বিশেষ

বই মেলায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

অমর একুশে বইমেলা, বাঙ্গালীর প্রাণের মেলা। এ মেলা জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের আবেগের সাথে। জড়িয়ে আছে বাঙ্গালীর অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাথে। একুশে বইমেলায় বাঙ্গালিরা যতটা না যায় বই কিনতে, তার চেয়েও বেশি যায় একুশ ও ভাষা আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগ থেকে।
রাজধানী তো বটেই, সারাদেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন ফেব্রুয়ারির বইমেলায়। দেশের বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশি লেখক, কবি, সমালোচকরা এসময় শুধু বইমেলায় অংশ নিতে দেশে আসেন।

কিন্তু অনেক সময় মেলা প্রাঙ্গণ বড় ও ভিড় বেশি হওয়ায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী কিংবা বৃদ্ধরা ইচ্ছা থাকলেও আসতে পারেন না।

প্রাণের বইমেলার আনন্দ থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়, সেজন্য হুইল চেয়ার
নিয়ে সেবা দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের একটি দল। বেসরকারি সংগঠন সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সদস্য এরা। সংগঠনটি গড়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের কয়েক শিক্ষার্থীর উদ্যোগে।

হুইল চেয়ারে করে মেলায় স্টলে বই দেখছেন একজন দর্শনার্থী

সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা মেলায় সহায়তা করছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, অটিস্টিক শিশু এবং অসুস্থদের। বিনামূল্যে নিজেদের প্রয়োজন মতো মেলায় ঘোরার এই সুযোগ পাচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা।

গত ২ বছর, ছোট পরিসরে হলেও এবার তারা সংগ্রহ করেছেন ১৫টি হুইল চেয়ার। যা দিয়ে বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে সেবা।

সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মুঈনুল ফয়সাল, নিয়ন আলোয়কে বলেন, এবছর বাংলা একাডেমি ও এভারসিএসএফ গ্লোবাল নামে এক সংগঠনের কাছ থেকে হুইল চেয়ারগুলো সংগ্রহ করেছেন তারা। ইচ্ছা থাকলেও অনেক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকে বইমেলায় আসতে পারে না। তাই প্রতিবন্ধকতা দূর করে সবাইকে বইমেলার আনন্দ দিতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন, বলেন মঈনুল।

প্রতিদিন মেলা চলাকালীন উভয় প্রবেশদ্বারেই হুইল চেয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন সেচ্ছাসেবীরা। সেবাগ্রহীতারা মেলার গেইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেই তারা এগিয়ে হুইল চেয়ারে তুলে নিচ্ছেন, এবং চাহিদা মতো ঘোরাচ্ছেন মেলা প্রাঙ্গণে।

পালাবদলে প্রতিদিন ১৫ জন করে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা সেবা দিচ্ছেন বইমেলায়।

আগামী বছর থেকে এ সেবার পরিসর আরো বাড়ানোর আশা উদ্যোক্তাদের।

যারা এখনও ভাবছেন বৃদ্ধ মা, বাবা কিংবা শারিরীক প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যদের বইমেলায় নিয়ে যাবেন কিনা, তারা আর না ভেবে নিশ্চিন্তে চলে যান বই মেলায়। আপনাদের আন্তরিক সেবা দিতে সারাক্ষণই প্রস্তুত আছেন সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।

 

Most Popular

To Top