নাগরিক কথা

সরকারি চাকরিতে কোটাঃ আলোচনা সমালোচনা

কোটা পদ্ধতি

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা- সমালোচনা হচ্ছে। থেকে থেকে কিছুকাল পর পর হচ্ছে ছোট ছোট আন্দোলন। গত কিছুদিন ধরে নতুন করে আবার আলোচনায় এসেছে এই কোটা ব্যবস্থা।

বর্তমানে কোটা ব্যবস্থায়, জনসংখ্যার ১.১০ ভাগ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ, ১.৪০ ভাগ প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ এবং দশমিক ১৩ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পোষ্যদের জন্য ৩০ শতাংশ অর্থাৎ ২.৬৩ ভাগ নাগরিকের জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটার পরিমাণ ৩৬ শতাংশ।
এছাড়াও জেলা কোটা আছে ১০ শতাংশ ও নারী কোটা ১০ শতাংশ। সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ।
এর বাইরে চাকরিপ্রার্থী লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জন্য পদ খালি আছে ৪৪ শতাংশ।
কোটা ব্যবস্থা ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতেই এই আন্দোলন।

এবার পাঠক, চলুন দেখে নেয়া যাক আন্দোলনের যৌক্তিকতা কতটুকু?

বিভিন্ন সরকারি নিয়োগে কোটায় শুন্য পদের সংখ্যাঃ

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায়
২৮তম বিসিএসে ৮১৩ টি
২৯তম বিসিএসে ৭৯২ টি
৩০তম বিসিএসে ৭৮৪ টি পদ খালি রয়েছে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী মিলিয়ে।
আবার ৩১ তম বিসিএসে প্রথম শ্রেণীর পদ খালি রয়েছে ৩৬টি, ৩২তম বিশেষ বিসিএসে ১৩টি, ৩৩তম বিসিএসে ৯১ টি, ৩৪তম বিসিএসে ৬২টি। এছাড়া, ৩৩তম বিসিএসে ৮৫টি, ৩৪তম বিসিএসে ১, ২৪৬টি দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ খালি রয়েছে।

সরকারি চাকরিতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পদ খালি, যার মধ্যে অনেক পদই কোটা ব্যবস্থার কারণে পূরণ হচ্ছে না।
একদিকে লাখ লাখ বেকার জনগোষ্ঠী, আরেকদিকে লাখ লাখ পদ খালি মাঝখানে আছে কোটা ব্যবস্থার দেয়াল। এই দেয়াল ভাঙ্গার জন্য কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ২৪ ফেব্রুয়ারি, রবিবার বিক্ষোভ করে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে।

বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিলো নানা কথার প্ল্যাকার্ড। এতে তারা বলেছেন, ১০ শতাংশের বেশি কোটা নয়, নাতি- পুতির কোটা বাতিল করো, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাই নাই, ইত্যাদি।

৩৮তম বিসিএস আবেদনের বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোটায় পদ ১,০৩৪ টি ও মেধার ভিত্তিতে আবেদন করা যাবে ৯৯০টি পদে।
এছাড়া, এমন অনেক চাকরি আছে যেখানে কোটা ছাড়া অন্য কোন প্রার্থী আবেদন করতেই পারে না। যেমন- ২৮ জানুয়ারি, ২০১৮তে সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শুধু কোটায় আবেদন চাওয়া হয়েছে।
এতে করে মেধাবীদের পিছিয়ে পড়া, বেকার জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি, পদ শূন্য থাকায় জনবলের সংকট সব মিলিয়ে দেশ পিছিয়ে পড়ছে কিনা তা আপনারাই ভেবে দেখুন পাঠক।

৩১ জানুয়ারিতে, সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের জন্য উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমানসহ আরো দুজন। আবেদনে সব ধরনের কোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭২ সালের ৫ নভেম্বর, এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করে জারি করা প্রজ্ঞাপনের  পুনর্মূল্যায়নেরও আবেদন করে তারা। যা এখন আছে শুনানীর অপেক্ষায়।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top