ইতিহাস

উদীচী বোমা হামলাঃ ১৯ বছরেও শেষ হয়নি বিচার কাজ

উদীচী বোমা হামলাঃ ১৯ বছরেও শেষ হয়নি বিচার কাজ - নিয়ন আলোয়

১৯ বছর আগের কথা। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে ঘটেছিলো এক মর্মান্তিক ঘটনা। যশোর টাউন হল মাঠে, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দুই দিনব্যাপী দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন চলছিলো। দর্শক, শিল্পীদের উপিস্থিতিতে টাউন হল মাঠে উৎসবের আমেজ। সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষদিনে চলছিলো বাউল গানের আসর।

ঘড়ির কাঁটায় রাত প্রায় ১টা, যশোরের ঐতিহাসিক মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে উৎসবস্থলে তখন সংস্কৃতিপ্রেমীদের ভিড়। হঠাৎ মঞ্চ ও এর পাশে পরপর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ। বাউল সুরের মূর্ছনা মুহূর্তেই রূপ নিলো চিৎকার, কান্না, আতংক এবং আহাজারিতে। আহতদের বাঁচার আকুতিতে ভারী হয়ে ওঠে যশোর টাউন হল মাঠ। চারদিকে রক্ত আর লাশ। এই বোমা হামলায় প্রাণ হারান বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, ইলিয়াস মুন্সী, নূর ইসলাম, শাহ আলম বাবুল, রামকৃষ্ণ, নাজমুল হুদা তপন, রতন রায়, বুলু নামে ১০ জন শিল্পী। আহত হন দুই শতাধিক। আহতদের অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

বোমার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিলেন ৪জন। পরে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো ৬ জন। সেই ঘটনার ১৯ বছর পার হলো ৬ মার্চ, ২০১৮ তে। কিন্তু এর বিচার? না, এখনো শেষ হয়নি যশোর টাউন হল মাঠের উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলার ঘটনার বিচার কাজ।

এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর, ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের নাম ছিলো। তরিকুল ইসলামের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়। এরপর ২০০৬ সালে যশোরের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই ২৩ জনকে বেকসুর খালাস দিয়ে রায় দেয়। এরপর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কাছে ন্যায়বিচার পেতে মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। এ পর্যায়ে এই তদন্তের দায়িত্ব পায় গোয়ান্দা পুলিশ।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হন হুজি (হরকাতুল জিহাদ) নেতা মুফতি হান্নান। গ্রেপ্তারের পর একই বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি ১৯৯৯ সালে উদীচীর সম্মেলনের বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন। এরপর, তার জবানবন্দী অনুসারে মাদারীপুরের মাওলানা আব্দুর রউফ এবং বরিশালের আবুল হোসেনকে প্রেপ্তার করে পুলিশ। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়, ২০১১ সালের ৪ মে।

আপিলের পর মামলায় নিম্ন আদালতে খালাসপ্রাপ্ত ২৩ জনকে পুনরায় আত্নসমর্পণের নির্দেশ দেয় উচ্চআদালত। ২৩ জনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়, বাকী ২০ জনের মধ্যে একজন ২০১২ সালে খুন হয়। বাকী ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জন আত্মসমর্পণ করে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের সবাই পরে জামিন পায়। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

Most Popular

To Top