ক্ষমতা

একনজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

একনজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

দেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিএনপি চেয়ারপার্সন ‘খালেদা জিয়ার বিচারের রায়’। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় আদালতের রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। তা নিয়ে এখন উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। এরইমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। চায়ের স্টল থেকে সভা সমাবেশ কিংবা টক শো কোথায় নেই আলোচনা! গ্রেপ্তার আতংকে ভুগছেন বিএনপির নেতা কর্মীরা।

অবশ্য, বিএনপি বরাবরই বলে আসছে, এটা একটা রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত মামলা।

যাই হোক, কি? কেন? কিভাবে? সে কথায় না গিয়ে আমরা এখন এক নজরে দেখে নেই, কি এই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা?

কথিত ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন, এতিমদের সহায়তায় ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালে গঠন করা হয় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট। একই বছরের ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে নেয়া হয় ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫শ টাকা। সমপরিমাণ টাকা জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামেও নেয়া হয়। তবে, মেমোরিয়াল ট্রাস্টের টাকা নিয়ে কোন অভিযোগ করেনি দুদক।

দূর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে নেয়া টাকা নিয়ে দুদকের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় এতিম তহবিল থেকে বেআইনী ভাবে ট্রাস্টে টাকা নেয়া হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের কোন নিয়ম মানা হয়নি। ব্যক্তিগত ঠিকানা এতিমখানার ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এমন ট্রাস্ট গঠনে ১০ জন এতিম থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এখন পর্যন্ত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মাধ্যমে এতিমদের নিয়ে কোন কাজ হয়নি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ২৭৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই খালেদা জিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করে দুদক। অপরাধজনিত বিশ্বাস ভঙ্গ, দন্ডবিধি ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫ (২) ধারায় এ মামলা করা হয়।

মামলার অন্য আসামী

খালেদা জিয়া ছাড়াও এ মামলার অন্য আসামীরা হলেন, তারেক রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

বিচারকার্য

২০০৮ সালে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ শেষ হতে সময় লেগেছে ১০ বছর। ২৩৬ কার্য দিবসের মধ্যে ২৮ দিন আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এ মামলার যুক্তি-তর্ক শেষ হয় ১৬ কার্যদিবসে।

আসামীপক্ষের দাবি

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আসামী পক্ষের দাবি, জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে কুয়েত সরকার তার নামে গঠন করা ট্রাস্টে টাকা অনুদান দেয়। প্রমাণ হিসেবে কুয়েত দূতাবাসের একটি চিঠিও আদালতে জমা দেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আসামী পক্ষ আদালতে বলেছেন, ২ কোটি ১০ লাখ ২৭৬ টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, ঐ টাকা লাভসহ এখন ৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, যা ব্যাংকেই জমা আছে। আসামীপক্ষের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এ মামলা করা হয়েছে।

দুদকের প্রমাণ দাখিল

দুদক বলছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা এতিমদের জন্য সৌদি আরব থেকে এসেছিল, তার একটি নথিও আদালতে জমা দেন দুদকের আইনজীবীরা।

ধারা অনুসারে কি সাজা হতে পারে

বিএনপি চেয়ারপার্সনের নামে দুটি ধারায় এ মামলায় অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে অপরাধজনিত বিশ্বাস ভঙ্গ, দন্ডবিধি ৪০৯ ধারা- যার সর্ব্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫ এর ২ ধারা, এর সর্ব্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের জেলের বিধান রয়েছে।

এই মামলা ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপার্সন, দুর্নীতি, নাশকতা ও মানহানীর ৩৬ মামলার আসামী। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় প্রথম বিচারের মুখোমুখি বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কাজও শেষ পর্যায়ে। এ মামলায় দুদক তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে, এখন চলছে আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন। এই যুক্তি-তর্ক শেষ হলেই এ মামলাতেও রায়ের দিন ধার্য করা হবে।

Most Popular

To Top