নাগরিক কথা

বর্তমান টিনেজ জেনারেশন ও তাদের নৈতিক অধঃপতন!

বর্তমান টিনেজ জেনারেশন ও তাদের নৈতিক অধঃপতন!- নিয়ন আলোয়

আমাদের বর্তমান টিনেজ জেনারেশন আসলে কতটা অধঃপাতে গেছে কারও কোন আইডিয়া আছে?

আমার নিজ উপজেলা গফরগাঁওয়ে গার্জিয়ানরা ফাস করা যে প্রশ্ন তাদের সন্তানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন পরীক্ষা শেষে বাইরে এসে আসল প্রশ্নের সাথে মিলিয়ে দেখে যে ভুয়া প্রশ্ন ছিল সেইটা। অত:পর কেন্দ্র সচিবের কাছে গিয়ে নতুন করে ও এম আর ভরাট করার আবদার ও হুমকি ছাত্র আর অভিভাবকদের!

চুড়ান্ত গোল্লায় গেলেও তো মানুষের ন্যুনতম চক্ষু লজ্জা থাকে, হায়া লজ্জা হয় একটু! কিন্ত সময় কি এতোটাই খারাপ হয়েছে যে মানুষ যে কারনে মানুষ সেই বিবেক পুরোটাই নষ্ট হয়ে যাবে?

আরেক খবরে দেখলাম মা প্রশ্ন নিয়ে আটক হয়েছে, ছেলের জন্য প্রশ্ন ফাঁস করতে গিয়েছিলেন!

সর্বশেষ যেটা প্রায় অকল্পনীয় ব্যাপার সেটাও ঘটল রৌমারিতে। নকল করতে না দেয়ায়, অবৈধ কাজে বাধা দেয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা দল বেধে ইউ এন ও র গাড়ি ভেঙেছে, শিক্ষকদের মোটর বাইক ভেঙেছে, শিক্ষকসহ ইউএনও -কে অবরুদ্ধ করে রেখেছে!

কি ভয়াবহ ব্যাপার! নকল করতে না দেয়ায় UNO গাড়ি ভাংচুর করবার সাহস এসএসসির ছেলেরা পেয়েছে কোথায়? আমার এক ব্যাচমেট, বন্ধু ইউএনও- এর মতে, সঠিক রুপে পরীক্ষা নেয়াটাই এইসব ছেলেপেলের চোখে অপরাধ! আমাদের পরীক্ষা আমরা যেভাবে খুশি দেব, তুমি কে হে দেখবার?

অপরাধ যদি নিয়মিত ঘটনায় রুপ নেয় তখন ধীরে ধীরে অপরাধীরা সেটাকে তাদের অধিকার মনে করে! এখানেই ঘটনা তাই ঘটেছে। নকল করা, দেখে লেখা, প্রশ্ন ফাঁস করাকে ছাত্ররা এখন তাদের সহজাত জন্মগত অধিকার বলে ভাবতে শুরু করেছে!

কি ভয়ানক, ভয়াবহ সময়ে এসে পড়েছি আমরা! বাচ্চা পোলাপান এখন উপজেলার প্রধান নির্বাহীর গাড়ি ভাঙে!

ইউএনও হিসেবে আমিও প্রায় সব পরীক্ষায় হলে যাই, পরিবেশ দেখি। মাঝে মাঝে কখনো কখনো কারো খাতা দেখি। ইংরেজি পরীক্ষার দিন কয়েকজনের লেখা পড়বার চেষ্টা করেছিলাম। বিপুল আত্মবিশ্বাসের সাথে কিভাবে মনগড়া লিখে যাওয়া যায় তা দেখে আমি হতভম্ব। কোন বাক্য, শব্দের বালাই নাই। একটার পর একটা বর্ণ বসিয়ে অর্থহীন উত্তর লিখে যাচ্ছে!

অবস্থা কতটা ভয়াবহ তা কি সবাই বুঝতে পারছেন? পুরো দেশের শিক্ষকেরা, অভিভাবকেরা, ছাত্রেরা যদি একসাথে বিবেকহীন হয়ে যায় তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি করবে?

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর ম্যাজিস্ট্রেটদের কি সারাদেশের সব কেন্দ্রে প্রহড়া দিয়ে রাখতে পারবে? প্রতিটা ছাত্র, অভিভাবক, শিক্ষককে সামলে রাখতে পারবে? আমরা কি কাউকেই আর বিশ্বাস করব না?

এই অদ্ভুতুড়ে সময়কে আমাদের ঠেকাতে হবে। এই বিপুল আত্মহনন আমাদের রুখতে হবে। কিভাবে হবে আমি জানিনা। এই সর্বনাশা প্রবণতা, গন হিস্টিরিয়ার পিছনের সাইকোলজি কি তা ভাবতে হবে।

খুব দ্রুত কোন উপায় না পেলে জাতির বড় ক্ষতি হয়ে যাবে! যার যার জায়গা থেকে এই বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। সবাইকে জাগতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে!

Most Popular

To Top