ফ্লাডলাইট

সম্ভাবনাময় পেসার আবু হায়দার রনি!

সম্ভাবনাময় পেসার আবু হায়দার রনি!

আবু হায়দার রনি! বয়সভিত্তিকে খেলা একজন প্লেয়ার। অনুর্ধ ১৭ ও ১৯ খেলে ডাক পান বিপিএলে।

বয়সভিত্তিকে নিজেকে চেনান ২০১২ সালের মালেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এসিসি অনুর্ধ ১৯ টুর্নামেন্টে। এক ইনিংসে ৯ উইকেট! হ্যাঁ ঠিকই দেখছেন। মাত্র ১০ রান দিয়ে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন ৫.৪ ওভার বোলিং করে, এই ম্যাচ দিয়ে মোটামুটি নজরে এসে যান তিনি।

এরপর ২০১৫ বিপিএলে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সেরা পাঁচ জন বোলারে মধ্যে জায়গা করে নেন। বিপিএল- এর সেই আসরে ২১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

সেই সিজনে ক্যাপ্টেন মাশরাফি তাকে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বলে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন,

বিপিএলে আমাদের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের চেয়ে একটু বেশি প্রেসার থাকে। কারণ এখানে বিদেশী খেলোয়াড়রা থাকে। এরপরও রনি যেভাবে বোলিং করেছে, আমার মনে হয় রনি অনেক পরিণত। ওকে এমন জায়গাও বোলিংয়ে পাঠিয়েছি, যেখানে প্রেসার আছে। এখনো সে নতুন। কখনো হয়তো নিতে পারছে। কখনো হয়তো পারছে না। ওকে কাছে থেকে দেখেছি, ও খুবই সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত বলা যায় তাকে। তবে ক্লাব ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পার্থ্যকটা অনেক বড়। এসেই পারফর্ম করা অনেক সময় সহজ, অনেক সময় কঠিন। বাংলাদেশ দলের কথা চিন্তা করলে ওকে গ্রেট ফিউচার বলা যায়।

২০১৭ সালের বিপিএলে ঢাকা ডাইনামাইটসের হয়ে খেলেন তিনি। এবার ১৫ উইকেট নিয়ে উইকেট শিকারীদের মধ্যে ৬ষ্ঠ ছিলেন, যেখানে তার বেস্ট বোলিং ফিগার ৩/১১!

সম্ভাবনাময় পেসার আবু হায়দার রনি!

মূলত বয়স ভিত্তিক ও ঘরোয়া লীগগুলো বেশি খেললেও ২০১৫ এর বিপিএলের পর ২০১৬ এর জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার আন্তর্জাতিক টি টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের সূচনা হয়, যদিও দল হেরেছিলো।

২০১৭ বিপিএল ও ঘরোয়া ভালো পারফম্যান্সের জন্যই ডাক পেয়েছেন আসন্ন টি টুয়েন্টি ট্রাই ন্যাশন সিরিজে। ২০১৬ সালের অভিষেকের পর মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলেই যেনো আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে হারিয়ে যান তিনি। এরপর আর দলে ফেরা হয়নি!

তবে বসে থাকেন নি, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের ফল হিসেবে ঘরোয়া লিগের মাধ্যমে আবার নিজের পুরানো অবস্থান খুঁজতে থাকেন।
আর তার সাথে বিপিএল ১৭ তে সাকিব, আফ্রিদি, নারাঈনদের সাথে তাল মিলিয়ে দাপুটে বোলিং এসবেই যেনো জাতীয় দলের দরজা আবার খুলে যায় রনির জন্য!

এবার সে অনেক আশাবাদী। সুইং নিয়ে প্রবলেমটা নাকি কোচের সহায়তায় অনেকটা কমিয়ে ফেলেছেন। যেহেতু আমাদের টি টুয়েন্টি দলে কেউই তেমন স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারে না সুতরাং, প্রাথমিক দলে ডাক পেয়ে নিজেকে যথাসম্ভব ঝালিয়ে নেওয়া রনির জাতীয় দলে জায়গাকরে নেওয়ার একমাত্র উপায় হলো মূল স্কোয়াডে থেকে ভালো করা। বিপিএলে দেখানো দাপটটা এবার শ্রীলঙ্কা আর ইন্ডিয়ার ব্যাটসম্যানদের সামনে দেখাতে হবে।

নতুন কিছু দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা.. অল দ্য বেস্ট আবু হায়দার রনি!

Most Popular

To Top