নাগরিক কথা

পাসপোর্ট অফিসঃ বিড়ম্বনা ও দুর্নীতির আখড়া

পাসপোর্ট অফিসঃ বিড়ম্বনা ও দুর্নীতির আখড়া

আমার আর আব্বু-আম্মুর পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য পাসপোর্ট অফিসে গেলাম। ফর্ম জমা দেয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ালাম। ঘন্টাখানেক পর যখন বুথের সামনে পৌঁছালাম, ভেতরে থাকা ভদ্রলোক আমাকে আবার ব্যাংকে পাঠালেন। কারণ ব্যাংকে যে ব্যক্তি আমার ডিপোজিট স্লিপ লিখেছেন, উনি আমার স্লিপে আমার নামের জায়গায় আমার আম্মুর নাম লিখে দিয়েছেন। নামের ইংরেজী ফর্মে ক্যাপিটাল লেটারে উনি কিন্তু ঠিকই আমার নাম’ই লিখেছেন।

এখন আমি বুঝলাম না, সোনালী ব্যাংকের মতো একটা ব্যাংকে কর্মরত ভদ্রলোক কিভাবে বাংলায় নাম ‘জাকেরা বেগম’ লিখে সেটাকে ইংরেজীতে ‘ARIF MOYNUDDIN’ লিখেন, অবাক করা বিষয়। যা হোক, ভদ্রলোক নিজের এই উদ্ভট ভুল সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে ব্যাংকে উল্টো আমাকে দিয়ে সেই স্লিপের ভুল কারেকশান করালেন।

এরপর আবার ছুটলাম পাসপোর্ট অফিসে, সেখানে আবার লাইন।
লাইনে দাঁড়িয়ে দেখলাম রিনিউ ফর্মে সবাইকে সত্যায়িত ছবি লাগাতে বলা হচ্ছে। অথচ সেই রিনিউ ফর্মে ছবি লাগানোর কোন স্লট নেই। যে পাসপোর্ট গুলো এখন রিনিউ করা হচ্ছে সেগুলো বড়জোর পাঁচ থেকে ছয় বছর আগের এবং সবকয়টি’ই মেশিন রিডেবল। যেটার বারকোড স্ক্যান করলেই ছবি, ফিঙ্গার প্রিন্ট, এড্রেস সব চলে আসার কথা।

যা’ই হোক, সত্যায়িত ছবির কথা শুনে অল্প শিক্ষিত কয়েকজন মানুষ খুব ঘাবড়ে গেলেন। তাদের অনেকেই মিডল ইস্টের নানান দেশের শ্রমিক।

দূর দূরান্ত থেকে এসেছেন। কেউ কেউ গ্রাম থেকে। এই মুহূর্তে ছবি সত্যায়িত করবেন কোথায়!?

সল্যুশন ও দেখলাম কয়েক গজের মধ্যেই! একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাকি ছবি সত্যায়িত করছেন এবং সত্যায়িত করার বিনিময়ে নিচ্ছেন ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা!

এরপর বুঝার আর কিছু বাকি থাকে না যে এটা পুরোটাই ফাঁদ। যে ছবি লাগবেই না, অকারণে ভুল তথ্য দিয়ে সেই ছবি লাগাতে বলা হচ্ছে, ফর্ম থেকে খুলে যে ছবি ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে, সেটা নিয়েই বাণিজ্য।

লাইনে দাঁড়িয়ে উৎকণ্ঠা ভরা মানুষগুলোর চেহারা দেখলাম। যে দেশে সামান্য পাসপোর্ট বানাতে এতো হয়রানি, পদে পদে এতো যন্ত্রণা সেই মানুষগুলোই ধৈর্য নিয়ে বিদেশে দিনরাত কাজ করে টাকা পাঠিয়ে দেশের রেমিটেন্স বাড়াচ্ছে প্রতিদিন।

এই অদ্ভূত দেশের অদ্ভূত মানুষগুলোর জন্য ভালোবাসা না জন্মে কার জন্য জন্মাবে!?

Most Popular

To Top