ফ্লাডলাইট

নিদাহাস ট্রফি ফাইনালঃ কিছু প্রশ্ন-উত্তর

নিদাহাস ট্রফি ফাইনালঃ কিছু প্রশ্ন-উত্তর - নিয়ন আলোয়

নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের পর থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভেসে বেড়াতে দেখেছি। মাঝখানে একদিন পার হয়ে গিয়েছে, বেদনার নীল বিষ এখন কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি।

১) শেষ বলে কাভার বাউন্ডারিতে কেন ফিল্ডার ছিলোনা? সাকিবের ফিল্ডিং সাজানো ভুল ছিলো!

উত্তরঃ না, কখনোই না। সাকিবের ফিল্ডিং সাজানোতে ভুল ছিলোনা। যারা ক্রিকেট খেলাটা ভালো করে খেয়াল করেন তারা নিশ্চয়ই জানেন লং অফ আর ডিপ এক্সট্রা কাভারের মাঝখানে একটা গ্যাপ থাকেই। এই গ্যাপের মাঝে খুব কম অধিনায়ক ফিল্ডার রাখে (রাখেনা বলাই ভালো) কারন তাহলে আরো কোন গুরুত্বপুর্ন জায়গা গ্যাপ পড়ে যায়। শ্রীলংকার সাথে ম্যাচে উদানার শেষ ওভারের ৩য় বলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এই জায়গা দিয়েই চার মেরেছিলেন। একটা ট্রেডিশনাল ক্রিকেট ফিল্ডের ছবি দিলাম, চেষ্টা করলে বুঝবেন।

নিদাহাস ট্রফি ফাইনালঃ কিছু প্রশ্ন-উত্তর - নিয়ন আলোয়

ক্রিকেট মাঠে একটা ট্রেডিশনাল ফিল্ড সেটআপ

২) রুবেলকে কেন আগেই আনা হয়েছিলো? সৌম্যকে তখন আনলেই হতো?

উত্তরঃ ২ ওভারে ভারতের দরকার ৩৪ রান। রুবেলকে শেষ ওভারে আনাটা হতো মুখস্ত অধিনায়কত্ব। তাছাড়া সৌম্যকে সেই সময় আনলে যদি বড় একটা ওভার হয়ে যায় তাহলে লাস্ট ওভারে ডিফেন্ড করা কঠিন হতে পারে। তারচেয়ে রুবেলকে ফিরিয়ে এনে একটা টাইট ওভার সাথে একটা উইকেট যদি তুলে নেয়া যায় তাহলে শেষ ওভারে ম্যাচটা সহজ হতে পারতো। সাকিব আল হাসান একজন ক্রিকেটার, ফরচুন টেলার বা জ্যোতিষি না। কে ভেবেছিলো আগের ৩ ওভারে ১৩ দেয়া রুবেল ২২ রান দিবেন? সাকিব যেটা চিন্তা করেছিলেন সেটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো। কোন ভুল নেই। তাছাড়া রুবেল একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তার উপর যেকোন অধিনায়ক ভরসা রাখবে। ভুলে গেলে চলবেনা একটা ওভার বাদ দিলে রুবেল টুর্নামেন্টের সেরা পেসার। সুতরাং সাকিব তার বেস্ট বোলারের হাতেই বল দিয়েছিলো একটা উইকেটের আশায়, উইকেট পেলেই অটোমেটিক রানের চাকায় ব্রেক পড়ে যেত।

নিদাহাস ট্রফি ফাইনালঃ কিছু প্রশ্ন-উত্তর - নিয়ন আলোয়

পুরো টুর্নামেন্টে বেস্ট ফাস্ট বোলার রুবেল হোসেনের একটি মাত্র ওভার তাকে বানিয়ে দিয়েছে নায়ক থেকে খলনায়ক

৩) শেষ ওভার পার্ট টাইমার সৌম্য কেন করলো?

উত্তরঃ আর কাকে দিতেন আপনি হলে? উইকেটে দুইজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলো। মিরাজ বা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে আনাটা নিরাপদ মনে হয়? তাছাড়া স্পিনারদের আনলে শট খেলাটা সহজ হয়ে যেত। ভুলে যাবেন না কার্তিক একজন পোঁড়খাওয়া খেলোয়াড়, হয়তো ধনীর জন্য সুযোগ পাচ্ছিলো না। আর যেই বোলারকেই আনেন ১২ রান ডিফেন্ড করা খুবই কঠিন বিষয়। আর “পার্ট টাইমার” বলতে পারেন কিন্তু সৌম্য অসাধারন বল করেছেন। শেষ বল পর্যন্ত ম্যাচটা টেনে নিয়েছেন।

নিদাহাস ট্রফি ফাইনালঃ কিছু প্রশ্ন-উত্তর - নিয়ন আলোয়

ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম পাঁচটি বল দূর্দান্ত ছিল, তবে শেষ বলে দীনেশ কার্তিকের ৬ এর সাথে সাথে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সৌম্য

৪) শেষ বলটা সৌম্য অফ স্ট্যাম্পের এতো বাইরে দিলো কেন?

উত্তরঃ ফিফথ স্ট্যাম্পের উপর ওয়াইডার ইয়র্কার বর্তমানে খুব পপুলার একটা অপশন। নরমালি ব্যাটসম্যানরা গালি অথবা পয়েন্ট দিয়ে এই বলে শট খেলে থাকে। কিন্তু ওইদিন ছিলো কার্তিকের দিন। ওই বল সে মিড অফের মাথার উপর দিয়ে ফ্ল্যাট ছয় মেরে দিয়েছি। প্রায় অবিশ্বাস্য একটি শট। বোলারকে দোষ না দিয়ে ব্যাটসম্যানের প্রশংসা করা উচিৎ মাঝে মাঝে। তাছাড়া বাস্তবতা বুঝতে হবে, সৌম্য সরকার কোন স্পিডস্টার না। আপনি তার কাছে ১৪০ কি.মি./ঘন্টা বেগের নিঁখুত ইয়র্কার আশা করতে পারেন না। সেটা ছিলো রুবেলের কাজ। আবার পারফেক্ট বাউন্সার দিবে সৌম্য সেটাও ভুল। ইয়র্কার দিতে যেয়ে যদি ফুলটস পড়ে যেত রুবেলের মতো? অথবা বাউন্সার দিতে যেয়ে যদি কার্তিক পুল/হুক করে দিতো? তখন আরো সমালোচনা করতেন সৌম্যের। সৌম্যের যেই গতি তাতে যে বলই দিক কার্তিক মেরে দিতো! আসল কথা হচ্ছে কার্তিক যেই মুডে ছিলেন, তাতে ব্যাট চালাতেনই। এইখানে সৌম্যের দোষ বা কার্তিকের ক্রেডিটের চেয়ে ভাগ্য অনেক বড় বিষয়।

নিদাহাস ট্রফি ফাইনালঃ কিছু প্রশ্ন-উত্তর - নিয়ন আলোয়

ফাইনালের দিনটি ছিল আসলে দীনেশ কার্তিকের

৫) একাদশে কি ভুল ছিলো? অপু কেন একাদশে?

উত্তরঃ ফাইনালের একাদশে আমি অবশ্য দুটি পরিবর্তন হতে পারে বলে ভেবেছিলাম। প্রথম, সৌম্য সরকারের বদলে আরিফুল হক আর দুই, অপুর জায়গায় একজন অতিরিক্ত পেসার। প্রথমটার উত্তর পেয়েছি, দলে সৌম্য একজন শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন না। মাহমুদুল্লাহ, সাকিব দুই অধিনায়কই সৌম্যকে বোলার হিসেবে ব্যবহার করেছে টুর্নামেন্টে। এমনকি গত মাসের টি-টুয়েন্টি সিরিজেও। যেহেতু বাংলাদেশ দুইজন পেসার খেলিয়েছিলো সুতরাং ৩য় পেসার হিসেবেই সৌম্যকে ব্যবহার করেছে। পরপর দুই “প্রেসার ম্যাচে” অধিনায়ক সৌম্যের হাতে শেষ ওভারে বল তুলে দিয়েছে, সুতরাং ওইটুকু আস্থা অধিনায়কের তার উপর রয়েছে। আমাদেরও রাখা উচিৎ।

আর দ্বিতীয় বিষয়টা অপুর, হুম অপুর পরিবর্তে আরেকজন পেসার বা ব্যাটসম্যান বাড়ানো যেতে। বিশেষকরে সাব্বির রহমান আউট হবার পর আরেকজন ব্যাটসম্যান থাকলে আরো অন্তত ৬-১০ রান পেতাম হয়তো। তাহলে ম্যাচটার ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। আবার এটাও সত্যি, এই অপু যদি রোহিতকে না ফেরাতেন তাহলে ম্যাচ এতদূর আসতোই না।

৬) একজন বাড়তি পেসার না থাকায় ম্যাচ হেরেছি?

উত্তরঃ একটি জনপ্রিয় ক্রিকেট বিষয়ক গ্রুপের একজন সুপরিচিত এডমিন বলেছন বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে একজন অতিরিক্ত পেসার না থাকায়। তিনি যুক্তি দিয়েছেন মুস্তাফিজ এবং রুবেলের দুই ওভার মিলিয়ে ২৩ রান এসেছে যা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু শেষ ওভার একজন জেনুইন পেসার করলে হয়তো ম্যাচ জিতে যেত বাংলাদেশ।

মুস্তাফিজের মেডেন এবং রুবেলের ২২ রান, দুইটাই কল্পনার বাইরে ছিলো। শেষ ওভারে একজন পেসার থাকলেই যে নিশ্চিত ম্যাচ জিতে যেতাম এটা কিভাবে বলা যায়! পেসাররা কি কখনো ম্যাচ হারায়নি ইতিহাসে? হতে পারতো অনেক কিছুই কিন্তু ম্যাচ হারার জন্য একজন পেসার কম থাকাকে দায়ী করা অন্তত আমি মানিনা। আর ম্যাচটা বাংলাদেশ শেষ বল পর্যন্ত নিয়েছে, তারপর আর এই যুক্তি খাটেনা। কারন সৌম্য কোন অংশে কম করেনি।

৭) মাত্র এক ওভার বল করানো হয়েছে কেন মিরাজকে দিয়ে?

উত্তরঃ ম্যাচ শুরুর আগে অনেকের মতামত ছিলো মিরাজকে দলে না রাখার জন্য। মিরাজ ব্যাট হাতে ১৯* (৭) করেই তার জবাব দিয়েছে।

আর মিরাজ অবশ্যই বল করতো আরো বেশি যদি ধাওয়ান আর রায়না টিকে যেতেন। দুই বাঁহাতি ফিরে যাবার পর মিরাজকে আর প্রয়োজন পড়েনি। আর রোহিত আউট হবার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রন বাংলাদেশের হাতে ছিলো। ফলে মিরাজের আর বলে আসা দরকার হয়নি। দরকার হলে অবশ্যই আসতো!

৮) সাকিবের অধিনায়কত্বে কি কোন ভুল ছিলো?

উত্তরঃ হুম সম্ভবত ছিলো। শেষ ওভারে থার্ডম্যান না রাখাটা ভুল ছিলো।

থার্ডম্যান আর ফাইন লেগ এমন দুটি পজিশন যেখান থেকে ডেথ ওভারে প্রচুর রান বের হয়ে যায়। সবসময় ব্যাটসম্যান ভালো খেলেই এই দুই জায়গায় রান পায় সেটা না। “আউটসাইড এজ”, “ইনসাইড এজ” থেকেও অনেক সময় বাউন্ডারি হয়ে যায় যখন ব্যাটসম্যান সব বলে ব্যাট চালায়।

সমীকরন ছিলো ৪ বলে ১০ রান লাগে। ওইসময় বাউন্ডারি বাঁচানো দরকার ছিলো। সিঙ্গেল না। যদি থার্ডম্যান থাকতো তাহলে সর্বোচ্চ ২ রান আসতো। সেটা কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্যা হতো না। বাউন্ডারি হয়ে যাওয়ার কারনে সমস্যা হয়েছে।

যদি ৪ বলে ৪ লাগতো তাহলে থার্ডম্যান সার্কেলের ভেতর রাখা উচিৎ হতো কারন তখন সিঙ্গেল বাঁচানো দরকার ছিলো। গতকাল জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ যদি দেখেন তাহলে দেখেছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়াম ক্রিমার শেষ ওভার পর্যন্ত থার্ডম্যান রেখে বাউন্ডারি বাঁচিয়েছিলেন।

নিদাহাস ট্রফি ফাইনালঃ কিছু প্রশ্ন-উত্তর - নিয়ন আলোয়

ম্যাচের অনেকটা অন্তিম মুহূর্তে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান হয়তো অনেক স্নায়ুচাপ অনুভব করছিলেন

প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে সাকিব কেন থার্ডম্যান সার্কেলের ভেতর রাখলেন? একটাই কারন হতে পারে সাকিব চাচ্ছিলেন ভিজয় শংকর যাতে স্ট্রাইকে থাকে মানে সিঙ্গেল না নিতে পারে। তবে সেটা হতো না, ব্যাটে বলে হলেই ব্যাটসম্যান রান নিতো। এমনকি রিস্ক নিয়ে হলেও, কারন কার্তিককে যেভাবেই হোক স্ট্রাইকে পাঠাতে চেষ্টা করতো শেষ বলে। শংকর উঁড়িয়ে মেরেছিলো সে কারনেই চার বা ছয় যদি নাও হয় অন্তত প্রান্ত বদল করে ফেলবে।

তবে, অধিনায়ক হিসেবে এটা ছিলো সাকিবের প্রথম ফাইনাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। ভবিষ্যতে এইরকম সিচুয়েশন আবার আসলে সাকিব এই ভুল করবেন না আমি নিশ্চিত। সামগ্রিক বিচারে সাকিবের অধিনায়কত্ব “এ প্লাস” পাবে!

৯) ম্যাচটা তাহলে কোথায় হারলো বাংলাদেশ?

উত্তরঃ কোন একটা নির্দিষ্ট কারনে কখনো কোন দল ম্যাচ হারেনা। ছোট ছোট অনেক কারন থাকে। তবুও আমার কাছে সবচেয়ে বড় কারন মনে হয় বাংলাদেশের ইনিংসের ১৯ তম ওভার। সাব্বির, রুবেলের উইকেটের পর মুস্তাফিজের ৩ টা ডট বল। এই ৫ বলে বাংলাদেশ কোন রান নিতে পারেনি। সাব্বিরের পর যদি একজন ব্যাটসম্যান থাকতো তাহলে পরের ৪ বলে যদি ১০ রান আসতো তাহলে রানটা হয় অন্তত ১৭৫ এর আশেপাশে। সেক্ষেত্রে ম্যাচ বাংলাদেশ সম্ভবত জিতে যেত।

আর যদি যেকোন একটা বল বেছে নিতে হয় তাহলে বলবো রুবেলের ওই ওভারের প্রথম বলটা। বলটা লেন্থ মিস করে লো ফুলটস হয়ে গিয়েছিলো আর কার্তিক “ওয়াইল্ড সুইং” করে ছয় মেরে দিলো, সম্ভবত এই শটের পরেই কার্তিক বুঝতে পেরেছিলেন “আজ দিনটা আমার”! আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলেন।

ক্রিকেটে খুব পুরানো একটা কথা “প্রথম বলটা খুব গুরুত্বপুর্ন”। প্রথম বল বাদ দিলে এমনিতে ক্রিকেটে এক ওভারে ২২ রান “অক্রিকেটীয়” কিছুনা। এমন হয়ে যায়। স্বয়ং মাশরাফি ২১ রান খেয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলরের হাতে।

এর সাথে ক্রিকেটীয় কারন খুঁজলে আরো কিছু কারন যোগ করতে পারেন চাইলেঃ

– মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর সাকিবের রান আউট
– বাংলাদেশের অন্তত তিনটা সহজ সহজ রান আউট চান্স মিস করা
– আর শেষ ওভারে থার্ডম্যান না থাকা

১০) মুস্তাফিজকে কি শেষ ওভারের জন্য রেখে দেয়া যেত না?

উত্তরঃ শেষ ৩ ওভারে ভারতের ৩৪ রান দরকার ছিলো। ওভারে ১১ রান টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে কঠিন কিছুনা। মুস্তাফিজকে আরো পরে এনে লাভ কি যদি ম্যাচ তার আগেই হাত ফঁসকে যায়? বরং মুস্তাফিজকে ওই সময় বল করানোর কারনেই অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে ঘুরে যায়। আর সবচেয়ে বড় কথা ভিজয় শংকর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার ব্যাট করতে নেমেছিলো, আর যেকোন নতুন ব্যাটসম্যান যে আগে মুস্তাফিজকে খেলেনি তার জন্য মুস্তাফিজের অফ কাটার সামলানো প্রায় অসম্ভব এক কাজ। সাকিব শংকরকে উইকেটে দেখেই ফিজের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন, আর সেটা ছিলো শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত ম্যাচের।

১১) বাংলাদেশের আর কি কিছু করার ছিলো?

উত্তরঃ ব্যক্তিগত মতামত জানাতে পারি কিছু যার কোনটাই ম্যাচ জিতিয়ে দিতো তেমন কোন গ্যারান্টি নাই তবে অনেক সময় কাজে আসে। যেমন, রুবেলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রায় দশ বছরের, তার হাতে অনেক অপশন এখন। স্লোয়ার বাউন্সার, ওয়াইডার ইয়র্কার, স্লোয়ার ইয়র্কার, স্লোয়ার ডেলিভারি ইত্যাদি। শেষ ওভারে রুবেল এসব ব্যবহার করতে পারতেন। বিশেষকরে পেস কমাতে পারতেন, কার্তিকের শট খেলার জন্য অন্যতম সহায়ক ছিলো রুবেলের এক্সট্রা পেস। শেষ ওভারে পারফেক্ট ইয়র্কার মিস করেছি খুব।

তারপর শেষ ওভারে বাংলাদেশ আরো সময় নিতে পারতো। মাঝে মাঝে “দৃষ্টিকটু” ক্রিকেট খেলতে হয়। বেঙ্গালুরুর ম্যাচে ধোনী হার্দিক পান্ডেয়ার সাথে অতিরিক্ত কথা বলে “মাইন্ড গেম” খেলেছিলো। একবার পড়েছিলাম স্টিভ ওয়াহ গ্লেন ম্যাকগ্রার সাথে গল্প করেছিলেন “কোন রেস্টুরেন্টের ডিনার ভালো, ম্যাচ শেষে চলো সেখানে যাই”। এর মানে শুধু ব্যাটসম্যানের রিদম নষ্ট করার জন্য সময় নষ্ট করা! শেষ বলের আগে সৌম্যের সাথে আরো কথা বলা যেত।

তবে এসব ক্রিকেটীয় কারন, আসল কারণ হচ্ছে ভাগ্যে ছিলো না, না হয় শেষ বলে ছয় মেরে ম্যাচ জেতানোর রূপকথা ক্রিকেটে কয়টা আছে? খুব বেশি কিন্তু না!

আরো পড়ুন- নিদাহাস ট্রফিঃ আশার বেলুন ও কিছু বাস্তবতার কথা।

 

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top