ফ্লাডলাইট

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদঃ এক অপরাজিত সৈনিকের নাম

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদঃ এক অপরাজিত সৈনিকের নাম- Neon Aloy

ওয়ানডে ক্রিকেটে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অভিষেক ম্যাচ। শ্রীলংকার দেয়া ১৯৭ রানের টার্গেটে যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ৬৯/৫। জয় তো পরের কথা, ১০০ এর নিচে অলআউট হবার হাতছানি। ওখান থেকেই তামিম, ফরহাদ রেজা এবং রাজ্জাকের সাথে জুটি গড়ে অষ্টম উইকেটে যখন আউট হন, তখন দলের রান ১৫১/৮। মাহমুদুল্লাহ করেন ৫৪ বলে ৩৬ রান।

২০০৮ সালে ফয়সালাবাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে রিয়াদ যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ৮৯/৪। ওখান থেকেই তামিম, রেজা, ধীমান, মাশরাফি, রাজ্জাককে নিয়ে বাংলাদেশের স্কোরটা নিয়ে যান ২২৫/৮ তে। মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৭৪ বলে ৫৮ রান করে।

২০০৮ সালেই করাচিতে পাকিস্তানের দেয়া ৩৩০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে এক সময় বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২৩/৪। মাঠে নামেন মাহমুদুল্লাহ। বিশাল ব্যবধানে হারের হাতছানি। ওখান থেকেই আশরাফুল, রেজা, ধীমান, মাশরাফি, রাজ্জাকের সাথে জুটি গড়ে যখন আউট হন, তখন দলের রান ১৪৭/৯। এক প্রান্ত আগলে রেখে মাহমুদুল্লাহর সেদিনের ৮৩ বলে ৩৭ রানের ইনিংসটি অনেক বড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল বাংলাদেশকে।

২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে ২৫ ওভারে ৯৫ রানেই ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের। ওখান থেকেই ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৪৭/৬ এবং মাহমুদুল্লাহ ৬৬ রানে অপরাজিত।

২০১০ সালে বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের ৩৪৮ রানের টার্গেটে ১৯তম ওভারে মাহমুদুল্লাহ যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ৮৬/৫। ওখান থেকেই আশরাফুল, মাশরাফি, রাজ্জাকের সাথে জুটি গড়ে দলের স্কোর নিয়ে যান ১৮০/৮ তে।

২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ১৬২/৫। মূহুর্তের মধ্যেই স্কোরটা হয়ে যায় ১৬৯/৮। জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ৫৭ রান। হাতে আছে মাত্র ২ উইকেট। এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২ উইকেটে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন মাহমুদুল্লাহ।

২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৩ রানেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সর্বনিম্ন রানের অলআউট হবার ভয়। ওই পরিস্থিতে মাহমুদুল্লাহ ব্যাট করতে নেমে মুশফিক, সোহাগ গাজী, ইলিয়াস সানি, মাশরাফি এবং রাজ্জাকের সাথে জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্কোর নিয়ে যান ১৩৬ -এ। বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায়। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৭৮ বলে ৫৬ রান করে। ৭৫ রানে হারে বাংলাদেশ। অথচ তখনো ৯৫ বল বাকি ছিল বাংলাদেশ। যোগ্য সঙ্গীর অভাবে বাংলাদেশকে জেতাতে পারেন নি মাহমুদুল্লাহ।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যারিয়ারের প্রথম ১১ টা ফিফটির ১০ টাই ছিল অপরাজিত। ওয়ানডেতে ১৩৩ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে জুটি গড়েছেন ২৬০ টি। অথচ এর মধ্যে তিনি নিজে আউট হয়েছেন মাত্র ৯৮ টিতে।

বাংলাদেশ দলে তামিম ইকবালের পর গড়ে প্রতি ইনিংসে সবচেয়ে বেশি জুটি গড়ার হার মাহমুদুল্লাহর।
প্রতি ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামলে গড়ে যে যতটি জুটি গড়েঃ

তামিম – ২.১৪৭
মাহমুদুল্লাহ – ১.৯৫৫
সাকিব – ১.৯৫৪
মুশফিক – ১.৯৪৭

গত ৫ বছরে মাহমুদুল্লাহ দলের বিপদের সময় এমন আরো অনেক ইনিংস খেলেছেন, যা দলকে শুধু জয়ই দেয়নি, অনেক বড় বড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। সর্বশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচটাই দেখেন। একাই দলকে টেনে নিয়ে গেছেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতিয়েছিলেন। ২০১৫ তে প্রথম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরীতে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে দর্শকরা হয়তো ওই দুই সেঞ্চুরীতেই মাহমুদুল্লাহকে মনে রাখবে। কারণ ম্যাচগুলো আমরা জিতেছিলাম। কিন্তু লজ্জাজনক হারের মুখ থেকে একজন মাহমুদুল্লাহ’র শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ে যেসব ম্যাচ বাংলাদেশ হেরে গেছে, সেগুলো মনে রাখার মত মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে।

Most Popular

To Top