গল্প-সল্প

ব্রেকাপ নামা!

ব্রেকাপ

একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, আগের দিনের প্রেম অনেক গভীর ছিলো। সফল হতো বেশি। আর এখন? কথায় কথায় প্রেম হয় আর কথায় কথায় ব্রেকাপ! এমন  হচ্ছে কেন আজকাল? আগেকার দিনে তো দেখা করা বা যোগাযোগ করার সুযোগ খুব কম হতো। আর এখন? যে কোন বন্ধের দিন মানেই প্রেমের অবাদ সুযোগ। হোক তা বসন্ত কিংবা ২১শে ফেব্রুয়ারি। আনন্দ বা বেদনার দিন কোন ফারাক নাই। প্রেম হবে একশতে একশ।  দেখা, কথা হওয়া সবই বেশি বেশি তাও কেন এমন হয়? তাহলে কি সবই আবেগ, সবই মোহ?
এই লেখায় সেই কারণ অনুসন্ধান করতে যাবো না আমরা। চেষ্টা করবো কাল্পনিক ভাবে বর্তমান প্রেমের বাজারের কিছু চিত্র তুলে ধরতে।

ব্রেকাপ একঃ

সাত সকালে ফোন বাজছে! ছেলেটা সারা রাত কথা বলে ঘুমিয়েছে কয়েক ঘন্টা আগে। চোখ না খুলেই ফোন ধরার পর বোঝা গেল সে আদর করে যাকে জান বলে ডাকে সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে! ঘুম ভেঙ্গে গেল ছেলেটার। কি হয়েছে জিজ্ঞাস করতেই কান্নার তীব্রতা আরো বাড়ে!

আবিদঃ জান জান! ও জান! কাঁদো কেন? কি হইছে আমার বাবুটার? উত্তর আসে না কোন। কান্নাও থামে না । ছেলেটা আবার জিজ্ঞাস করে, ও বাবু! ও বাবু! বলো না কি হইছে? ধরা খাইছো বাসায়? জেনে গেছে বাসায়? আব্বু- আম্মু কিছু বলছে? থামো না বাবু! থামো! থামো ! এভাবে কাঁদলে আমার কলিজায় লাগে তো! এবার থামে।

তমাঃ ফাটিয়ে ফেলছে বাবু! একদম ফাটিয়ে ফেলছে! আমার কথা টা একদম শুনলো না। দামই দিলো না।
আবিদঃ কি হইছে? কে কি ফাটাইছে? বলো আমাকে। আব্বু আম্মু মারছে তোমাকে?
তমাঃ না না না! আমার কথা কেউ শোনে না! এই জীবন রাখবোই না আমি!
আবিদঃ কি হইছে বলো না বাবু!
তমাঃ চুমকির মা! চুমকির মা আমার ডিমের কুসুম ফাটায় ফেলছে!!! (আবার কান্না) এতো করে বললাম! আমি ফাটানো ডিম পোঁচ খাই না। তাও আমার কথা শুনলো না! ফাটিয়েই ফেললো! বলো বলো তুমিই বলো! আমি খাই ফাটানো ডিম পোঁচ! সবাই আমাকে জ্বালায়! সবাই!

আবিদঃ এই! তোমার জীবনে কি আর কোন সমস্যা নাই? এই সাত সকালে ঘুম নষ্ট করে ডিম নিয়ে শুরু করছ! (ধমকের স্বরে) ওপাশ থেকে তখন কান্নার তীব্রতা আরো বাড়ে!
তমাঃ আমার ডিমের থেকেও তোমার কাছে ঘুম বড়! কি হবে এই রিলেশন রেখে! আমার কোন কিছুর মূল্য নাই যার কাছে তার সাথে আবার কিসের ভালোবাসা! যাও ব্রেকাপ!
সাথে সাথেই ফেসবুক পায় একটি স্ট্যাটাস! আর আম জনতা পায় বিনোদন!

ব্রেকাপ দুইঃ

তিন দিন ধরে মেয়েটা মোবাইলে, মেসেঞ্জারে কল, মেসেজ দিয়েই যাচ্ছে তাও ছেলেটার কোন খবর নাই! অবশেষে বহু কষ্টে ৫ দিন পরে ফোন ধরে ছেলেটা।

লামিয়াঃ উফ! শেষ পর্যন্ত ফোনটা ধরলা তুমি! কি হইছে তোমার? এই ভাবে একদম গায়েব হয়ে যায় মানুষ?
ফাহিমঃ জ্বী কে বলছেন? কাকে চাচ্ছেন?
লামিয়াঃ এই বাবু! কি হইছে তোমার? আমাকে চিনতেছ না? কি হইছে আমার বাচ্চাটার?
ফাহিমঃ এক্সকিউজমি! আমার নাম বাবু না। আর আমার মা রান্না ঘরে রান্না করছেন। কাজেই আমি আপনার বাচ্চাও না। কাকে চাচ্ছেন বলেন।

লামিয়াঃ দোহাই লাগে তোমার এমন কইরো না। বলো কি হইছে! মারা যাচ্ছি আমি দম বন্ধ হয়ে!
ফাহিমঃ কেন কেন? মারা যাবা কেন? খুব তো হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছিলা সজলের সাথে! কি ভাবছো তুমি? আমি কিছু দেখি না? আমি কিছু জানি না?

লামিয়াঃ কি হইছে ফাহিম? একটু বুঝায় বলবা আমাকে? কি করছি আমি সজলের সাথে?

ফাহিমঃ ও আচ্ছা! চোরের মায়ের বড় গলা! কিছুই বোঝো না তুমি! ন্যাকা! আমার সাথে এইসব ন্যাকামি চলবে না! সজলের সাথে করো গিয়ে। ওর সাথে রিক্সায় ঘুরে বেড়ানোর সময় তো আমার কথা মনে থাকে না!
লামিয়াঃ ও আচ্ছা! ওইদিন সজলের সাথে রিক্সায় উঠে বাসায় গেছি। এই সামান্য ব্যাপার নিয়ে তুমি এতো কিছু বলতেছ!
ফাহিমঃ এইটা সামান্য? আমার কাছে অনুমতি না নিয়ে আমার বন্ধুর সাথে তুমি রিক্সায় করে বাসায় যাও আর এখন বলো এইটা সামান্য! শুধু কি তাই! ওইদিন তুমি সজলের তিনটা ছবিতে লাইক দিছো! আর সজল তোমার ছবিতে কমেন্ট করে! কত্ত বড় সাহস! নষ্ট মেয়ে! এই রকম চরিত্রের মেয়ে আমার লাগবে না! যাও ব্রেকাপ!

কি? পড়ে মনে হচ্ছে, এতো সহজ? একটা রিলেশন এইসব তুচ্ছ ঘটনায় শেষ হয়ে যায় কিভাবে? আসলেই আজকাল প্রেম এমন। বিশ্বাস না হলে বাজি ধরতে পারেন। আশেপাশে খোঁজ নিয়ে দেখেন, এখন ভালোবাসি বলতেও দেরি লাগে না আবার ব্রেকাপ বলতেও বিলম্ব হয় না।

তবে হ্যাঁ, এখনকার যুগেও সম্পর্ক টিকিয়ে নিয়ে গিয়ে শুভ পরিণতির সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু কেন যেন আস্তে আস্তে ভালোবাসায় পারস্পারিক আস্থা, ভরসা, বিশ্বাস, দায়িত্ব দিন দিন কমছে, আর বাড়ছে সন্দেহ, অবিশ্বাস। যার ফলাফল ঘন্টায় ঘন্টায় ব্রেকাপ!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top