টুকিটাকি

১৫০ বছরের রক্তনীল চাঁদ!

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙ্গেছে, উছলে পড়ে আলো, ও রজনীগন্ধা তোমার গন্ধ সুধা ঢালো। পূর্ণিমার এই চাঁদের আলো কত কবির মনে জন্ম দিয়েছে কবিতা, কেউ লিখেছে গান। যদিও বিজ্ঞানের ভাষায় চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই, কিন্তু মন কি আর সেই যুক্তি মানে! মন জোছনা রাতে বনে যেতে চায়, কবি বলেছেন, আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে।

আপনারা অনেক আগেই জেনে গেছেন, আজকে  ঘটতে যাওয়া চাঁদের মহাজাগতিক ঘটনার কথা।
আজ চাঁদ দেখতে কেউ বনে যাবেন কিনা জানি না তবে সৌর জগতের এই বিরল ঘটনা দেখার জন্য চলছে বড় বড় আয়োজন। বিজ্ঞানীরা অপেক্ষা করছেন নানা গাণিতিক যুক্তি নিয়ে  আজ চাঁদকে পর্যবেক্ষণ করবেন, টেলিস্কোপে চাঁদ দেখতে চলছে কত আয়োজন।

আজ হয়তো এই চাঁদ দেখে কোন প্রেমিক মন তার প্রিয়জনকে বলবেন ভালোবাসি কথাটি, যা এতদিন সাহস করে বলা হয়নি। আজ চাঁদের আলো এনে দেবে হৃদয়ে চূড়ান্ত আবেগ।

আজকের চাঁদের আলো যেমন মনকে মাতাল করবে তেমনি চাঁদ মামা আজ পৃথিবীর গ্রহণের কবলে পড়বেন।
আর মাত্র কয়েকঘন্টা। এরপরই বাংলাদেশ সময় ৫ টা ৩৮ মিনিটে শুরু হবে চন্দ্রগ্রহণ। একদিকে পূর্ণিমা, আরেকদিকে চন্দ্রগ্রহণ, বিরল এক মুহূর্ত দেখার অপেক্ষায় আছে আজ পুরো মানবজাতি। চাঁদ আজ দেখা দেবে রক্তাভ বর্ণে।এবার চলুন পাঠক, একটু বইয়ের ভাষায় জেনে নেই আজ আসলে কি ঘটতে যাচ্ছে।

আজ ব্লু মুন ঃ

চন্দ্রমাস সৌরমাসের হিসেবের চেয়ে গড়ে ১১ দিন কম থাকে। সে হিসেবে চন্দ্রমাস ২৯ বা ৩০ দিনে হয়। সৌর বর্ষপঞ্জিতে সাধারণত ১২টি চন্দ্রমাস থাকে, মানে হলো বছরে বারোটি পূর্ণিমা, প্রতি মাসে একটি করে। কিন্তু ঐ যে ১১ দিন বাড়তি রয়ে গেলো , এই অতিরিক্ত দিন গুলোর কারণে দুই থেকে তিন বছর পর পর একই সৌর মাসে দুবার পূর্ণিমা হয়। আর এই ২য় পূর্ণিমার চাঁদকে আমরা চিনি ব্লু মুন হিসেবে। এটা অনেকটা লিপইয়ারের হিসেবের মতো। ফেব্রুয়ারি মাসে কখনো ব্লু- মুন হয় না কারণ ফেব্রুয়ারি ২৮ দিনের হওয়ায় চন্দ্র মাসের চেয়ে এ মাস ছোট। একইভাবে ১৯ বছর পর পর একইবছরে দু’বার ব্লু মুনের দেখা মেলে। ১৯৯৯ সালে এমনটা ঘটেছিলো সে হিসেবে খুব সম্ভাবনা আছে এ বছর অর্থাৎ ২০১৮ তে আজকের পর আবারো ব্লু- মুনের দেখা মিলতে পারে।

নীল না হয়েও চাঁদ আজ নীল

সুপার মুন ঃ

চাঁদ আজ দেখা দেবে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় অনেক আকারে, পৃথিবীর আরো কাছে। সুপার মুনে চাঁদের আলো বেড়ে হয় দ্বিগুণ। আহ! এই আলো আজ আপনাদের মনকে আন্দোলিত করবে, পাল্টেও দিতে পারে জীবনের অনেক হিসেব।

চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবীকে বৃত্তাকার পথে প্রদক্ষিণ করছে প্রতিনিয়ত। ঘুরপাক খেতে খেতে চাঁদ মামা কখনো  কখনোএসে পড়ে পৃথিবীর খুব কাছে, আবার মাঝে মাঝে চলে যায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা দূরে। যখন কোন পূর্ণিমায় চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে অবস্থান করে তখন চাঁদকে সাধারণ সময়ের চেয়ে ১৩/১৪ গুণ বড় দেখায়। আলো বেড়ে যায়। এটাই সুপার মুন।

সুপার মুন

আজকের চাঁদ একদিকে ব্লু মুন, সাথে সুপার মুন আবার চন্দ্রগ্রহণ হিসেবে ধরা দেবে পৃথিবীর আকাশে। আবার পৃথিবী ও চাঁদ এবং সূর্য আজ একই সরল রেখায় অবস্থান করবে বলে পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে যাবে আজকের ব্লু মুন, সুপার মুন। একসাথে এই তিন ঘটনা সৌরজগতে খুবই বিরল। দেড়শ বছর পর ঘটছে এমন ঘটনা।

উফ, অনেক হলো বিজ্ঞানের প্যাঁচাল। এসব প্যাঁচাল আর ভালো লাগে না। আমি যাব চাঁদ দেখতে, খালি চোখে দেখবো, ভাবুক হৃদয়ে ভাববো, আর গুনগুন করে গান গাইবো।

তো বিরল এই ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে আপনারাও আজ চলে যান চাঁদ দেখতে পূর্বাচলে কিংবা দিয়া বাড়িতে বা  আগারগাঁওয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে।
পূর্বাচলে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি করেছে চাঁদ দেখার বড় আয়োজন, উত্তরার দিয়া বাড়িতে আজাদ টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠান করেছে চাঁদ দেখার ব্যবস্থা, সেখানে থাকছে দুটি টেলিস্কোপ। এছাড়া আগারগাঁওয়ের মানমন্দিরেও দেখা যাবে এই বিরল ঘটনা। আর যারা কুয়াকাটা ক্যাম্প থেকে দেখতে চান তারা নিশ্চয়ই এতক্ষণে পৌঁছে গেছেন সেখানে।
চন্দ্রগ্রহণ বিকেল পাঁচটা মিনিটে শুরু হয়ে সাতটা নাগাদ পূর্ণগ্রাস করে শেষ হবে রাত ১০ টা ৯ মিনিটে।

তবে চলুন আর দেরি না করে সাক্ষী হই বিরল ঘটনার!

Most Popular

To Top