ক্ষমতা

বন্ধ হচ্ছে না গুয়ান্তানামো বে কারাগার!

বন্ধ হবে না কুখ্যাত কারাগার ‘গুয়ান্তানামো বে’। পৃথিবীর নরক নামে পরিচিত এ কারাগার বন্ধ হচ্ছে না বলে তার প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

সেস্ট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে এ কারাগারটি বন্ধের পরিকল্পনা হলেও, সে রকম কোন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে কারাগারটি চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে সন্দেহ ভাজনদের আটক রাখতে কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগার ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। যাদের মার্কিন প্রশাসন ‘শত্রুপক্ষের যোদ্ধা’ নামে অবহিত করে। এখানে বিনা বিচারে আটকদেরকেই শুধু রাখা হয়। বর্তমানে এই কারাগারে ৪১ জন বন্দী আছে। বিতর্কিত এ কারাগার বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই বির্তকিত গুয়ানতানামো বে কারাগারটি বন্ধের আদেশ দেন, কিন্তু সে সময় মার্কিন কংগ্রেস এর বিরোধিতা করায় তা আর সম্ভব হয়নি। এবার তো বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিজেই সরাসরি বন্ধ না করার ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করলেন।

মার্কিন সকারের নীতি নির্ধারনী এই ভাষণে তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমশই হুমকি হয়ে উঠছে উত্তর কোরিয়া। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস বিরোধী লড়াইও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি বলেন,

“অতীতে আমরা বোকার মতো শত শত ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীকে ছেড়ে দিয়েছি। তাদের মধ্যে আই এস নেতা বাগদাদী সহ আরও অনেকে রয়েছে। তাই আজ আমি আরেকটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি। আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যাটিস কে দেয়া এক নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছি, যেখানে সামরিক বাহিনীর আটক নীতির পুনর্বিবেচনা ও গুয়ানতানামো বে কারাগার চালু রাখার নির্দেশনা রয়েছে।”

মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঐক্যের ডাক দেন। তিনি বলেন, তার আমলে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকান শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথে এর চেয়ে ভালো সময় আর তৈরি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘দশকের পর দশক ধরে চলা অন্যায্য বাণিজ্যের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে অর্থ, সম্পদ ও জনগণের কাজ হারাতে হয়েছে। এছাড়া, অভিবাসন নিয়ে আবারো নিজের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয় বন্দীদের

গুয়ানতানামো বে কারাগার  প্রতিষ্ঠা হয় ২০০২ সালে ১/১১ হামলার ঘটনার পরে। মার্কিন মূল ভূখন্ডের বাইরে এর অবস্থান। কিউবা থেকে ইজারা নেয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত মার্কিন সেনা ঘাটিতে অবস্থিত কুখ্যাত এই কারাগার। ভয়ংকর, অকল্পনীয় নির্যাতনের কারণে এটি কুখ্যাত। এখানকার বন্দীদের ভয়াবহ যৌন নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, খাচার ভেতর হাতকড়া দিয়ে পশুর মতো আটকে রাখা, অতি উষ্ণ তাপে রাখা, মারাত্মক নিম্ন তাপমাত্রায় রাখা, অন্ধকার ঘরে দিনের পর দিন আটকে রাখাসহ বিভিন্ন অদ্ভুত উপায়ে মানুসিক চাপ তৈরির ঘটনা প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটি বন্ধের পক্ষে কথা বলেছেন সবসময়।

Most Popular

To Top