ফ্লাডলাইট

অনেক অনেক দিন মনে থাকার মত একটি ম্যাচ…

মাহমুদুল্লাহ নিয়ন আলোয় neon aloy

হাতে তখন আছে আর ৫ ওভার… দরকার আরো ৪৫+ রান!!! বিপত্তি ঘটলো ২ ওভার বাকি থাকতে সাকিবের উইকেট পতনে!

বুঝতে বাকি রইলো না কি হতে যাচ্ছে! ৯ বলে ১৯, ৮ বলে ১৫ রান যদিও আশা জাগাচ্ছিলো… কিন্তু মিরাজের রান আউট সেই আশাটাও শেষ করে দিলো। মাহমুদুল্লাহকে সঙ্গ দেওয়ার মতো একজন তো লাগতো! কে ছিলো? আমাদের বোলাররা দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেন না, না আছে আমাদের পেরারাদের মতো প্লেয়ার! তাই বরাবরই জয়ের খুব কাছে গিয়ে হেরে যাই আমরা। কিন্তু না! সব সমীকরণ ভুল প্রমাণিত করে একাই লড়ে গেলেন সাইলেন্ট কিলার… শেষ দুই বলে লাগে ৬ রান…. অ্যান্ড এ বিগ হিট! দুই উইকেটের জয়! ফাইনাল নিশ্চিত… সবটাই সম্ভব হয়েছে মাহমুদুল্লাহর জন্য!

১৬ মার্চ, রানা ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে নিদহাস ট্রফির নকআউট পর্ব, বা অঘোষিত সেমিফাইনাল!

খেলার মূল আকর্ষণ ছিলো সাকিবের ফিরে আসা!
আর টসে জেতা যেনো সাকিবের অধিকার! জিতে নিলো টসটা! স্বাভাবিকভাইবেই টসে জিতে এই পিচে ফিল্ডিং নিবে যেকোনো ক্যাপ্টেন।

ফিল্ডিংয়ে টাইগাররা..

প্রথম ওভারে সাকিব…
ডট বল দিয়ে শুরু করলেন ওভার। প্রথম ওভারে তিন রান দিলেন। এরপরেই বল হাতে এলো রুবেল, শেষ করলো নিজের প্রথম ওভার। আবার সাকিব…
নিজের দ্বিতীয় ওভারে ফেরালেন গুনাথিলাকাকে, সাব্বিরের ক্যাচটা ভালো ছিলো!

এর পরেই ফিজ আঘাত… ৪র্থ ওভারের শেষ বলে ফেরান কুশাল মেন্ডিসকে! এরপরই থারাঙ্গার রান আউট, যেটা হয়েছিলো মিরাজ আর ফিজের বদৌলতে।
আবারো আঘাত হেনে সানাকাকে ফেরান ৫.৪ ওভারে। পাওয়ার প্লে’তে ৪ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ মাত্র ৩২ রান।
এরপরে আঘাত হানে সমালোচনার শীর্ষে থাকা মিরাজ, ৮.১ তম ওভারে জিভান মেন্ডিসকে ফিজের তালুবন্দী করে মিরাজ!

ক্রিজে তখন পেরেরা জুঁটি। মোটামুটি প্রতিপত্তি গেড়ে বসার পরিকল্পনা চলছিলো তাদের! মূলত কুশাল পেরেরার দাপট।
বোলাররাও তেমন সুবিধা করতে পারছিলো না। ১৪.১ ওভারে তাদের ফিফটি পার্টনারশিপ, এবং পরের বলেই কুশাল পেরারার ফিফটি হয়ে যায়। এবং অবশেষে ১৮.২ ওভারে সৌম্যর বলে এবং মিরাজের ক্যাচে কুশাল পেরেরার আউটের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে এই বিধ্বংসী পার্টনারশিপের!

মিসফিল্ডিংয়ের নাটক যেনো লেগেই ছিলো। এর মধ্যেই ১৯.২ ওভারে তামিম ইকবালের ক্যাচে রুবেলের বলে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় থিসারা পেরারাকে!
শেষমেষ আমাদের জন্য টার্গেট দাড়ায় ১৬০!

মিসফিল্ডিংটা ছিলো ফ্যাক্ট! সাকিবের ক্যাপ্টেন্সি আবার প্রশ্নবিদ্ধ! সাথে আরোও একটি প্রশ্ন- সাকিব কি পুরোপুরি ফিট? অপুকে না বোলিং-এ না আনাতেও ক্ষুব্ধ অনেক টাইগার সমর্থক!

ব্যাটিংয়ে টাইগাররা…

তামিম আর লিটন দাস ওপেনিংয়ে! তামিম ইনিংসটা শুরু করলেন বাউন্ডারি দিয়ে।
বিপত্তিটা ঘটালো লিটন দাস! পাওয়ার প্লে’তে একটা উইকেট হারালো টাইগাররা, দলীয় রান তখন ১১ (১.৪ ওভার)।
ওয়ান ডাউনে সাব্বির! যদিও সবাই সাকিবকে আশা করছিলো!

তবে এসেই ব্যাক টু ব্যাক বাউন্ডারি সাব্বিরের! কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারলো না, নিজস্ব ১৩ রানে স্টাম্পিংয়ে আউট হন সাব্বির। দলীয় রান তখন ৩৩ (ওভার ৩.৫), পাওয়ার প্লে তে আরও একটা উইকেট হারালো টাইগাররা!

ক্রিজে আসলেন মুশি! সবার একটাই আশা এই জুঁটি যেন ভালো একটা পার্টনারশিপ দেয়! এর মধ্যে চতুর্থ ওভারে দলীয় ৫০ রান হয়ে যায়! খান সাহেব দারুণ ফর্মে ছিলেন, কয়েকবার রিস্ক নিয়েও খেলতে দেখা গেছে। মুশিও ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলো। কিন্তু দলীয় ৯৭ এবং নিজস্ব ২৮ রানে আউট গেলো মুশফিক।

ক্রিজে এখন সৌম্য সরকার। যেখানে সবার আশা ছিলো তামিম যেনো টিকে যায়, সেখানে নিজস্ব ৫০ ও দলীয় ১০৯ রানে আউট হন তামিম। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সৌম্যও প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটেন! কয়েক মূহুর্তে ৩টা উইকেট হারানো! দলের হাল ধরার মতো তখন ছিলো সাকিব আর মাহমুদুল্লাহ! দরকার ছিলো ভালো একটা পার্টনারশিপের। এরই মধ্যে সাকিব আউট! দিশেহারা সবাই!

এর পরেই মিরাজের রান আউট, ফিজের রান আউট। সব কিছুর উর্ধ্বে যেন মাহমুদুল্লাহর জেতার প্রবল ইচ্ছা। একাই লড়ে গেলেন সাইলেন্ট কিলার। প্রমাণ করলেন তিনি বিগ ম্যাচের প্লেয়ার, প্রমাণ করলেন তিনিই একমাত্র প্লেয়ার যে সব পরিস্থিতিতে চাপ নিয়ে খেলতে পারেন।

অভিনন্দন টাইগারদের।

এ ট্রিবিউট টু রানা ভাই!
ভাইয়া জানেন? ইতিহাস সাক্ষী… আপনার জন্য খেলা কোনো ম্যাচ আমরা হারিনি!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top