ফ্লাডলাইট

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা এক ডজন সেলিব্রেশন (সাথে ২টা ফ্রি!)

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

সর্বশেষ ১৪ ম্যাচে ১৩ পরাজয়, পঞ্চদশ ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বেধড়ক পিটুনি খেলো দলের বোলাররা। প্রতিপক্ষ শিবিরে সদ্যসাবেক হওয়া গুরু, যিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জানেন দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের দুর্বলতা। দেশের মাটিতে এর একমাসেরও কম সময় আগে “রেকর্ড গড়ে” পরাজয় বরণ করতে হয়েছে এই গুরুর কষা ছকেই। সেখানে শত্রুর ঘাঁটিতে গিয়ে তারচেয়েও বড় রেকর্ড গড়ে জয় ছিনিয়ে আনবে আত্মবিশ্বাসের অভাবে ধুঁকতে থাকা একটি দল- কে ভেবেছিলো? তার উপর ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে সব আশা-ভরসা সেই মানুষটির হাতে, যিনি দলের সেরা সময়ে বছরকয়েক আগেই হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন ম্যাচ জেতার আগেই সেলিব্রেশন করতে গিয়ে। কেউ কি ভেবেছিলো, সেই মুশফিকই এভাবে রূপকথার গল্পের চাইতেও অবিশ্বাস্য ভাবে পাশার দান উল্টে দিবেন? কেউ ভাবেননি। কিন্তু সুদূরতম কল্পনাটা যখন বাস্তবে রূপ নিলো, তার সেলিব্রেশনও হলো বহু বছর মনে রাখার মত। মুশফিকের এক “নাগিন ড্যান্স” উদযাপন ভুলিয়ে দিলো আগের ১৪ ম্যাচের বিভীষিকা।

তবে এই উদযাপনই প্রথম না। এর আগেও এরকম বেশ কিছু “আইকনিক” সেলিব্রেশনে সমর্থকদের আনন্দে মাতিয়েছেন টাইগাররা। আর সেই উদযাপনগুলো নিয়েই এই ফিচার।

১) ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি ফাইনাল

‘৯৩ আইসিসি ট্রফিতে এই কেনিয়ার কাছে হেরেই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নের কবর রচিত হয়েছিলো। চারবছর পর মালেয়শিয়ায় টুর্নামেন্টের ফাইনালে কেনিয়াকে ২ উইকেটে হারিয়ে প্রথম কোন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। একই সাথে অর্জন করে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলার টিকেট। বলা হয়ে থাকে এটিই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। যেই জয়ের উপর দাড়িয়ে আজকের বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হলে বিশ্বকাপ খেলা হয়না, বিশ্বকাপ না খেললে পাকিস্তানকে হারানো হয়না আর সেটা না হলে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া হয়না আর সেটা না হলে আজকের অবস্থান কখনো হতো কিনা কে জানে! টানটান উত্তেজনার সেই ম্যাচে মার্টিন সুজির করা শেষ বলে ১ রান দরকার ছিলো জয়ের জন্য। স্ট্রাইকে হাসিবুল হোসেন শান্ত। ব্যাটে বলে হয়েছিলো না, প্যাডে লাগা মাত্র দৌড় শুরু করলেন শান্ত আর খালেদ মাসুদ পাইলট। বাকিটা ইতিহাস!

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

২) ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তান বধ

প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটের পুঁচকে দল বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ ‘৯২ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। নর্দাম্পটনে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে আপসেট ঘটিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ২২৪ রানের টার্গেট নিয়ে খেলা পাকিস্তানের শেষ ব্যাটসম্যান সাকলাইন মুস্তাককে রান আউট করেন খালেদ মাসুদ পাইলট। মাঠের আম্পায়ার থার্ড আম্পায়ারের সাহায্য চাইলেন। সিদ্ধান্ত আসার আগেই মাঠের ভেতর শত শত বাঙালি দৌড়ে ঢুকে পড়েন। তারা সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছেন! বাংলাদেশ জয়ী। এই জয়টি বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পক্ষে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলো। মাঠভর্তি দর্শকদের উল্লাস থামাতে শেষ পর্যন্ত বাংলায় মাইকিং করা হয়! বলার অপেক্ষা রাখেনা প্রচন্ড আতংকিত হয়ে পড়েছিলো পাকিস্তানের শেষ দুই ব্যাটসম্যান! আহ! সোনার ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখার মতো একটা ছবি!

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

৩) প্রথম টেস্ট জয়, ২০০৫

টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত পরিবারের সদস্য হয়েছে পাঁচ বছর, কিন্তু তখনো যেন জয় নামের সোনার হরিণ কাল্পনিক বস্তু টাইগারদের কাছে। সমালোচনার ঝড় থেমে থেমে আঘাত হানে প্রতি সিরিজেই। মরুভূমির মাঝে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে সেই জয় এসেছিলো এম.এ.আজিজ স্টেডিয়ামে। আর সেই বৃষ্টির উল্লাসে ভিজেছিলো হাবিবুল বাশারের বাংলাদেশ। এনামুল হক জুনিয়রের বলটা ক্রিস্টিফার এমপফুর ব্যাটে লেগে সরাসরি সিলি পয়েন্টে থাকা আশরাফুলের তালুবন্দি হতেই রচিত হলো ইতিহাস। তর্জনী উঁচিয়ে আশরাফুলের সেই দৌড় কিভাবে ভুলবেন?

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

৪) কার্ডিফ-কাব্য

২০০৫ সালের ইংল্যান্ড সফরে টেস্টে সিরিজে যাচ্ছেতাই ভাবে হেরেছিলো বাংলাদেশে। ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে নাস্তানাবুদ বাংলাদেশ ঠোঁটকাটা চাছাছোলা ব্রিটিশ মিডিয়ার কলমের খোঁচায় রক্তাক্ত প্রতিনিয়ত। প্রতি ম্যাচ শেষে হাবিবুল বাশার মাইক্রোফোনের সামনে আসেন আর জানিয়ে যান এরচেয়ে ভালো খেলার সামর্থ্য আমাদের আছে। কথাটা হয়তো কেউই গোঁনায় ধরেনি তখন। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন, নামটা শুনলেই এখনো রক্ত গরম হয়ে যায়, চোখে জল আসে। প্রবল পরাক্রমশালী বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সামনে বাংলাদেশ! বিশ্বের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম বড় “আপসেট” ঘটিয়ে আকাশে ভাসতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে মাটিতে টেনে নামিয়েছিলো টাইগারবাহিনী। মোহাম্মদ আশরাফুলের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরী জয় হাতের নাগালে এনে দিয়েছিলো আগেই। আফতাব আহমেদ গিলেস্পিকে সেই বিখ্যাত ছয় মেরে জয় হাতের মুঠোয় আনেন। শেষ রানটা এসেছিলো সেই আফতাবের ব্যাটেই। ইনসাইড এজে বলটা ফাইন লেগের দিকে যেতেই রফিকের কল, আফতাবের প্রান্ত বদলের সাথে সাথে ব্যালকনিতে উল্লাসরত বাংলাদেশ দল! রফিকের দুই হাত উপরে তুলে দৌড়!

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

৫) ২০০৭ বিশ্বকাপের টিম ড্যান্স

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগেই দেশ থেকে এসেছিলো ভয়ংকর সেই দুঃসংবাদ। মানজারুল ইসলাম রানা আর নেই। প্রচন্ড শোকে ভেঙে না পড়ে বাংলাদেশ দল জানিয়েছিলো “রানার জন্যেই জিততে চাই”। শোকের আগুনে পুড়ে ছাই টুর্নামেন্টের ফেভারিট দল ভারত। একটা করে উইকেট যায় আর বোলারকে ঘিরে সতীর্থদের এই উৎযাপন চলেছিলো পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই। “জায়ান্ট কিলার” হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান ক্যারিবিয়ান বিশ্বকাপেই। ভারত বিদায় নেয়ায় বলা হয় বিরাট আর্থিক ক্ষতি হয়েছিলো আয়োজকদের!

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

৬) তামিমীয় সেলিব্রেশন

২০১০ সালে বাংলাদেশ যখন ইংল্যান্ড সফরে যায় তখনই যানা হয়েগিয়েছিলো ২০২০ সাল পর্যন্ত আর ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া হবেনা (এখন সেটা বেড়ে ২০২৩ পর্যন্ত হয়েছে)। যাবার সময়েই তামিম মিডিয়ায় বলেছিলেন “ক্যারিয়ারে আর কখনো সুযোগ হবে কিনা লর্ডসে টেস্ট খেলার জানিনা! ভালো কিছুই করতে চাই”। লর্ডসের অনার্স বোর্ড দেখিয়ে স্কোরারকে বলেছিলেন এখানে নাম উঠাতে চাই। স্কোরার বলেছিলেন এজন্য তোমাকে শতক হাকাতে হবে। আত্মবিশ্বাসই তামিম নাকি বলেছিলেন কালকেই আমার নামটা লিখতে হবে এখানে তোমাকে!

তামিম কথা রেখেছিলেন। ইংল্যান্ডে মে মাসের বাতাসে বড় বড় সুইং থাকে। ইংলিশ মৌসুমের শুরুতে বড় বড় ব্যাটসম্যানরা সেখানে যেয়ে খাবি খেয়েছেন। কিন্তু ঘোষনা দিয়েই সেঞ্চুরী হাকান লর্ডসে। আর নিজের জার্সির দিকে ইঙ্গিত করে স্কোরারকে জানান “আমার নামটা লিখে দাও”।

সময়টা তারপর খুব একটা সুখের ছিলোনা। অবস্থা এমন দাড়ালো যে ঘরের মাঠের এশিয়া কাপের দল থেকেই বাদ গেলেন তামিম। অনেক জল ঘোলা হয়েছিলো, আকরাম খানের পদত্যাগ পেরিয়ে সেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গণভবনে চলে যায়। তামিম ফিরলেন স্কোয়াডে। আর টানা চার ম্যাচে ফিফটি করে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে প্রেসিডেন্ট বক্সের দিকে হাত তুলে আঙুল গুনে গুনে দেখালেন এক, দুই, তিন, চার। ভয়াবহ ব্যাড প্যাচ থেকে নাটকীয় ভঙ্গিতে ফিরে আসার অনন্য উৎযাপন খান সাহেবের! পরে তৎকালীন বিসিবি সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেছিলেন “ তামিম ওটা আমাকেই দেখিয়েছিলো”।

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

৭) রুবেলের তর্জনী উঁচিয়ে ফিরে আসা (২০১০)

২০০৯ ট্রাই নেশন ফাইনালের কথা নিশ্চয় ভুলে যাননি। সদ্য জাতীয় দলে আসা রুবেলকে বেদম পিটুনি দিয়ে ট্রফি বঞ্চিত করেছিলেন বাংলাদেশকে মুরালিধরন। “খলনায়ক” বনে যাওয়া রুবেল নায়ক হয়ে ফিরে এসেছিলেন “বাংলাওয়াশ” সিরিজের শেষ ম্যাচে। নিউজিল্যান্ড আগেই সিরিজ হেরে গিয়েছিলো। ০-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া কিউইরা শেষ ম্যাচে মানসম্মান রক্ষায় মরিয়া! বাংলাদেশ অল আউট হয়েছিলো ১৭৪ রানে। ১৭৪ রানকেই জয়ের জন্য যথেষ্ঠ বানিয়ে দিচ্ছিলেন টাইগার বোলাররা কিন্তু অন্যরকম কিছু চাইলেন কাইল মিলস! নয় নাম্বারে নেমে ৩৩ রানে অপরাজিত মিলস, নিউজিল্যান্ড জয় থেকে মাত্র ৫ রান দূরে। তখনই রুবেলের নিখুঁত ইয়র্কারে ডিগবাজি দিয়ে উপড়ে গেলো মিলসের লেগ স্ট্যাম্প! তর্জনী উঁচিয়ে ছুটে চলা রুবেলকে আটকাবে সাধ্য কার! বাংলাওয়াশ! ৪-০!

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

৮) বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বধ

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে নেমে আগের ম্যাচেই ৫৮ রানে অল আউটের লজ্জায় পড়েছিলো বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ২২৫ রানে ইংল্যান্ডকে বেঁধে রেখে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকা বাংলাদেশ ১৬৯/৮! মাঠ ছাড়তে শুরু করেছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দর্শকরা। বিষয়টা চোখ এড়ায়নি দশম ব্যাটসম্যান শফিউল ইসলামের। উইকেটে ছিলেন সাইলেন্ট কিলার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। “হারার আগেই হার নয়” মন্ত্র জপে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ব্রেসনানের বলটা কাভার ড্রাইভ করে মাহমুদুল্লাহ চার মারলেন আর উল্লাস ছড়িয়ে গেলো সমগ্র বাংলাদেশে। অধিনায়ক সাকিব সেদিন চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। এমনকি গ্রাউন্ড স্টাফরা সেদিন ল্যাপ অব অনার দিয়েছিলো মাঠে। উৎসবের মধ্যমনি রিয়াদ এবং শফিউল!

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

৯) ম্যাশকিন সেলিব্রেশন

বাংলাদেশে আজ অবধি যত সেলিব্রেশন জনপ্রিয় হয়েছে তার তালিকা করলে উপরের দিকে থাকবে “ম্যাশকিন”। ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে উইকেট পাবার পর তাসকিন আহমেদ আর মাশরাফি বিন মর্তুজার লাফ দিয়ে শূন্যে ভেসে বুকের সাথে বুক ধাক্কা দিয়ে পেছনে সরে যাওয়াই ম্যাশকিন। ধাক্কার ধকল সামলাতে না পারলে অবশ্য বিপদ! ভূপাতিত তাসকিনের কথা মনে আছে তো?

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

১০) রিয়াদের হৃদয়, বিশ্বদরবারে!

বিশ্বকাপের চার আসরে অংশ নিয়েও বাংলাদেশের ঝুঁলিতে ছিলোনা কোন শতক। বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যান তখনো সেই তিন অংকের ম্যাজিকাল ফিগারের দেখা বিশ্বকাপে পাননি। ২০১৫ সালে এসে এই আক্ষেপ ঘুঁচালেন সাইলেন্ট কিলার মাহমুদুল্লাহ। মাহমুদুল্লাহ নিজেও আগে ওয়ানডে শতক পাননি। তাই বেছে নিয়েছিলেন বড় মঞ্চ! ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড দুই দলের বিপক্ষে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরী করেন তিনি! আর সেঞ্চুরীর পরেই দুই হাতের আঙুল দিয়ে “হার্ট শেপ” করে লাভ সাইন দেখান তার পরিবারের প্রতি উৎসর্গ করে। রোমান্টিক সেলিব্রেশন!

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

১১) উৎসবের কেন্দ্রে মাশরাফি

এদেশের ক্রিকেট প্রেমিক জনতাকে যদি বলা হয় যেকোন একটা ইয়র্কার বেছে নিতে তাহলে হয়তো বিনা বাক্যে সবাই ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইংল্যান্ডের জিমি আন্ডারসনকে করা ইয়র্কারটিকেই বেছে নিবেন। ওই ইয়র্কার থেকেই বাংলাদেশের “মিনোজ” খোলস থেকে বেরিয়ে আসা, ওই ইয়র্কার দিয়েই প্রথমবার বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে খেলা। তবে পথটা সোজা ছিলোনা! ভুলে যাবার মতো ২০১৪ সালের মাঝপথে দিকভ্রান্ত বাংলাদেশ দলের দ্বায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছিলো “ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক” মাশরাফির হাতে। হারতে থাকা দলটাই মাশরাফির যাদুর ছোঁয়ায় বদলে যেতে থাকে। অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দলকে সবসময় উজ্জীবীত করে রাখা মাশরাফি রুবেলের সেই ইয়র্কারের সাথে সাথে ক্যাপ খুলে মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েন, অন্যদিকে রুবেল বাঁধনহারা উল্লাসে ছুটছেন! সম্বিত ফিরে পেতেই সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লেন ক্যাপ্টেন কুলের উপর। একে একে সবাই! কিছুসময় পর মাশরাফিকে আর খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিলো না! এই জয়, এই সম্মান মাশরাফিরই তো প্রাপ্য!

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

১২) আবার পাকিস্তান! এশিয়া কাপ ২০১৬

পাকিস্তানের সাথে ম্যাচটা অনেকটা সেমি-ফাইনালে রূপ নিয়েছিলো। ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে এই পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ২ রানে হারতে হয়েছিলো। উইকেটে থেকেও পরাজয় দেখেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। চেষ্টা করেও শেষ করে আসতে পারেননি মাশরাফি। কিন্তু এবার দুইজনই উইকেটে ছিলেন, শেষ ওভারে স্ট্রাইকে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। আনওয়ার আলির ফুলটসকে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে সীমানা ছাড়া করেই যেন সমুদ্রে সাঁতার কাটতে ঝাপিয়ে পড়লেন মাহমুদুল্লাহ! আর দলের বাকিরা তার উপর! পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়, বাংলাদেশ ফাইনালে। পরে মাহমুদুল্লাহ বলেছিলেন আগের আসরের ফাইনালের ভূত মাথা থেকে নামিয়েছেন আরেকবার পাকিদের পরাজিত করেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

১৩) সাকিবের সেল্যুট সেলিব্রেশন

স্টোকসের সাথে সমস্যাটা বাংলাদেশের প্লেয়ারদের সফরের দ্বিতীয় ওয়ানডে থেকেই। তামিমের সাথে ধাক্কা, তর্কাতর্কি ইত্যাদি শেষ পর্যন্ত জরিমানা পর্যন্ত গড়ায়। সাবধান করে দেন ম্যাচ রেফারি প্লেয়ারদের। প্রথম টেস্টে অল্প ব্যবধানে হেরে সিরিজে সমতা ফেরাতে সচেষ্ট বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে দেয়াল হয়েছিলেন বেন স্টোকস। সেই স্টোকসকে আনপ্লেয়াব্যাল এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন সাকিব। বলটা ব্যাট ক্রস করার পর সুইং করে ভেতরে ঢুকে বোল্ড করে দেয় স্টোকসকে। অদ্ভুত সেলিব্রেশন করেন সাকিব! চুপ কোন কথা না! লম্বা ক্যারিবিয়ান সেল্যুট ঠুকে যেন বললেন “ধন্যবাদ, আবার আসবেন”।

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

১৪) মুশফিকের নাগিন ড্যান্স

শেষ ১৪ ম্যাচে ১৩ পরাজয়, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে এমনই এক লজ্জার পরিসংখ্যান মাথায় নিয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফির তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছিলো বাংলাদেশ। দলের আত্মবিশ্বাস ছিলো তলানীতে। যেন ছন্দপতন ঘটেছে সাজানো সংসারে। দল যদি থাকে চাপে তবে মুশফিক ছিলেন পাহাড়সম চাপে। টি-টুয়েন্টি দলে তার কার্যকরীতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। পক্ষে ছিলোনা নিজের ক্যারিয়ার রেকর্ড। শ্রীলংকার দেয়া ২১৫ রানের টার্গেট বাংলাদেশ ছুঁয়ে ফেলে মুশফিকের ৭২* রানের অতিমানবীয় ইনিংসে। শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়েই মুশফিক যেন বিস্ফোরিত কোন বোমা! বুনো উল্লাসে যেন কবর দিলেন ২০১৬ সালের ব্যাঙ্গালুরুকে। যেন চেপে রাখা ক্ষোভ, হতাশা আর ক্রমশ বেড়ে উঠা বিব্রতকর প্রশ্নের জবাব দিলেন। চিৎকার করে জানালেন বাংলাদেশ পারে, আমিও পারি। তারপর হুট করেই নাজমুল ইসলাম অপুর থেকে “ধার” করা কোবরা সেলিব্রেশন করে ফেললেন ডাগ আউটের দিকে ফিরে! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার কোন ব্যাটসম্যানের “কোবরা সেলিব্রেশন”!

বাংলাদেশ ক্রিকেট সেলিব্রেশন নিয়ন আলোয় neon aloy

এরকম উদযাপনের তালিকা এখানেই শেষ না হোক। আর অজস্র উল্লসিত উদযাপনে টাইগাররা আনন্দে ভাসাক লাল-সবুজের সমর্থকদের- এই আশাই থাকবে আমাদের।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top