ইতিহাস

যত আজবে ভরা দুনিয়া! (প্রথম পর্ব)

শিরোনাম পড়েই বুঝতে পারছেন কিছু আজব আজব বিষয় সম্পর্কে পড়তে যাচ্ছেন। আজকে যা আধুনিক, দিন গেলেই তা পুরনো হয়ে যায়। আজ আমরা সাধারণ ভেবে যে কাজ গুলো করে যাচ্ছি, হয়তোবা আজ থেকে বহু বছর পরের মানুষের কাছে আমাদের কাজ গুলো খুব আজব মনে হবে বা আমাদের বহু কাজ ভুল হিসেবে প্রমাণিত হবে। তা যা হবার হোক। আজকে সেটা নিয়ে নয় বরং আজ বলবো আমাদের পূর্ব পুরুষদের আজব আজব কিছু কাজের কথা।

আসুন শুরু করি চুল দিয়ে। আচ্ছা বলুন তো আমরা চুলে বিভিন্ন সময় রং দেই কেন? সোজা উত্তর তাই না? হ্যাঁ আমাদের এই আধুনিক যুগে এটি একটি ফ্যাশন। কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন প্রাচীন কালে আফগানিস্তানের নারীরা তাদের চুলে রং দিতেন এক অদ্ভুত বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। তাদের ধারণা ছিলো চুলে রং দিলে মাথা ব্যথা কমে। আর এই জন্য তারা তাদের চুল এক সাথে নানা রঙে রাঙিয়ে তুলতেন!

চলুন এবার একটু ঘুরে আসি মিশর থেকে। প্রাচীন সভ্যতা গুলোর মাঝে মিশর অন্যতম। আফগান নারীদের মতো চুল রং না করলেও তারা বিড়াল পুষতেন। বিড়াল ছিলো তাদের অতি আদরের। কি মনে মনে ভাবছেন আরে! বিড়াল পোষার মাঝে আজব কি খুঁজে পেলাম? বলছি শুনুন।
প্রাচীন মিশরের নারীদের কাছে বিড়াল এতোটাই প্রিয় ছিলো যে, তাদের পোষা বিড়ালটি কোন কারণে মারা গেলে তারা তাদের নিজেদের ভ্রু ফেলে দিতেন। বিড়ালকে পরিবারের সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হতো। এমনকি যদি কারো দ্বারা বিড়ালের কোন ক্ষতি হতো তাহলে তার কি শাস্তি হতো জানেন? মৃত্যুদন্ড! হ্যাঁ সত্যিই! কেউ বিড়ালের ক্ষতি করেছে প্রমাণিত হলে তাকে মৃতুদন্ডের শাস্তি দেয়া হতো। আর বিড়ালের মৃত্যুর পর বিড়ালের মমি করে রাখা হতো। সমাহিত করার ব্যবস্থা ছিলো পারিবারিক সমাধিস্থলে। আবার বিড়ালের জন্যও ছিলো আলাদা সমাধিস্থল।

খুব সখের বিড়ালের সাথে প্রাচীন মিশরীয় নারী

আচ্ছা বিড়াল নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি হলো, এবার একটু দেখে আসি প্রাচীন কালের কিছু আজব আজব চিকিৎসা পদ্ধতি।
বলুন তো হঠাৎ যদি আপনার বা আপনার আশে পাশের কারো নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু করে তাহলে আপনি কি করবেন? প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে নাকে বরফ বা ঠান্ডা পানি দিবেন এরপর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন। কিন্তু যদি আপনার জন্ম প্রাচীন স্কটল্যান্ডে হতো তাহলে আপনি কি করতেন জানেন? আপনি সাথে সাথে শূকর খোঁজা শুরু করতেন! কি অবাক হচ্ছেন তো? হ্যাঁ অবাক হবারই কথা। প্রাচীন স্কটিসদের বিশ্বাস ছিলো শূকরের বিষ্ঠা লাগালে নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়!

আমাদের দেশে অনেক সময় নিম পাতা ব্যবহার করা হয় বসন্ত বা পক্সের চিকিৎসার জন্য। ভাগ্য ভালো আমাদের জন্ম স্কটল্যান্ডে হয় নি! সেখানে হলে এই রোগের চিকিৎসার জন্য আমাদের গায়ে ভেড়ার বিষ্ঠা লাগিয়ে বসে থাকতে হতো! কারণ হারবাল বা ভেষজ চিকিৎসা হিসেবে তারা ভেড়ার বিষ্ঠা ব্যবহার করতো!

অনেক হয়েছে চিকিৎসা ! এবার আসি মানুষের জন্ম নিয়ে কিছু আজব কাজের কথায়। আমাদের এই আধুনিক যুগে জন্ম নিয়ন্ত্রনের জন্য কত আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি জানেন কি প্রাচীন গ্রীসে নারীরা কি করতেন?

তার বিষ্ঠায় কত গুন!!!

জানলে ত্যাড়েফুড়ে আসবেন না আবার! বলছি শুনুন, গ্রীসের মানুষের জন্ম নিয়ন্ত্রনের জন্য নিজেদের ওপর যতোটা না বিশ্বাস ছিলো তার থেকেও বেশি বিশ্বাস ছিলো কুমিরের ওপর! ভাবছেন প্রলাপ বকছি! এখানে আবার কুমির আসলো কোথা থেকে! হ্যাঁ সত্যি বলছি। গ্রীসের নারীরা কুমিরের বিষ্ঠা ব্যবহার করেতেন জন্ম নিয়ন্ত্রনের জন্য! বেচারা কুমির! জানলোই না সে কত গুরুত্বপূর্ণ!

আর যদি কোন কারণে কুমির কে দিয়ে কাজ না হতো, তাহলে কোন নারী গর্ভ ধারণ করেছেন কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য ছিলো আরো আজব কৌশল।
খ্রীষ্ট পূর্ব ১৩৫০ শতকে কোন নারী গর্ভবতী কিনা তা পরীক্ষায় ব্যবহার করা হতো পিঁয়াজ আর রসুন! কিভাবে? বলছি, সারা রাত একজন নারীর যৌনাজ্ঞে পিঁয়াজ বা রসুন দিয়ে রাখা হতো। আর সকালে যদি সেই নারীর নিশ্বাসের সাথে পিঁয়াজ বা রসুনের গন্ধ আসতো তাহলে ধরে নেয়া হতো সেই নারী গর্ভবতী! ভাগ্যিস তারা এই যুগে জন্মায় নি! তাহলে পিঁয়াজের দাম যে কোথায় দাঁড়াতো!

কুমির বাবাজি কাজ না করলে আর তারপরে পিঁয়াজ, রসুনের পরীক্ষায় কেউ গর্ভবতী হবার প্রমাণ পাবার পর যদি কেউ বাচ্চা জন্ম দিতে না চাইতেন তাহলে তাকে কি উপদেশ দেয়া হতো জানেন? বার বার হাঁচি দিন আর লাফালাফি করুন তাতেই কাজ হয়ে যাবে! তখনকার যুগে কি হতো জানি না, তবে এই যুগে কোন ডাক্তার এই বুদ্ধি দিলে তার ওপর গজব মেনে আসতো!

আসলেই আজব গজব!

 

Most Popular

To Top