টেক

ফেসবুকের মাধ্যমে তথ্য ফাঁস!

ফেসবুকের মাধ্যমে তথ্য ফাঁস! neonaloy

ফেসবুকের স্ক্রল বাটন টিপতে টিপতে নিশ্চয়ই দেখে ফেলেছেন ফেসবুকেরই তথ্য পাচার সম্পর্কে বিস্ফোরক খবরটা, আর মনে মনে ভাবছেন যে আপনার কোন গোপন খবরটা জানি ফেসবুক প্রকাশ করে দিল।

মার্ক জুকারবার্গ ভাইয়ার জন্য এবছরটা মনে হয় বেশি খারাপ যাচ্ছে, প্রথমে ফেসবুকের নোটিফিকেশনসহ অন্যান্য নিয়ম পরিবর্তন করে বেচারা একটা বড় ধাক্কা খেয়ে ফেলেছে। এখন তথ্য ফাঁস করে দেওয়া সংক্রান্ত খবরটা সত্যিই বিব্রতকর।

ঘটনার শুরু

২০১৫ সালে অ্যাপস ডেভেলপার আলেক্সান্ডার কোগান যখন তার থার্ড পার্টি অ্যাপস “দিস ইজ ইউর ডিজিটাল লাইফ” এর ডাউনলোডকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য ফেসবুকের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন।

ফেসবুককে তিনি বলেন যে, এই অ্যাপসটি মনোবিদদের কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাদের কাজের জন্যই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সামান্য ব্যক্তিগত তথ্যাদি নেওয়া হবে।

কিন্তু অ্যাপসটি মাকড়সার মতো করে শুধু একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির তথ্য নিচ্ছে এমন নয়, এটি বরং ঐ ব্যক্তির ফেসবুকের বন্ধুবান্ধবদের ব্যক্তিগত তথ্যও নিয়ে নিচ্ছে। আরো চিন্তার বিষয় হচ্ছে যে এ তথ্যগুলো যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ক্যাম্ব্রিজ এনালাইটিকা নামের একটা কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের শনাক্ত করে এবং তার তালিকা ঐ দলের রাজনীতিবিদদের দিয়ে দেয় অর্থের বিনিময়ে। প্রায় দুই লাখ সত্তর হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারীকে তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় এই অ্যাপসটির মাধ্যমে, সাথে তাদের প্রায় পঞ্চাশ লাখ বন্ধুর কাছ থেকেও তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয় তাদের অজ্ঞাতসারেই।

পরবর্তীতে ফেসবুক এবং এনালাটিকার মধ্যেকার এ প্রতারণা ধরা পরে এবং চারিদিকে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। তবে শুধুমাত্র সমালোচনাতেই এ ঘটনা থেমে থাকবে বলে মনে হয় না, বরঞ্চ এর ফলাফল আরো সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি গুলো হচ্ছেঃ

ফেসবুকের উপর মানুষের বিশ্বাসে চিড় ধরা

বিশ্বাসের চেয়ে বড় কিছু নাকি আর নাই, তাই আমার মনে হয় ফেসবুকের কাছ থেকে ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস উঠে যাওয়া একটা বড় বিষয়। ফেসবুকের মতো সেবা প্রদানকারী কিংবা ফেসবুকের অবস্থান নিতে আগ্রহী এমন অনেক অ্যাপস রয়েছে।তবে ফেসবুকের এমন দুর্ঘটনার পরে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কেও মানুষ সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠবে।

শেয়ারে ধস

নোটিফিকেশন সংক্রান্ত ঝামেলায়, ফেসবুক ভিত্তিক বাণিজ্যিক সাইটগুলোতে সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেওয়ায় ফেসবুকের বেশ কিছু মুনাফা কমে যায় শেয়ারবাজার থেকে। এরপরেও জুকারবার্গ হয়তোবা ভেবেছিলেন যে, ফেসবুককে একটি সত্যিকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে সেখান থেকে আরো লাভ পাওয়া যাবে। মানুষের সামনে ফেসবুকের সমাজ থেকে কাউকে বিচ্ছিন্ন করে “ভার্চুয়াল বন্ধুদের” মাঝে নয় বরং বাস্তব জীবনের বন্ধুদের এবং পরিবারের সাথে যুক্ত করানোর “ক্রেডিট” পাবে ফেসবুক। কিন্তু তথ্য ফাঁসের এই বিষয়টি সত্যিই সেই সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে এনে দিয়েছে।

যদিও ফেসবুক এখনো পাঁচশ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রাপ্ত একটা প্রতিষ্ঠান, তারপরেও সোমবারের মধ্যেই ফেসবুকের শেয়ারের দাম কম গিয়েছে প্রায় সাত শতাংশ । অ্যাপল, গুগল, আমাজন আর মাইক্রোসফটের পিছনে থাকা ফেসবুক কোম্পানির জন্য এটা মোটামুটি ধরণের একটা ধাক্কার মতো।

আইনি ঝামেলা

ইতিমধ্যেই আমেরিকার রাজনীতিবিদেরা এই দুর্যোগের যথাযথ তদন্তের জন্য জোর তদবির করা আরম্ভ করেছেন। ফেসবুক যে এভাবে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য অন্যকে দিয়ে দিচ্ছে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য আইনকে মেনে করা হচ্ছে কিনা তা নিয়েও তদন্তের কথা বলা হচ্ছে।

এবং ট্রাম্প

সাম্প্রতিককালে আমেরিকায় কোন ঝামেলা হবে এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম উঠে আসবেনা এমনটা কিভাবে হয়।

জানা গিয়েছে, যে প্রতিষ্ঠান তথ্যগুলো নিয়েছে গোপনীয়ভাবে সেগুলো মূলত ব্যবহৃত হয়েছে ট্রাম্পের দলের নির্বাচনী প্রচারণায়।

ট্রাম্পের সাথে রাশিয়ার আঁতাত এবং ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে যে আবার প্রশ্ন উঠবে সেটা বলাই বাহুল্য।

ফেসবুকের বয়ান

যদিও এমন বড় একটা ধাক্কার পরে প্রথমে ফেসবুক থেকে বলা হয়েছিল, অ্যাপস ব্যবহারকারীরা জেনে বুঝেই এই অ্যাপস ব্যবহার করেছেন এবং ব্যবহারের পূর্বে যেকোন তথ্য প্রদানের অনুমতি দিয়েছেন।

এরপরে যখন পরিস্থিতি আরো অবনতি হচ্ছে তখন ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে এমন ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে একটা “পোস্ট” শেয়ার করেন এবং এই সমস্যা সমাধানে ফেসবুক কি কি উদ্যোগ নেবে তা উল্ল্যেখ করেন।

নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে কিন্তু তারপরেও একটা খচখচানি মনে সত্যিই রয়ে যায়। কারণ এমন অনেক কিছুই হয় প্রযুক্তির দুনিয়ায় যার অধিকাংশই আমাদের চোখের আড়ালে রয়ে যায়।

শুধু ফেসবুক নয়, ইন্সটাগ্রাম, ওয়ান ড্রাইভ সহ আরো নানান রকম অ্যাপস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংরক্ষিত তথ্য আসলেই যে কি করা হচ্ছে তা সম্পর্কে কি কারো স্বচ্ছ ধারণা আছে?

নাকি আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য সুন্দরভাবে অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছি তৃতীয় কোন ব্যক্তির হাতে এই তথ্য চলে যাওয়ার জন্য?

আরো পড়ুনঃ উপকারী কিছু অ্যাপস 

Most Popular

To Top