গল্প-সল্প

একজন সিরিয়াল কিলারের বিজনেস!

একজন সিরিয়াল কিলারের বিজনেস!- নিয়ন আলোয়

১.
কাউসার শেখ সিগারেটে বড়সড় একটা টান দিয়ে হাসলো। হাসতে হাসতে বললো, ‘শুনেন স্যার, আমি খুনি হইতে পারি কিন্তু মানুষ হিসাবে খারাপ না। প্রতি শুক্রবারে জুম্মার নামাজ পড়ি। পয়লা আর সাতাশে রমজান রোজা রাখি প্রত্যেক বছর। কয়েকশ যাকাতের লুঙ্গী আর শাড়ি দেই গরীবদের। মানুষ খুন করে সংসার চালাই, কিন্তু ঈমান ঠিক আছে আমার। কোনো বান্দির পুত কইতে পারবো না যে এই কাউসার শেখ জীবনে কোনো মানুষের ক্ষতি করেছে।’

আদনান সাহেব অবাক হলেন, ‘তুমি একজন সিরিয়াল কিলার। তোমার কি মনে হয়না যে, কাউকে খুন করে ফেলা ব্যাপারটা তার জন্য ক্ষতিকর?’

কাউসার শেখ এপাশ ওপাশ মাথা নাড়লো, ‘স্যার এইটা আমার ব্যাবসা। আমার রুটি রুজির মাধ্যম। মানুষ খুন না করলে আমার সংসার কিভাবে চলবে? বাসায় আমরা চারটা প্রাণী। বউএর হাঁপানী আছে। প্রতি মাসে পনেরোশো টাকার ঔষধ লাগে। বড় মেয়েরে প্রাইভেট মেডিকেলে পড়াচ্ছি। কেমন খরচ আপনার তো ধারণা আছেই। ছোট মেয়েডারেও সাইন্স দিছি। মাসে প্রাইভেট পড়াতেই লাগে আট হাজার। এদের জন্যই খুন করি স্যার। এইটা আমার পেশা। মানুষ যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ, আর্মি হয়, আমি তেমনি সিরিয়াল কিলার। পেশা পেশার জায়গায়, আর মানবিকতা মানবিকতার জায়গায়।’
– যুক্তি তুমি খারাপ দাওনা কাউসার। কিন্তু আমি শুনেছি মানুষ খুন করার আগে তুমি নাকি তার উপর অত্যাচার করো। হাত পা ভেঙে দাও। গতবছর নাকি একজনকে জ্যান্ত অবস্থায় পিস পিস করে কেটেছিলে। এর জবাব কি কাউসার?

কাউসার শেখ মাথাটা একটু সামনে এগিয়ে নিয়ে ফিসফিস করে বললো, ‘স্যার এইগুলা হলো ব্যবসায়িক স্ট্রাটেজি। আপনারে কইতেছি। আজ আমার নিষ্ঠুরতার কথা যত ছড়াবে মার্কেটে আমার রেট তত বাড়বে। সবাই আমাকে ভয় পাবে। আমাদের এই ব্যবসায় ভয় তৈরি করে রাখাটা খুব ইম্পর্টেন্ট। তাছাড়া যে একটু পর মারাই যাচ্ছে সে আমার লাভের জন্য একটু কষ্ট নাহয় করেই গেলো, এতে আমি দোষ তো দেখিনা কোনো। পরের কন্টাক্টে কয়টা টাকা বেশি পেলে আমার সংসার আরেকটু ভালোভাবে চলবে। এইসবই স্যার আমি পরিবার নিয়ে দুইটা খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য করি। আর আপনি তো জানেন, জীবন বাঁচানো আমাদের ধর্মে ফরজ।’

আদনান সাহেব এবারে একটু কিঞ্চিত অখুশী হওয়ার ভঙ্গি করে বললেন, ‘কিন্তু কাউসার শোনা যায় তুমি যে প্রায় প্রায়ই যুবতী মেয়েদের ধরে ধরে রেপ করো। এবার কি বলবে? রেপ করে তুমি তো টাকা পয়সা পাওনা কোনো। এটা তো তোমার ব্যবসা না।’

খিক খিক করে বিশ্রী একটা হাসি দিলো কাউসার, ‘স্যার এইটা ব্যবসা না, এইটা হলো ভালোবাসা। লাভ। আমি মেয়েটারে ভালোবেসে আদর করি। এখন মেয়ে রাজি না থাকলে তার কাছে মনে হয় জিনিসটা ধর্ষণ। কিন্তু আমার কাছে তো জিনিসটা প্রেম ভালোবাসা স্যার। আর আমার বউএর কথা তো বলেছিই স্যার। হ্যার আছে বিরাট হাঁপানী। তার সাথে প্রেম ভালোবাসা করা যায়না। সে একটু উত্তেজিত হয়ে গেলেই তার হাঁপানীর টান উঠে। একবার তো ঐ অবস্থায় সেই রাতে হাসপাতালে নেয়া লাগছে। কি লজ্জার বিষয় বলেন স্যার। সেই থেকে তার সাথে সবকিছু করা বাদ দিছি। এহন আমি একটা সুস্থ পুরুষ মানুষ। আমার তো একটা চাহিদা আছে। প্রেম ভালোবাসার চাহিদা। আমার মধ্যের এই প্রেম ভালোবাসা জমা হইতে হইতে একসময় ব্লাস্ট হয় কোনো সুন্দরী মাইয়ারে একলা পাইলে। মানুষ এইটারে ধর্ষণ ভাবলে আমার কি দোষ স্যার। জিনিসটা বলতে পারেন আমার দিক থেকে ওয়ান সাইড লাভ। একপাক্ষিক ভালোবাসা। আর আপনি তো জানেন স্যার, এভ্রিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড ওয়্যার।’

উত্তরে আদনান সাহেব কি বলবেন ভেবে পেলেন না। যারপরনাই হতাশা অনুভব করলেন। কিন্তু সাইকোলজির টিচার হিসাবে উনি একটা জিনিস অন্তত বুঝতে পেরেছেন। প্রত্যেক মানুষই তার করা খারাপ কাজগুলোর পেছনে নিজের ইচ্ছেমতো একটা লজিক দাড় করিয়ে নেয়। যার ফলে তারা অপরাধ করেও অপরাধবোধে ভোগে না। সেটা চোর হোক বা খুনী। আদনান সাহেব মনে মনে হাসলেন। এই সেল্ফ লজিক ব্যাপারটা কোনোভাবে দূর করতে পারলে হয়তো পৃথিবী থেকে অপরাধ জিনিসটা কমতো। সবচাইতে বড় আদালত হলো মানুষের বিবেক। এই বিবেকের কাছে অপরাধী হলে মানুষ সবচাইতে বড় শাস্তি পায়। নিজেকে ক্ষমা করতে না পারার শাস্তি। কিন্তু কাউসারের মতো অপরাধীরা নিজেরাই অদ্ভুত যুক্তি আবিস্কার করে নিজেদের বিবেককে উল্টাপাল্টা বুঝ দিয়ে রাখে। যার ফলে অপরাধ করেও কোনো অনুশোচনা হয়না।

আদনান সাহেবকে এতোক্ষণ চুপ করে থাকা দেখে কাউসার শেখ কথা বলে উঠলো, ‘স্যার এবারে আমার উঠতে হবে। কাকে খুন করতে হবে আপনি তার ছবিটা দেন। আর অগ্রীম এক লাখ টাকা।’
– ও হ্যাঁ। আদনান সাহেব দ্রুত কোটের পকেট থেকে ছবি বের করে দিলেন। এই ছেলেটাকে খুন করতে হবে। নাম রাজন। এর সাহস কত বড়, হারামী বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ায়। এর বাপে মুদিখানার দোকান চালায় আর এ প্রেম করতে আসছে আমার মেয়ের সাথে। আর মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে আমার বাচ্চা মেয়েটাও পটে গেছে। বিয়ে করতে চায়। আরে তুই বিয়ের পর আমার মেয়েরে খাওয়াবি কি, তোর বাপের দোকানের ডাল ভাত?
– স্যার আমি এতোকিছু শুনতে চাইনা। খালি টাকা আর ছবি দিলেই হবে। আমি কাজ শেষ করে ফেলবো। তারপর এসে বাকি একলাখ টাকা নিয়ে যাবো। কিন্তু স্যার আপনার কি মনে হয় নিরীহ ছেলেটাকে খুন করা ঠিক হবে?
– অবশ্যই ঠিক হবে, আদনান সাহেব নগদ এক লাখ টাকা কাউসারের হাতে দিলেন। একজন বাবা হিসাবে মেয়ের ভালোর জন্য আমি যেকোনো কিছু করতে পারি। এতে কোনো দোষ নেই। আমি আমার নিজের জন্য কিছু করছিনা। তুমি জানো কোনো মশা আমার রক্ত খেয়ে গেলেও আমি তারে কিছু বলিনা। কিন্তু বিষয় যখন আমার মেয়ের ভবিষ্যতের তখন কোনো ছাড় নেই। ও ভালো থাকলেই আমার শান্তি।
তাছাড়া আমি নিজের হাতে তো খুন করছি না। অপরাধ যদি হয় তবে সেটা তোমার হবে। এটুকু অবশ্য আদনান সাহেব বললেন মনে মনে।

২.
কাউসার শেখ গত একসপ্তাহ ধরেই রাজন নামের ছেলেটাকে চোখে চোখে রাখছে। সে সারাদিন কি করে, কোথায় যায়, কার সাথে বেড়ায়, সব। খুন করার আগে যাকে খুন করা হবে তার সম্পর্কে সবকিছু জেনে নেয়াটা জরুরী। রাজনের বাবা দরিদ্র মুদি দোকানদার হলেও রাজনের অবস্থা খুব বেশি খারাপ না। সে ভালো একটা ভার্সিটিতে পড়ে। নিজে টিউশনি করে নিজের খরচ চালায়। বাসাতেও কিছু টাকা পয়সা দেয়। লেখাপড়ায় খুব ভালো। তার বাবা আশা করে আছে যে ছেলে পাশ করে বের হয়ে চাকরী পাবে, উনার কষ্ট কমবে। এছাড়াও রাজন দেখতে সুন্দর, স্মার্ট, কোনো খারাপ নেশা নেই। এরকম ছেলের প্রেমে যে কেউই পড়বে। আদনান সাহেবের মেয়ের দোষ দেয়া যায় না। অবশ্য দোষ আদনান সাহেবেরও নেই। তিনি চাইলেই তার অতি রুপবতী কন্যাকে কোনো কোটিপতির সাথে বিয়ে দিতে পারবেন। তাইলে কেন টানাটানির সংসারে মেয়েকে দিবেন? তাই চাচ্ছেন ছেলেটাকে সরিয়ে দিতে। খুন করে লাশ গুম করে ফেললেই ঝামেলা শেষ। কয়েকদিন প্রেমিকের খোঁজ খবর না পেয়ে আদনান সাহেবের মেয়ে একটু কান্নাকাটি করবে। তারপর সময়ের সাথে সাথে ভুলে যাবে একসময়।

রাজন প্রতিদিন রাত আটটা থেকে বস্তির ছেলেদের কোচিং- এ ক্লাস নেয়। দশটায় ক্লাস শেষ করে একা একা বাসায় ফেরে। বস্তি পার হয়ে সামনে রেল স্টেশন। স্টেশন থেকে একটু আগালেই একদম ফাঁকা জায়গা। এই জায়গাটাই বেস্ট হতে পারে। খুন করলে কেউ জানতে পর্যন্ত পারবে না।

আরো এক সপ্তাহ পর। বুধবার। রাত দশটা বেজে পনোরো মিনিট। রেল স্টেশনের সামনের ফাঁকা জায়গাটাতে একটা সিগারেট ধরিয়ে চুপচাপ বসে আছে কাউসার শেখ। একটা সিগারেট শেষ করে আরেকটা ধরাতেই কাউসার শেখ টের পেলো রাজন আসছে। ওহ শিট, ধুর। রাজনের সাথে আরো দুইটা বাচ্চা। সম্ভবত বস্তিরই। আজ আর হবেনা তাইলে। কালকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কাউসার শেখ হতাশ হয়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছিলো, রাজনের গলা শুনে থেমে গেলো।
– ‘আরেকটু কষ্ট কর রাজু। তোর কিচ্ছু হবেনা। বিশ্বাস কর আমি তোর কিচ্ছু হতে দিবোনা।’
কাউসার শেখ অবাক হয়ে চাইলেন। রাজন আর আরেকটা বড় ছেলে একটা ফোর ফাইভের বাচ্চাকে উঁচু করে ধরে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাটা ঠিকমতো নিশ্বাস নিতে পারছে না। কৌতুহলী হয়ে কাউসার শেখ রাজনের পিছু নিলো।

পরবর্তী কয়েক ঘন্টায় কাউসার শেখ অন্য একটা পৃথিবী আবিস্কার করলেন। যেখানে ঘৃণা নেই হিংসা নেই, স্বার্থপরতা নেই, শুধু ভালোবাসা আছে। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। রাজু নামের বস্তির ছেলেটা এই শীতে গরম কাপড়ের অভাবে বুকে সিরিয়াস ধরণের নিউমোনিয়া বাধিয়ে ফেলেছে। তাকে বাচানোর জন্য রাজনের সে কি প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। বস্তির ছেলে বলে ডাক্তাররা খুব বেশি পাত্তা দিচ্ছিলো না। রাজন পারলে তাদের পা জড়িয়ে ধরে। কয়েকটা ইনজেকশন সহ ঔষধ কিনতে হবে প্রায় পাঁচ হাজার টাকার। রাজনের কাছে পনেরোশো টাকার বেশি ছিলো না। সে নিজের শখের ফোনটা ফার্মেসী ওয়ালাদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করলো।
– ‘দেখেন এই ফোনটার দাম প্রায় আট হাজার টাকা। আপনি এটা রাখেন। আমি আরো পনেরোশো দিচ্ছি। প্লিজ আমাকে এই ঔষধগুলো দিন। একজনের জীবন বাঁচানোর জন্য এগুলো খুব দরকার।’
ফার্মেসীর ছেলেটা ফোনটা নেড়ে চেড়ে দেখে বললো, অনেক পুরাতন হয়ে গেছে তো। দুই হাজারের বেশি দিতে পারবো না। আরো হাজারখানেক টাকা লাগবে এই ঔষধগুলো নিতে।
রাজন হাত থেকে ঘড়িটা খুলে ফেললো, ‘এইটা নিন প্লিজ। আপাতত আমার কাছে আর কিছু নাই। আমি বাসা থেকে কাল বাকি টাকা এনে দিবো প্রমিজ।’
আর সহ্য করতে পারলেন না কাউসার শেখ। রাজনের কাধে হাত রাখলেন।
– ‘বাবা, ঔষধের টাকাটা আমি দিতে চাই। তুমি টেনশন কইরো না। যাও, ছেলেটার কাছে গিয়ে ওকে একটু সাহস দাও।’

আদনান সাহেব পরদিন কাউসার শেখের একটা চিঠি পেলেন। সাথে কিছু টাকা।

“স্যার, আমি জীবনে অসংখ্য মানুষ খুন করেছি কিন্তু আমার একটুও অপরাধবোধ হয়নি। আজ যদি আমি রাজন নামের ছেলেটাকে খুন করি তাহলে আমি কোনোদিন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। ঐ একটা ছেলেকে খুন করা মানে ওর বাবা মায়ের স্বপ্নকে খুন করা, ওদের এলাকার প্রতিটা অসহায় মানুষের একমাত্র ভরসাকে খুন করা, কালশি বস্তির প্রতিটা বাচ্চার শিক্ষার অধিকারকে খুন করা। এতোগুলো খুন আমি করতে পারবোনা স্যার। আপনি বিশ্বাস করেন, খুব ভাগ্য নিয়ে এই পৃথিবীতে আপনার মেয়েটা এসেছে যেজন্য সে রাজনের মতো একটা ছেলের প্রেমে পড়েছে। আপনি ওদের বিয়েতে বাঁধা দেবেন না। রাজনের চাইতে বেশি সুখী এই দুনিয়ার কোনো ধনী ছেলেই আপনার মেয়েকে রাখতে পারবে না। কারণ ব্যাংক ব্যালেন্স না রাজনের বিশাল ধনী একটা মন আছে। আমি একবার টাকা নিয়ে ফেললে কখনো আর ফেরত দিই না। কিন্তু আপনাকে বেঁচে থাকা চল্লিশ হাজার টাকা পাঠালাম। বাকি ষাট হাজার খরচ না হলে সেটাও পাঠাতাম। আমি খুনি হতে পারি কিন্তু আমিও মানুষ। এই শহরের সবাই জানে আমি প্রচন্ড নিষ্ঠুর। আমিও তাই জানতাম, কিন্তু সেটা রাজনকে দেখার আগে পর্যন্ত। ভালো থাকবেন স্যার। আল্লাহ হাফেজ।”

চিঠি পড়ে প্রথমে একটু বিরক্ত হলেন আদনান সাহেব। পরক্ষণেই ভাবলেন এতো নিষ্ঠুর একটা খুনীর হঠ্যাৎ পরিবর্তনের কারন কি? তিনি মেয়েকে ডাক দিলেন। বললেন, কাল রাজন ছেলেটাকে বাসায় আসতে বল। আমি কথা বলে দেখি।’
মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন, ছেলেটা যদি সত্যিই এতো ভালো হয় তাহলে মেয়েকে তার হাতে দেয়াই যায়। একটা খুনী তার চোখ খুলে দিয়েছে।

৩.
নিজের ঘরে শুয়ে শুয়ে একা একা কথা বলছে কাউসার শেখ। নিজের বিবেকের সাথে।
– তুই যে কাজ করিস, এটা কি ঠিক?
– কোন কাজ, খুন?
– আরে ধুর, তুই করবি খুন? হাসাইস না। আমি এই প্রতারণার কথা বলতেছি।
– কোন প্রতারণা।
– ঢং করিস না। এই যে সবাইরে বইলা বেড়াস তুই সিরিয়াল কিলার। ধর্ষক। নিজের সম্পর্কে সিস্টেমে নিষ্ঠুর
নিষ্ঠুর গল্প মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে বেড়াস। তারপর কেউ খুন করার কন্টাক্ট দিলে এক লাখ টাকা এডভান্স নিস। এবারে যাকে খুন করা হবে তার পেছনে ঘুরে ঘুরে তার সম্পর্কে ভালো কোনো তথ্য বের করিস। তারপর ক্লায়েন্টকে চিঠি দিয়ে বলিস তুই এই খুন করতে পারবি না মানবতার খাতিরে। অল্প কিছু টাকা ফেরত দিয়ে দিস। বাকিটা তোর লাভ থাকে। কেউ ভয়ে এই টাকা চাইতেও আসে না। মাসে এরকম একটা কন্টাক্ট পাইলেই তোর চলে যায়।
– হা হা হা, এইটাই তো বিজনেস স্ট্রাটেজি রে পাগলা। এসব তুই বুঝবি না। তাছাড়া আমি মানুষের ক্ষতি তো করিনা। যারা অন্যকে খুন করতে টাকা খরচ করতে চায় সেইসব হারাম টাকায় ভাগ বসাই। এইসবই করি সংসার চালানোর জন্য। ইউ নো, পেশা পেশার জায়গায়। হে হে হে।

ফোনে কল আসে। কাউসার শেখ ফোন রিসিভ করে,
‘হ্যা, কি বললেন, এমনভাবে খুন করতে হবে যাতে এক্সিডেন্ট মনে হয়? আরেহ, এগুলো কোনো বিষয় না। আমি কিলার কাউসার। আমার দেড়যুগের অভিজ্ঞতা। তবে রেটটা একটু বেশি লাগবে। কাজের আগে দেড়লাখ, পরে দেড়লাখ। টাকা আর ছবি কোথায় পাঠাবেন সেই ঠিকানা আমি মেসেজ করে দিচ্ছি। তিনদিনের মধ্যে লাশ পাবেন।”

ফোন রাখতেই কাউসার শেখের ছোট মেয়ে ঘরে ঢোকে।
– আব্বা, বাইরে আসো তো। মুরগী জবাই করতে হইবো।
কাউসার শেখ ক্লান্ত গলায় বলেন, ‘আমি কেন? তোর আম্মুরে বল। তুই তো জানিস ই, আমি রক্ত দেখতে পারিনা। আমার বুক কাঁপে। মাথা ঘুরায়…!’

Most Popular

To Top