নাগরিক কথা

একটি “আইকনিক” বেয়াদবি

একটি "আইকনিক" বেয়াদবি neonaloy

সৌরভ গাঙ্গুলীকে আমি তার অফসাইডের ব্রিলিয়ান্সের জন্য মনে রাখিনাই, সাহারা কাপে অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের জন্য মনে রাখিনাই, শর্টবলে নড়বড়ে হওয়ার জন্য মনে রাখিনাই। সৌরভ মানে লর্ডসে আদুল গায়ে জার্সি ওড়ানো।

লেইটকাট ছাড়া রানাতুঙ্গার আর কোন শটের কথা মনে পড়েনা, ত্রিশের পাশে এভারেজে ঘুরাঘুরি করা একজন অর্ডিনারি ব্যাটসম্যান জাস্ট। কিন্তু শ্রীলঙ্কান ট্রান্সফর্মেশনের শুরু রানাতুঙ্গার হাত ধরে, “আইয়া”র অবদান ছাড়া লংকান ক্রিকেট কল্পনা করা যায় না। রয় ডায়াস, ফার্নান্দেজরা খেলেছেন শ্রীলঙ্কার হয়ে, অথচ আইয়ার সমান উচ্চতায় তারা উঠতে পারেন নাই। কেন?

ভারত বহুদিন ধরে ক্রিকেট খেলে, গাভাস্কারের মতো প্লেয়ার প্রডিউস করছে, শচীন খেলছে ওদের হয়ে। সব ঠিক ছিলো, জাস্ট কিলার ইন্সটিনক্ট ছিল না। গাঙ্গুলী ওইটা সংক্রমিত করেছে, লর্ডসের মোমেন্টটা ইন্ডিয়ান ক্রিকেটের ডিফাইনিং মোমেন্ট। এরপরে ধোনী, তারপরে কোহলী। এইটা ন্যাচারাল কন্সিকোয়েন্স। কোহলি আমার প্রিয়, কারণ সে বেয়াদব। আমাদের এইরকম বেয়াদব লাগবে। লেগ আম্পায়ার নো বল কল করেছে, আম্পায়ার দেন নাই। এই সময় কি করতে পারতো সাকিব? এইরকম ক্রুশিয়াল মোমেন্টে আপনার গ্রিভেন্স আপনি কেন শো করবেন না? সানোয়ার হোসেন আর আজহারা যখন খেলতো, তখন এই রকম হইলে তারা চেপে যেত, এরা তো যাবেনা। এরা যায়না বলেই বিদেশে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলতে পারে, ওয়ার্ল্ড কাপে কোয়াটার ফাইনাল খেলতে পারে। দেশে জিতবে, বিদেশে জিতবে, কয়েক বছর পরে বিদেশে টেস্টও জিতবে। তার আগে হারবে সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া গিয়ে। ঘরে বাঘ, বাইরে বিড়াল অপবাদ পাবে। একসময় ঠিকই জিতবে। এইটা ন্যাচারাল প্রোগ্রেস।

সাকিব যদি ওইরকম না করতো, পরের বলটা ও বাউন্সার দিতো। “আমাদের সাথে ইনজাস্টিস হচ্ছে” – এই গ্রিভেন্স নিয়ে রিয়াদ ব্যাটিং রিজিউম করছে, খেলায় পজ পড়ার কারনণে বোলার ডিজরিয়েন্টেড হয়েছে এবং ঠিক সেই বলটাই করছে যেইটা চেতন শর্মা শারজায় করছিলো মিয়াদাদকে।

প্লেয়াররা প্রথমত এন্টারটেইনার, পরবর্তীতে আপনাকে রিপ্রেজেন্ট করে। আনডাউটেডলি তাদের একটা দায় আছে কিন্তু সেইটা উইনিং স্যাক্রিফাইস করে না। আমরা আন্ডারডগ, গ্রেইস ও জেন্টলম্যানশীপ আমাদের এই মুহূর্তের প্রায়োরিটি না। ওইটা প্রিভিলেজডরা এফোর্ড করতে পারে। সাকিবের মাঝে গ্রেইস ঢুকাইতে গেলে ও পারফর্ম করতে পারবেনা। দিস ইজ হিম। এইটাই ওর চরিত্র। এই এরোগেন্স, এই কনফিডেন্স বাদ দিলে সে রান পাবেনা। বটম হ্যান্ডে খেলে, অফস্টিকে সবসময় ভার্নারেবল, শুধু কনফিডেন্স আর জিগিষা দিয়ে ও এতদূর আসছে। টেকনিক্যালি মুশফিকের অর্ধেকও না, অথচ চল্লিশের উপরে টেস্ট গড়, সিম্পলি আনবিলিভেবল। মুমিনুলের মাঝে ফ্লেয়ার যোগ করতে চাইলে ও ফেইল করবে, সাকিবের থেকে ফ্ল্যামবয়েন্স বাদ দিলে ও আর সাকিব থাকবেনা। ভদ্রতা শেখানোর জন্য ডেল কার্নেগী আর শিব খেরা আছে। ওইটা ক্রিকেটারদের কাজ না, জেতাটা যখন রেগুলার হবে, ওইটা আপনা আপনি আসবে। তার আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ব্রায়ান লারা যেটা রিটায়ারমেন্টের পরে জিজ্ঞেস করছিলো দর্শকদের, “ডিড আই এন্টারটেইন ইউ?” দ্যাট ইজ দ্যা কোয়েশ্চেন ইউ মাস্ট আস্ক। ডিড দে এন্টারটেইন ইউ?

লেখকঃ এ টি এম গোলাম কিবরিয়া 

Most Popular

To Top