টুকিটাকি

ফোন বুথে যা হচ্ছে!

ফোন বুথে যা হচ্ছে!

হাতে হাতে এখন মুঠোফোন তাই টেলিফোন বুথ গুলো বেকার। আমাদের দেশে তেমন চল না থাকলেও বিশ্বের অনেক দেশেই যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো ফোন বুথ। যা এখন আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।

ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় লাল টুকটুকে ফোন বুথ একসময় যেমন ছিলো যোগাযোগের একমাত্র ভরসা তেমনি এগুলো শহরের সৌন্দর্যের অংশও।
১৯২৪ সালে গিলবার্টের ডিজাইন করা টেলিফোন বুথ প্রথম চালু করা হয় একটি প্রতিযোগিতার আওতায়। এরপর ১৯৮০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে ফোন বুথের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ হাজারে। লন্ডনের রাস্তার কোণ থেকে দূরবর্তী গ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যতা তৈরি করেছে লাল রংয়ের ব্রিটিশ টেলিফোন বুথ। ব্রিটিশদের কাছে এগুলো সর্বজনীন স্বীকৃত আইকন।

শুরুর ৯০ বছর পর, এই ফোন বুথ গুলো এখন হাজারো সেলফি তোলার জন্য জনপ্রিয় ব্যাকড্রপ। তবে, স্মার্টফোনের এই সুবিধাকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত ব্রিটিশদের। কেননা, ফোন বুথ গুলোর সামনে শত শত সেলফি তোলায় এর দিকে বিশেষ নজর পড়েছে কর্তৃপক্ষের। মোবাইল ফোন সহজলভ্য হওয়ায় অবহেলায় পড়ে আছে এসব টেলিফোন বুথ। এভাবে পড়ে থাকলে একসময় সংস্কারের অভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে দেশটির ইতিহাসবিদরা।

ঐতিহ্যবাহী এসব টেলিফোন বুথ টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাজ্যের টেলিকম কোম্পানি ‘ব্রিটিশ টেলিকম’ একটি “কিয়স্ক” প্রোগ্রাম চালু করেছে। এই প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন কমিউনিটি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ফোন বুথ গুলো ইজারা নিতে উৎসাহিত করছে তারা। এই উদ্যোগ এরইমধ্যে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

কেউ খুলেছেন কফি শপ, কেউবা বিক্রি করছেন কোল্ড ড্রিংক্স। রাস্তায় চলতে চলতে সেরে নেয়া যাবে হার্টের চেক আপ, এমন সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে কোন কোন ফোন বুথে। বিকল্প ব্যবহারে কেউ কেউ খুলেছেন লাইব্রেরি।

ফোন বুথে যা হচ্ছে! neonaloy

একসময়ের ফোন বুথে এখন লাইব্রেরি

 

ব্রাইটন দক্ষিণ ব্রিটেনের সমুদ্রতীরবর্তী শহর। সমুদ্র তীরে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য কয়েকটি ফোনবুথে খোলা হয়েছে ক্যাপ ও সানগ্লাসের ছোট দোকান। এমনি আরো কত আয়োজন। লাভফোন নামে মোবাইল ফোন মেরামতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে বেশ কিছু টেলিফোন বুথ। যেখানে পথ চলতে চলতে সহজেই সেরে নেয়া যাচ্ছে ফোনের নানা সংস্কারের কাজ। লাল টুকটুকে ছোট্ট কাঁচের ঘরের মধ্যে চলছে মোবাইল ফোন মেরামত। এছাড়া ‘রেড কিয়স্ক’ নামে আরেকটি কোম্পানি সারা দেশে ৫০০ ফোন বুথ ইজারা নিয়েছে। যেখানে তারা চালু করেছেন লন্ডনের সেন্ট্রাল ব্লুমসবার স্কয়ারের জনপ্রিয় স্পাইজার সালাদ ও কফি শপ।

ফোন বুথে যা হচ্ছে! neonaloy

কফি শপ দিয়ে আয় রোজগারের ব্যবস্থা করেছেন অনেকে

 

এখনো ব্যবহার উপযোগী প্রায় ৩৫ হাজার টেলিফোন বুথ রয়েছে রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন শপিং সেন্টারে। ব্রিটিশ টেলিকম কোম্পানি এসব বুথে ‘ইন লিঙ্ক ইউকে’ নামে এক ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ওয়াইফাই সেবা দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

ব্রিটিশ টেলিকম কোম্পানি দাবি করছে যে, ঐতিহাসিক লাল বুথ গুলো এই উদ্যোগের ফলে সুরক্ষিত থাকবে এবং এর মাধ্যমে বেশকিছু কর্মসংস্থানও হচ্ছে। তারা বলছে, “আমরা যতটা সম্ভব বাঁচাতে এবং রক্ষা করতে চাই”। এভাবে বিকল্প ব্যবহারে ঐতিহাসিক আরো অনেক কিছুই রক্ষা করার আইডিয়া সৃষ্টিতে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করে তারা।
এভাবে সম্পদের বিকল্প ব্যবহারে ইতিহাস রক্ষা, পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে আমাদের দেশের প্রশাসনও। তাহলে হয়তো অনেক ইতিহাসই বেঁচে যাবে চূড়ান্ত ধ্বংসের হাত থেকে।

Most Popular

To Top