শিল্প ও সংস্কৃতি

চীনা নববর্ষ

চাঁদের হিসেবে চলে চীনের ক্যালেন্ডার। তাই চান্দ্রবর্ষ শুরুর দিনে চীনারা পালন করে নববর্ষ। চীনের লোকদের কাছে এই নববর্ষ উদযাপন সবচেয়ে বড় উৎসব আয়োজন। তারা এই উৎসব পালন করে অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে। এবার চীনা নববর্ষ শুরু হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি। এবছর নববর্ষ উপলক্ষে ২৩ দিনের উৎসব পালন করছে চীনারা। উৎসব চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত।

চীনা শাস্ত্র ১২টি প্রাণীর রাশিচক্র মেনে চলে। যেমন- ইঁদুর, সাপ, বাঘ, ড্রাগন ইত্যাদি। চক্র অনুযায়ী একেক বছর একেক প্রাণী দিয়ে ভাগ্য গননা করে চীনের জনগণ। বিষয়টা অনেকটা আমাদের দেশের দূর্গা উৎসবের বিশ্বাসের মতো। যেমন- সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলে থাকে, এবছর মা দূর্গা আসবেন নৌকা চড়ে যাবেন ঘোড়ায় চড়ে, এগুলো নানা শুভ-অশুভ প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। ঠিক তেমনি চীনারা তাদের নতুন বছরের সুখ-দুঃখের, লাভ-ক্ষতি, ভালো- মন্দের হিসেব করে প্রাণী দিয়ে।

চীনা নববর্ষ উদযাপনে বর্ণিল আয়োজন

সে হিসেবে এবছরকে বলা হচ্ছে ইয়ার অব ডগ। এবারের উৎসবের প্রতীক কুকুর। চীনাদের প্রথাগত বিশ্বাস, যে প্রাণীটি তাদের প্রতিনিধিত্ব করে তা দিয়ে তাদের জাতিগত ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে। চীনা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে কুকুর হলো বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের প্রতীক। চক্রাকারে প্রতি ১ যুগ পর একবার আসে এই ইয়ার অব ডগ।

এ বছরের কুকুরকে বলা হচ্ছে ‘আর্থ ডগ’। যা সবশেষ এসেছিলো ১৯৫৮ সালে। ‘আর্থ ডগ’ হলো, যোগাযোগ, মনোযোগী ও কাজে দায়িত্বশীলতার প্রতীক।

চীনারা বিশ্বাস করে, ডগ ইয়ারে যে পুরুষের জন্ম হয়, সে হয় সোজাসাপ্টা কথা বলা কর্মঠ একজন মানুষ। এই পুরুষেরা পরিবারের প্রতি খুব যত্নশীল হয়। তারা তাদের প্রিয়জনকে বুঝার চেষ্টা করে এবং সবসময় আপোষ ও সমঝোতা করার মানুসিকতায় থাকে। তাই ডগ ইয়ারে জন্মানো পুরুষেরা সুখী পরিবার গড়তে পারে।

এই বছরগুলোতে যে নারীরা জন্ম নেয় তাদের ব্যাপারে চীনা বিশ্বাস, এই নারীরা খুব সতর্ক প্রকৃতির হয়ে থাকে। এরা পছন্দ করে না এমন লোকজনের প্রতি উদাসীনতা দেখায় এবং সহজে কোন কিছু বিশ্বাস করে না। সব পরিস্থিতে এই নারীরা দৃঢ়ভাবে তাদের বন্ধু ও পরিবারকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। এরা স্বাধীনচেতা হয় ও বাইরে কাজ করতে পছন্দ করে।

চীনে নববর্ষের আগের দিন, ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয়, এই ভোজনে অংশ নিতে পরিবারের সব সদস্যরা জড়ো হয়। এরপর শিশুদের লাল খামে টাকা উপহার দেয়া হয়। তারা একে বলে ‘লাকি মানি’। এই উপহারেরও একটা বিশেষত্ব আছে। লাকি মানি দেয়া হয় পরের বছর সামনে এগিয়ে যাওয়ার দোয়া হিসেবে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানকে লুনার ইয়ার বলা হয়। চীনা নববর্ষের এ বার্ষিক উদযাপন দেখতে লক্ষ লক্ষ লক্ষ মানুষ জড়ো হয়। নাচ, গান, প্যারড, অভিনয় ইত্যাদি নানা বর্ণিল প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে চার ঘন্টা ধরে চলে এ আয়োজন। এ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় ভাবে সম্প্রচার করা হয়। এটি প্রথম সম্প্রচারিত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে এবং বিশ্বে এই অনুষ্ঠানকে সবচেয়ে বেশি দেখা প্রোগ্রাম বলে মনে করা হয়।

চীনা নববর্ষের এ উৎসব বসন্ত উৎসব নামেও পরিচিত। বসন্ত ঋতুর মতোই চীনের গ্রাম, শহর সেজে উঠে নানা রঙে। চীনের বাইরে অন্যান্য দেশেও এই উৎসব জাঁকজমক ভাবে পালিত হয়। প্রবাসে বসবাসরত চীনারা আয়োজন করে এই উৎসবের। নতুন বছর বরণের বর্ণিল আলোকসজ্জার আয়োজনও করা হয় চোখে পড়ার মতো।

এবছর, ইয়ার অব ডগকে বরণ করতে শৌখিন পণ্যেও ঠাই পেয়েছে কুকুরের নকশা।

Most Popular

To Top