ইতিহাস

যত আজবে ভরা দুনিয়া! (দ্বিতীয় পর্ব)

[আগের পর্বঃ যত আজবে ভরা দুনিয়া! (প্রথম পর্ব)]

আগের লেখায় আপনারা জেনেছিলেন আদিকালের মানুষের কিছু অদ্ভুত কাজ কর্ম নিয়ে। আজকেও সেই রকম কিছু কাজ নিয়ে এই লেখা।

চলুন আজকে রোম থেকে শুরু করা যাক। রোমের রাজাদের রাজত্বের কথা আমরা অনেক শুনেছি। অনেকেই দেখেছি বিখ্যাত সব স্থাপনা। কিন্তু আমরা কি জানি প্রাচীন রোমে বাথরুম কেমন ছিলো? আসুন একটু শুনি।

প্রাচীন রোমে ৯৫ ভাগ মানুষের বাসায় নিজেদের কোন বাথরুম ছিলো না। শুধু ধনীরাই নিজেদের জন্য আলাদা বাথরুম বানাতে পারতেন। কি মনে প্রশ্ন জাগছে না যে, তাহলে তারা তাদের প্রকৃতির ডাকে কোথায় সারা দিতেন? সাধারণ মানুষের জন্য ছিলো গণ শৌচাগার বা পাবলিক টয়েলেট। ভাবতে পারেন এখানে অবাক হবার কি আছে? অবাক হবার কারণ হলো, সেখানে কোন দেয়াল বা পর্দার ব্যবহার ছিলো না! বিশাল পাথর খন্ডের ১ ফুট করে দূরত্বে ছিলো বসার ব্যবস্থা। প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে হলে ১ ফুট দূরে বসা আপনার প্রতিবেশীর সাথে গল্প করতে করতে সময়টা কাটাতে হতো!

প্রতিবেশীর সাথে আলাপচারিতার ফাঁকে প্রকৃতির ডাকে না হয় সারা দিলেন, কিন্তু এরপর? পরিষ্কার হবার একটা ব্যাপার আছে তো নাকি? পানি, কাগজ, গাছের পাতা কিছু না কিছু তো লাগবে। রোমের লোকজন পানি ব্যবহার করতেন, কিন্তু যদি প্রাচীন গ্রীসে চলে যাই তাহলে দেখা যাবে পাথর! হ্যাঁ তারা পাথর দিয়ে পরিষ্কার হবার কাজটা করে নিতেন! মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে তাহলে সক্রেটিস বা প্লেটো কি করতেন!

প্রাচীন রোমের টয়লেট

এবার আসুন শুনে আসি প্রাচীন রোমের বাবাদের কথা। এই বাবা মানে কোন সাধু বা সন্ন্যাসী না। পরিবারের কর্তা। আমাদের বাবারা যেমন। সাধারণত আমাদের পরুষতান্ত্রিক সমাজে পরিবারে বাবার সিধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। প্রাচীন রোমে এর ব্যতিক্রম ছিলো না। তবে তাদের এক আজব কাজ করার অধিকার ছিলো, পরিবারে জন্ম নেয়া ছেলে শিশুদের তারা চাইলেই দাস হিসেবে বিক্রি করে দিতে পারতেন! যদি বিক্রি করার পর সেই ছেলে পর পর তিন বার ফেরত চলে আসতো তাহলে সেই বাবাকে সমাজে খারাপ বা অযোগ্য বাবা হিসেবে গণ্য করা হতো!

চলুন, এবার একটু প্রেমের খবর জানাই। এই যুগে প্রেম করলে প্রেমিকার থেকেও তার বাবার মন জয় করা যেমন বেশি কঠিন, তখনকার রোমেও ব্যাপারটা এমন কঠিনই ছিলো। বরং আরো বেশি নিষ্ঠুর ছিলো। এখন তো তাও প্রেমিকার বাবার পছন্দ না হলে প্রাণে বেঁচে যাওয়া যায়। কিন্তু জানেন কি? প্রাচীন রোমে আপনার প্রেমিকার বাবা চাইলে আপনাকে তার মেয়ের সাথে প্রেম করার অপরাধে মেরে ফেলতে পারতেন! আর তখনকার আইন দ্বারা এটি স্বীকৃত ছিলো। মেয়ের প্রেমিকাকে মেরে ফেলা কোন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো না! কপাল ভালো ভাই, সেই যুগে জন্ম হয় নাই! আর যদি সে যুগে জন্ম হয়েই যেত এবং আপনি যদি আপনার প্রেমিকার নিষ্ঠুর বাবার হাতে মারা পরতেন তাহলে আপনার পরিবার প্রথমে কি করতো জানেন?
নিজেরা তো কাঁদতোই, সেই সাথে সাথে কিছু মানুষকে টাকা দিয়ে নিয়ে আসা হতো কাঁদার জন্য! হ্যাঁ আজব হলেও সত্য! প্রাচীন রোমে এই প্রচলন ছিলো যে, কেউ মারা গেলে নারীদের একটি দল ভাড়া করে নিয়ে আসা হতো কেঁদে পরিবেশ ভারী করে তোলার জন্য! এমন প্রচলন কিন্তু ভারতেও ছিলো! আপনার আর আপনার দলের কান্না দেখে, শুনে যদি মৃতের পরিবার খুশি হয় তাহলেই একদম পোয়া বারো! ভালোভাবে কেঁদে আনন্দ দেবার জন্য পেয়ে যেতেন হাজার হাজার মুদ্রা, জমি-জমা আরো কতো কি! কি চলে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে নাকি সেই যুগে!

এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাসবেন না কাঁদার জন্য চলে যাবার উপায় খুঁজবেন!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top