ইতিহাস

“আমি চাইলেই সব ইহুদিকে মেরে ফেলতে পারতাম”-হিটলার, আসলেই কি?

হিটলার নিয়ন আলোয় neon aloy

১.
হিটলারের একটা উক্তি অনেককেই দেখি উৎসাহ উদ্দীপনা এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে শেয়ার করেন। চায়ের আসরে ইহুদিরা খারাপ এইটা বুঝাতে হিটলার সাহেবের এই উক্তিটা তুলে ধরেন হিটলারের জবানীতে- “আমি চাইলে সব ইহুদীদের হত্যা করতে পারতাম, কিন্তু কিছু ইহুদী বাঁচিয়ে রেখেছি এই জন্যে যে, যাতে পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারে, আমি কেন ইহুদী হত্যায় মেতেছিলাম”।

প্রথম কথা হলো, হিটলার কি আসলেই এই কথাটা বলেছিলেন?

না, তিনি এই কথা বলেছেন এর কোনো অথেনটিক সোর্স নেই। তার অন্যান্য বিখ্যাত উক্তিগুলোর পাশে এই উক্তিটি তাই স্থান পায় না।

দ্বিতীয় কথাটা হলো, তিনি যদি এই কথা বলেই থাকেন তাহলে তিনি তো জানতেন ইহুদিরা কত খারাপ, তারা মানবজাতির কত বড় ক্ষতি করতে পারে। তবে কেন মানবজাতির বৃহত্তর স্বার্থে তিনি তাদেরকে হত্যা করলেন না। আমাদেরকে দেখানোর কী প্রয়োজন ছিলো ইহুদিরা কত খারাপ?

আমাকে বলেন তো হিটলার কিভাবে মারা গিয়েছিলো? যুদ্ধে হেরে আত্মহত্যা করে।

হিটলার নিয়ন আলোয় neon aloy

তাহলে সে কিভাবে কিছু ইহুদি বাঁচিয়ে রাখবে? তার সেই সুযোগ ছিলো? বেঁচে যাওয়া ইহুদিদের বেঁচে থাকার কথা ছিলো বলেই তারা বেঁচে গিয়েছিলো। কিন্তু ব্যাক্তিগত জিঘাংসা চরিতার্থ করতে এই লুনাটিক লোকটি নিরপরাধ পুরুষ, নারী, বৃদ্ধ, শিশু হত্যা করেছিলো। সংখ্যাটা অগণিত, কয়েক মিলিয়নের উপরে।

মুহাম্মদ (সাঃ) কে যে পরিমাণ অত্যাচার করেছিলো বিধর্মীরা, তিনি কি মক্কা বিজয়ের পর তাদের উপর প্রতিশোধ নিতে পারতেন না?

নবীজী(সাঃ) কে যে পরিমাণ ভুগিয়েছে বিধর্মীরা, ইহুদিরা কি এর চেয়েও বেশি হিটলারকে ভুগিয়েছে? নবীকে এত আঘাত করার পরেও তার শত্রুদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন, আর হিটলার কোনো কারণ ছাড়াই জঘণ্যতম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। অথচ আপনারা কিনা নবী(সাঃ) এর মহানুভবতাকে পাশ কাটিয়ে হিটলারের নৃশংসতার তাঁবেদারি করছেন। ইহুদিদের বিরুদ্ধে হিটলারের অভিযোগগুলো দেখলে হাসি পায়।

“কে মেরেছে কে বকেছে কে দিয়েছে গাল
ইহুদিরা অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক ছিলো তাই
রেগেছে হিটলারবাবু, ভাত খায় নি কাল”

তখনকার সময়ে ইহুদিরা অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক ছিলো, এখনকার সময়েও পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ০.২ শতাংশ হওয়ার পরেও পৃথিবীর অনেক কিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে। অথচ মুসলিমরা মোট পৃথিবীর জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ হওয়ার পরেও পৃথিবীর অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখবে দূরে থাক, নিজেদের নিরাপত্তাও নিজেরা দিতে পারে না। যোগ্যরাই নিয়ন্ত্রক হবে সবকিছুর- এটাই তো চিরন্তন সত্য।

ইহুদি হত্যার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে হিটলারের বিশ্বাস ছিলো জার্মানরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলো ইহুদিদের কারণে। সিরিয়াসলি?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কি তারা জিতে গিয়েছিলো?

তার অন্যান্য অভিযোগগুলোও চাইল্ডিশ। তার অভিযোগকে যদি ভ্যালিড মনে করেন, তবে পৃথিবীতে মানুষ অবশিষ্ট থাকতো না। মহাত্মা গান্ধীর একটা কথা আছে “চোখের বদলে চোখ নিলে পুরো দুনিয়াই তো অন্ধ হয়ে যাবে”। আমি নিশ্চিত ইহুদিদের দোষগুলো হিটলারের “চোখ তুলে ফেলার মত” মারাত্মক ছিলো না।

মহাত্মা গান্ধী কিংবা নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে হিটলারের তফাৎ এখানেই। লেখা বড় হয়ে যাবে তাই আপনাদেরকে অনুরোধ করছি Mandela: Long Walk To Freedom এবং Invictus মুভি দুইটা দেখার জন্য। এবং বই হিসেবে হিটলারের নিজের হাতে লেখা মাইন ক্যাম্ফ পড়ার জন্য। এদের ভেতরের পার্থক্য নিজেই বুঝতে পারবেন।

হিটলার নিয়ন আলোয় neon aloy

নবীজি(সাঃ), হিটলার এবং নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনে সহ্য করা দুর্ভোগ নিয়ে লেখা পড়লেও বুঝে যাবেন যে মহানবী (সাঃ) এবং ম্যান্ডেলা হিটলারের তুলনায় অনেক অনেক কষ্ট করেছেন। মানবজাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার জন্য নবীজী (সাঃ) এবং নেলসন ম্যান্ডেলা প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নেননি। বিশ্বনেতা আর বিশ্ববেহায়ার তফাৎটা কোথায় বুঝতে পারছেন তো?

আপনারা যেই ফ্যান্টাসিতে ভুগে হিটলারের এই উক্তিটি শেয়ার করেন “আমি চাইলে সব ইহুদীদের হত্যা করতে পারতাম কিন্তু কিছু ইহুদী বাঁচিয়ে রেখেছি,এই জন্যে যে, যাতে পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারে, আমি কেন ইহুদী হত্যায় মেতেছিলাম”-হিটলার।

আপনারা কিভাবে, কোন যুক্তিতে নিরপরাধ ইহুদী শিশুকে হত্যা করা সমর্থন করেন? উপরের উক্তি শেয়ার করা লোকগুলোর যুক্তি- মানবজাতির ইতিহাসে ইহুদীরা কখনোই ভালো ছিলো না।

একটা বাচ্চা খারাপ হয় কখনো? সে কি জন্মের পর থেকেই মানবজাতির জন্য থ্রেট হয়ে যায়? এই যে গুগলের প্রতিষ্ঠাতা সার্জেই ব্রিন ইহুদী, তিনি না থাকলে ইনফরমেশন শেয়ারের অন্যতম বড় মাধ্যম গুগল পেতাম আমরা? মার্ক জাকার্বার্গ যদি পৃথিবীতে না আসতেন তবে ফেসবুক থেকে আপনার অসুস্থ আত্মীয়ের জন্য রক্তের যোগান কি সহজে পেতেন?

এই সেক্সি উক্তির সমর্থনের জন্য যে যুক্তিটি ব্যাবহার করা হয় (জগতের সকল ইহুদীই খারাপ, ইহুদিরা ইতিহাসে কখনোই ভালো ছিলো না) সে যুক্তি মোতাবেক একটা ইহুদী বাচ্চা কিন্তু জন্মের সময়ই খারাপ হয়ে জন্মায়। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে সকল মানুষকেই পাঠিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য যে তারা ভালো না খারাপ পথে যায়, শুধুমাত্র ইহুদীরা আজীবন খারাপ থাকবে জানার পরেও আল্লাহ তায়াল তাদেরকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন যদিও আল্লাহ তায়ালা সবার ভালো চান এবং খারাপ মানুষরা দোজখে যাবে।

হিটলার নিয়ন আলোয় neon aloy

এই একটা প্যারা যদি প্রথমবারে আপনি না বুঝেন তাহলে কষ্ট করার দরকার নেই, আপনি বুঝবেন না।

হিটলারের এই সেক্সি উক্তি যেই হারে শেয়ার করা হয়, অথবা ফ্রাস্ট্রেটেড মুসলমানরা (ফ্রাস্ট্রেটেড মুসলমানদের কথায় পরে আসছি) ব্যাবহার করেন তা দেখে মনে হয় অবস্থা এমন যে হিটলারকে যখন স্বর্গে নাকি নরকে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তখন হিটলার তার এই উক্তির শেয়ার করা স্ক্রিনশট দেখাবেন আল্লাহ তায়ালাকে, এবং হিটলার পগারপার হয়ে যাবেন।

নিষ্পাপ মানুষ হত্যাকে আপনি কোনো যুক্তি দিয়ে জাস্টিফাই করতে পারেন না। ইয়াহিয়া খান আর হিটলারদের ভেতর কোনো পার্থক্য নেই। ইয়াহিয়া খান যতবড় খুনি, হিটলার তারচেয়েও অনেক বড় খুনি।

২.

ফ্রাস্ট্রেটেড মুসলমান কেন বলছি সেদিকে আসছি।

আজকে পৃথিবীতে ধর্মীয় জাতিগত দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হচ্ছে মুসলমানরা। অথচ সংখ্যাটা দেড় বিলিয়নের কাছাকাছি। জ্ঞানবিজ্ঞানের গৌরব আমাদের থেকে অনেক দূরে সরে গেছে এখন। ফেসবুক, গুগল এসবের প্রতিষ্ঠাতা এখন ইহুদী ধর্মাবলম্বী ব্যাক্তিবর্গ। পৃথিবীতে ইহুদি মানুষের সংখ্যা ১৫ মিলিয়ন মানে মোট জনসংখ্যার ০.২ শতাংশ অথচ নোবেল প্রাইজ এর ২২ শতাংশ তাদের দখলে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ মুসলমান হওয়ার পরেও নোবেল প্রাইজের ১.৪ শতাংশ মুসলমানদের।

এখন আপনি তর্কের খাতিরে বখাট্য যুক্তি হিসেবে বলতে পারেন তাদেরকে তোষামোদ করতে খ্রিস্টান ইহুদিরা নিজেরাই নিজেদেরকে এই পুরষ্কার দেয়। তাহলে আমি বলবো ৩১ শতাংশ খ্রিস্টান কেন ০.২ শতাংশ ইহুদিকে তোষামোদ করবে? একটাই কারণ- জ্ঞান চর্চা।

কিছু কিছু নোবেল প্রাইজ বিতর্কিত সেটা আমিও জানি। তাই বলে ইহুদিরা যে আমাদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক কম হওয়ার পরেও আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে সেটা আপনি অস্বীকার করতে পারেন না । এদিকে আমাদের অধিকাংশের (সবার না) জ্ঞান বিজ্ঞান আর মাথার জোর “আমিন না বলে যাবেন না” পর্যন্ত।

একতাই বল- এটাও ভুলে গেছি আমরা। এখন এক মুসলিম দেশ আরেক মুসলিম দেশকে ধ্বংস করে দিতে চায় (পাকিস্তান যেমন করেছিলো বাংলাদেশকে)। আবার অনেক মুসলিম দেশ আছে যারা এতটাই আমোদ প্রমোদে লিপ্ত যে অন্যদেশের মুসলিম ভাইদের খবর নেওয়ার সময়, ইচ্ছা কোনোটাই নেই। যেমন ইসরায়েল ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করে দিলেও সৌদি আরব সেদিকে কোনো নজর না দিয়ে নিজেদের অর্থনীতিকে ডাইভার্সিফাই করতে তাদের এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে ৬৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। ৬৪ বিলিয়ন ডলার কত টাকা জানেন?

৫,৩১২,৪২৩,১৯৪,৪১৯.২০ (পাঁচলক্ষ একত্রিশ হাজার দুইশ বিয়াল্লিশ কোটি টাকারও বেশি)!

আপনার পড়তেও কষ্ট হচ্ছে অথচ আমাদের ইসলামী সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় পতাকাবাহকরা বিনোদনের উদ্দেশ্যে এককালীন বিনিয়োগই করছে এই টাকা। তারা গাজা, সিরিয়ার লোকগুলোর কান্না শুনে না, শুনতে পায় না। আর আল্লাহ তা’য়ালার লীলাখেলাও বুঝা দায়, তিনি ভদ্রপল্লীর দিকেই দেখছেন সম্ভবত (এখন আবার আমার ধর্মজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না, আমি নিজেও একজন ফ্রাস্ট্রেটেড মুসলমান)।

আমার এক বন্ধুর নীতি হলো গালি দিয়ে স্ট্রেস কমানো। বিষয়টা নেগেটিভ হলেও সেটা আসলেই কাজ করে অনেক সময়।

এত এত ফ্রাস্ট্রেশনের পর সেটা মেটানোর জন্য ইহুদীদেরকে গালি দিয়ে স্ট্রেস কমানোর পন্থাটা আমাদের অনেক মুসলিম ভাই সচেতন বা অবচেতনভাবে বেছে নেন। সেটা করতে গিয়ে তারা একটা মিথ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছেন “আমি চাইলে সব ইহুদীদের হত্যা করতে পারতাম কিন্তু কিছু ইহুদী বাঁচিয়ে রেখেছি, এই জন্যে যে, যাতে পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারে, আমি কেন ইহুদী হত্যায় মেতেছিলাম”- হিটলার।

হিটলার এমন কথা বলেছেন সেটার প্রমাণ নেই। তবুও আপনারা হিটলারকে মহান প্রমাণ করতে এই উক্তি শেয়ার করেন এবং মহান প্রমাণ করতে যেয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম কুখ্যাত খুনির অন্যায় খুনগুলোকে সমর্থন দেন।

ঘুম থেকে উঠুন দয়া করে।

৩.

অন্যান্য দেশের মুসলিমদের সংস্কৃতি বা চিন্তাভাবনা কেমন জানিনা, তবে আমাদের দেশের মুসলমানদের চিন্তাভবনার কিছুটা হলেও আমার বোধগম্য হয়েছে। ছোটোবেলায় শুনতাম লাল পিপড়া মুসলমান, তারা ভালো। কালো ডেউয়া পিপড়াগুলো হিন্দু, তারা খারাপ। এইরকম ধারণা যে দেশের শিশুদের মনে ঢুকানো হয়, সেদেশের প্রাপ্তবয়স্ক লোকদের চিন্তাভাবনা কেমন হবে বুঝাই যায়।

আমাদের দেশের যে অংশটা শুধুমাত্র ইসরায়েলের ইহুদি কর্তৃক গাজার মুসলমানদের হত্যার জন্য ইহুদিদের খারাপ মনে করে এবং ইহুদিদের হত্যা করার জন্য হিটলারকে ভালো মানুষ মনে করেন তাদের জন্য সহানুভূতি রইলো।

জানেন, সৌদি আরব হলো ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আঁতাত, তারাই কিনা আবার আমাদের ইসলাম ধর্মের পতাকাবাহক। আর আপনারা শুধু ইসরায়েলের ইহুদি কর্তৃক গাজার মুসলমানদেরকে হত্যার জন্য খ্রিস্টান হিটলারকে ভালোবাসেন। অথচ আমাদের ধর্মের সবচেয়ে বড় হুমকি হলো খ্রিস্টানরা। যদিও এই যুক্তিগুলো আসলে খুব একটা যায় না বর্তমান দুনিয়ার সাথে। কারণ এখন ধর্ম দেখে কেউ কারো সাথে বন্ধুত্ব করে না, কেউ কারো সাথে শত্রুতা করে না। সবাই দেখে স্বার্থ। নইলে সৌদি আরব, ইসরায়েল আর আমেরিকার মাঝে আঁতাত হতো না। আবার পাকিস্তানও আমেরিকা আর চীনের গোলামী করতো না। একাত্তরে কিন্তু বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে হত্যা করার জন্য পাকিস্তানি মুসলিমরা চীনের বৌদ্ধ আর আমেরিকার খ্রিস্টানদের সহায়তা নিতো। আসলে ধর্মটা ফ্যাক্ট না, ফ্যাক্ট হচ্ছে স্বার্থ।

সেদিকে না যাই, যারা শুধুমাত্র ইহুদি হত্যার জন্য হিটলারকে ভালো মনে করেন তাদেরকে হিটলারের নৃশংসতার কিছু নমুনা দেই।

ইহুদিদেরকে যখন যেধরনের শারীরিক পরিশ্রমের কাজে ব্যাবহার করা প্রয়োজন, হিটলার বাহিনী তা করতে পারতো। যেমন ধরেন ড্রেইন পরিষ্কার করা দরকার; রাস্তায় যাকে পায়, তাকে দিয়েই এ কাজ করাতো। রাস্তায় না পেলে ঘর থেকে ধরে এনে কাজ করাতো।

যারা ইহুদি তাদেরকে যেনো সহজে চেনা যায় তাই একধরনের স্টার পরতে হতো। তাদেরকে নিজেদের সম্পত্তির জন্য আলাদাভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হতো। আসবাবপত্র, কাপড়-চোপর, অলংকারাদি সব রেজিস্ট্রেশন করতে হতো।

হিটলারের ইহুদি বিদ্বেষের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি ছিলো তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। তাই সে ওদের ব্যাংক একাউন্টগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, এবং প্রত্যেক সপ্তাহে মাত্র ৫০ ডলার উত্তোলন করতে দিতো।

এই টাকাতেও হয়তো তারা মোটামুটি অন্তত খেয়ে পরে বাঁচতে পারতো কিন্তু সেটা তো হতে দেয়া যাবে না। ওদের কাছ থেকে জিনিসপত্রের দাম রাখা হতো ইচ্ছামত। অনেকে খেতে না পেয়ে ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করতে চাইলে তাদেরকে বাজারের তুলনায় অনেক কম দাম দেয়া হতো।

ইহুদিরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে যেতে পারতো না। অনুমতি ছাড়া ট্রেনেও তারা চড়তে পারতো না।

ইহুদিদেরকে যদি সারাদেশের ভেতর খুন করা হয় তবে এত বিশাল পরিমাণ লাশ দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে ভেবে তাদেরকে প্রথমে অনেক বস্তি তৈরি করে সেসব বস্তিতে রাখা হতো। এজন্য পোল্যান্ডে লজ, ওয়ারসো, ক্রাকো, ভভ ইত্যাদি নামের বস্তি বা ঘেটো তৈরি করা হয়েছে কারণ যতদিন না কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প বা ডেথ ক্যাম্পগুলো তৈরী হচ্ছে, ততদিন তো এদেরকে কোথাও না কোথাও রাখতেই হবে। এরপর ধীরে ধীরে যখন ডেথ ক্যাম্পগুলো তৈরী হলো তারপর ঘেটো থেকে তাদেরকে মালবাহী ট্রেনে করে শত শত মাইল দূরের বধ্যশিবিরগুলোতে নিয়ে যেত। মালবাহী ট্রেনের ভেতরেও অনেকে মারা পড়ত। যারা বেঁচে থাকত তাদেরকে গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে হত্যা করা হত। গ্যাস চেম্বারে প্রবেশের আগ পর্যন্ত যারা নিহত হবে, তারা জানতো তাদেরকে গোসল করানোর জনে নেওয়া হচ্ছে। তারা যেনো ঝামেলা না করে সেজন্যই গ্যাস চেম্বারে নেয়ার সময় গোসলের কথা বলতো হিটলারের বাহিনী। তাদেরকে পুড়িয়ে মারার পর গন্ধের তীব্রতা কমানোর জন্য সবার কাপড় চোপর খুলে বাইরে রেখে দিতো। এই কাপড়গুলোই আবার নতুন যারা আসতো তাদেরকে দেয়া হতো ।

এই ঘেটো বা বস্তি, ডেথ ক্যাম্প এবং ডেথ ক্যাম্পে নেয়ার জন্য রেললাইন তৈরীর কাজও করেছে এই নিরপরাধ মানুষগুলো। একটাবার ভাবেন তো নিজের মৃত্যুর সরঞ্জাম নিজে জোগাড় করতে আপনার কেমন লাগবে?

এই ছিলো ভালো, সৎ, নীতিবান হিটলারের কর্মযজ্ঞের একাংশ। যাকে আপনাদের অনেকেই ভালোবাসেন, আইডল মানেন, যার ভুয়া উক্তি শেয়ার করেন।

Most Popular

To Top