বাউন্ডুলে

বার বার ‘বিয়ে’ নিয়ে প্রশ্ন করায় ‘হত্যা’!

বার বার ‘বিয়ে’ নিয়ে প্রশ্ন করায় ‘হত্যা’!- Neon Aloy

ভয়ানক এ ঘটনাটি ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার ‘কাম্পুং পাসার জঙ্গ’ নামে এক গ্রামে।

১৯ জানুয়ারি, ২৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে হিংস্রভাবে হত্যা করে। হত্যার কারণ সম্পর্কে ঐ ব্যক্তি পুলিশকে জানায়, “কবে আপনি বিয়ে করবেন?”- বার বার এমন প্রশ্ন করায়, ক্ষুব্দ হয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটায় সে।

ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম “এস্ট্রো আনি” পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল “সিনার হেরিয়ান”- এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২8 বছর বয়সী ‘ফয়েজ নুরদীন’ তার বাড়ির সামনে বসে ছিলেন। সে সময় ৩২ বছর বয়সী প্রতিবেশী আসিয়া তার সাথে কথা বলতে আসেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে আসিয়া বার বার বলেন, “তোমার বয়সী অন্যরা ইতিমধ্যে বিয়ে করে ফেলেছে, তুমি এখনো বিয়ে করছো না কেনো?”

বার বার ‘বিয়ে’ নিয়ে প্রশ্ন করায় ‘হত্যা’!- Neon Aloy

ঘাতক ফয়েজ নুরদীন

পুলিশ বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, এমন প্রশ্ন, সন্দেহভাজন আটক ব্যক্তি ‘ফয়েজ নুরদীন’কে বিক্ষুব্দ করেছে। এটা পরিষ্কার যে, ফয়েজ তার প্রতিবেশীর কথা হৃদয়ে নিয়ে গিয়ে অপমানিত বোধ করেছিল বলে, মন্তব্য করেন পুলিশের মুখপাত্র।

সংবাদ মাধ্যমকে পুলিশ জানায়, পরে সেই একই দিনে ফয়েজ, আসিয়াহকে দেখার নাম করে তার বাসায় যায়। একপর্যায়ে, আসিয়াহ তার শোবার ঘরে ঢুকলে, ফয়েজ তাকে শান্তভাবে অনুসরণ করে। এরপর পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে আসিয়াহকে বিছানায় ফেলে দেয় ফয়েজ। এসময়, গর্ভবতী আসিয়াহ, ফয়েজের আঙ্গুল কামড়ে দিয়ে তার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এবং ভয়ংকর নিপীড়ন করে আসিয়াহকে হত্যা করে ফয়েজ। হত্যার পর, ঘরে থাকা টাকা-পয়সা ও একটি স্মার্টফোনও চুরি করে সে।

বার বার ‘বিয়ে’ নিয়ে প্রশ্ন করায় ‘হত্যা’!- Neon Aloy

হত্যাকান্ড ঘটানোর পর, মোটরসাইকেলে করে জাকার্তা পালিয়ে যাওয়ার সময়, পুলিশ সন্দেহভাজন ফয়েজের পায়ে গুলি করে তাকে আটক করে। এছাড়া, ঘটনাস্থল থেকে একটি বালিশ, এক জোড়া স্যান্ডেল, একটি টি-শার্ট এবং কাপড়ের টুকরা সংগ্রহ করে পুলিশ। তদন্ত ও ডিএনএ স্যাম্পলের জন্য এগুলো সংগ্রহ করা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, এ অপরাধের জন্য ফয়েজকে ইন্দোনেশিয়ার আইন অনুযায়ী আমৃত্য কারাদন্ড ভোগ করতে হতে পারে।

আমাদের মধ্যে অনেকেরই প্রায়ই হয়তো এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এটা অবশ্যই বিব্রতকর। এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, কেউ মানসিকভাবে এমন প্রশ্নে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাই বলে, এমন প্রশ্ন করার কারণে কাউকে হত্যা! এ যেনো এক অদ্ভুত, বিরল ও বিকৃত ঘটনা।

Most Popular

To Top