ফ্লাডলাইট

পার্থক্য গড়ে দিয়েছে শেষ ৫ ওভার!

পার্থক্য গড়ে দিয়েছে শেষ ৫ ওভার! nepnaloy

ভারত নামটাই মনে হয় একটা মানসিক বাঁধা। না হয় ভারতের এই অনভিজ্ঞ বোলিং লাইন আপের সামনে সিরিজের দুটি ম্যাচই হারতে হয়!

আজকের ম্যাচের কথাই যদি বলি, দুই ইনিংসের ১৫ ওভার যদি তুলনা করি বলা চলে সমান সমান অবস্থা ছিল। কিন্তু ভারত তাদের শেষ ৫ ওভারে রান তুলছে ৫৯ আর বাংলাদেশ তুলেছে ৪৩। পার্থক্য এখানেই।

১৫ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ১১৭/১
আর বাংলাদেশের রান ১১৬/৪।

উইকেট আগের ম্যাচের মতো চমৎকার ব্যাটিং সহায়ক ছিল না। বরং স্লো ধাঁচের উইকেট ছিল। এই উইকেটে সেট না হয়ে শটস খেলা যায় না। বিষয়টা দ্রুতই ধরে ফেলেছিলেন রোহিত শর্মা। রানে ফেরার জন্য আজকের দিনটাই বেছে নিলেন তিনি। ৮৯ (৬১) রানের ইনিংস টেনে নিয়েছেন শেষ ওভার পর্যন্ত, আর অন্য পাশে রোহিত থাকায় হাত খুলে খেলেছেন সুরেশ রায়না ৪৭ (৩০)।

অথচ এই রোহিত শর্মা, সুরেশ রায়না দুজনকেই ফেরানো যেত দ্রুতই। রোহিতের মিস হিট ইনিংসের শুরুতেই বাতাসে বল ভাসিয়ে দিলেও আবু হায়দার বলটা ধরতে পারেননি। ক্যাচটা না নেয়ার মতো ছিল না, রনি কিছুটা লেটে মুভ করেছেন। সম্ভবত মিড অন না মিড অফ কে ক্যাচটা নিবে এই কনফিউশন হয়েছিল। আর রায়না উইকেটে এসেই ফ্লিক করে ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দিলেন, মুস্তাফিজ যদি আরেকটু হিসাব করে ডাইভ দিতেন তাহলে ক্যাচটা হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ক্যাচ মোয়ার মতো সহজ হয় না। কিছু “হাফ-চান্স” নিতে হয়। ভালো এথলেট হলে দুটি ক্যাচই নিয়ে নিতেন। আরেকটা দৃষ্টিকটু মিস জাজমেন্ট ছিলো লিটনের। এটা আরো সহজ ছিল। বলটা কোথায় ল্যান্ড করবে লিটন তা বুঝেন নাই!

যেহেতু রোহিত-রায়না ছিলেন তাই শেষ ওভারে ভারত হাত খুলে মেরেছে। তবে আবু হায়দার রনির এক ওভারে ২১ রান আর তার আগের ওভারে ফিজের ১৪ রান মনে হয় মূল পার্থক্য করে দিয়েছে।

রনির ক্যামবাক ম্যাচটা ভালো হলো না! ৪ ওভারে রান দিলেন ৪৩। মিরাজ দিলেন ৩ ওভারে ৩১। ফিজের ৪ ওভারে ৩৮।

১৭৭ রানের টার্গেট। তামিমের কাছ থেকে অনেক বড় একটা ইনিংস দরকার ছিল। আগের ম্যাচের পরে খুবই স্বাভাবিক লিটনকে ফ্রি লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল দ্রুত রান তোলার। আর তামিমের দরকার ছিল রোহিত শর্মার রোলটা প্লে করার। স্লো উইকেটে একজনকে শেষ পর্যন্ত যেতে হবেই, এটাই নিয়ম। লিটন আর সৌম্য দুইজনই উইকেটের স্বভাব বুঝতে পুরোপুরি ব্যর্থ। স্লো পিচে আগেই বের হয়ে এসে শট খেলে ফেলেছেন। দুইজনের ব্যাট প্যাডের মাঝে যেই বিরাট গ্যাপ ছিল তার মাঝে মনে হয় “পদ্মা সেতু” বানানো যাবে। অবশ্যই ওয়াশিংটন সুন্দরের ডেলিভারি দুইটা সুন্দর ছিলো!

তামিম অবশ্য দারুন খেলছিলেন। কিন্তু সব ফরম্যাট মিলিয়ে ইদানিং যা হচ্ছে, তামিম লেগ সাইডের বলে ঘন ঘন আউট হচ্ছেন। আর ওই সময় বলটাকে ফাইন লেগে খেলাটা জরুরী ছিল না। সফট হ্যান্ডে ডিফেন্স বা স্কয়ার লেগে টুকে দিলেই বুদ্ধিমানের কাজ হতো। সিনিয়র প্লেয়ারদের নিজেদের কিছুটা সংবরণ করা উচিৎ “চিকি শট” খেলা থেকে। দ্রুত ২ উইকেট পড়ে যাবার পর ক্রস ব্যাটে খেলাটা অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যানকে দেখেছি এড়িয়ে যেতে। তামিম অন্তত ১০ ওভার পর্যন্ত থাকলে ম্যাচ নিশ্চিত বাংলাদেশের হতো।

৩ উইকেট পড়ে যাবার পরেও বাংলাদেশ ম্যাচে ছিলো। মাহমুদুল্লাহ-মুশফিক একটা জুটি গড়লে জেতা সম্ভব ছিলো। একটু সময় নিতে পারতেন মাহমুদুল্লাহ। এমন একটা শট নিলেন, মিস টাইমিং। মিড উইকেটে ধরা। বিগ টার্নিং পয়েন্ট।

এরপর মুশফিক-সাব্বির ৬৫ রানের জুটি গড়েছে এবং ১৫ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচে ছিল। পিছিয়ে পড়েছে এরপর থেকেই!

ছয় ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলার চাপটা আজকে খুব স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে। মুশফিক আর সাব্বির কেউই হাত খুলে মারার সাহস পায়নি, কারণ এরপর ডাগ আউটে ছিল শুধু মিরাজ। আর বাকিদের কাছে আপনি কি আশা করবেন? প্রথম ৩ জন যদি ফ্লপ করে তখন শেষ দিকে এই চাপ পড়বেই! নীচের দিকে আরেকটা জেনুইন ব্যাটসম্যান থাকলে আজকে অন্যরকম হতে পারতো!

আমি মুশফিক-সাব্বিরকে দোষ দিবোনা। আবার এটাও সত্যি তাদের আরেকটু দ্রুত রান তোলার দিকে মনোযোগ দেয়া উচিৎ ছিল। মুশফিকের কাজটা মুশফিক করেছেন প্রায়, সাব্বিরের আরেকটু চালায় খেলা দরকার ছিল। ওই সময় ২৩ বলে ২৭ মানায় না, সিচুয়েশন আরো ডিমান্ড করে।

মুশফিক প্রতিদিন আগের ম্যাচের মতো খেলবেন না এটা মানতে হবে। কারণ মুশফিক জেনুইন বিগ হিটার না। ফাস্ট পিচে, বলে পেস দিলে ভালো উইকেট টাইমিং মিলে গেলে শট নেয়া যত সহজ স্লো পিচে সেটা না। মুশফিক আজ চেষ্টা করেও টাইমিং করতে পারেনি শেষ দিকে। তবে ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি করায় তাকে অভিনন্দন জানাতে হয়! ৫৫ বলে ৭২* রানটা আজকের জন্য পারফেক্ট হতো যদি অন্যরা তাদের কাজটা ঠিক মতো করতেন। শেষ ৫ ম্যাচে মুশির ৩ ফিফটি!!

স্লো উইকেটে ভারতের বোলারদের ডেথ বোলিং হলো দারুন। ওয়াশিংটন সুন্দর, ভিজয় শংকর, মোহাম্মদ সিরাজ কেউই অভিজ্ঞ বোলার না। এমনকি শংকর, সিরাজ আমাদের আবু হায়দার রনির চেয়েও কম ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু তাদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের বিপক্ষেও কার্যকর ছিল। স্লো পিচে স্লোয়ার বাউন্সার, ফিফথ স্ট্যাম্পে ইয়র্কার দারুন লেগেছে।

হয়তো অনেকে বলবেন “লড়াই” করেছে, সেটা আসলে শুনতে ভালো শোনাচ্ছে না। ম্যাচটা বাংলাদেশের হাতেই ছিল। মিস ফিল্ডিং, ক্যাচ মিস, বাজে ডেথ বোলিং এর পরেও! কিন্তু ওই যে শেষ ৫ ওভারে একজন রোহিত শর্মা আর একজন রায়নার মতো প্লেয়ার আমাদের নাই।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বলেছিলাম এই ভারতের সাথে জিততেও সর্বোচ্চ সেরাটা দিতে হবে। এখনতো হেরেই বসলাম!

পর শুদিন “আনঅফিশায়াল” সেমি-ফাইনাল। শুভকামনা টিম বাংলাদেশের জন্য।

Most Popular

To Top