টুকিটাকি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ঃ চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেশের আস্থা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ঃ চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেশের আস্থা- নিয়ন আলোয়

৩০ এপ্রিল ১৯৯৮, তৎকালীন পিজি হাসপাতালকে, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার ঘোষণা দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের চিকিৎসা সেবায় খুলে যায় নতুন দিগন্ত।

মেডিকেল শিক্ষায় বিএসএমএমইউ এখন সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের। যার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে স্কপাস ও স্পেনের সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ পরিচালিত জরিপে বিশ্ব সেরার তালিকায় ৬৪০তম স্থান অর্জন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ওই জরিপে দেশের ১১টি নেতৃস্থানিয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিএসএমএমইউ অবস্থান ৫ম।

গত দুই বছরে গবেষণামূলক কাজে বিএসএমএমইউ ছূঁয়েছে এক অনন্য মাইলফলক। এ পর্যন্ত সাতশোরও বেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে গবেষণা মঞ্জুরী ও থিসিস গ্রান্ট। যারমধ্যে গত দুই বছরে এ সুযোগ পেয়েছেন ৬২০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এরইমধ্যে প্রায় ৩০টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মরক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে, এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে সবসময়। উদ্বোধন করা হয়েছে, অসংক্রামক রোগ গবেষণায় আঞ্চলিক কেন্দ্র।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বর্তমানে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে দেশের মানুষের কাছে এক অনন্য আস্থার নাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় ৮০০০ রোগী। হাসপাতালে মোট শয্যা সংখ্যা ১৯০৪টি, যার অর্ধেক বরাদ্দ গরীব রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্য। চালু হয়েছে ১৮ শয্যার রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন ওয়ার্ড। বর্হিবিভাগে চালু রয়েছে সমন্বিত থ্যালাসেমিয়া সেন্টার। সফলভাবে চলছে বর্হিবিভাগে বৈকালিক বিশেষ চিকিৎসা সেবা। মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে জনগণ পাচ্ছেন অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের কাছ থেকে চিকিৎসা পরামর্শ। ২৫টি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোগী এই সেবা পাচ্ছেন। রোগীর সর্ব্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে রয়েছে সান্ধ্যকালীন রাউন্ডের ব্যবস্থা।

কোথায় কি পাবেন? সহজেই তা জানাতে বিএসএমএমইউতে আছে তথ্য ও অভ্যর্থনা কেন্দ্র। আছে আলাদা সেবা কেন্দ্রও। ইতোমধ্যে দেশের যেকোন মানসম্মত হাসপাতালের চেয়ে কম খরচে করা হচ্ছে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা নিরিক্ষা। সব ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ আছে এখানে। ল্যাবরেটরি সার্ভিস খোলা থাকে ২৪ ঘন্টা। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এখানকার রেডিওলজি বিভাগ।

শীঘ্রই এখানে শুরু হতে যাচ্ছে বোন মেরু ট্রান্সপ্র্যান্ট চিকিৎসাসেবা। বর্তমানে বৈশ্বিক বাস্তবতায় অনেক কম খরচে মাত্র ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় করা হচ্ছে কিডনী প্রতিস্থাপন। এ পর্যন্ত ৫১৭ জনের কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেছে বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা।

নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় এখানকার চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে নিরলস কাজ করে চলেছেন। নবজাতকের জন্য ৩১ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক এনআইসিইউ চালু হয়েছে এরইমধ্যে।

অটিজমের শিকার শিশুদের চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য ইনস্টিটিউট অফ পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার এন্ড অটিজম (ইপনা) বাস্তাবায়ন হয়েছে। বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগ চিকিৎসা সুবিধাসহ অটিস্টিক শিশুদের মা, বাবা ও অভিভাবকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থাসহ শিক্ষাদানের জন্য রয়েছে স্কুলিং সুবিধা আছে এখানে।

হৃদরোগীদের জন্য আধুনিক সিসিইউ-১ ও সিসিইউ-২ চালুর পর থেকে দেশের যেকোনও হৃদরোগ চিকিৎসার হাসপাতাল থেকে বিএসএমএমইউ’র উপর মানুষের আস্তা বেড়েছে বহুগুন।

প্রথমবারের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সেল গঠন হয়েছে এখানে। এছাড়া, প্রবীণদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য খোলা হয়েছে জেরিয়াট্রিক মেডিসিন উইং।

আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় করা হচ্ছে করোনারি এনজিওপ্লাস্টি। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ডে কেয়ার ওটি চালু হয়েছে এখানে।
এইডস রোগীদের জন্য বিএসএমএমইউতে খোলা হয়েছে আলাদা ইউনিট। এখানকার চিকিৎসা সেবা পেয়ে এইডস আক্রান্ত অসংখ্য দম্পতির কোলে এখন সুস্থ সন্তান।

চিকিৎসা সেবাকে ডিজিটাইলেজেশন করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন বিএসএমএমইউর বিশাল টিম। এন্টিমাইক্রোবিয়াল গাইডলাইনের দেশের প্রথম অনলাইন ভার্শন উদ্বোধন করা হয়েছে। নবনির্মিত ওনকলজি ভবন চালু হওয়ার পর দেশের ক্যান্সার চিকিতসায় যে আর এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষ রাখে না।

Most Popular

To Top