নাগরিক কথা

আজ “নাড়ী” দিবস

নাড়ী দিবস নিয়ন আলোয় neon aloy

শুরুতেই ধাক্কা। দুষছেন আমাকে। বানান তো ভুল! হয়তো ভুল। কিন্তু তা জেনেশুনে। জগৎ জুড়ে আজ নারী দিবস “উদযাপন” হচ্ছে। আর আমি বলছি “নাড়ী” দিবস। কারণটা সবিস্তারে বলি…

সৃষ্টিকর্তার উপহার এই প্রাণ পেয়েছি কার কাছে? জবাবটা সহজ। মা’র কাছে। দশ মাস দশ দিন নিজ গর্ভে ধারণ করে কি যত্নেই না আগলে রাখার শুরু। সে আগলে রাখাটা আজীবনের। প্রতিটি ক্ষণের। যদি বলি নারী শব্দটার প্রয়োজন কি আলাদা করে? জীবন মানেই তো মায়ের সাথে নাড়ীর বন্ধন। সেই নাড়ীর বন্ধনের বিস্তৃতিই নারী। খুব বেশি ‘এলোমেলো’ হয়ে গেল কি? বিস্তারিত বলি। নাড়ীর বাঁধন মা কে ভালবাসতে শেখায়। শ্রদ্ধা করতে শেখায়। তবে কেন মায়ের জাতের সবার প্রতি সেই শ্রদ্ধাটা ছড়ায় না!

নর-নারীর সম্পর্কের অনেকগুলো রূপ আছে জীবনের প্রতিটি স্তরে। বোন, বন্ধু, স্ত্রী, কন্যা এবং আত্মীয়তার নানান রূপ।
সামাজিক প্রতিটি সম্পর্কই নারীর প্রতি শ্রদ্ধা শেখায়। কই সমাজ তো নারীকে হেয় করা শেখায় না, নির্যাতন করা শেখায় না, এসিড মারা কিংবা ধর্ষণ শেখায় না! তবে, এ কালো দাগগুলো লাগলো কিভাবে?

জবাব একটাই। নাড়ীর টান ভুলে যাই আমরা। মানুষ হতে যে মন লাগে, সেই মনটা ভুলে যাই। মস্তিষ্কটা পরিণত হয় পুরোদস্তুর লোভ,লালসা আর ভোগের অন্ধত্বে। এসব জয় করতে পারবো বলেই তো মানবজনম। পারি না। হেরে যাই। এক বালতি সাদা দুধ অপবিত্র হয়ে যায় এক খন্ড গোবরে। এই খন্ড খন্ড গোবর বা উচ্ছিষ্ট সমাজ ব্যবস্থার আদি থেকেই ছিল। এখন শুধু সংখ্যায় বাড়ছে।

অনেকে বলবেন, শিক্ষার আলো সবার মাঝে থাকলে এমন হতো না। তাই কি? তাহলে চারপাশে এত শিক্ষিত “পশু” এল কিভাবে? হর-হামেশাই নারীর সম্ভ্রমের ওপর চলছে আক্রমণ। তোমরা যারা নারীকে হেয় করছো, তারা কি সত্যিই নারীকে হেয় করছ? না। হেয় করছ নাড়ীকে। নিজের জীব থেকে মানবে পরিণত হওয়াকে।

একটা সংবাদ-মাধ্যমে আজ খবর দেখলাম, “কাজ করি সমান, বেতন পাই অর্ধেক”। এ বৈষম্যের দোষটা কিন্তু আমাদের মায়েদেরই! নিজে না খেয়ে সন্তানের জন্য ভালো খাবারটা বাঁচিয়ে রাখাতেই বেঁধেছে বিপত্তি। আদরের সেই সন্তান বড় হয়ে কেড়ে নিচ্ছে মায়ের জাতির মুখের গ্রাস।

বউ পেটাচ্ছেন? পরের মেয়ে তো! আপনার অচেনা পরিবারে সে তার নাড়ীর টান ছেড়ে এসেছে আপনার ভরসায়। বড় ভুল হয়েছে তার। কারণ, আপনার অনাগত কিংবা ভূমিষ্ঠ সন্তানের মা’কে তো আপনিই পেটাবেন। কারণ, নাড়ীর যে বাঁধন আছে, সে বিদ্যা আপনি গুলিয়ে খেয়ে ফেলেছেন বহু আগে।

এবার আসি গা-গোলানো অধ্যায়ে। ধর্ষণ। নারীর ইচ্ছে-অনিচ্ছায়, ভালো লাগা-খারাপ লাগায় আপনার কিছু যায় আসে না। কারণ, আপনি আপনার ষড়রিপুকে মাথায় উঠিয়েছেন। আর নাড়ীর টান? ওটা অনর্থক। কারণ, জন্মসূত্রে “আপনি মানুষ” হলেও কুকর্মসূত্রে “তুই জানোয়ার”।

এর একটা বড় কারণও আছে। আগে চলমান বিতর্কটা বলে নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই দল আছে। একদল বলছে, নারীর শালীন হওয়া উচিত, অন্যদল বলছে, পুরুষেরা নজর সংযত করুন।
এবার দুটোকে একপাত্রে মেশালেই আসল কারণটা বের হবে। দিন যাচ্ছে,অপকর্ম বাড়ছে। কেন?

চিন্তা করে দেখুন তো, পুরোনো দিনের সাথে তুলনায় কি এমন নতুন এসেছে আমাদের জীবনে, কিংবা সমাজে?
অবাধ স্যাটেলাইট চ্যানেল আর ইন্টারনেট।

আমাদের সমাজ শালীনতা শেখায়, পশ্চিমা ইন্টারনেটের নীল দুনিয়া তা ভাঙ্গে। তৈরি হয় ভয়ংকর “কালচারাল শক” এর। মানুষগুলো বাস্তবের রাখঢাকের সাথে ইন্টারনেটের অবাধ অসভ্যতা মেলাতে পারে না। ভুলেও বলবেন না যে, “শেখার আছে”। প্রাকৃতিক ব্যাপার-স্যাপারগুলো আপনার পূর্বপুরুষদের ইন্টারনেট দেখে শিখতে হয়নি। শেখাতে হলে সম্ভ্রম শেখান, অনুশাসন শেখান, নাড়ীর টান শেখান।

অনেক রাত এখন। শেষ করবো। নতুন কিছু জানিয়ে যাই।

নারী শব্দটা জগত জুড়ে কেমন? কোরিয়ায় নারী মানে পদ্ম, জাপানে- শান্ত শিশু আর ইতালিতে উচ্ছল।
আমরা যতদিন এমন সব রূপে নারীকে ভাবনার জগতে বসাতে না পারবো, ততদিন আমরা আঘাত করে যাব নাড়ীর বন্ধনকে। কারণ……..
কান পেতে শুনুন, প্রতিটি নারীর সম্ভ্রম হানি চোখের কোণে জল আনছে আপনার-আমার মায়ের…

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top