টুকিটাকি

কতদুর এগুলো অভিজিৎ হত্যামামলার তদন্ত?

বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ হত্যার তিন বছর আজ। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়, অমর একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরের সামনে অভিজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা।

তিনবছরে এখনো শেষ হয়নি অভিজিৎ হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম। শুরুতে এই হত্যাকান্ডের তদন্তের দায়িত্বে ছিলো গোয়েন্দা পুলিশ। সেসময় র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন সাতজনকে অভিজিৎ হত্যার অভিযোগে আটক করে। এছাড়া এই আটকের সময় মুকুল রানা নামে একজন র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। পরে, এই সাতজনকে অভিজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি তারা।
এরপর তিনমাস আগে তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কাছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ এর মৃত্যুবার্ষিকী সামনে রেখে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর হত্যাদিনের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোজাম্মেল হোসেন ওরফে সাইমন, আবু সিদ্দিক সোহেল ও আরাফাত ওরফে শামস ওরফে সাজ্জাদ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যার দায় স্বীকার করে গ্রেপ্তারকৃতরা এরই মধ্যে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সিটিটিসি প্রধান আরোও বলেন, ‘এই তিন জনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মূলত এই মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। তিনজনের ২ জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ইন্টেলিজেন্স উইং আর একজন সরাসরি মিলিটারি উইং এর সদস্য ছিল। সার্ভিলেন্স ও অপারেশনের সাথে তারা তিনজনই সরাসরি জড়িত ছিল’।

আটক তিনজনের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে এই হত্যাকান্ডের সাথে চাকরীচ্যুত মেজর জিয়াসহ আরো ৫ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। বাকী ছয়জনের মধ্যে দুএকজনকে ধরতে পারলেই অভিজিৎ হত্যা মামলার তদন্ত কাজ ভালোভাবে শেষ করা সম্ভব হবে বলেন, মনিরুল ইসলাম। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার চেষ্টার পাশাপাশি শিগগিরই এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলা চালানোর মতো যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ সিটিটিসির হাতে রয়েছে তাই দ্রুত এর অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে।
তবে, গ্রেপ্তার সাইমন, সোহেল ও সাজ্জাদের জবানবন্দী অনুসারে, র‍্যাবের হাতে আটক আগের সেই সাতজনের এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলেও জানান সিটিটিসি প্রধান।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিট থেকে জানানো হয়, লেখক অভিজিতের লেখায় ক্ষুদ্ধ হয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের এ সদস্যরা। চাকরীচ্যুত মেজর জিয়া সম্পর্কে তারা বলছেন, মেজর জিয়া দেশে কি দেশের বাইরে আছে তার সঠিক কোন তথ্য বর্তমানে সিটিটিসির কাছে নেই। তবে, আপাতত সে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পলাতক রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

লেখক অভিজিৎ রায় মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। স্ত্রী রাফিদা আহমেদকে নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করতেন তিনি। ২০১৫ সালে একুশের বইমেলা উপলক্ষে দেশে আসেন অভিজিৎ। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা নয়টিরও বেশি। দিনটি ছিলো বৃহস্পতিবার, বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর রাত প্রায় সোয়া নয়টার দিকে টিএসসি এলাকায় অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে দূর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রাত প্রায় দশটার দিকে মারা যান মুক্তমনা বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়।

Most Popular

To Top