টুকিটাকি

বিপজ্জনক বিমান বম্বারডিয়ার!

বিপজ্জনক বিমান বম্বারডিয়ার! neonaloy

বাংলাদেশের বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিলো বম্বারডিয়ার ড্যাশ 8 Q400 মডেলের। এই মডেলের বিমানের ইঞ্জিন সংখ্যা দুইটি। সর্ব্বোচ্চ ৭০ থেকে ৭৮ জন যাত্রী বহন করতে পারে মডেল বম্বারডিয়ার ড্যাশ 8 Q400।

বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই এই মডেলটি জনপ্রিয়। জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কম বলে অনেক দেশের প্রাইভেট এয়ারলাইন্সগুলো এই মডেলের বিমান কিনে থাকে। ১৯৮৪ সালে প্রথম আকাশে ওড়া বম্বারডিয়ার ড্যাশ 8 Q400 মডেলের বিমান নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলো আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

এই মডেলের বিমান ৫০০ মাইলের কম দূরত্বে চলার উপযোগী। এর নির্মাণকারী কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৪ সালে প্রথম আকাশে ওড়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে অনেক দেশেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বিমান গুলো। এসব দুর্ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছিলো অবতরণের সময়। তাই এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নানা সময়ে প্রশ্ন তুলেছে। ত্রুটিপূর্ণ ল্যান্ডিং গিয়ারের কারণে একাধিকবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এই মডেলের বিভিন্ন বিমান।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে এই মডেলের দুটি বিমান রয়েছে। এছাড়া, দেশের সব বেসরকারি এয়ারলাইন্সের বহরে এই মডেলের বিমান আছে।

১৯৯০ সালে ব্যাংকক এয়ারওয়েজের এই মডেলের একটি বিমান ক্র‍্যাশের ফলে ৩৮ জন আরোহী মারা যায়।
১৯৯৩ সালে লুফথানসা সিটিলাইন ফ্লাইট 5634 অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে, ২৩ জন যাত্রী ও ক্রু মারা যায়।

২০০৭ সালে, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার এয়ারলাইন্স ফ্লাইট 1209 ডান পাশের প্রধান গিয়ার পতনের কারণে দুর্ঘটনায় পড়ে বিমানটি। এই ঘটনায় ১১ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, যাদের প্রত্যেকেই মারাত্মক জখমের শিকার হন।
এই ঘটনার কয়েকদিন পর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্সের ল্যান্ডিং গিয়ারের সমস্যা দেখা দিলে ফ্লাইট 2748 বিমানটি ভিলনিয়াস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (লিথুনিয়া) জরুরী অবতরণ করে। এরপর স্ক্যান্ডিনেভিয়ার এয়ারলাইন্স নিজেদের বহরে নিষিদ্ধ করে মডেল বম্বারডিয়ার ড্যাশ 8 Q400।

২০০৯ সালে, নিউ ইয়র্কের ক্লারেন্স সেন্টারের একটি বাড়ির মধ্যে কোলগান এয়ার ফ্লাইট বিধ্বস্ত হয়, এই দুর্ঘটনায় ৪৯ জন মানুষ নিহত হয় চার ক্রু সদস্যসহ। অবশ্য এই ঘটনায় বিমানের কোন ত্রুটি পাওয়া যায়নি, দুর্ঘটনার জন্য পাইলটকে দায়ী করা হয়।

নেপালের কাঠমুন্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইনন্সের বিমানটিও অবতরণের সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বিধ্বস্ত হয়। ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নেপালের উদ্দেশ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ে মডেল বম্বারডিয়ার ড্যাশ 8 Q400 বিমানটি। যাত্রীদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, একজন চীন এবং ১ জন মালদ্বীপের নাগরিক ছিলেন। এর মধ্যে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ২২ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে (সূত্র- রয়টার্স ও এএফপি)।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সিঙ্গাপুরের চারদিনের সফর সংক্ষিপ্ত করে মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ পর্যন্ত খবর পাওয়া নিহত ৪৯ জনের মধ্যে বাংলাদেশি ২৫ জন। আহতদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

যাত্রীদের মধ্যে নিহত বাংলাদেশিদের নামের তালিকা

এফ এইচ প্রিয়ক, তামারা প্রিয়মনি, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন, শশী রেজা, পিয়াস রায়, উম্মে সালমা, অনিরুদ্ধ জামান, মো. নুরুজ্জামান, মো. রাইয়কুজ্জামান, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, মো. রকিবুল হাসান, সানজিদা হক, মো. হাসান ইমাম, মো. নজরুল ইসলাম, আঁখি মনি, মিনহাজ বিন নাসির, ফয়সাল আহমেদ, ইয়াকুব আলী, আলিফউজ্জামান, বিলকিস আরা, বেগম হুরুন নাহার, বিলকিস বানু, আখতারা বেগম।

( নিহতদের ও জীবিতদের নামের তালিকা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলমের ফেইসবুক থেকে নেয়া) এছাড়া ইউএস বাংলার পাইলট পৃথুলা রশীদ এবং ক্রু খাজা হুসাইন নিহত হয়েছেন। আর কিছুক্ষ্ণ আগে পাওয়া খবরে জানা গেছে পাইলট আবিদ সুলতানও নিহত হয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ কি কি কারণে বিমান ক্র্যাশ করে 

Most Popular

To Top