ইতিহাস

রাষ্ট্রপতিদের প্রেম

“তোমরা যে বলো দিবস- রজনী, ভালোবাসা ভালোবাসা… সখী ভালোবাসা কারে কয়, সেকি কেবলই যাতনাময়…!”

এমন কঠিন প্রশ্ন তুলেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যার কবিতা লাখো মানুষের হৃদয়ে প্রেমের জন্ম দিয়েছে, তিনিও জানতে চেয়েছেন ভালোবাসার সংজ্ঞা কি?

নানা সময়ে ভালোবাসার এমন কঠিন প্যাঁচে পড়েছেন বিশ্বের নানা দেশের মহা ক্ষমতাবান প্রেসিডেন্টরাও। প্রেমের কারণে কারো কারো শুধু হৃদয় ভাঙ্গেনি, ঝড় উঠেছে সংসারেও।

ক্ষমতাবানদের প্রেমকাহিনির তালিকার প্রথমদিকে অবস্থান করছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন হোয়াইট হাউজের ইন্টার্ন কর্মচারী মনিকা লিওনস্কির সাথে গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এই প্রেমকাহিনি নিয়ে ১৯৯৮ সালের ২১ জানুয়ারি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলে। মার্কিনিদের মধ্যেও দেখা দেয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। বিবাহবহির্ভূত এই প্রেমের জন্য বিল ক্লিনটনের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৎকালীন সিনেটররা। সে ঘটনায় ক্লিনটন পত্নী হিলারিকে এখনো নানা সময়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সব শেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প, হিলারিকে ধরাশায়ী করতে তাঁর স্বামী বিল ক্লিনটনের প্রেমের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন বার বার।

প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ও মনিকা

কুলেস্ট প্রেসিডেন্ট নামে খ্যাত বারাক ওবামার সাথে মিশেল ওবামার সুন্দর ও সুখী দাম্পত্যের কথা সবসময়ই গণমাধ্যমের খবর হয়েছে। তবে, মিশেল ওবামাই মার্কিন এ প্রেসিডেন্টের জীবনের একমাত্র প্রেম নয়। ওবামার বায়োগ্রাফি লিখেন লেখক ডেভিড জ্যা গেরো। রাইজিং স্টার নামে এ বইয়ে বারাক ওবামার প্রথম প্রেম বলা হয় শিলা মিয়শি জাগের নামে এক নারীকে। প্রথম যৌবনেই জাগেরকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন ওবামা। অবাক করা  ব্যাপার হলো, ওবামাকে প্রত্যাখান করেন জাগের। এর অনেক পরে ওবামার জীবনে প্রেম হয়ে আসেন মিশেল ওবামা। তবে, বিয়ের পর ওবামার জীবনে অন্য কোন নারীর খবর পাওয়া যায় নি।

প্রেম, ভালোবাসা নিয়ে যে শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্টদেরই মুখরোচক গল্প আছে তা নয়, এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টরা।

ফরাসি প্রেসিডেন্টদের ঝড় তোলা প্রেমের সব ঘটনা ছাপিয়ে প্রেমিক হিসেবে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। সবসময়ই শোনা যায়, পুরুষরা তার বয়সের চেয়ে অর্ধেক কম বয়সী নারীর প্রেমে পড়েছেন, আমাদের দেশে ৫০ কিংবা ৬০ বছর বয়সী পুরুষের সাথে ষোড়শী কন্যার বিয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বয়সে দ্বিগুণ বড় নারীর সাথে প্রেম করে বিয়ে খুব একটা ঘটে না। সেই কাজটিই করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। স্কুল বয়সেই প্রেমে পড়েন ইমানুয়েল। না কোন সহপাঠির সাথে নয়। প্রেমে পড়েন এক শিক্ষিকার। সেই প্রেম থেকে আর মনকে সরাতে পারেননি তিনি। পরিণত বয়সে সেই শিক্ষিকাকেই বিয়ে করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তাদের দাম্পত্য সম্পর্কও দারুণ, একে অপরের কাছে সবসময় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকেছেন। কে এই নারী? ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় যারা গণমাধ্যমে চোখ রেখেছেন তারা তো নিশ্চয়ই জানেন, তবু বলছি তিনি হলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েলের একসময়ের ড্রামা শিক্ষিকা ‘ব্রিজিত’।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী

প্রেমের জন্য মানুষ কি না করে! সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে প্রেমিক প্রেমিকার মিলনের গল্প কতই তো শোনা যায়। তাই বলে একজন প্রেসিডেন্ট প্রেমিকার জন্য রাজপথে মোটরবাইকে চড়ে বেড়াচ্ছেন এটা ভাবা যায়! প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় এমন অভাবনীয় কাজটিই করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ। ফরাসি মডেল জুলি গায়েটের সাথে দেখা করতে যেতে এই কান্ড করেন তিনি। পাঠক ভাবছেন, আহা বেচারা প্রেমিক তো, প্রেসিডেন্ট হলে কি হবে! না এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। জুলিই ওঁলাদের জীবনে একমাত্র প্রেম নয়। এই প্রেসিডেন্টের প্রেমের লিস্ট অনেক লম্বা।

প্রেম কাকে কাকে নাড়িয়ে দেয় তা কেবল ইশ্বরই জানেন! যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর কামানের সামনে বসেও প্রেমিক মন উচাটন হয়, স্মৃতিতে ভেসে ওঠে প্রেমময় দিনগুলি। বলতে চাইছি বীর যোদ্ধা নেপোলিয়ন বোনাপার্টের কথা। যুদ্ধের ময়দানে বসেও তিনি প্রেমিকা জোসেফাইনকে চিঠি লিখেছেন, জানিয়েছেন জোসেফাইনকে ছাড়া কেমন বিরহ কাতর দিন কাটছে তার।

কবিগুরু ঠিকই বলেছেন, সখী ভালোবাসা কারে কয়…… সেকি কেবলই যাতনাময়…! 

 

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top