ফ্লাডলাইট

নিদাহাস ট্রফির জন্য উদ্দ্যেশ্যহীন বাংলাদেশ স্কোয়াড!

নিদাহাস ট্রফির জন্য উদ্দ্যেশ্যহীন বাংলাদেশ স্কোয়াড!- নিয়ন আলোয়

RANDOM SELECTION POLICY!!
কথাটা আগে অনেকবার শুনেছিলাম। কিন্তু আদর্শ উদাহরন দেখালেন বাংলাদেশের নির্বাচক কমিটি। কোন পরিকল্পনা ছাড়াই যখন তখন যাকে ইচ্ছা খুশি দলে নেয়া আবার বাদ দেয়ার এবং কোন বিশেষ পারফর্মেন্স ছাড়াই কাউকে ফিরিয়ে আনার “স্বাধীনতা” দেখাচ্ছেন তারা। লজিক না, কেবলমাত্র আশার ভেলায় ভেসে দল নির্বাচন করে যাচ্ছেন নান্নু এন্ড কোং। যদি কেউ বাজিমাত করে ফেলে!

নিদাহাস ট্রফির বাংলাদেশ স্কোয়াডে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়া যাকঃ

১) সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক)
২) মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (সহ-অধিনায়ক) 
৩) তামিম ইকবাল খান
৪) সৌম্য সরকার 
৫) ইমরুল কায়েস
৬) মুশফিকুর রহিম
৭) সাব্বির রহমান
৮) আরিফুল হক
৯) আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি
১০) আবু হায়দার রনি
১১) তাসকিন আহমেদ
১২) রুবেল হোসেন
১৩) মেহেদি হাসান মিরাজ
১৪) নাজমুল ইসলাম অপু
১৫) নুরুল হাসান সোহান
১৬) মুস্তাফিজুর রহমান

নুরুল হাসান সোহান, ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে প্রথম দলে আসেন। বলা হয়েছিলো, দারুন ট্যালেন্টেড কিপার, স্মার্ট ব্যাটসম্যান, রান “চুরি” করতে পারেন ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু সোহানকে সেই অর্থে সুযোগ দেয়া হয়নি। নিউজিল্যান্ড সফরে নেয়া হয়েছিলো। তারপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলেও রিজার্ভ প্লেয়ার হিসেবে ছিলেন। তারপর কোন কারন ছাড়াই তিনি দলের বাইরে। এমনকি বছরের শুরুতে ৩২ জনের প্রাথমিক দলেও ছিলেন না। এই বছর আমরা কিপার হিসেবে লিটন, বিজয়, মিথুন এমনকি জাকিরকে দেখেছিলাম বিভিন্ন সময়ে। তাদের কাউকেই দলে না রেখে হুট করে দলে আনা হল সোহানকে। কেন? সাউথ আফ্রিকায় টি-টুয়েন্টি সিরিজে এক ম্যাচ খেলেছিলেন লিটন। শ্রীলংকার বিপক্ষে এক ম্যাচে জাকির। এবার সোহান-ও কি এক ম্যাচের জন্য দলে আসলেন? দলে একজন ব্যাক আপ কিপার অবশ্যই লাগে, সেটা কি মিথুন হতে পারতো না? অথবা বিজয়?

দলে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস। যার টি-টুয়েন্টি পরিসংখ্যান দেখলে আমার নিজেরই লজ্জা লাগে। খোদ ধারাভাষ্যকর যারা থাকেন তারা ইমরুলের গড় কত সেটা উচ্চারন করেন না। সেই ইমরুল কোথায় কি এমন করলেন যে তাকে দলে ফেরাতে হবে? দলে একজন অতিরিক্ত ওপেনার রাখা উচিৎ এটাই কি যুক্তি? তাহলে আমি বলবো মিথুন বা বিজয় অনেকগুন ভালো অপশন হতে পারতো। টু ইন ওয়ান! ব্যাটসম্যান-কিপার দুই জায়গা পূরন হয়ে যেত। ট্রাই নেশনের ফাইনালে হুট করে নামিয়ে দেয়া আর একটা টি-টুয়েন্টি, ব্যাস মিথুন অধ্যায় শেষ! অথচ ট্রাই নেশনের আগে মিথুনকে প্রশংসার সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হলো! দুই ম্যাচেই ধৈর্য্য শেষ। আর বিজয়ের পরিসংখ্যান কায়েসের চেয়ে অনেক ভালো।

আর জাকির? সে তো এক্সপেরিমেন্টের গিনিপিগ! কি দরকার ছিলো তাকে অপরিনত অবস্থায় দলে এনে আবার এক ম্যাচ খেলিয়েই বাদ দেয়া? জাকির তার লাইফে কোন পর্যায়ের ক্রিকেটে কখনোই ওপেন করেনি, অথবা তাকেই দেয়া হয়েছিলো ওপেন করতে, মিথুনকে রেখে! আফিফ আর মেহেদি হাসানের যাত্রাটাও আপাতত এক ম্যাচের। আফিফ অন্তত স্কোয়াডে জায়গা ডিজার্ভ করে। খেলালোই যখন তখন খেলিয়ে যেত। এভাবে এক ম্যাচ খেলিয়ে কি লাভ? কি প্রমান হয় তাতে?

দলে ৫ জন পেসার। কোন দরকার ছিলোনা। যেহেতু সাইফউদ্দিন বাদ পড়েছে তাহলে অবশ্যই এখানে আবুল হাসান রাজুকে দরকার ছিলো। রাজু ভালো করলো বিপিএলে আর তাকে খেলানো হল একটি মাত্র ওয়ানডে। যেই ম্যাচে আবার সম্পুর্ন দলই ফ্লপ! আবু হায়দারকে আনা হয়েছিলো সোহানের সাথে সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে, তখন ব্যর্থ হয়েছিলেন। আবারো বিপিএলে ভালো করেছেন বটে কিন্তু রনি আর রাহি একই ধাচের বোলার। দুইজনই উইকেট টেকার এবং রান লিকার। আপনি তো দুইজনকেই একসাথে খেলাতে পারবেন না! তাহলে বৈচিত্র রাখার জন্য রাজুকে রাখতে কি সমস্যা ছিলো! সে কিন্তু টুকটাক ব্যাট চালাতেও পারে।

এই ফরম্যাটে আপনার দলে যত অলরাউন্ডার থাকবে ততই ভালো। আমরা সেই জায়গাটা মিস করবো। যদিও সাকিব স্কোয়াডে আছে কিন্তু তার অন্তত প্রথম দুই ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা কম! এই জায়গায় আফিফকে বিবেচনা করা যেত। হাতে যেহেতু আর ভালো বিকল্প ছিলোনা আফিফের চেয়ে।

ফিরেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ, ফেরার চেয়ে বড় প্রশ্ন শ্রীলংকার বিপক্ষে মিরাজ বাদ পড়েছিলো কোন যুক্তিতে? আর এখন ফিরেছে কোন যুক্তিতে? এমনিতে স্পিন বিভাগ ঠিকই আছে, মিরাজ জেনুইন ফিংগার স্পিনার, অপু বাহাতি স্পিনার। আমাদের যেহেতু লেগ স্পিনার নেই সুতরাং আমাদের এটাই সর্বোচ্চ ভালো কম্বিনেশন স্পিনের বিবেচনায়। তবে শুনেছিলাম মিরাজ “এক্সপেনসিভ” বোলার, এই কারনে শ্রীলংকার বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজে ছিলেন না, তাহলে সেই বিবেচনায় যদি একজন অফ স্পিনার নিতেই হয় তাহলে সোহাগ গাজির কি সমস্যা! সে কি চূড়ান্তভাবে বাতিলের খাতায়? বিপিএলে কিন্তু সেটা মনেহয়নি! টম মুডি পর্যন্ত তাকে আর অপুকে নিয়মিত খেলিয়েছেন বাদ্রিকে বসিয়ে রেখে!

সাব্বির রহমান আরো একবার সুযোগ পেয়েছেন কেবলমাত্র হাতে অপশন কম থাকায়। যে দুইজন “হার্ডহিটার” হাতে আছে তাদেরই নিয়েছে। এটা সাব্বিরের সৌভাগ্য, আমাদের দূর্ভাগ্য। সাব্বিরের উচিৎ ছিলো তার লেগ স্পিন নিয়ে কাজ করা। বিগত ২-৩ বছর নেটে চেষ্টা করলে অন্তত একটা পার্ট টাইম লেগি পেতাম আমরা। সাব্বিরের উদাসীনতা! আমাদের কপাল!

আমি রাহিকে সুযোগ দেয়ার পক্ষে। তাকে নেয়া হয়েছে এটা ঠিক আছে। কিন্তু রুবেল বা তাসকিনের যেকোন একজনকে নেয়া উচিৎ ছিলো আমার মতে। তাসকিন, রুবেল দুইজনই নতুন বলে পিটুনি খান, পুরানো বলে ভালো করেন। আর টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে বল আর কতটুকুই পুরানো হয়? তার উপর মুস্তাফিজকে প্রায় সব অধিনায়ক ১২ ওভার থেকে ব্যবহার করে। তাহলে নতুন বলের বোলার কই? রাহির উপরেই আস্থা রাখতে হবে। অথবা তাসকিন! তাসকিন সবসময়ই একটা “এক্স ফ্যাক্টর” কখনোই অস্বীকার করিনা, কিন্তু তার অতিরিক্ত খরুচে স্বভাব দলকে ভোগায় আরো বেশি। নতুন বলে মাশরাফিকে মিস করতে বাধ্য আমরা। অবশ্য মাশরাফির টি-টুয়েন্টিতে না ফেরার সিদ্ধান্তে আমি খুশি। লিজেন্ডরা একবারই অবসর নেয়, বারবার না। অবসর থেকে ফিরে আসা আফ্রিদিকে মানায় ম্যাশ বা সাঙ্গাকারাদের না।

সামগ্রিকভাবে এই স্কোয়াড দেখে বোঝা যাচ্ছে আমাদের নির্বাচকদের হাতে আসলে অপশন খুব কম। তাই ঘুরেফিরে একই প্লেয়ারকে কোন কারন ছাড়াই ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে অথবা এক ম্যাচ করে খেলিয়ে নতুন নতুন প্লেয়ারদের এনে আবার বাদ দিতে হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে এতে ওইসব প্লেয়ারের উপর প্রচন্ড চাপ পড়ে। অনেক সময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।

এই দল নিয়ে কতদূর যাওয়া সম্ভব? অনেক দূরই যাওয়া যাবে যদি সঠিক পরিকল্পনা করে আগানো যায়, প্রতিপক্ষ দলের দূর্বল জায়গা গুলো বের করা যায়। আর সেই অনুযায়ী মাঠে পারফর্ম করা যায়। প্লেয়ারদের অতিরিক্ত স্বাধীনতা কখনোই কোন দলের জন্য সুফল বয়ে আনেনি। বরং অতিরিক্ত স্বাধীনতা পেয়ে কি করবে আর কি করবে না এই সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে যেতে হয়। দলের ভেতরের সমস্যাগুলোর সমাধান যদি না হয় তাহলে এই দল নিয়েও বেশি আশাবাদি না হওয়াই উচিৎ।

একটা সমাধান হয়েছে, এইবার দলে স্বীকৃত সহ-অধিনায়ক রাখা হয়েছে! কোন নাটক এবার হবেনা সাকিব খেলতে না পারলে।

আর হেড কোচ করা হয়েছে কোর্টনি ওয়ালশকে। তাতে কি লাভ হবে জানিনা। কারন ওয়ালশ কোন অভিজ্ঞ কোচ না, সত্যি বলতে বাংলাদেশের বোলিং কোচ হবার আগে আর কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা নেই তার। পাশাপাশি তিনি বেশ “উদারপন্থী”, খুব একটা কড়া মাস্টার না। এজন্য অবশ্য উনি আমাদের পেসারদের কাছে খুবই প্রিয়! তবে সমস্যা হচ্ছে নিদাহাস ট্রফিতে দল ব্যর্থ হলে ঝড়টা ওয়ালশের উপর দিয়ে যাবে। হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর যেই ঝড় সামলাতে যেয়ে তালগোল পাকিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। এইবার সেই হাথুরুসিংহে আর রবি শাস্ত্রীর গেমপ্ল্যানের বিরুদ্ধে মাথা খাটাতে হবে ওয়ালশকে। আর সেখানে অনেক পিছিয়ে থাকবেন এই পেস বোলিং লিজেন্ড!

আচ্ছা মাঠে নাকি প্লেয়াররা খেলে? তাহলে ঝড়টা কোচদের উপর দিয়ে যাবে কেন? প্লেয়ারদের উপর দিয়ে কেন নয়?

স্কোয়াড যেমনই হোক, টিম বাংলাদেশের জন্য শুভকামনা।

Most Popular

To Top