ফ্লাডলাইট

তামিম-সাকিবের মধুর প্রতিযোগিতা!

তামিম-সাকিবের মধুর প্রতিযোগিতা!- নিয়ন আলোয়

আজ সবাই শুধু ওয়ানডেতে জয়সুরিয়াকে টপকে কোন নির্দিষ্ট মাঠে তামিমের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড দেখেছে। কিন্তু এই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডেই তামিম-সাকিবের এক মধুর প্রতিযোগিতা চলছে, তা কেউ খেয়াল করে নি।

তামিম আজ মিরপুরের রাজা?
নাহ, তামিম আগের ম্যাচেই মিরপুরের রাজা হয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রিকি পন্টিং – মেলবোর্ন জুটিকে (৩৪৬৭ রান) টপকে কোন নির্দিষ্ট মাঠে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড অনেক আগেই নিজেদের করে নিয়েছিলেন সাকিব – মিরপুর জুটি। আর সাকিবের পেছনেই ছিল তামিম – মিরপুর জুটি।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে মিরপুরে সাকিবের রান ছিল – ৩৭৩৭
ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে মিরপুরে তামিমের রান ছিল – ৩৬৮০

৫৭ রানে পিছিয়ে থাকা তামিম ১ম ম্যাচে ৮৪* রান করার পর ব্যবধান গিয়ে দাঁড়ায় মাত্র ১০।

১ম ম্যাচ শেষে, সাকিবের রান – ৩৭৭৪ এবং তামিমের রান – ৩৭৬৪।

শ্রীলংকার বিপক্ষে ২য় ম্যাচ খেলতে নেমে ৭ম ওভারের প্রথম বলেই সাকিবকে টপকে যান তামিম। আর তখনই ৩৭৭৫ রান নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোন নির্দিষ্ট মাঠে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে সবার উপরে চলে আসেন তামিম। সাকিব তখনো ড্রেসিং রুমে বসে বসে দেখছে। বিজয় আউট হবার পর সাকিব যখন নামলেন, তখন মিরপুরে তামিমের রান ৩৭৯৪। আর সাকিবের ৩৭৭৪। ব্যবধান মাত্র ২০ রানের। দুজনই একসাথে খেলছেন। এদের ব্যবধানটা কখনো বাড়ছে, কখনো বা একটু কমছে। অবশেষে ৯৯ রানে জুটি ভাঙলো। ৮৪ রানে আউট হওয়া তামিমের তখন মিরপুরে ৩৮৪৮ রান। আর সাকিবের তখন ৩৮১৪ রান। তামিমের কাছ থেকে রেকর্ড পূণরুদ্ধার করতে হলে আরো ৩৫ রান দরকার। কিন্তু তামিম আউট হবার পর সাকিব যোগ করতে পারলেন আর ২৭ রান। ম্যাচ শুরুর আগে তামিম পিছিয়ে ছিল ১০ রানে, আর ম্যাচ শেষে সাকিব পিছিয়ে ৭ রানে।

২য় ম্যাচ শেষে, তামিমের রান – ৩৮৪৮ এবং সাকিবের রান – ৩৮৪১।

গতকাল ৩য় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল তামিমের। কিন্তু বিজয় মাত্র ১ রানে আউট হয়ে যাওয়ায় আবারো ক্রিজে দেখা হয় প্রতিদ্বন্দ্বী সাকিবের সাথে। ম্যাচে তামিমের রান তখন ৪। মানে মিরপুরে সাকিবের চেয়ে ১১ রানে এগিয়ে আছে। ৬ ওভার শেষে এই ব্যবধান গিয়ে দাঁড়ায় ১৬ রানে। ওটাই ছিল তামিমের সর্বোচ্চ এগিয়ে থাকা। কারণ পরের দুই ওভারে ৩ টা চার মেরে সাকিব ব্যবধান কমিয়ে আনে মাত্র ৪ রানে। এবার তামিমের পালা। এর পরের দুই ওভারে তামিম ২ টা চার মেরে ব্যবধান বানায় ১০ রানে। ম্যাচে মুজারাবানির ২য় ওভারে ৬টা বল খেলেও কোন রান নিতে পারেনি সাকিব। পরে মুজারাবানির ৩য় ওভারেই ২ টা চার মারে সাকিব। এরপর আর বাউন্ডারি হয় না। সাকিব একটা সিঙ্গেল নিলে, তামিমও একটা সিঙ্গেল নেয়। এভাবেই কয়েক ওভার চলতে থাকে।

একসময় মিরপুরের রানটা দাঁড়ায় –
তামিমের ৩৮৭৬
সাকিবের ৩৮৭৪

মাত্র ২ রানের ব্যবধান তখন… খেলতে খেলতে তামিমের আগে ফিফটি করে ফেলে সাকিব। ২৮ তম ওভারের ১ম বল। সাকিব স্ট্রাইকে। সিকান্দার রাজার বলটি ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে আসে সাকিব। বলটাকে সীমানা ছাড়া করতে পারলেই দুজনের ব্যবধান থাকবে মাত্র ১ রানের!

কিন্তু ব্যাটে-বলে হয় নি। বল উইকেটকিপারের হাতে। এবং সাকিব স্ট্যাম্পিং……

আগের ম্যাচে তামিম আউট হবার পর সাকিব করেছিল ২৭ রান।
আর গতকাল সাকিব আউট হবার পর তামিম করেছেন ২৭ রান।

দিনশেষে, মিরপুরে তামিমের রান ৩৯২৪ এবং সাকিবের রান ৩৮৯২। তবে সাকিবের ৩৩ টা ৫০+ ইনিংসের বিপরীতে তামিমের ৫০+ ইনিংস ৩২ টা। সাকিবের চেয়ে ৩২ রানে এগিয়ে থাকা এবং ৩২ ফিফটি+ ইনিংস খেলা তামিম, ফিফটিতে সাকিবকে ছাড়াতে পারবে কিনা, সেটা এখনি বলা যাচ্ছে না। কারণ তামিম ফিফটি করলে, সাকিবও ফিফটি করে!

Most Popular

To Top