টুকিটাকি

মিষ্টির জাদুঘর!

মিষ্টির জাদুঘর!

মিষ্টি খেতে কে না ভালোবাসেন। চকলেট, ক্রিমি ক্রিমি ডোনাট, নানা স্বাদের পেষ্ট্রি, জিভে জল আনা রসগোল্লা, ছানার মালাই, বরফি, নাড়ু, সন্দেশ! ইস নাম গুলো লিখছি আর মন কেমন যেনো করছে, এক্ষুণি একটি টস টসে রসগোল্লা মুখে পুড়তে পারলে যেনো মনটা শান্তি পেতো!

অনেকে বলেন, মুটিয়ে যাচ্ছি তাই মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি, কিন্তু আমরা জানি ছেড়ে দিলেও মিষ্টি জাতীয় খাবার যখন সামনে তখন আপনি কত কষ্ট করে নিজের মনকে মানিয়ে রাখেন। আর যাদের ডায়াবেটিস, চিকিৎসকের কড়া বারণ- আর যাই করুন না কেনো কোনভাবেই মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। তাদের মনে মিষ্টি খাবার স্বাদটাই জাগে বেশি।

পাঠক, আপনাদের মনের লুকানো ইচ্ছা, আর এই মুহূর্তে আমার মনের মিষ্টি খাওয়ার শখটা দমিয়ে রেখে চলুন জেনে নেই এক ডেজার্ট মিউজিয়ামের কথা।

ফিলিপাইনের ম্যানিলায় চালু হয়েছে ব্যতিক্রমী এক জাদুঘর। এবছর, ১০ ফেব্রুয়ারি ১২ হাজার বর্গফুটের এই ডেজার্ট মিউজিয়ামটি দর্শকদের জন্য খুলে দেয়া হয়। ডেজার্ট জাদুঘরটি ম্যানিলায় এশিয়া কমপ্লেক্সের এএস মাইসিনে অবস্থিত।

ডেসার্ট মিউজিয়াম

মিষ্টির জাদুঘর

কটন ক্যান্ডি থেকে বিশালাকার ডোনাট সবই রয়েছে এই সংগ্রহশালায়। মিষ্টি প্রেমীদের জন্য এটা যেনো এক স্বর্গ। কোথাও ছাদ থেকে ঝুলছে ডোনাট কিংবা চিনি আর রং বেরংয়ের মিষ্টির বল। জাদুঘরে নানা আকার ও রঙয়ের বিভিন্ন মিষ্টান্ন দেখার পাশাপাশি আপনি সেখানে সেলফিও তুলতে পারবেন।

নানা রঙ, আকার আর স্বাদের কটন ক্যান্ডি, জিমি বিয়ার, মার্শমেলো, বাবল গাম, ডোনাটস, মিছরি বেত, আইসক্রিম, পিষ্টক পপ দেখার পাশাপাশি এখানে আপনি লাফানো, খেলা, সুই এবং স্লাইডও করতে পারবেন। এমন নানা দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিতে পারবেন বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির স্বাদ।

তরুণ-তরুণীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে জাদুঘরটি। বর্ণিল এ জাদুঘর দেখে অবাক হবেন যে কেউই। প্রতিটি কক্ষেই আছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

জাদুঘরে ঢোকার পথে রয়েছে বিশাল একটি ডোনাট। এছাড়াও আছে আটটি সুগার ফিল্ড রুম। এটি এমন এক জাদুঘর সফর যাতে দর্শকরা একটি ডোনাট গহ্বরের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে এবং গোলাপী স্লাইডের নিচে দিয়ে চলা শুরু করে। নামের স্বার্থকতা রাখতে স্বাভাবিকভাবেই মিউজিয়ামের প্রতিটি অংশ চিনি বা মিষ্টি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
উজ্জ্বল ও বর্ণিল জাদুঘরটিতে দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন বিশাল কটন ক্যান্ডি। দেখে মনে হবে, আপনি কোনো গোলাপি বনের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন। গাছে গাছে ঝুলছে শত শত কটন ক্যান্ডি, আপনি একটা করে ছিঁড়বেন আর মুখে পুরে নেবেন।
এখানে আইসক্রিমও আছে। আম আর অ্যাভোকাডোর তৈরি আইসক্রিম মনে করিয়ে দেবে শৈশবের কথা।
মিষ্টির গাছের টানেলের ভেতর দিয়ে চলতে চলতে হঠাৎ দেখা মিলবে এমন এক স্থানের যেখানে ভেসে বেড়াচ্ছে সুগন্ধি মিছরি তুলোর মেঘ, কিংবা মিষ্টির রংধনু।

মিউজিয়ামটিতে দর্শনার্থীদের সহায়তায় প্রতিটি কক্ষে আছেন একজন গাইড। তিনি দর্শনার্থীদের বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার পাশাপাশি এর সম্পর্কে নানা মজার তথ্য জানাবে।

ব্যতিক্রমী এ জাদুঘরে প্রথম সপ্তাহে প্রায় ৭০০০ দর্শককে আকৃষ্ট করেছে। এক মাসেই এর দর্শনার্থী ছাড়িয়ে গেছে ২০ হাজার। এখানে ঢুকতে হলে আপনাকে খরচ করতে হবে ১৫.৩ ইউএস ডলার আর অনলাইনে টিকিট কিনলে কিছুটা ছাড় মিলবে। অনলাইনে টিকিট মিলবে ১৩.৪ ইউএস ডলারে। এক টিকিটে আপনি সময় কাটাতে পারবেন দুই ঘন্টা।

আরো পড়ুনঃ ফুড ব্যাংক কি আসলেই ফুড ব্যাংক!

Most Popular

To Top