নাগরিক কথা

জয়সুরিয়ার মতে টাইগাররা থার্ড ক্লাস!

জয়সুরিয়ার মতে টাইগাররা থার্ড ক্লাস! neonaloy

জয়সুরিয়ার মতে টাইগাররা থার্ড ক্লাস!

এর কারণ হিসেবে যা যা খুঁজে পেলাম সেগুলা একটু উল্লেখ করি…

১.
গতকাল থেকে যে নিউজটা বেশি ভাইরাল হইছে সেটা হলো বাংলাদেশী প্লেয়াররা নাকি ড্রেসিংরুমে কাঁচ ভেঙ্গে ফেলছে!

খবরটা শোনার পর কি রিএকশন দেওয়া উচিত বুঝতে পারছিলাম না!!
তো আর কি করার! অপেক্ষা করলাম সঠিক নিউজের জন্য! আইসিসি দেখবে ব্যাপারটা। আপেক্ষা করা ছাড়া কি আর করার!

যাক এর মধ্যে সম্ভাব্য কিছু কারণ দাড় করানোর চেষ্টা করলাম!

হয়তো শ্রীলঙ্কান সাপোর্টাররা ক্ষুব্ধ হয়ে ভারি কোনো কিছু ছুড়ে মারতে পারে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমের দিকে। এটা সম্ভব কেননা টাইগারিয়ান শোয়েব ভাইয়ের উপর শ্রীলঙ্কান সাপোর্টারদের হামলার গুঞ্জন শোনা গেছে।
তাই বলে ড্রেসিং রুমে হামলা! বিশ্বাস যোগ্য মনে হয় নি!

এমনও হতে পারে ভুলবশত কোনো প্লেয়ারের দ্বারা কাঁচ ভেঙ্গে গেছে! খেলার কোনো এক মুহূর্তে হয়তো রাগে বা উত্তেজনায় কাঁচে ঘুসি লেগে গেছে।

আবার এমনও হতে পারে আগে থেকে নড়বড়ে থাকা কাঁচ কারো একটু জোরে স্পর্শে ভেঙ্গে পড়েছে।

কারণ অনেক থাকতে পারে কিন্তু বাংলাদেশ দল ইচ্ছাকৃত বা দল বেঁধে এই কাজ করছে সেটা আমি মানতে নারাজ! এটা অন্য কোনো দেশ হলে মেনে নেওয়া যেতো! ( কোন কোন দেশ সেটা উল্লেখ না করি!)
জয়ের খুশিতে কাঁচ ভেঙেছে? এর থেকে বড় জয় কি পায়নি বাংলাদেশ? ওইদিন কেন ভাঙলো না?

যাই হোক, সঠিক প্রমাণ ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে সাফাই গাইতে চাইনি বলে অপেক্ষা করছিলাম আইসিসির প্রতিবেদন এর জন্য!
আইসিসি বিনা প্রমাণে শাস্তি দিতে চায় নি বলে আগে ব্যাপারটা ঘাটিয়ে দেখলো। কিন্তু তেমন কিছুই পাওয়া গেলো না সিসি ক্যামেরার ফুটেজে!

যেখানে আইসিসি কোনো প্রমাণ পেলো না বাংলাদেশের বিপক্ষে সেখানে জয়সুরিয়া কোন যুক্তিতে বাংলাদেশকে “থার্ড ক্লাস” বললেন?

আইসিসি প্রেমদাসার মাঠ ম্যানেজমেন্টের সাথে জড়িতদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ চেয়েছিল। কিন্তু প্রেমদাসার মাঠ কর্মকর্তারা তাতে রাজি হননি। তবে কি প্রেমদাসার শ্রীলংকান কর্মকর্তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের অভাব রয়েছে? নাকি তারা সাকিবদের কাছ থেকে ঘুষ খেয়ে সব চেপে গিয়েছেন?

জয়সুরিয়ার মতে টাইগাররা থার্ড ক্লাস! neonaloy

জয়সুরিয়ার করা টুইট

 

২.
জয়সুরিয়া কি মাঠে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোকেও কাঁচ ভাঙ্গার সাথে জড়িয়ে ফেলেছেন?

লাইভ খেলা সবাই দেখছে! এমন চতুর্থ শ্রেনীর আম্পায়ারিং এর বিরুদ্ধে একজন অধিনায়ক যদি খেলা বন্ধ করতে চায় তবে তা কি থার্ড ক্লাস আচরণ? তবে ফার্স্ট ক্লাস আচরণ কোনটা?

আবার সোহানের ব্যাপারটা..
ওইরকম একটা ক্রিটিকাল সিচুয়েশনে স্বাভাবিক ভাবেই সবার মন মেজাজ খারাপ। এমন অবস্থায় যদি আপনাকে মাঠে ঢুকতে না দেওয়া হয় বা ধাক্কা দেওয়া হয় তবে কি আপনি সুবোধ বালকের মতো সাইড বেঞ্চে ফিরে আসবেন নাকি সোহানের মতো প্রতিবাদ করবেন? জয়সুরিয়াও নিশ্চয় প্রতিবাদ করতেন!

আচ্ছা উনি কি রিয়াদ বা, তামিম ভাইকে দেখেন নি? সোহান কে রিয়াদ ভাই শাসন করছেন তামিম ভাইও না ক্ষেপে গিয়ে ব্যাপারটা সামলেছেন, এগুলাও থার্ড ক্লাস আচরণ?

একজন সাবেক ক্রিকেটারের সব ব্যাপার না বুঝে এইরকম আক্রমনাত্মক টুইট এবং প্রায় চুরি হয়ে যাওয়া ম্যাচের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনার উপর ভিত্তি করে কোন দলকে “থার্ড ক্লাস” বলার মাধ্যমে উনি নিজের ক্লাসের পরিচয় দিলেন হয়তো!

আর হ্যাঁ, এই যে বাংলাদেশী সাপোর্টাররা, নজরকাড়া অনলাইন নিউজ পোর্টালের হেডলাইন ঘাটানো বাদ দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করুন কি ঘটেছিলো। আর অপেক্ষা করুন ক্রিকেটাররা কি বলে এই ঘটনা নিয়ে!

#পুনশ্চঃ জয়সুরিয়া পরে টুইট ডিলিট করছে, যার কারণে টুইটারে ঘাটাঘাটি করে লাভ নেই!

Most Popular

To Top