বাউন্ডুলে

একদিনের ভ্রমণ, গোলাপগ্রাম সাদুল্লাহপুর

গোলাপগ্রাম

কাজের চাপ, ব্যস্ততা থেকে একটু স্বস্তি পেতে কিংবা অবসাদ দূর করতে আমরা ঘুরতে যেতে চাই। তবে, চাইলেই যাওয়া সম্ভব হয় না খরচ ও সময়ের কথা ভেবে।
রাজধানীর কাছেই কম খরচে একদিনেই ঘুরে আসা সম্ভব এমন বেশ কিছু পর্যটন এলাকা গড়ে উঠেছে। তেমনই এক জায়গা সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর গ্রাম।

ঢাকার খুব কাছে হলেও সাদুল্লাহপুর একেবারে ছায়া সুনিবিড় মায়াময় গ্রাম। যানবাহনের বাড়াবাড়ি নেই, নেই আধুনিকতার বাহুল্য। গ্রামীণ পরিবেশকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে সেখানকার ফুল বাগান।

আনন্দ, উদযাপন কিংবা কোন বিশেষ দিনকে আরো বিশেষ করে তোলে ফুল। আর এই ফুল যদি হয় লাল গোলাপ তবে তো কথাই নেই। একটি বা দুটি লাল গোলাপ দেখলেই আপ্লুত হয়ে যায় যে কেউ। আর একসাথে যদি হাজার হাজার লাল গোলাপ দেখতে পান তাহলে কি করবেন?

এলাকার মানুষের কাছে সাদুল্লাহপুর নাম হলেও পর্যটকরা এই গ্রামকে গোলাপ গ্রাম নামে চেনে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখানে লাল গোলাপের বাগান। যতদূর চোখ যায় শুধু গোলাপ আর গোলাপ। বাতাসে গোলাপের সুগন্ধ আর চোখ জুড়ানো দৃশ্যে সেজে আছে পুরো গ্রাম। পাতা আর কাঁটার ফাঁকে ফাঁকে টুকটুকে লাল গোলাপ মাথা উঁচিয়ে থাকে। এমন মন ভোলানো দৃশ্য নিয়ে ঢাকার কাছের একটি গ্রাম সাদুল্লাহপুর।

মিরান্ডি জাতের লাল গোলাপ চাষ করে এ গ্রামের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ। যাদের নিজের জমি নেই, তাদেরও জীবিকা এই গোলাপকে ঘিরে। তারা অন্যের বাগানে পানি দেয়া, নিড়ানি, ফুল তোলা, কাঁটা পরিষ্কার ও আঁটি বাঁধার কাজ করে থাকেন।

গোলাপগ্রাম

এমনি লাল সবুজের খেলা চারদিকে

 

সপ্তাহের প্রতিদিনই এখানে পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে, ছুটির দিনগুলোতে পিকনিক করতে আসে দল বেঁধে। পরিবার পরিজন বা প্রিয়জন নিয়ে একান্তে সময় কাটানোর এক উপযুক্ত স্থান এই গোলাপ গ্রাম সাদুল্লাহপুর। কেউ কেউ আবার বিয়ের আয়োজনের জন্য সরাসরি বাগান থেকে ফুল কিনতে চলে আসেন এখানে। রথ দেখা ও কলা বেচা দুটোই হয়ে যায় একসাথে। খুব সস্তায় টাটকা গোলাপ কেনা যায় একেবারে বাগান থেকে।
এখানে গোলাপ বাগানকে বাগান না বলে গোলাপের ক্ষেত বলতে পারেন। এই গ্রামের মানুষও খুব আন্তরিক। পর্যটকরা গোলাপের ক্ষেতে ঘুরতে আসে, দল বেঁধে ছবি তোলে তাতে গ্রামের মানুষ বাঁধা দেয় না বা কখনো কোন রূঢ় আচরণও করে না।

দুপুরের পর গোলাপ চাষীদের ফুল তোলার দৃশ্য খুব মনোমুগ্ধকর। দক্ষ হাতে দ্রুত একের পর এক গোলাপ কেটে আঁটি বাঁধে তারা। তারপর কাঁটা ছেটে নিয়ে ঝাঁকা ভর্তি ফুল নিয়ে যাওয়া হয় বাজারে। সাদুল্লাহপুরে প্রতিদিন বিকাল থেকে বসে গোলাপের হাট। সন্ধ্যা থেকে সারাদেশের পাইকাররা ভিড় করে গোলাপ কেনার জন্য। সন্ধ্যা সাতটা থেকে জমে ওঠে বাজার। দরকষাকষি চলে, ঘন্টাখানেকের মধ্যেই শেষ হয় বেচাকেনা। সে এক দারুণ দৃশ্য, হাজার হাজার গোলাপ, সারি সারি করে সাজিয়ে রাখা, এমন দৃশ্য থেকে যেনো চোখ ফেরানো যায় না।

গোলাপের বাগান ছাড়াও সাদুল্লাহপুরে বাড়তি পাওনা তুরাগ নদী ভ্রমণের সুযোগ। তাই ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই স্থানটি।

কিভাবে যাবেন গোলাপ গ্রামে

ঢাকার মিরপুর ১ এর গোলচত্বর থেকে রিকশ নিয়ে যেতে হবে দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট। রিকশা ভাড়া ২০/৩০ টাকা রাখে। ঘাটেই আছে ছোট ছোট যাত্রীবাহী ট্রলার। জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় আপনাকে নামিয়ে দেবে সাদুল্লাহপুর ঘাটে। ঘাটে নেমে গ্রামের স্থানীয়ভাবে বানানো দই মিষ্টি খেয়ে চলে যান গ্রামের ভেতর। কোন যানবাহনের প্রয়োজন নেই, ঘাটের কাছেই আছে গোলাপ বাগান। হেঁটে হেঁটে পুরো গ্রাম ঘোরা যায়, এক বাগান থেকে অন্য বাগান।
সাথে খাবার না নিলে খাওয়ার জন্য আবার আসতে হবে এই ঘাটে। ছোট দুটা খাবারের হোটেল আছে এখানে। কয়েক পদের ভর্তা, ভাজি, মাছ, মাংস সবই পাওয়া যায়। মাটির চুলার সুস্বাদু রান্না, দামেও সস্তা এই খাবার খেয়ে তৃপ্তি পাবেন।
আর যারা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যেতে চান তারা মিরপুর দিয়াবাড়ি থেকে কিছুদূর এগোলেই পেয়ে যাবেন বিরুলিয়া ব্রিজ। এই রাস্তা দিয়ে আধা ঘন্টা গাড়ির পথে পেয়ে যাবেন গোলাপ গ্রাম সাদুল্লাহ পুর।

Most Popular

To Top