নাগরিক কথা

৬০ সেকেন্ড দেরির জন্য পদত্যাগ!

অফিসে মিটিং ছিলো, আপনার আসতে কিছু সময় দেরি হয়ে গেছে। কিংবা আমাদের প্রায়ই তো অফিস ঢুকতে, দাওয়াতে পৌঁছাতে, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে যেতে দেরি হয়। আমরা এর জন্য মাঝে মাঝে দুঃখ প্রকাশ করলেও, অনেক সময়ই তাও করি না।

কিন্তু, ব্রিটিশ এক লর্ডের বেলায় এমন ঘটনা আপনাকে অবাক করবে। মাত্র ৬০ সেকেন্ড দেরিতে আসার জন্য ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী মাইকেল ব্যাটস। যুক্তরাজ্যের সংসদ হাউজ অব লর্ডসে এক প্রশ্ন উত্তর পর্বে অংশ নিতে এই দেরির ঘটনা ঘটে।

৩১ জানুয়ারিতে বিতর্কে যোগ দেয়ার এই দেরির জন্য তিনি, আইন সভার অন্য সদস্যদের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন উত্তর পর্বে যথাসময়ে উপস্থিত হতে না পারায় স্পীকার ব্যারনেস লিস্টারের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার পাঁচ বছর মেয়াদের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আসা যেকোন প্রশ্নের উত্তর দেয়া আমার বিশেষ দায়িত্ব। আমি সব সময় বিশ্বাস করতাম যে, সরকারের যেকোন বিষয়ে সাড়া দিতে সর্ব্বোচ্চ সম্মান দেখাবো। কিন্তু আজ আমার বক্তব্যের পালা যখন আসলো, সে সময় আমি আমার আসনে উপস্থিত ছিলাম না বলে আমি খুবই লজ্জিত। এবং এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আমার পদত্যাগের প্রস্তাব করছি’।

এরপর তিনি হাউজ অব লর্ডস ছেড়ে চলে যান। নাটকীয় এই ঘটনার সময়, অন্য রাজনীতিবিদরা তাদের আসন থেকে না, না বলে আওয়াজ তুলেছিলেন, কেউ হেসেছেন অবিশ্বাসের হাসি, আবার কেউ কেউ মাইকেল ব্যাটস কে ফিরিয়ে আনতে তার পিছু নেন।

ব্যাটসের পদত্যাগের পর আরেকটি বক্তব্য শুরু হলে বাসিল্ডনের লর্ড ব্যারনেস স্মিথ বাধা দেন। তিনি বলেন, একটা ছোটখাটো অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিলো তবে এর জন্য লর্ড ব্যাটসের ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট ছিলো। এমন দেরির ঘটনা আমাদের বেলায়ও যেকোন সময় ঘটতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ান পত্রিকাকে স্পিকার ব্যারনেস লিস্টার বলেন যে, তিনি (লিস্টার) মাইকেল ব্যাটসকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
দর্শনীয় এ পদত্যাগের কয়েকঘন্টা পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এর একজন মুখপাত্র বলেন, আন্তরিকতার সাথে ব্যাটস পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন কিন্তু তার পদত্যাগ পত্র প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কারণ তিনি একজন কঠোর পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল মন্ত্রী। তার যে অপরাধ, এমন কারণে বিচার অপ্রয়োজনীয়।
এই ঘটনায়, সেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনও আলোচনা চলছে।

সময় ও নিজের দায়িত্ব নিয়ে আমরা কি এতটা সচেতন? না মোটেও না। আমাদের বাঙ্গালিদের ১০ টা মানে ১১ টা বাজবেই। আমরাও এসবকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছি। কিন্তু সময় ও দায়িত্ব নিয়ে সচেতন থাকার এই ঘটনাটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত ।

 

Most Popular

To Top