ইতিহাস

সেকালের রাজা-মহারাজাদের নগ্নতার আনন্দ!

সেকালের রাজা-মহারাজা ও তাদের নগ্নতার আনন্দ! neonaloy

আজ থেকে কয়েকশ বছর আগের রাজা, মহারাজা বা এদের সহযোগীদের বিনোদন বলতে বোধয় শুধু নারী, নারীর নানা রকম সৌন্দর্য আর নারীর নগ্নতাই ছিল! তাদের সব রকমের বিনোদন বলতে নারীদেহ ছাড়া বোধয় আর তেমন কোন কিছুই ছিল না! যদিও এমন নয় যে, এর আগে যে কখনো নগ্ন বা অর্ধ নগ্ন নারীদের মূর্তি চোখে পরেনি।

তবে এবারের মতো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে এর আগে কখনো দেখা হয়নি। কিন্তু এবার যখন মুর্শিদাবাদ গিয়ে পুরনো ইতিহাসের সাক্ষ্য নিয়ে দাড়িয়ে থাকা পুরনো স্থাপনা গুলো দেখতে গেলাম, তখনই অবাক হয়ে দেখতে লাগলাম যেখানেই যাই সেখানেই নগ্ন, অর্ধনগ্ন আর প্রায় বস্ত্রহীন নারীদের মূর্তির ছড়াছড়ি চারদিকে!

প্রথম প্রথম ততটা খেয়াল করিনি, ভেবেছিলাম অমন তো অনেক জায়গাতেই দেখি বা দেখে থাকি, এটা তেমন কিছু নয়। কিন্তু সেই ধারনা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে লাগলো, যখন মূল স্থাপনার ভিতরে প্রবেশ করতে শুরু করলাম আর দেখতে পেলাম পুরো বাড়ির সকল জায়গাতেই নগ্ন আর অর্ধনগ্ন বা প্রায় বস্ত্রহীন নারীদের নানা রকম অঙ্গভঙ্গীরত মূর্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হোক সেটা বেডরুম, ডাইনিং রুম, ড্রইংরুম বা একান্ত ব্যক্তিগত কোন রুম। এমনকি খোলা চত্তরে পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে নানা আকারে আর প্রকারে নগ্ন মূর্তির পসরা সাজানো।

সেকালের রাজা-মহারাজা ও তাদের নগ্নতার আনন্দ! neonaloy

 

এমন সব জায়গায় এধরনের মূর্তি দেখার পর একটা ভাবনা এলো। মূর্তি গুলোকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার ভাবনা, যিনি মূর্তি তৈরি করেছেন সেই সময় তার মন বাসনা, বা ওই নারী মূর্তি নিয়ে তার ভাবনাটা কেমন ছিল? আবার যার জন্য মূর্তি গড়া হয়েছিল তার রুচি, ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা বা অনুভূতি গুলো কেমন ছিল?

অনেক রকম ভাবনার মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে একটা ভাবনা খুব কমন ছিল, সেটা হল যে মূর্তি গড়েছে তার ক্ষেত্রেও আর যার জন্য মূর্তি গড়া হয়েছে তার ক্ষেত্রেও! এমন কি যারা এইসব মূর্তি পরে দেখবে বা চোখে পরবে তারাও যেন মূর্তির রূপের, কাঠামোর, গড়নের, আর আকারের আকর্ষণে একটু থেমে যেতে বাধ্য হয়! তার প্রমাণ আমি নিজেই!

মূর্তির গড়ন, আকর্ষণ আর নানা ভঙ্গিমায় তাদের আহবান দেখে থমকে না গিয়ে পারিনি। দেখছিলাম আর ভাবছিলাম কি অদ্ভুতভাবে আর কতটা অনুভব দিয়ে গড়া মূর্তিগুলো। আর যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি ভাবনায় ফেলেছে সেটা হল সেকালের রাজা মহারাজাদের বোধয় বিনোদন বলতে শুধু নারী আর নগ্নতাই ছিল! আর কিছুতেই বোধয় তাঁরা আনন্দ খুঁজে পেতেন না, উপভোগ, উদযাপন বা অনুপ্রেরণার জন্য আর বোধয় কোন অনুষঙ্গ তাদের ছিল না! তাই শুধু নারী আর তাদের নানা রকম রুপেই বিমুগ্ধ থাকতে চাইতো!

সেকালের রাজা-মহারাজা ও তাদের নগ্নতার আনন্দ! neonaloy

 

কিন্তু পরক্ষণেই ভাবনা এলো, কেন আমরা যে এই ভ্রমণ, প্রকৃতি, নানা রকম স্থাপনা এসবের মাঝেই তো কতশত আনন্দ, বেদনা, অনুপ্রেরণা, ঝড়, ঝঞ্ঝা আর জেগে ওঠার আনন্দ খুঁজে পাই, তাহলে তারা কেন পেতেন না? তাদের সময় তো এসব আরও বেশি বেশি ছিল চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। তাহলে কেন তার পরেও তারা ওই নারী আর তাদের নগ্নতাকেই এতো বেশী প্রাধান্য দিত? কি এমন আকর্ষণ আছে, ছিল বা পেত?

এই ভাবনা ভাবতে ভাবতেই একটু পরে নিজেই ভেবে দেখলাম যে, আসলে তখন চারদিকে শুধু প্রকৃতি, নদ-নদী, সবুজ এসবেই ভরপুর ছিল, নিত্যদিন এসব দেখে দেখে সেসবে আর কোন প্রশান্তি খুঁজে পেতেন না নিশ্চয়ই, তার উপর এখনকার মতো তেমন কোন প্রযুক্তি ছিল না তখন যে সেসব নিয়ে সময় কাটাবে। অধিকন্তু তখন মানুষের জীবন যাপন এখনকার মতো এতো কঠিন আর দুঃসাধ্য ছিল না। সেসময় এতো এতো ফসল আর অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ছড়াছড়ি ছিল যে এসব নিয়ে এতো কিছু ভাবতে হতো না কারো।

তার উপর রাজা-মহারাজাদের কথা তো একেবারেই আলাদা। তাদের তো সম্পদ আর প্রাপ্তির কোন সঠিক হিসেব ছিল না, ছিল না আয়ের আর রোজগারের কোন রকম চিন্তা, ছিল না জীবন-যাপনে কোন জটিলতা, সারাদিন বসে বসে ফরমায়েশ দিত আর এদিক সেদিক থেকে পাইক পেয়াদারা ছুটে আসতো, মহারাজের আদেশ পালনের জন্য।

আর মহাজারাদের যেহেতু তেমন কোন কাজ ছিল না তাই তারা সেখানেই মনোযোগ দিয়েছিলেন যেখানের রহস্যভেদ করা কারো পক্ষে কোনদিন সম্ভব হয়নি! যে আকর্ষণে কেউ কখনো ক্লান্তি বোধ করেনি, যে মুগ্ধতায় কেউ কখন বিমুখ হয়নি, যে পিপাসার কখনো কোন তৃষ্ণা মেটেনি! সে হল নারী আর তার নানা রূপের রহস্যের, রঙের, ঢঙের আর তার নগ্নতার শৈল্পিক প্রকাশে!

সেকালের রাজা-মহারাজা ও তাদের নগ্নতার আনন্দ! neonaloy

 

তাই তারা যে কোন রকম আনন্দ, উদযাপন, ভোগ বা উপভোগ, অনুপ্রেরণা বা উৎসাহ সবকিছু ওই নারীতে আর নগ্নতাতেই খুঁজে পেতেন আর নতুন নতুন রাজ্য, রাজকুমারী এমনকি কখনো রানীসহ রাজ্য জয়েও সিদ্ধহস্ত ছিলেন। নারী আর তার নানা রকম নগ্নতায় যদি সত্যি সত্যি তারা সব রকমের আনন্দ আর অনুপ্রেরণা খুঁজে নাই-ই পেতেন তবে বাড়ির সব যায়গায় কেন নগ্ন নারী মূর্তির ছড়াছড়ি?

গেট থেকে শুরু করে, উঠান, বৈঠকখানা, ডাইনিং, অন্দরমহল, বারান্দা, অতিথি মহল, সিঁড়ি, বারান্দা, পুকুর ঘাট, খোলা চত্তর সব জায়গায় কেন নানা রকম নারী মূর্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে সাজিয়ে রাখতেন? সেটাও তাদের রেখে ঢেকে নয়, কাউকে অর্ধ নগ্ন আর কাউকে পুরোপুরি নগ্ন করেই বসিয়ে, দাঁড়িয়ে, এমনকি কাউকে কাউকে আরও নানা রকম ভঙ্গিতে গড়ে তুলতেন আর সংরক্ষণ করতেন!

সেকালের রাজা-মহারাজা ও তাদের নগ্নতার আনন্দ! neonaloy

 

তার মানে কি এই নয় যে, সেই সময়ের রাজা-মহারাজারা নারী আর তাদের নানা রকম নগ্নতার মাঝেই পৃথিবীর সকল রকম আনন্দ আর হয়তো অনুপ্রেরণাও খুঁজে পেতেন? অন্তত তাদের সমস্ত রকম নারী মূর্তি গুলো দেখে আমার তো তেমনই বোধ হয়েছে। অন্যদের বোধের কথা জানিনা। আর তাদের সঠিক ভাবনাটাও জানা সম্ভব নয় কোন ভাবেই। তবে সকল অবস্থানে, নানা আকারের, রঙের আর ঢঙের নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নারী মূর্তি গুলো আমার কাছে তাদের একমাত্র আনন্দের উৎস বলেই মনে হয়েছে।

এটা জাস্ট আমার নিজের ব্যক্তিগত ভাবনা, অন্যদের সাথে ভাবনার ভিন্নতা থাকতেই পারে, স্বাভাবিক ভাবেই।

আমার কাছে সেকালের রাজা-মহারাজা মানেই নগ্ন নারীতে আনন্দ খুঁজে পাওয়ার একমাত্র আনন্দ বলে মনে হয়েছে। হয় সেটা বাস্তবে অথবা মূর্তিতে।

 

Most Popular

To Top