পড়ে না কিন্তু আস্তিক-নাস্তিকের প্রশ্নে এরা সর্বদা দন্ডায়মান। এরা বিশ্বাস করে মেয়েরা পাইলট হলো দুর্ঘটনা তো হবেই। যাদের চোখের সামনে দিয়ে একটা মেয়ে হেঁটে গেলেই ওজু নষ্ট হয়ে যায় তাদের আপনি শিখিয়েছেন ধর্মনিরপেক্ষতা!

এদেশের মানুষ এখন অনেক অতিথিপরায়ণ। পাকিস্তানিরা এদেশে খেলতে আসলে তাদের সমর্থনে স্টেডিয়াম জুড়ে “পাকিস্তান পাকিস্তান” চিৎকারে চারিদিক মুখর থাকে। অথচ এই জারজেদের কান দু লাখ মা-বোনের চিৎকার শোনে না!

এদেশে এখন সেই রাজাকারদের বাঁচাতে কালো কোট পরা উকিলদের অভাব হয় না। পেশাদারিত্বের কথা বলে বিলেত ফেরত বড় বড় ব্যারিস্টার সাহেবরা যারা একসময় এদেরই বিপক্ষে লড়েছে , তারা এখন  গোলাম আযাম, নিজামী সাকার পক্ষে দাঁড়ায়। অমানুষের দল! নিজের বাবা, সন্তান কোন দিন খুন হইলে সেই আসামীর পক্ষে দাঁড়ায় বইলো পেশাদিরিত্বের কথা! দেখবোনে গলায় কতটুকু শব্দ হয়!

এই পাকি, জামাতিদের ফাঁসি চাইলে আবার নাস্তিক গালি খেতে হয়।

নেতা আপনি জানেন? এদেশে গোলাম, নিজামী, সাকার জানাযায় কত লোক হয়? এদেশে তাদের পীরের মতো মানে। যতবার মুজিব নামে গালি দেয় তাঁর থেকেও বেশি তাদের নামে তজবি জপে এদেশের মানুষ।

এদেশে কে এখন আপনার থেকে বেশি ভালোবাসার মানুষের অভাব নাই। এদেশে এখন লীগারেরও অভাব নাই। লতা, পাতা, গুল্ম, বৃক্ষ সবাই আওয়ামীলীগ! এদেশে এখন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে নারীর কাপড়ে হাত দেয়া হয়।

একটা কাজ ভালোই হয়েছে। আপনাকে এরা মেরে ফেলছে। নাহলে কবে যেন বলা শুরু করতো পাকিস্তান ভাঙ্গার দায়ে “বঙ্গবন্ধুর বিচার চাই”।

তবুও স্বপ্ন দেখি। আপনার কন্ঠ আজও সেই সাহস জোগায়!

 

[এডিটরস নোটঃ নাগরিক কথা সেকশনে প্রকাশিত এই লেখাটিতে লেখক তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তার অভিমত প্রকাশ করেছেন। নিয়ন আলোয় শুধুমাত্র লেখকের মতপ্রকাশের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফরমের ভূমিকা পালন করেছে। কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির সম্মানহানি এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আপনার আশেপাশে ঘটে চলা কোন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরতে চান সবার কাছে? আমাদের ইমেইল করুন neonaloymag@gmail.com অ্যাড্রেসে।]

Most Popular

To Top