গল্প-সল্প

বুড়ো বয়সে কেমন হবে আমাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস?

বুড়ো বয়সে কেমন হবে আমাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস?- Neon Aloy

আজ থেকে চল্লিশ- পঞ্চাশ বছর পর আমাদের জেনারেশনের ছেলেরা যখন বুড়ো হয়ে যাবে। চোখে হাই পাওয়ারের লেন্স আর কিবোর্ডের ওপর কাপাকাপা হাত নিয়ে আমরা যখন স্মৃতিচারণ মূলক স্ট্যাটাস দিবো। কেমন হবে সেই স্ট্যাটাসগুলো? চলুন দেখি।

“আমাদের সময়ে এপল, স্যামস্যাং , ব্লাকবেরি নামের অদ্ভূত কিছু ফোন ছিলো। দাম সর্বোচ্চ ষাট থেকে সত্তর হাজার টাকা। দ্যাটস লাইক থাউজেন্ট ডলার। যা এখনকার স্কুলের বাচ্চাদের ডেইলি স্ন্যাকস বিল। তোমরা শুনলে হয়তো হাসবে যে ঐসব ফোনে ক্যামেরা ছিলো মাত্র আট থেকে ষোল মেগাপিক্সেল। ক্যামেরাম্যানের অভাবে আমরা নিজের ছবি নিজেই তুলতাম, যেটাকে তখন সেলফি বলা হতো। আমার নিজের একটা স্যামস্যাং এস ফোর ফোন ছিলো। তোমরা এখন বিশ্বাসই করতে পারবে না যে, মাত্র দুই জিবি র‍্যামের ঐ মোবাইলে আমি ফেসবুক, হোয়টসএপ, টুইটার সবকিছুই চালাইতাম। তোমাদের ভাষায় ব্যাকডেটেড ঐসব ফোন আর এখন কোথাও পাওয়া যায় না। সর্বোচ্চ তোমাদের ব্রেইন সেলের মিউজিয়ামে ‘ওল্ড ইলেকট্রিক গেজেট’ অপশনে গিয়ে দুএকটা আইফোন টুয়েন্টি এস দেখতে পাবা।

তোমরা এখন কোন মেয়ের সাথে চাইলেই ‘মাইন্ড কানেক্ট’ প্রযুক্তির সাহায্যে যোগাযোগ করতে পারো, আমাদের সময় আমরা এইসব প্রযুক্তির নামই জানতাম না। আমরা ফেসবুক, হোয়াটসএপে দিনের পর দিন হাই- হ্যালো দিয়ে যেতাম। বেশিরভাগ ম্যাসেজ সিনই হতো না। সিন হলেও নো রিপ্লাই। এরকম প্রতিকুল পরিস্থিতিতেও আমরা হাল ছাড়তাম না। আমরা স্যার অনন্ত জলিলের জেনারেশনের ছেলে, আমরা একসময় ঠিকই অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলতাম। দেখা যেত মেয়েদের কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে আমরা গভীর রাতে ‘ওলে আমার বাবুটা খাইছে?’ টাইপ কথাবার্তা বলা শুরু করেছি!

(অফটপিকঃ আমাদের দাদাদের সময় প্রেম তাদের অন্ধ করে দিতো, বাবাদের সময়ে প্রেম পাগল করে দিতো, আর আমাদের সময়ে প্রেম আমাদেরকে ছোট বাচ্চা করে দিতো।)

এখন তো তোমাদের ঘরে ঘরে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমস। আমাদের সময় কিন্তু এসব ছিলো না। আমরা ‘লুডো স্টার’ নামে একটা অদ্ভূত গেম খেলতাম। আমাদের নিজেদের মানিব্যাগ আর পকেট ফাকা থাকলেও গোল্ড কয়েন আর জেম স্টোরেজ কখনোই ফাকা রাখতাম না। নিজের খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে সারাদিন চিন্তা করতাম অন্যের গুটি ক্যামনে খেয়ে দেয়া যায়।

আমাদের সময়ে সানি লিওনি, মিয়া খলিফা, নাতাশা মালকোভা; নামে কয়েকজন মহিয়সী নারী ছিলো।
আহ! কি ছিলো সেইসব দিনগুলো!
স্যরি, আমি একটু বেশিই নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলাম। ঐ মহিলাদের সম্পর্কে যত কম জানবে ততই তোমাদের জন্য মঙ্গল।

বাংলা সিনেমা নামে একটা জিনিস ছিলো আমাদের সময়ে। এখন তোমরা আর কি অসম্ভবকে সম্ভব করো, সব অসম্ভবকে সম্ভব করতো আমাদের সময়ের হিরো হিরোইনরা। অনন্ত জলিল টেনে নিজের হার্ট বের করে আনতো, রিক্সাওয়ালা মান্না প্রেম করতো কোটিপতির মেয়ের সাথে, এক ঘুষিতে একাই দশজনকে উড়িয়ে দিত শাকিব খান। শুধু নায়ক নয়, নায়িকারাও অসম্ভবকে সম্ভব করতো। শাকিবের সাথে ডেটে যাওয়ার সময় দুই মিনিটে রেডি হয়ে যেত অপু বিশ্বাস, রিয়াজের কন্ঠ শুনেই জ্ঞান ফিরে আসতো অজ্ঞান শাবনুরের, বাপের কোটি টাকা ছেড়ে পপি রিক্সাওয়ালার ঘরে গিয়ে উঠতো ভালোবাসার টানে।

পরিশেষে এটুকু বলা যায় আমরা তোমাদের মতো এতো উন্নত না হলেও এখনকার ছেলেমেয়েদের মতো এতোটা স্বার্থপর আর আত্নকেন্দ্রিক ছিলাম না। কেউ অসুস্থ হলে আমরা তাকে ট্যাগ দিয়ে ‘প্রে ফর হিম’ স্ট্যাটাস দিতাম। কেউ বিপদে পড়লে তার নামে ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে হাজার হাজার ছেলে (কোথায় যেতে হবে না দেখেই) গোয়িং অপশনে ক্লিক করতাম। কারো বার্থডে হলে তার টাইমলাইনে ইয়াবড় এক কেকের ছবি আপ্লোড দিয়ে ক্যাপশন দিতাম, ‘হ্যাপি রুবেল বার্থডে’।
নিজের কষ্টের অর্জিত গোল্ড কয়েন আমরা বন্ধুদের ফ্রি ফ্রি দান করে দিতাম।
.
এজন্যই কবি তার ব্লগে লিখেছেন, আমাদের সময় আমরা যখন চালিয়েছি ফেবু- হোয়াটসএপ,
তোমাদের সময় তোমরা এখন…..’
ধ্যাত! পঞ্চাশ বছর পর তোমরা কি করবে সেটা আমি এখন ক্যামনে জানবো? স্ট্যাটাস লিখতে বসছি, সায়েন্স ফিকশান না!”

Most Popular

To Top