ফ্লাডলাইট

ফাইনাল জেতার মানসিকতার এখনো বড্ড অভাব!

সত্যি কথাটা সবসময় তিতা হয়, তবুও বলি টুর্নামেন্টের ফাইনাল জেতার মতো দল বাংলাদেশ এখনো হয়নি, নয় বছর আগেও ছিলোনা এখনো হয়নি। মিরপুরে বাংলাদেশ চতুর্থ ফাইনাল হারলো আজ। ভালো শুরু করেছিলো শ্রীলংকা, মনে হচ্ছিলো বেশ বড় রান তাড়া করতে হবে, সেখান থেকে শ্রীলংকাকে ২২১ রানে আটকে রেখে বোলাররা তাদের কাজের ভালোই করেছিলেন। নয় বছর আগে যার "কারনে" ম্যাচ হেরেছিলো বাংলাদেশ এই শ্রীলংকার কাছে ফাইনালে, সেই রুবেল নিলেন চার উইকেট, ভালো বল করলেন কাটার মাস্টার এবং অন্যরাও। এমনকি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। ২২২ রানের টার্গেটে বাংলাদেশ শুরুতেই পিছিয়ে ছিলো সাকিবের ইনজুরিতে। অস্বীকার করা যাবেনা এটা বিরাট ধাক্কা ছিলো পুরা দলের জন্য। দলের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন, তিন নাম্বারের ভরসা সাকিব। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটে এগুলা হতেই পারে, হতে পারতো সাকিব আজ শূন্য রানে আউট হতেন, বাকিদের সেই শূন্যতা পূরণ করার সক্ষমতা কি নেই? ছোট টার্গেট বলে কি শুরুতে সময় নিচ্ছিলো বাংলাদেশ? কিন্তু সেটাই শ্রীলংকার জন্য চেপে ধরার সুযোগ হয়ে এসেছে। এতো ডিফেন্সিভ মুডে কেন ছিলো তামিম-মিথুন? তামিমের ব্যাটিং নিয়ে কিছু বলবো না, কিন্তু মিলিয়ে নিয়েন বড় ম্যাচ, নক আউট বা ফাইনাল ম্যাচে তামিম কেন জানি ক্লিক করেন না হয়তো প্রেসার নিতে পারেন না। অবশ্য আজ হাথুরুসিংহের সৈন্যরা তামিমকে, শর্ট অফ এ লেংথ, ব্যাক অফ এ লেংথ ডেলিভারতে তামিমকে আটকে ফেলেছিলো লাকমল, চামিরা। ধৈর্য হারিয়ে একেবারে শরীরের ভেতর থেকে পুল করার কোন ব্যাখ্যা নেই, যেখানে আগের বলেই ড্রপ হয়েছে ক্যাচ। সাকিব না থাকায় তামিমের আজ যেভাবেই হোক উইকেটে টিকে থাকা দরকার ছিলো। বড় রান ছিলোনা, ম্যাচটা যত গভীরে নেয়া যেত ততোই ক্লোজ হতো। হাতে উইকেট রেখে যতদূর সম্ভব ব্যাট করা, এটাই হচ্ছে এই ধরনের উইকেটে ব্যাট করার নিয়ম। সেন্সলেস শট ফ্রম তামিম! মিথুনকে এতো দিন পর সরাসরি ফাইনালে খেলানোর পক্ষে ছিলাম না। রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকা মিথুনের চেয়ে বিসিএলে সেঞ্চুরী করা কায়েসকে খেলানোর পক্ষে ছিলাম। যাইহোক মিথুন উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে, রান আউট হয়ে ফিরে গেলেন। ওইটা সিঙ্গেল হয়না, একটা ডাইভ দিলেও হয়তো বেঁচে যেতেন স্ট্রাইক রোটেট করে খেললে তামিমকে ওই শট আর মিথুনকে সিঙ্গেল নিতে হয়না। কবে বুঝবে এগুলা তারা? বাই দ্যা ওয়ে, সৌম্যকে মিস করেছি। ফর্মহীন সৌম্যের জায়গায় সুযোগ পাওয়া বিজয়-মিথুন কি গুনগুত পরিবর্তন এনেছে দলে? কেউ বলবেন আমাকে? সাব্বির, সাব্বির, সাব্বির... জাস্ট ড্রপ করা হোক তাকে। ক্রিকেট খেলাটাকে এনড্রয়েডের গেম মনে করে নাকি সে? জিম্বাবুয়ের সাথেও একইভাবে আউট হয়েছিলো। এই মুহুর্তে সে দলের গলার কাঁটা। তিন বছরে অন্য দেশের একটা প্লেয়ার কোথায় চলে যায় আর সে কি করছে? ভরসা হয়েছিলো মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু মুশফিক, এতো অভিজ্ঞ প্লেয়ার। যে কিনা মি. ডিপেন্ডেব্যাল সে কিভাবে আর কতদিন এভাবে অসময়ে সুইপ করতে যেয়ে উইকেট গিফট করবে? সোজা ব্যাটে খেলে কি রান আসেনা? রিভার্স সুইপ, সুইপ খেলাই লাগবে? যদি মুশফিক শুধু টিকে থাকে তাহলেই ম্যাচটা বের করা যেত হয়তো। আগের বলে ব্যর্থ রিভার্স সুইপ, পরের বলে মনেহয় মুশফিকের সামনে হাথুরুসিংহের মুখ ভেসে উঠেছিলো তাই সুইপ করে সীমানা ছাড়া করতে চাইলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন পয়েন্ট ইনিংসের। অবাক হয়ে দেখলাম কিভাবে মুশি এটা পারলো! তারপর ছিলো মিরাজ, সাইফউদ্দিন। আসলে আমাদের মিডিল অর্ডারে ভরসা করার মতো ব্যাটসম্যান নেই। নেই মানে একেবারেই নেই। নাসিরের জায়গায় মিরাজ এসেছে বটে, এবং নাসিরের চেয়ে ভালো ব্যাটও করেছে কিন্তু ৮০/৪ থেকে মিরাজ উদ্ধার করবে এটাও আশাকরি নাই। ভেবেছিলাম উইকেটে পড়ে থেকে রিয়াদকে সঙ্গ দিবে। ছয়-সাত নাম্বারে একজন জেনুইন ব্যাটসম্যান চাই। বিষয়টা ভাবতেই হবে এখন। মোসাদ্দেক? নাসির এবং সাব্বিরকে দিয়ে হবেনা। ইতিহাসের দূর্বলতম মিডিল অর্ডার এখন বাংলাদেশের। জাস্ট আজকের মতো যেদিন টপ অর্ডার ব্যর্থ হবে সেদিন কি হবে ভাবেন, আগের ম্যাচেও তাই হয়েছিলো। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সে সত্যি সত্যি বড় ম্যাচের প্লেয়ার। টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে অন্যমনষ্ক থাকা রিয়াদ আজ সম্পুর্ন অন্যরকম। সিম্পল ইজ দ্য বেস্ট! আহামরি কিছুই না, ঠান্ডা মাথায় সোজা ব্যাটে খেলেই রান করলেন। একাই লড়লেন দলের হয়ে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৭৬ রানের এই ইনিংসটাকে আমি আমার দেখা সেরা ইনিংসগুলার তালিকায় জায়গা দিবো। মাহমুদুল্লাহ-সাইফের জুটির সময় একবার মনে হয়েছিলো তখনো ম্যাচ জেতা সম্ভব। কিছু সুন্দর সিঙ্গেল আসলো, বাউন্ডারি আসলো ফাঁকে ফাঁকে। কিন্তু একটা রান আউট আবারো! এই রানটা কোনভাবেই দরকার ছিলো। অহেতুক, সম্পুর্ন অহেতুক। ভুলটা কিছুটা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের, কিছুটা সাইফের। তবে রান সেখানে হয়না। এরপর আর কি, আসা যাওয়া। এমনকি অধিনায়ক মাশরাফিও পারলেন না রিয়াদকে সঙ্গ দিতে। একটা উইকেটও আনপ্লেয়াব্যাল ডেলিভারিতে যায়নি, একটাও না। সব উদার হস্তে বিতরণ করেছে বাংলাদেশ। এভাবে কি ফাইনাল ম্যাচ জেতা যায়? উইকেট অবশ্যই "ব্যাটিং স্বর্গ" না, তবে খেলার অযোগ্য বা খুবই কঠিন না। এখানে সময় নিলে রান করা যায়, থারাঙ্গা, চান্দিমাল আর মাহমুদুল্লাহ সেটা দেখিয়েছেন। শ্রীলংকা দারুন কামব্যাক করেছে, জিম্বাবুয়ে আর বাংলাদেশের কাছে দুই ম্যাচ হেরেও বাউন্স ব্যাক করলো চ্যাম্পিয়ন হয়েই। লঙ্কান কোচ হিসেবে হাথুরুসিংহের প্রথম এসাইনমেন্ট ছিলো। সে সফল। ভয়টা সিরিজ শুরুর আগেও পেয়েছিলাম। চান্দিকার গেমপ্ল্যান অসাধারন, সবসময়ই ভালো। বাংলাদেশকে পরপর দুই ম্যাচে এক্সপোজড করেছে শ্রীলংকা কোন দূর্দান্ত বোলিং দিয়ে না, জাস্ট বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং আর পারফেক্ট গেমপ্ল্যান দিয়ে। যার যেখানে দূর্বলতা তাকে সেখানেই খেলতে বাধ্য করেছে, অথবা মারার বলে টোপ দিয়ে আউট করেছেন হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। বাঙালি বহুত ট্রল করেছিলো হাথুরুসিংহেকে নিয়ে, জবাবটা তার দল মাঠে দিয়েছে। ভাঙাচুরা দল আর নিয়মিত অধিনায়ক ছাড়াও শ্রীলংকা যে চ্যাম্পিয়ন হলো তার কিঞ্চিৎ কৃতিত্ব লঙ্কান কোচকে দিতেই হবে। সত্যি বলি, হাথুরুসিংহে আমার বেশ পছন্দের একজন কোচ। আজ কিঞ্চিৎ ভালো লাগা কাজ করেছে চান্দিকার হাসিমুখ দেখে। আমি বলে দিলাম, টেস্ট সিরিজ, টি-টুয়েন্টি সিরিজ বা মার্চের নিদাহাস ট্রফি, শ্রীলংকা ভালোই ভোগাবে টাইগারদের। হাথুরুসিংহের ক্ষুরধার মস্তিষ্কে কি কি আছে কে জানে! আজতো বহুল আলোচিত সিহান মাধুশানঙ্কাকে নামিয়েই দিলেন ফাইনালে, মাত্র তিনটি প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ আর চারটি লিস্ট "এ" খেলা মাধুশানঙ্কা অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে বসলেন। শুনেছিলাম হাথুরুসিংহের খুব পছন্দ হয়েছে তাকে, এজন্যই দলে নিয়েছিলেন! আজ ভাগ্যটা মনেহয় শ্রীলংকার দিকেই ঝুঁকে ছিলো, তাদের নেয়া রিভিউ সাকসেসফুল হয়, আপিস শটগুলা "নো ম্যানস ল্যান্ডে" পড়ে, প্রায় সবগুলা ডাইরেক্ট থ্রো উইকেট ভেঙে দেয়.... এই সিরিজ অনেক কিছু ক্লিয়ার করে দিয়েছে। জনতার দাবি, জনতার চয়েজ নাসির, বিজয় চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। আশাকরি তাদের নিয়ে আর "কেন নেই, কেন নেই" প্রশ্ন উঠবে না। মাশরাফি, রুবেল, মুস্তাফিজ খুব ভালো বল করেছে। ফিজকে ছন্দে ফিরতে দেখে খুশি হয়েছি। অনেকে তার শেষ দেখে ফেলেছিলো। বাংলাদেশ সিরিজে ৩ ম্যাচ জিতেছে, কিন্তু দল হিসেবে কতখানি গোছানো আমরা? তামিম, সাকিবের উপরেই নির্ভর করে এখনো দল। মুশফিক, রিয়াদ কখনো কখনো পার্শ্বনায়ক। কিন্তু বাকিরা? নয় বছর আগেও হেরে বাড়ি ফিরেছিলাম। আজকেও তাই। ভাগ্য খারাপ।

সত্যি কথাটা সবসময় তিতা হয়, তবুও বলি টুর্নামেন্টের ফাইনাল জেতার মতো দল বাংলাদেশ এখনো হয়নি, নয় বছর আগেও ছিলোনা এখনো হয়নি। মিরপুরে বাংলাদেশ চতুর্থ ফাইনাল হারলো আজ।

ভালো শুরু করেছিলো শ্রীলংকা, মনে হচ্ছিলো বেশ বড় রান তাড়া করতে হবে, সেখান থেকে শ্রীলংকাকে ২২১ রানে আটকে রেখে বোলাররা তাদের কাজের ভালোই করেছিলেন। নয় বছর আগে যার “কারনে” ম্যাচ হেরেছিলো বাংলাদেশ এই শ্রীলংকার কাছে ফাইনালে, সেই রুবেল নিলেন চার উইকেট, ভালো বল করলেন কাটার মাস্টার এবং অন্যরাও। এমনকি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও।

২২২ রানের টার্গেটে বাংলাদেশ শুরুতেই পিছিয়ে ছিলো সাকিবের ইনজুরিতে। অস্বীকার করা যাবেনা এটা বিরাট ধাক্কা ছিলো পুরা দলের জন্য। দলের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন, তিন নাম্বারের ভরসা সাকিব। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটে এগুলা হতেই পারে, হতে পারতো সাকিব আজ শূন্য রানে আউট হতেন, বাকিদের সেই শূন্যতা পূরণ করার সক্ষমতা কি নেই?

ছোট টার্গেট বলে কি শুরুতে সময় নিচ্ছিলো বাংলাদেশ? কিন্তু সেটাই শ্রীলংকার জন্য চেপে ধরার সুযোগ হয়ে এসেছে। এতো ডিফেন্সিভ মুডে কেন ছিলো তামিম-মিথুন?

তামিমের ব্যাটিং নিয়ে কিছু বলবো না, কিন্তু মিলিয়ে নিয়েন বড় ম্যাচ, নক আউট বা ফাইনাল ম্যাচে তামিম কেন জানি ক্লিক করেন না হয়তো প্রেসার নিতে পারেন না। অবশ্য আজ হাথুরুসিংহের সৈন্যরা তামিমকে, শর্ট অফ এ লেংথ, ব্যাক অফ এ লেংথ ডেলিভারতে তামিমকে আটকে ফেলেছিলো লাকমল, চামিরা। ধৈর্য হারিয়ে একেবারে শরীরের ভেতর থেকে পুল করার কোন ব্যাখ্যা নেই, যেখানে আগের বলেই ড্রপ হয়েছে ক্যাচ।

সাকিব না থাকায় তামিমের আজ যেভাবেই হোক উইকেটে টিকে থাকা দরকার ছিলো। বড় রান ছিলোনা, ম্যাচটা যত গভীরে নেয়া যেত ততোই ক্লোজ হতো। হাতে উইকেট রেখে যতদূর সম্ভব ব্যাট করা, এটাই হচ্ছে এই ধরনের উইকেটে ব্যাট করার নিয়ম। সেন্সলেস শট ফ্রম তামিম!

মিথুনকে এতো দিন পর সরাসরি ফাইনালে খেলানোর পক্ষে ছিলাম না। রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকা মিথুনের চেয়ে বিসিএলে সেঞ্চুরী করা কায়েসকে খেলানোর পক্ষে ছিলাম। যাইহোক মিথুন উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে, রান আউট হয়ে ফিরে গেলেন। ওইটা সিঙ্গেল হয়না, একটা ডাইভ দিলেও হয়তো বেঁচে যেতেন

স্ট্রাইক রোটেট করে খেললে তামিমকে ওই শট আর মিথুনকে সিঙ্গেল নিতে হয়না। কবে বুঝবে এগুলা তারা?

বাই দ্যা ওয়ে, সৌম্যকে মিস করেছি। ফর্মহীন সৌম্যের জায়গায় সুযোগ পাওয়া বিজয়-মিথুন কি গুনগুত পরিবর্তন এনেছে দলে? কেউ বলবেন আমাকে?

সাব্বির, সাব্বির, সাব্বির… জাস্ট ড্রপ করা হোক তাকে। ক্রিকেট খেলাটাকে এনড্রয়েডের গেম মনে করে নাকি সে? জিম্বাবুয়ের সাথেও একইভাবে আউট হয়েছিলো। এই মুহুর্তে সে দলের গলার কাঁটা। তিন বছরে অন্য দেশের একটা প্লেয়ার কোথায় চলে যায় আর সে কি করছে?

ভরসা হয়েছিলো মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু মুশফিক, এতো অভিজ্ঞ প্লেয়ার। যে কিনা মি. ডিপেন্ডেব্যাল সে কিভাবে আর কতদিন এভাবে অসময়ে সুইপ করতে যেয়ে উইকেট গিফট করবে? সোজা ব্যাটে খেলে কি রান আসেনা? রিভার্স সুইপ, সুইপ খেলাই লাগবে? যদি মুশফিক শুধু টিকে থাকে তাহলেই ম্যাচটা বের করা যেত হয়তো। আগের বলে ব্যর্থ রিভার্স সুইপ, পরের বলে মনেহয় মুশফিকের সামনে হাথুরুসিংহের মুখ ভেসে উঠেছিলো তাই সুইপ করে সীমানা ছাড়া করতে চাইলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন পয়েন্ট ইনিংসের। অবাক হয়ে দেখলাম কিভাবে মুশি এটা পারলো!

তারপর ছিলো মিরাজ, সাইফউদ্দিন। আসলে আমাদের মিডিল অর্ডারে ভরসা করার মতো ব্যাটসম্যান নেই। নেই মানে একেবারেই নেই। নাসিরের জায়গায় মিরাজ এসেছে বটে, এবং নাসিরের চেয়ে ভালো ব্যাটও করেছে কিন্তু ৮০/৪ থেকে মিরাজ উদ্ধার করবে এটাও আশাকরি নাই। ভেবেছিলাম উইকেটে পড়ে থেকে রিয়াদকে সঙ্গ দিবে।

ছয়-সাত নাম্বারে একজন জেনুইন ব্যাটসম্যান চাই। বিষয়টা ভাবতেই হবে এখন। মোসাদ্দেক? নাসির এবং সাব্বিরকে দিয়ে হবেনা। ইতিহাসের দূর্বলতম মিডিল অর্ডার এখন বাংলাদেশের। জাস্ট আজকের মতো যেদিন টপ অর্ডার ব্যর্থ হবে সেদিন কি হবে ভাবেন, আগের ম্যাচেও তাই হয়েছিলো।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সে সত্যি সত্যি বড় ম্যাচের প্লেয়ার। টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে অন্যমনষ্ক থাকা রিয়াদ আজ সম্পুর্ন অন্যরকম। সিম্পল ইজ দ্য বেস্ট! আহামরি কিছুই না, ঠান্ডা মাথায় সোজা ব্যাটে খেলেই রান করলেন। একাই লড়লেন দলের হয়ে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৭৬ রানের এই ইনিংসটাকে আমি আমার দেখা সেরা ইনিংসগুলার তালিকায় জায়গা দিবো।

মাহমুদুল্লাহ-সাইফের জুটির সময় একবার মনে হয়েছিলো তখনো ম্যাচ জেতা সম্ভব। কিছু সুন্দর সিঙ্গেল আসলো, বাউন্ডারি আসলো ফাঁকে ফাঁকে। কিন্তু একটা রান আউট আবারো! এই রানটা কোনভাবেই দরকার ছিলো। অহেতুক, সম্পুর্ন অহেতুক। ভুলটা কিছুটা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের, কিছুটা সাইফের। তবে রান সেখানে হয়না।

এরপর আর কি, আসা যাওয়া। এমনকি অধিনায়ক মাশরাফিও পারলেন না রিয়াদকে সঙ্গ দিতে।

একটা উইকেটও আনপ্লেয়াব্যাল ডেলিভারিতে যায়নি, একটাও না। সব উদার হস্তে বিতরণ করেছে বাংলাদেশ। এভাবে কি ফাইনাল ম্যাচ জেতা যায়?

উইকেট অবশ্যই “ব্যাটিং স্বর্গ” না, তবে খেলার অযোগ্য বা খুবই কঠিন না। এখানে সময় নিলে রান করা যায়, থারাঙ্গা, চান্দিমাল আর মাহমুদুল্লাহ সেটা দেখিয়েছেন।

শ্রীলংকা দারুন কামব্যাক করেছে, জিম্বাবুয়ে আর বাংলাদেশের কাছে দুই ম্যাচ হেরেও বাউন্স ব্যাক করলো চ্যাম্পিয়ন হয়েই। লঙ্কান কোচ হিসেবে হাথুরুসিংহের প্রথম এসাইনমেন্ট ছিলো। সে সফল। ভয়টা সিরিজ শুরুর আগেও পেয়েছিলাম। চান্দিকার গেমপ্ল্যান অসাধারন, সবসময়ই ভালো। বাংলাদেশকে পরপর দুই ম্যাচে এক্সপোজড করেছে শ্রীলংকা কোন দূর্দান্ত বোলিং দিয়ে না, জাস্ট বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং আর পারফেক্ট গেমপ্ল্যান দিয়ে। যার যেখানে দূর্বলতা তাকে সেখানেই খেলতে বাধ্য করেছে, অথবা মারার বলে টোপ দিয়ে আউট করেছেন হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। বাঙালি বহুত ট্রল করেছিলো হাথুরুসিংহেকে নিয়ে, জবাবটা তার দল মাঠে দিয়েছে। ভাঙাচুরা দল আর নিয়মিত অধিনায়ক ছাড়াও শ্রীলংকা যে চ্যাম্পিয়ন হলো তার কিঞ্চিৎ কৃতিত্ব লঙ্কান কোচকে দিতেই হবে।

সত্যি বলি, হাথুরুসিংহে আমার বেশ পছন্দের একজন কোচ। আজ কিঞ্চিৎ ভালো লাগা কাজ করেছে চান্দিকার হাসিমুখ দেখে। আমি বলে দিলাম, টেস্ট সিরিজ, টি-টুয়েন্টি সিরিজ বা মার্চের নিদাহাস ট্রফি, শ্রীলংকা ভালোই ভোগাবে টাইগারদের। হাথুরুসিংহের ক্ষুরধার মস্তিষ্কে কি কি আছে কে জানে! আজতো বহুল আলোচিত সিহান মাধুশানঙ্কাকে নামিয়েই দিলেন ফাইনালে, মাত্র তিনটি প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ আর চারটি লিস্ট “এ” খেলা মাধুশানঙ্কা অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে বসলেন। শুনেছিলাম হাথুরুসিংহের খুব পছন্দ হয়েছে তাকে, এজন্যই দলে নিয়েছিলেন!

আজ ভাগ্যটা মনেহয় শ্রীলংকার দিকেই ঝুঁকে ছিলো, তাদের নেয়া রিভিউ সাকসেসফুল হয়, আপিস শটগুলা “নো ম্যানস ল্যান্ডে” পড়ে, প্রায় সবগুলা ডাইরেক্ট থ্রো উইকেট ভেঙে দেয়….

এই সিরিজ অনেক কিছু ক্লিয়ার করে দিয়েছে। জনতার দাবি, জনতার চয়েজ নাসির, বিজয় চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। আশাকরি তাদের নিয়ে আর “কেন নেই, কেন নেই” প্রশ্ন উঠবে না।

মাশরাফি, রুবেল, মুস্তাফিজ খুব ভালো বল করেছে। ফিজকে ছন্দে ফিরতে দেখে খুশি হয়েছি। অনেকে তার শেষ দেখে ফেলেছিলো।

বাংলাদেশ সিরিজে ৩ ম্যাচ জিতেছে, কিন্তু দল হিসেবে কতখানি গোছানো আমরা? তামিম, সাকিবের উপরেই নির্ভর করে এখনো দল। মুশফিক, রিয়াদ কখনো কখনো পার্শ্বনায়ক। কিন্তু বাকিরা?

নয় বছর আগেও হেরে বাড়ি ফিরেছিলাম। আজকেও তাই। ভাগ্য খারাপ।

Most Popular

To Top