ফ্লাডলাইট

ক্রিকেটঃ যার সৌন্দর্য্য হাসায়, যার অনিশ্চয়তা কাঁদায়!

ক্রিকেট নিদাহাস ট্রফি নিয়ন আলোয় neon aloy

হিসাব চুকানোর ছিল অনেকগুলো… ঠিক তিন বছর আগে ২০১৫ এর ১৯ মার্চের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কোয়ার্টার ফাইনাল, ভারতকে টি-টুয়েন্টিতে কখনো না হারাতে পারা, অলিখিত সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সাবেক ক্রিকেটার এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অহেতুক সমালোচনা, এবং সর্বোপরি এখন পর্যন্ত কোন ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট জিততে না পারার আক্ষেপ। সেই সাথে আঠার মত লেগে ছিল নতুন করে শুরু হওয়া কোবরা, কিংবা নাগিন সেলিব্রেশন। নাজমুল ইসলাম অপু’র এক সেলিব্রেশন যে উদযাপন-পাল্টা উদযাপনে প্রতিধ্বনিত হয়ে এত জোরালো হয়ে দাঁড়াবে, এমনকি কমেন্ট্রি বক্সে সুনীল গাভাস্কার নিজে বাংলাদেশ ব্যাকফুটে থাকা সময়ে নাগিন নাচ নেচে গ্যালারির ভারতীয় (এবং এই ম্যাচের জন্য ভারত সমর্থক শ্রীলঙ্কানদের) তাঁতিয়ে দিবেন- সেটাই বা কার জানা ছিল!

টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠালেন রোহিত শর্মা। একটি সতর্ক শুরুর পর চতুর্থ ওভারে ফিরে গেলেন লিটন দাস। ওয়াশিংটন সুন্দরের নিরীহদর্শন একটি ডেলিভারি সুইপ করে সীমানাছাড়া করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে শর্ট ফাইন লেগে সুরেশ রায়না’র সহজ ক্যাচ হয়ে ফেরত আসলেন প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুমে। সেই ড্রেসিং রুম, যার ভাংচুরের বায়বীয় অভিযোগকে ঘিরে চলছে টাইগারদের টেম্পারমেন্টের কাঁটাছেঁড়া। পরের ওভারটি হলো আর ভয়াবহ, প্রথম ওভার করতে এসেই চাহালের জোড়া আঘাত! তামিমের উইকেটটি দুর্ভাগ্যজনকই বলা যায়। লেগস্পিনারকে ডাউন দা উইকেটে উড়িয়ে মেরেছিলেন ঠিকই, অন্য যেকোন দিন হয়তো বলটি লং-অন ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়েই উড়ে যেত। কিন্তু শার্দুল ঠাকুরের অবিশ্বাস্য ভারসাম্য ধরে রাখা ক্যাচ তা হতে দিল না। আর সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই ফিরে গেলেন সৌম্য। একটি অবিশ্বাস্য ক্যাচ কিভাবে ফিল্ডিং টিমের এনার্জি আকাশে উঠিয়ে দিতে পারে, তার প্রমাণ দিতেই যেন পরের ওভারে উইকেটের দিকে না তাকিয়েই ডিরেক্ট থ্রো’তে স্ট্যাম্প ভাঙলেন সুরেশ রায়না!

ওয়ান-ডাউনে নামা সাব্বিরকে শুরু থেকেই মনে হচ্ছিলো নড়বড়ে। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই রিভার্স সুইপ করার চেষ্টা করেছিলেন বোলারকে থিতু হতে না দেওয়ার চেষ্টায়। ব্যক্তিগত প্রথম বাউন্ডারিটি স্লগ সুইপে খেললেও দ্বিতীয় বাউন্ডারিটি আসে একটি শর্ট বলে টপ এজ হয়ে, কিপারের মাথার উপর দিয়ে। তবে ব্যাটে-বলে না হওয়ার নার্ভাসনেস চেপে বসতে দেননি। ক্রিজে মুভমেন্ট করেছেন। ফলাফল পেলেন বিজয় শঙ্করের পর পর দুই বলে ছয় এবং চার হাঁকিয়ে। ৭ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৫ রান নিয়ে বাংলাদেশ যখন হাঁসফাঁস করছে, তখন চাপ কমানোর জন্য ১৪ রানের এই ওভারটি বেশ দরকার ছিল।

অপরপ্রান্তে এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সফলতম পারফর্মার মুশফিক শুরু করলেন ধীর-স্থিরভাবে। সম্ভবত আগের ম্যাচের থিসারা-কুশল পেরেরা জুঁটির স্ট্র্যাটেজিতে এগোতে চাচ্ছিলেন- ব্যাটিং ধ্বস ঠেকিয়ে শেষের দিকে ঝড় তুলবেন। কিন্তু রোহিত শর্মার চমৎকার বোলার সিলেকশন আর ফিল্ড প্লেসমেন্ট গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ালো।

এই টুর্নামেন্টে পেসের চাইতে স্পিন বোলিং বেশি ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে- এই মন্ত্র মাথায় রেখে রোহিত প্রথম ১১ ওভারের মধ্যে ৭ ওভারই করালেন ওয়াশিংটন সুন্দর আর যুভেন্দ্র চাহালকে দিয়ে। একদিকে ওয়াশিংটন রানের চাকা আটকে রাখলেন, অপরপ্রান্তে চাহাল ইনিংসের অর্ধেক যেতে না যেতেই নিজের চার ওভারের কোটা শেষ করলেন বাংলাদেশের টপ-অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দিয়ে। সত্যি বলতে, বাংলাদেশকে একেবারেই চেপে বসতে দেয়নি রোহিতের অধিনায়কত্ব। যার প্রমাণ প্রথম ১৩ ওভারে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের স্কোর করা মাত্র ৭টি বাউন্ডারি- যে পরিসংখ্যান ওয়ানডে ম্যাচের জন্যেও যথেষ্ঠ ধূসর।

তবে এই বাউন্ডারি খরার মাঝেও সিঙ্গেলস-ডাবলস নিয়ে আস্তে-আস্তে ঠিকই রানের চাকা সচল রাখছিলেন সাব্বির আর মাহমুদুল্লাহ। আর যখন দুইজনই সেট হয়ে গেলেন, তখনই একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে ভয়াবহ কুৎসিত রান আউট! একেবারে ০% সম্ভাবনার একটি সিঙ্গেল নিতে গিয়ে জান-প্রাণ হাতে নিয়ে দৌড় দিলেন স্ট্রাইকিং এন্ডের উদ্দেশ্যে, যেন দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ বলে রান নিয়ে ম্যাচ জেতাতে চাচ্ছিলেন। ফলাফলঃ ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার সাব্বিরকে বাঁচাতে গিয়ে মাহমুদুল্লাহ’র আত্মাহুতি। কি ভাবছিলেন সাব্বির?!

সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ব করতেই কিনা বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন সাব্বির। ওয়াশিংটন সুন্দরকে ছয় মেরে পরের বলেই সিঙ্গেল নিয়ে ৩৭ বলে পূরণ করলেন বহু প্রতীক্ষিত ফিফটি। সাব্বির-ঝড়ের তোড়ে পরের ওভারে উড়ে গেলেন বিজয় শঙ্কর। দুই ছক্কায় ১৪ রান তোলা সেই ওভারের শেষ বলে আবারো ভারতের নিখুঁত ফিল্ডিং-এর শিকার হয়ে রান আউট হলেন অধিনায়ক সাকিব।

সাব্বির সাজঘরে ফেরেন ১৯ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে, মাঝে শার্দুল ঠাকুরের ওভারে দুই বাউন্ডারিতে ১১ রান তুলে নিয়ে। একই ওভারে রুবেলকেও হুবুহু ডেলিভারিতে বোল্ড করে বাংলাদেশের ১৬৫ রান ছোঁয়ার শেষ আশাটাও ফিকে করে দিচ্ছিলেন উনাদকাট। কিন্তু শেষ ওভারের স্লগিং-এ মেহেদি মিরাজ ১৮ রান তুলে নিলে ১৬৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। এর মাঝে শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে একটি হাই ফুলটস ডীপ মিডউইকেটের উপর দিয়ে গ্যালারিতে আঁছড়ে ফেলেন মিরাজ। বলটি নো-বল হয়তো হতে পারতো, তবে ব্যাটসম্যান ডাউন দা উইকেটে আসায় সে সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়।

ভারতের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপের সামনে ১৬৭ রানের স্কোর টিটুয়েন্টি’তে একরকম মামুলি-ই বলা যায়। তবে শর্টার ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে যেকোন সময় যেকোন কিছুই যে সম্ভব, তার অনুপ্রেরণা ছিল শ্রীলঙ্কার সাথে ২১৫ রান তাড়া করে জেতা ম্যাচটি। তবে শুরু থেকেই ভারতকে চেপে ধরার যে আশা ছিল সম্ভাবনা ছিল, তা একরকম উড়িয়েই দিচ্ছিলেন রোহিত শর্মা। মিরাজের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ১৭ রান তুলে নেন ২টি ছয় ও একটি চার মেরে। রোহিতের পথ ধরে শিখর ধাওয়ানও তৃতীয় ওভার শুরু করেন সাকিবকে পুল শটে গ্যালারিতে আঁছড়ে ফেলে। তবে সাকিবও এত সহজে ছেড়ে দেবার পাত্র নন। লিডিং এজে শিখরকে মিড-অনে বদলি আরিফুলের ক্যাচ বানিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন ভারতকে।

মিরাজের বদলে বোলিং করতে এসে আঘাত হানেন রুবেলও। লেগ সাইডের বেশ বাইরের একটি বল তাড়া করতে গিয়ে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়া মুশফিকের গ্লাভসে জমা পড়েন সুরেশ রায়না। এজ হওয়া বলের পরিষ্কার দিক পরিবর্তন খালি চোখে ধরা পড়লেও প্রথমে ওয়াইড বল কল করেন আম্পায়ার। তাৎক্ষণিক রিভিউ নিয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত উল্টে দেন মুশফিক।

তবে রোহিত শর্মার কোন জবাব যেন জানা ছিল না বাংলাদেশের। স্পিনারদের মেরে ২০০+ স্ট্রাইক রেটে রান তুলে নিচ্ছিলেন। মুস্তাফিজকে আক্রমণে এনে কিংবা নিজে হাত ঘুরিয়েও ফল পাচ্ছিলেন না সাকিব।

এরই মাঝে একরকম খেলার বিপরীত স্রোতে আবারও ব্রেকথ্রু এনে দেন রুবেল। একপ্রান্তে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা রোহিতের ছায়ায় অপরপ্রান্তে মেরে খেলছিলেন লোকেশ রাহুলও। সেই রাহুলকে গতি আর বাউন্সে পরাস্ত করেন রুবেল। ব্যাটের উপরের অর্ধে লেগে তার পুল শট জমা হয় ডীপ স্কয়ার লেগে সাব্বিরের হাতে। ম্যাচের তখন দশম ওভার, ভারত তাদের লক্ষ্যের ঠিক অর্ধেক রান তুলে নিয়েছে- ৮৩।

তবে লোকেশের উইকেটটি-ই বলা যায় ম্যাচের গতিপথ পরোক্ষভাবে পাল্টে দেয়। ক্রিজে আসেন মনীষ পাণ্ডে। কোনভাবেই টাইমিং হচ্ছিল না মনীষের, আর সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে বারবার বোলার পরিবর্তন করে তাকে থিতুও হতে দিচ্ছিলেন না সাকিব। যেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছুটাচ্ছিলেন, তারা টানা ২২ বল কোন বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেননি। আর সেই চাপের শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসার প্রাণপণ চেষ্টায় গায়ের জোরে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে মাহমুদুল্লাহর হাতে ধরা পড়েন রোহিত। বাংলাদেশ খুঁজে পায় অভীষ্ট উইকেটটি, প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম দেখতে পায় অপু’র আদি ও আসল নাগিন ড্যান্স! মুহুর্তের মধ্যে একই লেভেলে নেমে আসে বাংলাদেশ এবং ভারতের ইনিংস- ১৪.১ ওভারে ৪ উইকেটের বিনিময়ে ১০৪ রান।

সমীকরণ কিছুটা হেলে পড়ে বাংলাদেশের দিকে এ সময়। তবে পরের দুই ওভারে টক্কর হয় সমানে-সমানে। বাংলাদেশ বল ফেললো মাথা খাটিয়ে। এর ফাঁকে ফাঁকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ১-২টা করে বাউন্ডারি খুঁজে নিয়ে ফিরে আসছিলো খেলায়। সমীকরণ দাঁড়ায় তিন ওভারে ভারতের প্রয়োজন ৩৫ রান।

শেষ তিন ওভার বল করার জন্য সাকিবের হাতে আছেন মুস্তাফিজ, রুবেল, মিরাজ এবং পার্টটাইমার সৌম্য। ১৮ তম ওভারে এসে প্রথম চার বলে নবীন ব্যাটসম্যান শঙ্করকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেন মুস্তাফিজ! পঞ্চম বলে কোনমতে লেগবাই থেকে এক রান নিয়ে ফিজের “অত্যাচার” থেকে নিস্তার পান শঙ্কর। শেষ বলে তরতরিয়ে চড়তে থাকা আস্কিং রেট বাগে আনতে গিয়ে রোহিতের ভুলের ফাঁদেই বাংলাদেশ ফেলে মনীশ পাণ্ডেকে।

শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ৩৪। বোলিং এ আসলেন রুবেল। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেওয়া রুবেল, বাংলাওয়াশে তুলি’র শেষ আঁচড় টেনে দেওয়া রুবেল, আজকের রাতে বাংলাদেশের সফলতম বোলার রুবেল। তার সামনে মুস্তাফিজের আগের ওভারে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে পড়া ভারত, স্ট্রাইকে এক বলও না খেলা দিনেশ কার্তিক। এখান থেকেই যেন শুরু হলো দিনেশ কার্তিকের রূপকথা। আগের তিন ওভারে মাত্র উনিশ রান খরচ করা রুবেলের প্রথম তিন বল থেকেই কার্তিক তুলে নিলেন ৬,৪,৬। পরের দুই বলে রুবেল বাউন্ডারি চেক দিতে পারলেও শেষ বলে চার তুলে ম্যাচ ভারতের দিকে টেনে নেন কার্তিক।

শেষ ওভার, ভারতের দরকার ১২ রান। ঠিক যেই সমীকরণে দুইদিন আগেই দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ। এই লক্ষ্য অর্জন খুব অসম্ভব না আইপিএল খেলে অভ্যস্ত ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য। কার হাতে বল তুলে দিবেন সাকিব? টানা দুই ওভার করা মিডিয়াম পেসার সৌম্য, নাকি আজকে রাতের সবচেয়ে বেশি ইকোনমি’র বোলার মিরাজকে? বল হাতে পেলেন সৌম্য। প্রথম বলটি ওয়াইড, তবে সেই বলেই রান আউট হতে পারতেন কার্তিককে স্ট্রাইকে আনতে মরিয়া শঙ্কর। পরের তিন বলে ডট, ১, ১। সমীকরণ- তিন বলে নয় রান আটকাতে হবে বাংলাদেশকে। ইয়র্কার লেংথে ভালই একটি ডেলিভারি ফেলেছিলেন সৌম্য, কিন্তু মাত্র কয় ইঞ্চি’র জন্য হলো না পারফেক্ট ইয়র্কার। অফসাইডে থাকা বলটি ব্যাটের কানায় লেগে পয়েন্ট আর থার্ড ম্যানের মাঝ দিয়ে সীমানা পার। দুই বলে আটকাতে হবে পাঁচ। উড়িয়ে মেরে খেলা শেষ করতে চাইলেন শঙ্কর। টাইমিং হলো না। স্ট্রেট বাউন্ডারিতে মাহমুদুল্লাহ’র হাত ফসকে বেরিয়ে যেতে থাকা ক্যাচ হাতে জমালেন মিরাজ! এত উত্তেজনা কি সহ্য করা সম্ভব?

শেষ বলে বাংলাদেশের সমীকরণ অনেক সোজা- একটা লিগ্যাল ডেলিভারি বাউন্ডারি হজম না করে খেলে দিতে হবে। সেটাই পারলো না বাংলাদেশ। অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল সর্বশক্তিতে ব্যাটে লাগালেন কার্তিক। ফ্ল্যাট সিক্সটা যেন অনন্তকাল বাতাসে ভেসে সীমানার ঠিক গজখানেক বাইরে পড়লো। হাঁটু ভাঁজ করে বসে পড়লেন সৌম্য, ঠিক যেই ভঙ্গীতে একরাত আগেই বসে ছিলেন ইসুরু উদানা। আনন্দে দৌড়ে এলো ভারতীয় ড্রেসিংরুমের খেলোয়াড়রা, ঠিক যেভাবে একরাত আগেই দৌড়ে এসেছিলো টাইগাররা। মাঠে শ্রীলঙ্কার পতাকা জড়ানো সমর্থকের কোলে চেপে ভারতের পতাকা উড়াল আইকনিক ভারতীয় সমর্থক সুধীর।

এটাই ক্রিকেট। কখনো মধুর, কখনো বিষের চাইতেও তেতো। আজকের চাইতেও হৃদয়বিদারক ম্যাচ বাংলাদেশ হেরেছে এর আগে। এর চাইতেও বিনিদ্র রজনী কেটেছে টাইগার সমর্থকদের।

আফসোস থেকে যাবে হয়তো একজনের- সৌম্য সরকার। পার্টটাইমার বোলার হয়েও ভারতকে পাঁচটি বল আটকে রেখেছিলেন। শেষ বলটি পারলেন না। হয়তো এই একটি ডেলিভারি’র জন্য অনেকেই কয়দিন পর দিনেশ কার্তিককে কৃতিত্ব দিতে ভুলে যাবেন, কিন্তু সৌম্যকে এর জন্য দোষ দিয়ে যাবেন সারাজীবন। কিন্তু এটা তো খেলারই একটি অংশ! আজ যে জায়গায় দিনেশ কার্তিক ছিলেন, কয়দিন আগে একই রকম ক্যামিও খেলে ম্যাচ বের করে এনেছেন লিটন-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহরা। আজ যে জায়গায় সৌম্য ছিলেন, ঠিক একই জায়গায় দুইদিন আগে ছিলেন ইসুরু উদানা। স্বাগতিক হিসেবে তার কষ্টটাও হয়তো বেশি ছিল।

কিন্তু ম্যাচটা আমরা কোথায় হেরেছি জানেন? ফিল্ডিং-এ। প্রতিপক্ষ যেখানে একের পর এক ডিরেক্ট থ্রো করে চাপে রেখেছে বাংলাদেশকে, একের পর এক চমৎকার ফিল্ডিং নৈপুণ্য দেখিয়ে অন্তত ১৫-২০টি রান আটকেছে বাংলাদেশের, সেখানে আমরা সেই চাপে ফেলতে পারিনি তাদের। সম্মিলিতভাবে তাদের ফিল্ডিং আর আমাদের ফিল্ডিং এর ফারাকটাই পার্থক্য গড়ে দিল শেষ পর্যন্ত।

আর এর মাধ্যমেই শেষ হলো চমৎকার নিদাহাস ট্রফি ত্রিদেশীয় সিরিজ। প্রথম ম্যাচ থেকেই উত্তেজনা ছড়ানো টুর্নামেন্টের নিষ্পত্তি হলো একদম শেষ বলে! স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা’র স্বাধীনতা উদযাপনের টুর্নামেন্টে তারা ফাইনালে উঠতে না পারলেও সত্যিকারের ক্রিকেট উদযাপন করলো একদম শেষ পর্যন্ত! টাইগার সমর্থক হিসেবে আমাদের মন খারাপ হলেও, ফাইনালের আগে স্বাগতিকরা বাদ পড়লেও কিংবা ট্রফি ভারতের হাতে উঠলেও এই টুর্নামেন্টে জয় হলো ক্রিকেটের!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top