টুকিটাকি

রোনালদোর প্রেমিকারা

রোনালদোর প্রেমিকারা

বর্তমান বিশ্বে ফুটবলের রাজা তিনি, সেই কৃতিত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময়েই সংবাদ হয়েছেন পত্রিকার। কিন্তু এর পাশাপাশি নানা কারণেই হয়েছেন আলোচিত, সমালোচিত। তার এসব সমালোচনার আগুনে ঘি ঢেলে দিতে মাঝে মাঝেই শিরোনাম হয়েছেন বিভিন্ন নারীকে জড়িয়ে। এতসব আলোচনা যাকে নিয়ে, তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছাড়া আর কে হতে পারেন।

তার এসব প্রেমিকাদের মাঝে কোনটা গুজব, আবার কোনটা তার নিজেরই স্বীকার করা। কিন্তু কোন টা গুজব আর কোন টা সত্যি সেসবের মাঝে একটা ধোঁয়াশা রেখেছেন সব সময়। চলুন তার এই বিশাল ধোঁয়াশাময় তালিকা থেকে ১৫ জনের একটা শর্ট লিস্টই না হয় দেখে আসি আমরা।

১. কারিনা ফেররোঃ

রোনালদো
রোনালদোর সম্পর্কের তল খুঁজতে গেলে যেতে হবে সেই ২০০২ সালে, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭। ফুটবলে তারকাখ্যাতি পাওয়ার অনেক আগেই কারিনা ফেররো নামের এক পর্তুগিজ মডেলের সাথে তার সম্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়। আসলে এর আগে কারো সাথে কোন ধরনের রোমান্স ছিল কি না সেটা মিডিয়াও বের করতে পারে নি, তাই ধরে নেয়া যায় কারিনাই রোনালদোর জীবনে আসা প্রথম নারী যার কথা আমরা জানতে পারি।

২. জর্ডানা জার্ডেলঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা
ঠিক এর পরের বছর মানে ২০০৩ সালে তাকে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান মডেল জর্ডানা জার্ডেল এর সাথে। রোনালদো তখন স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে খেলছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, জর্ডানাকে তার ভাই মারিও জার্ডেল নিজেই রোনালদোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। জার্ডেল তখন স্পোর্টিং লিসবনে রোনালদোর টিমমেট ছিল। ফলে জর্ডানার মন হরণ করতে রোনালদোকে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি।

৩. মের্চে রোমেরোঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা
এর পরবর্তীতে রোনালদোর সাথে দেখা যায় তার চেয়ে নয় বছরের বড় মের্চে রোমেরো কে। তার মতই রোমেরো পর্তুগীজ, মডেল এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। বেশ কিছু চলচিত্রেও দেখা গেছে তাকে। রোমেরোর সাথে রোনালদোর বেশ “দীর্ঘ সময়” ধরে সম্পর্ক ছিল। ২০০৫ এর জানুয়ারি থেকে ২০০৫ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে তাদের সম্পর্ক।

৪. সোরাইয়া চ্যাভেজঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

রোমেরোর সাথে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরপরই রোনালদোর সাথে সম্পর্ক হয় আরেক পর্তুগিজ অভিনেত্রী এবং মডেল সোরাইয়া চ্যাভেজের সাথে। দুই বছরের বড় চ্যাভেজ বিখ্যাত ছিলেন পর্তুগিজ চলচিত্র ‘ও ক্রাইম ডো পেড্রে আমারো’ আর পরবর্তীতে বিখ্যাত হয়েছিলেন আরেক পর্তুগিজ চলচিত্র ‘কল গার্ল’ এর জন্য।

৫. মিয়া জুডাকেনঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা
রোমেরো এবং সোরাইয়ার হৃদয় ভাঙ্গার পর, সম্ভবত নিজের ভাঙ্গা হৃদয় জোড়া লাগাতে রোনালদোর সাথে দেখা যায় আরেক পর্তুগিজ নারী মিয়া জুডাকেনের। যদিও মিয়া সব সময়ই রোনালদোর সাথে সম্পর্ককে অস্বীকার করে গেছেন। কিন্তু লস এঞ্জেলসে থাকা আমেরিকান ধর্নাঢ্য এই নারী পারিবারিকভাবেই ছিলেন রোনালদোর বন্ধু। তাই গুজব সত্যে পরিণত হয়েছিল কিনা সেটা জানা একটু অসম্ভবই রয়ে গেছে।

৬. জিমা স্টোরিঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

এই পর্যায়ে এসে রোনালদো বেশ বিতর্কিত এক সম্পর্কে জড়িয়ে যান। জিমা স্টোরি নিজে ছিলেন পর্নতারকা, এ ব্যাপারে রোনালদোর আগে থেকে কোন ধারনা ছিল কি না, সেটা অবশ্য জানা যায় নি। কিন্তু যতদূর জানা যায়, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন সুইমিংপুলের ‘জলকেলি’ করার সময় জিমা স্টোরি এবং আরো চার নারী তার সাথে সেখানে ছিল। অবশ্য সে জন্য রোনালদোকে প্রায় তিন হাজার ইউরো গচ্চা দিতে হয়েছিল চার্জ হিসেবে।

৭. টাইস কানিংহামঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

 

 

আগেই বলা হইয়েছে জলকেলির সময় জিমা ছাড়াও আরো চারজন ছিল। এদের মাঝেই আরেকজন ছিল এই টাইস কানিংহাম। রোনালদোর সাথে ছিল তারই টিমমেট ন্যানি এবং অ্যান্ডারসন। পরে এক ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ম্যাগাজিনে অবশ্য টাইস স্বীকার করেছিলেন যে, যেভাবে তাদের সাথে রোনালদোরা ব্যবহার করছিলেন, সেটা ঠিক তাদের পছন্দসই হচ্ছিল না।

৮. জিমা অ্যাটকিনসনঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা
এক জিমার সাথে এক বিতর্কিত অধ্যায়ের পর এবার তার জীবনে আসে আরেক জিমা। তবে এই জিমা ছিল ব্রিটিশ সুপার মডেল। ২০০৭ সালে শুরু হয়া এ সম্পর্ক খুব বেশিদিন টেকে নি। আর রোনালদো নিজেও এ সম্পর্ককে গভীর কোন সম্পর্ক বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সবসময়। কিন্তু এক্ষেত্রে সম্ভবত জিমা সবসময় বলে গেছেন কত সুন্দর সম্পর্ক তাদের ছিল। যদিও রোনালদোর মা বিশ্বাস করতেন যে, জিমা সব সময়ই একটু বাড়িয়েই বলেছে।

৯. বিপাশা বসুঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

এই বাঙালি বলিউড অভিনেত্রীর সাথেও দেখা গেছে রোনালদোকে। ২০০৭ সালের দিকে যখন জন আব্রাহামের সাথে বিপাশা চুটিয়ে প্রেম করছিল, তখনই রোনালদোর সাথে তার গুঞ্জন শোনা যায়। তবে ততদিনে রোনালদো নিজেই গ্লোবাল আইকন, ফুটবলে তো অবশ্যই, নারীদের মন জয় করার দিক থেকেও। তাই জন আব্রাহামের সাথের অনেকদিনের সম্পর্কও তাদের মাঝে বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি।

১০. নেরিদা গাল্লারাডোঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

নেরিদা রোনালদোর জীবনে আসে ২০০৮ সালের দিকে। সেই বছরের শুরুর দিকে এই স্প্যানিশ মডেলকে বেশ কয়েকবার দেখা যায় তার সাথে। কিন্তু এই সম্পর্ক খুব বেশিদিন টেকেনি দুজনের। কয়েকবার ছোটখাট ঘোরাঘুরি আর অভিসারের পর মাত্র এক মাসের মাঝেই তারা নিজেরাই যার যার পথ দেখে নেয়।

১১. প্যারিস হিলটনঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

২০০৯ সাল রোনালদোর জন্য সৌভাগ্যের বছর। এ বছরই রোনালদো সে সময়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঙ্ক নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। পেশাপগত দিকের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও যেন সেই সৌভাগ্যের হাওয়া আসে। এ সময় সে বেশ কয়েকজন নামকরা ব্যক্তির সাথেই তার গুঞ্জন শোনা গেছে। প্যারিস হিলটন তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। তখন হিলটনের সবে মাত্র বিচ্ছেদ হয়েছে, তাই রোনালদোর মত যোগ্য সঙ্গী পেয়ে খুব একটা ভাবতে হয়নি তাকে।

১২. কিম কার্দাশিয়ানঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

প্যারিস হিলটনের কথা বললে তার বন্ধুকিম কার্দাশিয়ানের কথা বলতেই হয়। আমেরিকান শো বিজনেস সম্পর্কে ধারনা রাখে আর তাকে চেনে না সেটা হতেই পারে না। ২০১০ এর দিকে রোনালদো আর কিমকে মাদ্রিদে ছুটি কাটাতে দেখা গেছে। যদিও রোনালদো বা কিম কারো তরফ থেকেই অফিসিয়াল কোন কিছু জানা যায় নি। কিন্তু আমাদের জন্য অফিসিয়াল কিছুর প্রয়োজনই বা কি?

১৩. ইরিনা শায়েকঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সময় ধরে যার সাথে রোনালদোর সম্পর্ক ছিল সে ইরিনা শায়েক। রাশিয়ান এ মডেলের সাথে রোনালদোর প্রায় ৫ বছর সম্পর্ক ছিল। অনেকে ভেবেছিল তারা দুজন একে অপরকে বিয়েও করতে পারে। কিন্তু ২০১০ এ শুরু হওয়া এ সম্পর্ক নানা উত্থান পতনের পর ২০১৫ তে এসে শেষ হয়। শোনা যায় রোনালদোর মা এ সম্পর্ক ভাঙ্গার ক্ষেত্রে বড় ভুমিকা রাখেন।

১৪. লুসিয়া ভিল্লালনঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

ইরিনার সাথে এত দীর্ঘ সম্পর্কের ক্ষত দূর করতে রোনালদোকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় নি। যে বছর ইরিনার সাথে সম্পর্ক ভাঙে সেই বছরই মানে ২০১৫ সালেই রোনালদোর সাথে দেখা যায় লুসিয়া ভিল্লালনকে। স্প্যানিশ এই টিভি রিপোর্টারকে প্রায়ই দেখা যেতে থাকে বিভিন্ন পত্রিকার পাতায়।

 

 

১৫. জর্জিনা রড্রিগেজঃ

রোনালদোর প্রেমিকারা

২০১৬ এর নভেম্বরে জর্জিনার সাথে প্রথম জনসম্মুখে আসেন রোনালদো। এরপর বেশ তাড়াতাড়িই তাদের সম্পর্ক গভীর হতে দেখা যায়। প্রথমে তিনি প্রাডাতে চাকরি করছিলেন, কিন্তু রোনালদোর তো সেলিব্রেটি ছাড়া চলে না। ঠিক সেটার জন্যই সম্ভবত জর্জিনা চাকরি ছেড়ে মডেলিং শুরু করে। এখন পর্যন্ত রোনালদোকে জর্জিনার সাথেই দেখা যাচ্ছে। তার গর্ভেই রোনালদোর চতুর্থ সন্তান আলানার জন্ম হয়েছে। রোনালদোর আগের তিন সন্তানসহ তারা বেশ ভালই আছে বলে মনে হয়।

রোনালদোর নারীসঙ্গের এ আলোচনা রসালো বলেই সবার আগ্রহ। তবে ব্যক্তিগত জীবন বেশ চর্চিত হলেও, রোনালদো নিজে তার আপন মহিমায় স্বকীয়। ফুটবলে তিনি যা দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন সেটা তার ব্যক্তিজীবন দ্বারা বিচার করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। সর্বোপরি, ভাল থাকুক রোনালদো, ভাল থাকুক তার সন্তানেরা।

Most Popular

To Top