টুকিটাকি

চলে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়া হলো না ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণীর- neonaloy

না ফেরার দেশে চলে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা-ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। ৬ মার্চ, মঙ্গলবার, বেলা পৌনে একটার দিকে ল্যাব এইড হাসপাতালে মারা যান তিনি।

বাংলাদেশের ভাস্কর্য চর্চার অগ্রপথিক ছিলেন ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী। গাছের ডাল, পরিত্যক্ত বস্তু, শুকনো কাঠ, ফেলে দেয়া হয় এমন জিনিস তার হাতের ছোয়ায় হয়ে উঠতো অসাধারণ শিল্পকর্ম। সরল, মিষ্টভাষী, শৈল্পিক চিন্তার মানুষটি চলে গেলেন দুপুর একটার কয়েক মিনিট আগে।

মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর প্রিয়ভাষিণীর বয়স হয়েছিলো একাত্তর বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উচ্চরক্তচাপ, উচ্চমাত্রায় ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, পায়ের গোড়ালি স্থানচ্যুত হওয়া এবং ফুসফুসের সংক্রমণসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।

গত বছরের নভেম্বরে নিজ বাসায় পড়ে গিয়ে মাথায় ও গোড়ালিতে চোট পান প্রিয়ভাষিণী। এরপর তাকে তিনদফায় ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিতসা করানো হয়। এরপর সেখান থেকে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে পায়ের অস্ত্রোপচার হয় তার। এসময় দুবার আইসিইউতে রাখা হয় প্রিয়ভাষিণীকে। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরে চিকিৎসা চলার সময় চারবার কার্ডিয়াক এট্যাক হয় তার।

১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় জন্ম এ মুক্তিযোদ্ধা ভাস্করের। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয় তাকে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে বীরাংগনা থেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পান প্রিয়ভাষিণী। বীরাংগনা হিসেবে নিজেকে কখনো আড়াল করে রাখেননি। যুদ্ধ পরবর্তী দেশে সেসময়ের সামাজিক বাস্তবতার সাথে লড়াই করে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করেছেন। শিল্প, সংস্কৃতিতে সবসময় ছিলেন অগ্রগামী।

Most Popular

To Top