ক্ষমতা

শ্রীলংকায় বৌদ্ধ-মুসলিম দাঙ্গার কারণ

শ্রীলংকায় বৌদ্ধ-মুসলিম দাঙ্গার কারণ

শ্রীলংকায় সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সপম্প্রদায়ের হামলা নিয়ে দেশটিতে চলছে উত্তপ্ত অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার কারফিউ জারি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়। শ্রীলংকান সরকারের জন্য এই দাঙ্গার সামাল দেয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে সামনের দিনগুলোতে।

এবছর দাঙ্গার সূত্রপাত হয়, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, মুসলিমদের সাথে বিবাদে এক বৌদ্ধের মৃত্যু এই দাঙ্গার কারণ। এরপর মার্চের প্রথম সপ্তাহে আবার শুরু হয় মসজিদ ও মুসলমান মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ। শ্রীলংকার ক্যান্ডি শহরে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে শ্রীলংকান সরকার। ৬ মার্চ ১০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে প্রশাসন। এর মধ্যেই ৭ মার্চ মসজিদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাড়ি ঘরেও হামলা চালায় বৌদ্ধ সিংহলিরা। এপর্যন্ত এই দাঙ্গায় তিনজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে।

হামলার পেছনে কারণ কি?

শ্রীলংকার জনসংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ। এর মধ্যে ৭০ ভাগ বৌদ্ধ, ১৩ ভাগ তামিল হিন্দু এবং মাত্র ৯ ভাগ মুসলমান। গত কয়েক বছরের বিভিন্ন ঘটনা থেকে বোঝা যায় দেশটির বৌদ্ধদের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষ বেড়ে চলেছে। এই বিদ্বেষে আরো ঘি ঢালছে উগ্র বৌদ্ধ সংগঠন বদুবালা সেনা বা বিবিএস। বিবিএসসহ চরমপন্থী বৌদ্ধদের দাবি, মুসলিমরা জোর করে বৌদ্ধদের ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করছে এবং বৌদ্ধ পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন ভাংচুরের জন্যও তারা দায়ী করে আসছে মুসলিমদের।

এছাড়া তারা আরো দাবি করে, জন্মনিরোধক ওষুধ মেশানো হচ্ছে বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টের খাবারে। এজন্য বৌদ্ধ নারী-পুরুষরা সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়ছে। চরমপন্থি বৌদ্ধ ও বিবিএসের দাবি, মুসলিমরা নিজেদের সংখ্যা বাড়িয়ে বৌদ্ধদের সংখ্যা কমাতে চাইছে। যদিও এসব দাবির পক্ষে সরকারের কোন সমর্থন নেই।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বেড়ে গেলে বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলংকায় গিয়েও আশ্রয় নিতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। দেশটির অনেক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

২০১৪ সাল থেকেই কিছুদিন পর পর মুসলিমদের উপর বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে আসছে উগ্র বৌদ্ধ সংগঠন। সেসময় তিনজন মুসলমান নিহত হয় চরমপন্থি বৌদ্ধদের হাতে। শ্রীলংকার দক্ষিণাঞ্চলের আলুথগামা এলাকায় ২০১৪ সালে বদুবালা সেনার (বিবিএস) প্রত্যক্ষ সমর্থনে মুসলমানদের বহু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও আগুন দেয়া হয়।

গত বছরের নভেম্বরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভুয়া পোস্টের জেরে বৌদ্ধ-মুসলিম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে গল প্রদেশের গিনটোটা শহরে।

মার্চের প্রথম সপ্তাহের দাঙ্গায় ক্যান্ডি শহরে জরুরী অবস্থায় সেনা মোতায়েনও করেছিলো প্রশাসন। ৬ মার্চ জারি করা কারফিউ ১০ মার্চ প্রত্যাহার করে নেয় প্রশাসন। তবে সেনা টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার ঘটনা তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

চলমান এসব দাঙ্গার ঘটনা যেনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে না পারে, সেটাই এখন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Most Popular

To Top