টুকিটাকি

আবহাওয়া পরিবর্তন নাকি জলবায়ু পরিবর্তন?

আবহাওয়া পরিবর্তন নাকি জলবায়ু পরিবর্তন?

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যে শীতের তীব্রতা কয়েকগুনে বেড়ে যাচ্ছে সেটা আজ আমাদের কারোই অজানা নয়। উইন্টারফেলের মেইস্টারদের মত আমাদের আবহাওয়াবিদরাও বলে দিয়েছেন,

উইন্টার ইজ কামিং। ইট উইল বি দি কোল্ডেস্ট উইন্টার ইন সেঞ্চুরি।

শৈত্যপ্রবাহ তীব্রতা এতই বেড়ে যাবে যে তাপমাত্রা নাকি নেমে দাঁড়াবে ১ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। কিন্তু কথা যেটা কথা সেটা না। কথা হল গুনীজনেরা বৈশ্বিক উষ্ণতার কথা বলে বলে যে গলা ফাটাচ্ছে, এন্টার্কটিকার বরফ সব গলে যাচ্ছে; যার কারণে সমুদ্রের পানির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এত্তকিছুর মধ্যে তাপমাত্রা কমে ১ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে আসছে ব্যাপারটা কেমন শোনায় না? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আগে বুঝতে হবে আবহাওয়া পরিবর্তন কি? জলবায়ু পরিবর্তন কি? এবং এদের পার্থক্যটা কোন জায়গায়?

আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা। সাধারণত এক দিনের এমন রেকর্ডকেই আবহাওয়া বলে। আবার কখনও কখনও কোনো নির্দিষ্ট এলাকার স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থাকেও আবহাওয়া বলা হয়। আবহাওয়া নিয়ত পরিবর্তনশীল একটি চলক। কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি হয় সে স্থানের জলবায়ু।

অপরদিকে জলবায়ু পরিবর্তন বলতে ৩০ বছর বা তার বেশি সময়ে জলবায়ুর উপাদান যেমন তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনকে বোঝায়। যদি সত্যি জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে থাকে তাহলে ৩০ বছরের গড় তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাত অথবা রোদ্রোজ্জ্বল দিনের সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে।

আবহাওয়া এবং জলবায়ুকে খুব সহজেই মিলিয়ে ফেলা যায়। এক্ষেত্রে সাধারণভাবে চিন্তা করার উপায় আছে: জলবায়ু হচ্ছে আমরা কি আশাকরি (যেমন: এবছর আমরা দেখতে পাব অত্যন্ত ঠান্ডা শীতকাল) এবং আবহাওয়া হচ্ছে আমরা কি দেখি (যেমন: আজ বৃষ্টি হচ্ছে)। আবহাওয়া হচ্ছে কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের (সর্বোচ্চ ৭ দিনের) বায়ুমন্ডলের অবস্থা যা সাধারণত ঠান্ডা, গরম, আর্দ্রতা, বাতাসের গতিবেগ, মেঘের অবস্থা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদির অবস্থা বুঝায়। আর জলবায়ু হচ্ছে কোন অঞ্চলের আবহাওয়া বা বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহের দীর্ঘদিনের (কমপক্ষে ৩০ বছরের) গড়।

১৯০০ সাল থেকে পৃথিবীর জলবায়ু উত্তপ্ত হচ্ছে। তবে এই উষ্ণতা বৃদ্ধি পৃথিবীর সর্বত্র সমানভাবে ঘটেনি বরং ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মাত্রায় তাপমাত্রার এই পরিবর্তন ঘটেছে।

আজকের এই লিখার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে আপনাদের জানানো আবহাওয়া পরিবর্তন আর জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে যে বিস্তর পার্থক্য আছে। এদুটিকে এক ভেবে যাতে ভুল না করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবারকার শীত অনেককেই চিন্তায় ফেলেছে৷ পণ্ডিতরা বলছেন, ‘এক্সট্রিম ওয়েদার’ বা চরম আবহাওয়া৷ কিন্তু আবহাওয়ার এই দুর্যোগের জন্যও কি শেষমেষ বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করতে হবে? ২০১৪সালে কোথাও কোথাও তাপমাত্রা শূন্যের নীচে চল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত নেমে যায় – যা কিনা মঙ্গলগ্রহের চেয়েও বেশি ঠাণ্ডা! আবহাওয়াবিদরা বলেন, সুমেরু অঞ্চল থেকে আসা বরফ-ঠাণ্ডা বাতাস দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা অতি-গরম বাতাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যানাডার উপর একটি চরম ঘূর্ণিঝড় প্রণালীর সৃষ্টি করে৷ অপরদিকে বাংলাদেশে চৈত্র মাসে তাপমাত্রা গড়ে সর্বোচ্চ ৩১ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার কথা, কিন’ রেকর্ড হচ্ছে ২৮ থেকে ২৯ ডিগ্রি। একইভাবে গড় সর্বনিম্ন থাকার কথা ২১ থেকে ২২ ডিগ্রি, কিন’ রেকর্ড হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুধু তাপমাত্রার এ পার্থক্য নয়, সবচেয়ে শীতলতম মাস জানুয়ারিতে তাপমাত্রা যে পরিমাণ কমার কথা তা কমেনি। আবার শোনা যাচ্ছে ২৬ জানুয়ারী থেকে শুরু হবে শৈতপ্রবাহ। এই শীতের মৌসুমেও দেশের অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে বৃষ্টিপাত। এইভাবেই হচ্ছে আমাদের আবহাওয়া পরিবর্তন। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণকে হুট করে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব’ বলে চালিয়ে দিতে চান না আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, ওই সিদ্ধান্তে আসতে গেলে অন্তত ৫০ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।

অপর দিকে বিগত ৫০ বছরের আবহাওয়ার অবস্থা যদি আমরা গবেষণা করি তো আমরা দেখতে পাবঃ

  • পরিবেশের তাপমাতা বাড়ছে।
  • পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের ও পর্বতের চূড়ার বরফ গলে যাছে।
  • বরফ গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা এভাবে তাপমাত্রা ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে ২০৫০ সালের মধ্য বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী নিুাঞ্চল সমুদ্রের জলে ডুবে যাবে।
  • সাগর থেকে নদীতে নোনা জল ঢুকে পড়ছে।
  • নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন : বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ঘন ঘন ঘটছে।
  • বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এসব হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের উদাহরণ। যা বিগত ৫০বছরের আবহাওয়া গবেষণা করেই আমরা এইসব ফলাফলে আসত পেরেছি।

আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনেক প্রাণীর প্রজননেও পরিবর্তন আসছে। অনেক প্রজাতি প্রজননের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীকে তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করার জন্য মওসুম সম্পর্কিত তথ্যাবলীকে কাজে লাগায়। তারা পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে তাদের ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণ করছে। অবশ্য পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে প্রাণীদের এই পরিবর্তিত আচরণে জড়িত তাদের মস্তিষ্কের সঠিক অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ও টিস্যুগুলো সম্পর্কে এই এতদিন পরিষ্কার ধারণা ছিল না। তবে সম্প্রতি মেষ, ছাগল, কোয়েল, ইঁদুর ইত্যাদি পোষমানা প্রজাতিগুলোর ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা সেসব জিন এবং মস্তিষ্কের সেই অংশগুলো সাফল্যের সঙ্গে শনাক্ত করতে পেরেছেন। যেগুলো আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে কোন প্রাণীর সাড়া দেয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে অপেক্ষাকৃত নমনীয় আবহাওয়ায় থাকা প্রাণীরা আরও উত্তরের শীতলতর আবহাওয়ার প্রাণীদের তুলনায় একটু আগেভাগে বসন্তের প্রথমদিকে সাধারণত প্রজনন শুরু করে। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, দিনের দৈর্ঘ্য মধ্য ও উত্তর ইউরোপের প্রাণীদের মস্তিষ্কে জিনের ক্রিয়াকলাপকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। গত কয়েক বছরে আবহাওয়ার এ পরিবর্তনে প্রভাব পড়ছে কৃষিতে ও মানুষের জীবনযাত্রায়।

সম্প্রতি বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের মৌসুমভিত্তিক আবহাওয়া এখন আর নেই। চৈত্র-বৈশাখ মাসে বেশি তাপমাত্রা থাকবে, জুলাই-আগস্ট মাসে বেশি বৃষ্টিপাত হবে কিংবা জানুয়ারিতে বেশি শীত অনুভব হবে তা এখন আর নেই। এখন মার্চ এসে শীতের অনুভব হচ্ছে, পরিবর্তন হয়ে গেছে বাতাসের গতিবেগ। বর্তমানে বজ্রপাত বেড়ে যাওয়া আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণ। এখন বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে গেছে। সেই শুষ্কতা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে বজ্রপাত। আবহাওয়ার পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয় হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি। ২০১৫ সালে রেকর্ড তাপমাত্রার পর গত বছরও সবচেয়ে বেশি ছিল তাপমাত্রার বৃদ্ধির হার। এটা ঠিক যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার খুব বেশি হচ্ছে। তবে একইসাথে যে সময়ে যা হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। এগুলো হচ্ছে আওহাওয়া পরিবর্তনের কিছু নমুনা। এরকম ৩০বছর অথবা ৫০বছরে আবহাওয়া পরিবর্তনের রিপোর্টটাই হল জলবায়ু পরিবর্তন।

আবহাওয়ার এই ছোট ছোট পরিবর্তনের কারণে আজকে পৃথিবীর জলবায়ুর এতবড় পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু বড় কারণ হলঃ

১. পৃথিবীর অক্ষরেখার দিক-পরিবর্তন।

২. গ্রীন হাউজ গ্যাসের:
বর্তমান সময়ে মনুষ্যজনিত গ্রীন হাউজ গ্যাসের ফলে পৃথিবীর উষ্ণায়নকে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ ধরা হয়।

৩. পৃথিবীর গাঠনিক ত্রুটিই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ:
সম্প্রতি নাসার এক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে রুশ পত্রিকা প্রাভদা জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হিসেবে এতদিন গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী করা হলেও নাসা বলছে মানব সৃষ্টি কোন কারণ নয় বরং পৃথিবীর গাঠনিক ত্র“টির কারণেই সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে বা পরিবেশ ও জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে।আলোচিত এ নতুন তত্ত্ব পৃথিবীর জলবায়ুবিদ ও সচেতন মহলকে পরিবেশ সম্পর্কে নতুন ভাবে চিন্তিত করছে। যা জলবায়ুর পুরো ধারণাটিকেই পালটে দিতে পারে। বিজ্ঞান যে নিয়ত পরিবর্তনশীল এবং এখানে শেষ কথা বলে কিছু নেই, হয়তো এটিই আবার প্রমাণিত হতে যাচ্ছে।

৪. জনসংখ্যা বৃদ্ধি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ :
নগরায়ন, শিল্প করখারখানা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত যন্ত্রের ব্যবহার, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, বনাঞ্চল নিধন ইত্যাদি কারণেও দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে।

৫. শুধু কার্বন নির্গমন নয়, নাইট্রোজেনও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ:
শুনতে জটিল মনে হলেও এই গবেষণার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে৷ পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত যাবতীয় বিতর্কের ক্ষেত্রে শুধু কার্বন নির্গমন বা বড়োজোর মিথেনের ভূমিকার উল্লেখ করা হয়৷ কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও আমাদের ইকো সিস্টেমের জন্য নাইট্রোজেনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ অর্থাৎ কার্বন নির্গমনের ক্ষেত্রে মানুষের যে ভূমিকা রয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি ভূমিকা রয়েছে নাইট্রোজেনের প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে৷ সেটা ঠিকমতো জানতে পারলে আমরা আরও সচেতনভাবে জমির ব্যবহার করতে পারবো।

৬. মানুষের কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন:
মানুষের কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ব্যাপারে তারা এখন ৯৫ ভাগ নিশ্চিত। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান আইপিসিসি তাদের এক নতুন রিপোর্টে বলছে, ১৯৫০-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত পৃথিবীর তাপমাত্রা যে পরিমাণ বেড়েছে – গত এক হাজার বছরেও তার নজির নেই এবং বিজ্ঞানীরা ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত যে মানুষই এর কারণে।

এইসব কারণে পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন দিন কে দিন বেড়েই চলছে। জলবায়ুর এই আমূল পরিবর্তন আটকানোর কোন পন্থা আমাদের জানা নেই। কিন্তু এ পরিবর্তনের গতি কিছুটা কমানোর জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি। যেমনঃ

  • কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা কোনোভাবে এদের বায়ুমণ্ডল থেকে সরিয়ে নেয়া।
  • কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো কমিয়ে তার বদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুপ্রবাহ, জৈব জ্বালানি ব্যবহার করলে কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ কমে।
  • বিদ্যুৎ, গ্যাস এগুলো কম ব্যবহার করলেও কার্বন-ডাই অক্সাইড কম উৎপন্ন হয়।
  • বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই অক্সাইড কমানোর জন্য আরেকটি উপায় হল বৃক্ষরোপণ অর্থাৎ, বেশি করে গাছ লাগানো, কারণ গাছ কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে খাদ্য তৈরি করে। ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই অক্সাইড কমে আসে।
  • ময়লা, আবর্জনা না পুড়িয়ে মাটি চাপা দেয়া।
  • কলকারখানায় বা ইটের ভাটায় ১২০ ফুটের বেশি উঁচু চিমনি ব্যবহার করতে হবে।
  • কলকারখানাগুলো লোকালয় থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে।

আবার এহেন পরিবর্তনে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের অস্থিত্ত্ব রক্ষার জন্য পরিবর্তন করতে পারি আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু অংশ।

  • প্রতিকূল অবস্থা শুরু হওয়ার আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ। যেমন-
    বন্যার আগেই শুকনা খাদ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া।
  • ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া।
  • ভূমিকম্পের সময় করণীয় কি তা আগে থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বুঝানো।
  • নতুন জাত উদ্ভাবন : উপকূলীয় অঞ্চলে নোনাপানি প্রবেশের কারণে জমি লবণাক্ত হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে লবণাক্ত মাটিতে জন্মাতে পারে একরম ফসলের জাত উদ্ভাবন করে চাষ করা যেতে পারে।
  • বিকল্প উপায় : বাংলাদেশের কিছু এলাকা বর্ষাকালে ডুবে থাকে। এরকম জায়গায় কৃষকরা ধান গাছের মুড়া বা গোড়া, কচুরিপানা এসব দিয়ে ভাসমান ধাপ তৈরি করেন। ধাপের ওপর কৃষকরা কখনও অল্প পরিমাণে মাটি দেন। এ ধরনের ভাসমান ধাপগুলোর ওপর লাউ, শিম, বেগুন, ঢেঁড়স, টমেটো, ঝিঙা এ রকম সবজি চাষ করা হয়। আবার পানি শুকিয়ে গেলে এ ধাপ কম্পোস্ট সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা হয়। এভাবে বন্যার সময়ে ফসল চাষ করা যেতে পারে।
  • জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য নতুন নতুন অভিযোজন কৌশল উদ্ভাবন ও সেগুলো রপ্ত করার চেষ্টা করতে হবে।

Most Popular

To Top