ইতিহাস

বিশ্বের খ্যাতনামা দশ অপরাধী (পর্ব-২)

বিশ্বের খ্যাতনামা দশ অপরাধী neonaloy

অপরাধ জগতের বাসিন্দাদের জীবন সম্পর্কে আমাদের কৌতুহল একটু বেশিই। আর তা যদি হয় অপরাধ সাম্রাজ্যের অধিকর্তাদের তাহলে কথাই নেই। কে তারা, কি তাদের পরিচয়, কিভাবে অপরাধ করতেন তা জানার আগ্রহে বইপত্র, ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি চলে প্রায়ই। আমারও এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ। এই জগতের বাসিন্দার হয় তুমুল মেধাবী ও বুদ্ধিমান। কিন্তু তারা তাদের এই মেধাকে মানবতার কল্যাণে না লাগিয়ে, বরং ধ্বংস করে নিজের বিত্তের সাম্রাজ্য বাড়িয়েছেন। দূর্ধর্ষ সব অপরাধীদের সম্পর্কে জানতে আমার মতো যাদের আগ্রহ তাদের জন্য এই আয়োজন।

বিশ্ব কাঁপানো দশ অপরাধী নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লিখাটি। প্রথম পর্বে (বিশ্বের খ্যাতনামা দশ অপরাধী পর্ব-১) আমরা আপনাদের চারজন ভয়াবহ অপরাধীর কথা জানিয়েছি। এই পর্বে রইলো আরো তিনজনের কাহিনী।

০৬। জেমস হোয়াইটি বালজার

১৯৯৯ সালে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ওসামা বিন লাদেনের পরেই ছিল জেমস বালজারের নাম। ফেডারেল কোর্টের নথিতে, অপরাধ জগতের এই অধিপতির সম্পদের পরিমাণ ছিল ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাত্র ১৪ বছর বয়সে অপরাধ জগতে পা রাখেন বালজার। ১৯৭০ এর দশকে আমেরিকার বোস্টনে সংগঠিত অপরাধ চক্রের মধ্যে বিশিষ্ট ও নামকরা ব্যক্তি হয়ে উঠেন বালজার। স্মাগলিং, ছিনতাই, ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসবাদে সে ছিল বোস্টনের ভয়াবহ ব্যক্তি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বালজার ছিল এফবিআইয়ের সোর্স। পুলিশের কাছে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠী সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করতো বালজার, যখন একই সময়ে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে সে নিজের অপরাধ জগতেরও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। ১৯৯৫ সালে বোস্টন থেকে পালিয়ে যায় বালজার, এরপর পরই তার নাম আসে এফবিআইয়ের শীর্ষ দশ ফেরারি আসামীর তালিকায়। ২০১১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ধরা পড়ে জেমস বালজার। ফেডারেল আদালতে দুই মাস ট্রায়ালের পর তাকে ১১ টি খুন, সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা, চাঁদাবাজির ও ষড়যন্ত্রের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

বিশ্বের খ্যাতনামা দশ অপরাধী neonaloy

 

০৫। জিন বার্নাড

আরেক ভয়ংকর ক্রিমিনাল, ফ্রান্সে জন্ম নেয়া জিন বার্নাড ২০০২ সালে গ্রেপ্তার হন সুইজারল্যান্ডে। এর তিনবছর আগে আর্জেন্টিনার আদালত ইন্টারপোলের কাছে জিনকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানায়। একই সময়ে ইউরোপীয় আদালতে অগণিত অস্ত্র চোরাচালান ও জালিয়াতির জন্য অভিযুক্ত ছিল সে। ১৯৯২ থেকে ৯৫ সাল পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়া ও ইকুয়েডরের কাছে হাজার হাজার টন আগ্রাসী অস্ত্র চোরাচালান করেছিল জিন, এই তথ্য সে নিজেই তার নিজস্ব ওয়াবসাইটে তুলে ধরেছিল। তার নিজের হিসাব অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের লাসনাড নামে এক কোম্পানীর কাছে সে বছরে ২.৫ মিলিয়ন অস্ত্র বিক্রি করতো। লাসনাড অস্ত্র কেনা বেচা করে এমন একটি কোম্পানি, যার ক্রেতার তালিকায় চীন ও সোমালিয়ার মতো দেশও আছে। এছাড়া দুর্নীতির জটিল জাল বিছানোর দায়েও অভিযুক্ত ছিল জিন বার্নাড।

বিশ্বের খ্যাতনামা দশ অপরাধী neonaloy

 

০৪। মেয়ের হারিস মিকি কোহেন

১৯৯৭ সালে নির্মিত দ্যা আন্টাচেবল বা ২০১৩ সালের চলচ্চিত্র গ্যাংস্টার স্কোয়াড ছবিগুলো যারা দেখেছেন তারা এতক্ষণে বুঝে গেছেন দূর্ধর্ষ মাফিয়া ডন মিকি কোহেন কে। মিকি কোহেন ছিল কোহেন ক্রাইম ফ্যামিলির সদস্য। ১৯৩০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত মিকি, ইতালিয়ান ও আমেরিকান মাফিয়া চক্রের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। মিকি কোহেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল পুরো লস এঞ্জেলস শহর। এখানে সংগঠিত সব ধরনের অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল মিকি।

বিশ্বের খ্যাতনামা দশ অপরাধী neonaloy

 

১৯১৩ সালে ব্রুকলিনে জন্ম মিকির। জন্মের কয়েকমাস পরেই তার বাবা মারা যায়। এরপর মিকিসহ ছয় সন্তানকে নিয়ে তার মা ব্রুকলিন থেকে লস এঞ্জেলসে চলে যান। চার বছর বয়সে মিকি পত্রিকা বিক্রির কাজ করতো, কে জানত এই ছেলেই একদিন হবে লস এঞ্জেলস শহরের ত্রাস। ১৯৬২ সাল থেকে বেশ কয়েক দফা কারাগার বাস হয় তার। এরপর ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় মিকি। সেসময় পত্রিকাকে দেয়া ইন্টারভিউ ও টিভি টকশোতে অংশ নিয়েছিল মিকি। নিজের জীবন সম্পর্কে মিকি জানায়, কোনদিন ধূমপান বা মদ স্পর্শ করেনি সে। ১৯৭৬ সালে স্টোমাক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় মিকি কোহেন।

আরো পড়ুনঃ পাবলো এসকোবারের কাহিনী

Most Popular

To Top