ফ্লাডলাইট

ক্রিকেটের দুনিয়াতে আমাদের “নেইল আর্মস্ট্রং”!

ক্রিকেটের দুনিয়াতে আমাদের "নেইল আর্মস্ট্রং"!

-কেউ কি চায়নিজ ক্রিকেটের “নেইল আর্মস্ট্রং” কে চিনেন?
-বলেন কি ভাই, চাইনিজ রা ডুপ্লিকেট ” আর্মস্ট্রং” ও বানায়ে ফেলছে! মাশা আল্লাহ ব্রাদার, এদের দিয়েই হবে!

-আরে নাহ, কি যে বলেন। আচ্ছা বাদ দেন। বুলবুল সাহেব কে তো চিনেন, নাকি?
-ভাই শোনেন, এদেশে দুইজন জনপ্রিয় বুলবুল আছেন! একজন হচ্ছেন আমাদের চলচ্চিত্রের নায়ক দেবদাস বুলবুল আহমেদ – উনি মারা গেলেও এখনো আমাদের হৃদয়ে আছেন। আরেকজন হলো আমাদের ক্রিকেটের আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

-জ্বী চমৎকার, আমি এই ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাহেবকে নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
-অবশ্যই, বলুন।

-না, আমি বুলবুল সাহেবের জীবন বৃত্ত্বান্ত, ক্রিকেট খেলোয়াড়ি জীবনের হার – জিত, ব্যাক্তিগত – দলগত সাফল্য ব্যার্থতার কিছু নিয়েই কথা বলবো না, এগুলো সাধারণ গুগল করলে অথবা ক্রিকইনফো ওয়েব পেজে গেলেই দেখতে পাবেন।

আমি যেই দুই একটি কথা বলবো সেটা তার ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেয়ার পরের অংশ।

প্রথমে, উপরে জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েই শুরু করি।

“বিপ্লব”- জ্বী, আমিনুল ইসলাম বুলবুল এর আরেকটা ডাকনাম হচ্ছে বিপ্লব।

ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর, আমাদের ক্রিকেটার রা (৩/৪ জন ছাড়া) এখনো ক্রিকেট বোর্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে চাননা বলে আমার মনে হয়! তারা প্রায় সবাই ব্যাক্তিগত বা পারিবারিক ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে যান।

খেলোয়াড়দের প্রতি বোর্ডের কর্মকর্তা দের “সতীন পুত্র” মূলক চিন্তাভাবনা এবং সকল দলের রাজনৈতিক আসন শক্ত করার মনোভাবটাই এর মূল কারন।

এতে করে একসময় দল বঞ্চিত হয় পুরাতন খেলোয়াড়দের অপার অভিজ্ঞতা থেকে, আর একসময় বোর্ডকে ঝুঁকতে হয় বিদেশী লজিস্টিক সাপোর্ট এর দিকে।

আমরা ক্রিকেট জাতি হিসাবে অনেক এগিয়ে এসেছি বিগত কয়েক বছরে। অন্তত আগামী ৪/৫ বছর আন্তঃর্জাতিক অংগনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো একটা দল আমাদের আছে। পাইপলাইনে যারা আছে তারাও দারুন প্রতিভাধর। এখন আমাদের প্রয়োজন একদল দক্ষ স্থানীয় কোচ এর!

অতি সম্প্রতি, হাতুড়ে সিং এর চলে যাওয়া, তারপর কোচ খোঁজা, মনোমতো কাউকে না পেয়ে খালেদ মাহমুদকেই আপাতত সেই চেয়ারে বসিয়ে দেয়া, তারপর শ্রীলংকা কে হারিয়ে দিয়ে হাতুড়ে সিং কে নিয়ে করা আমাদের নানা রুপ বিদ্রুপ দেখে মনে হয়েছে – এখন সময় হয়েছে আমাদের ও নিজস্ব স্থানীয় কোচ এর!

আর এখানেই আলোচনার শুরু আমিনুল ইসলাম বুলবুল কে!

খালেদ মাহমুদ সুজনের খেলোয়াড়ি জীবনের লড়াকু মানসিকতা উনি আমাদের বর্তমান দলেও আনতে পেরেছেন, সাকিবের সাথে তাল মিলিয়ে সেই কথা বলার সময় এখনি হয়নি!

দলের প্রায় সব খেলোয়াড়েরা এখন ফর্মে আছেন, দল হেসে খেলে জিতে যাচ্ছে – তাই আমরা আশেপাশে কিছুই দেখছি না। কিন্তু এই দলটাই যদি ৩/৪ ম্যাচ হেরে যায় বা খেলোয়াড়েরা পারফর্ম করতে না পারে – তখনি দেখা যাবে আমরা এই একই খেলোয়াড়দের- একই কোচের ভুলের হিসাব করতে করতে – গালিগালাজ করতে করতে, তাদের বাতিলের খাতায় ফেলে দিবো।

আর খালেদ মাহমুদ যেহেতু অন্য রুপেও এই দলটার সাথে অনেকদিন থেকেই জড়িত, সেই ক্ষেত্রে কোচের দায়িত্ব অন্য কাউকে দেয়া যেতে পারে। এক কাঁধে এত দায়িত্ব নিলে হয়তো উনার জীবন বৃত্বান্ত ভারী হবে, কিন্তু আখেরে দলের ক্ষতি হবে লাভের চেয়ে বেশী।

সেই ক্ষেত্রে আমাদের বোর্ডের প্রথম পছন্দ হতে পারেন, চায়নিজ ক্রিকেটে “নেইল আর্মস্ট্রং” খ্যাত, টেস্ট পূর্ববর্তী আমাদের ক্রিকেটের ভরসার স্থান, চুপচাপ কিন্তু নিরলস পরিশ্রমী – আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

যেই ব্যাক্তি একটি দেশের ভাষা-সংস্কৃতি না জেনে, সম্পূর্ণ অজ্ঞ (ক্রিকেট বিষয়ে) একটি দেশকে ক্রিকেট শেখাবার দায়িত্ব নিয়েছেন, সেই মানুষটি যে নিজের দেশকে নিজের দলকে অন্য যে কোন বিদেশী কোচের চেয়ে বেশী ভালোবেসে তার দায়িত্বটুকু পালন করবেন, সেটাতে সবাই একমত হবেন।

ভারত-শ্রীলংকা-পাকিস্তানের কোচদের চেয়ে আমাদের আমিনুল ইসলাম কোন ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।

ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নতিতে বেশী বেশী কোচ এবং কোচিং স্টাফ বের করে আনাও একটা অংশ বলে জানি। ঠিক সে দিক টা চিন্তা করলেও এই মূহুর্তে আমিনুল ইসলামের আশেপাশে কেউ নেই।

বরং এ দায়িত্বটা তাকে দেয়া হলে, এখন যে সব বাংলাদেশীরা ক্রিকেট কোচিং এর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন- তারাও আরো আশান্বিত এবং উৎসাহিত হবেন। এরই সুত্রতা ধরে একসময় আমরা আর কয়েকবছর পরেই হয়তো “বিদেশী কোচ” নিয়ে মাথা ঘামানো ও বন্ধ করতে পারবো!

তাছাড়া এখন টেস্ট ছাড়াও আন্তর্জাতিক মহলে ক্রিকেটে খেলুড়ে দেশের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক নতুন নতুন দেশ উঠে আসছে, কে জানে হয়তো এখনকার অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-সাউথ আফ্রিকান কোচদের মতো আমাদের কোচদেরও বিশ্বজোড়া কদর হবে একদিন।

কিন্তু, এরজন্য প্রথম উদ্দ্যোগটা নিতে হবে আমাদের ক্রিকেট বোর্ডেরই।

শত ঝামেলা – নোংরামি পায়ে ঠেলে আমাদের খেলোয়াড়েরা প্রতিনিয়ত বিশ্বের দরবারে আমাদের গর্বিত করে যাচ্ছে, এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের ক্রিকেট বোর্ড কি পারবে তাদের মানসিক আর রাজনৈতিক দৈনতা থেকে বের হয়ে এসে একটা সাহসী পদক্ষেপ নিতে, যাতে করে আমাদের ক্রিকেট আবকাঠামো আরো শক্ত হয়, স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় নাকি পাকিস্তানি ক্রিকেটের মতো দলের কোচের জায়গাটা হাস্যকর করে তুলবেন?

কথায় আছে উসাইন বোল্ট এক ল্যাপ দৌড় শেষ করার আগেই নাকি পাকিস্তানি ক্রিকেট কোচ বদল হয়!!

আমাদের আমাদের ক্ষেত্রে এমনটা অবশ্যই দেখতে চাইনা।

আর বিশ্বকাপের এখন আর খুব বেশী দেরী নেই, কেউ মুখে না বললেও- সবার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। সেক্ষত্রে আমাদেরও এখনি একজন স্থায়ী কোচ নিয়োগ দিয়ে, লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ শুরু করা উচিত। যেহেতু এখনো বছরাধিক সময় হাতে আছে, সেহেতু আমাদের নিজস্ব আমিনুল ইসলাম বুলবুল হতে পারেন আমাদের জন্য সবচেয়ে সুযোগ্য কোচ।

যাদের হাত ধরে একদিন আমরা বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করেছিলাম, তাদের কষা ছকেই না হয় এবার বিশ্বজয় করার স্বপ্ন দেখি।
তাতে স্বপ্নও আমাদের হয় আর স্বপ্নের কারিগরও!

হোক না দলে যোগ আরেকটা বাঘ…….!!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top