টুকিটাকি

সাদা কালো দিনগুলির সেসব চলচ্চিত্রগুলি

সাদা কালো দিনগুলির সেসব চলচ্চিত্রগুলি

সাদা কালো চলচ্চিত্র বললেই অনেকেই কেমন জানি নাক শিটকায়। পুরোনো চলচ্চিত্রগুলি তাদের ভালোই লাগে না। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের মন্তব্য কোন চলচ্চিত্র না দেখেই। আজ আমি আপনাদের এমন কয়েকটি সাদা কালো সিনেমার নাম বলব যা আপনাদের অবশ্যই দেখা উচিত।

Schindler’s List (১৯৯৩)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনীর পোল্যান্ড দখলের পর শুরু হয় ইহুদী নিধন। অস্কার শিন্ডলার্স একজন অর্থলোভি জার্মান ব্যবসায়ী এবং নাৎসি পার্টির সমর্থক। পোল্যান্ডে সে আসে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। ইহুদী ব্যাবসায়ীরাই তার মূল টারগেট। নাৎসি সমর্থক হয়েও নাৎসিদের এই হত্যাযজ্ঞ তার কাছে চরম অমানবিক মনে হয়। শিন্ডলার জার্মান সেনাবাহিনীর সাথে ব্যবসা শুরু করে। শ্রমিক হিসাবে পায় জার্মান শরনার্থীদের।তার শ্রমিকদের রক্ষা করতে সে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে নাৎসি বাহিনীর কাছে। নাৎসি বাহিনীর প্রধানকে সে ঘুষ দেয়া আরাম্ভ করে শ্রমিকদের বাচানোর জন্য এবং ইহুদী শ্রমিকদের নিয়ে নিজ শহরে চলে যেতে চায়। তার জন্য শিন্ডলার্সকে প্রচুর টাকা ঘুষ দিতে হয়। ইহুদী শ্রমিকদের একটি লিস্ট সে তৈরী করে। নিজের প্রায় সব অর্থ শুধু সে মানুষকে রক্ষার জন্য খরচ করতে থাকে।

It’s a wonderful life (১৯৪৬)

কখনো কি মনে হয় না যদি না থাকি এই পৃথিবীতে তাহলে কি কোনো ক্ষতি হবে? অথবা যদি না জন্মাতাম তাহলে কি কোন কিছুর হেরফের হতো? আমার মত তুচ্ছ সামান্য মানুষের থাকা না থাকায় কি আসে যায়? ফিলিপ ভন ডোরেন স্টার্নের লেখা দ্য গ্রেটেস্ট গিফট ছোটগল্প অবলম্বনে এ ছবির কাহিনী তৈরি হয়েছে। পরিবার আর সমাজের চাপিয়ে দেওয়া নানা দায়ভারে ক্লান্ত হয়ে পড়ে জর্জ বেইলি। এই জীবন কি সে চেয়েছিল? তার তারুণ্য, তার স্বপ্ন, সম্ভাবনা সব ধীরে ধীরে উবে যাচ্ছে। তার ইচ্ছা তার চাওয়া এর কোন মুল্য নেই। কী করবে সে? ক্লান্ত এবং অবহেলার শেষ পর্যায়ে জর্জ বেইলি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। সে তার জীবন নিয়ে হতাশ। কিন্তু তার সম্মুখে হাজির হয় তার গার্ডিয়ান এঞ্জেল ক্লারেন্স অডবডি। ক্লারেন্স জর্জকে তার পুরো জীবনটা ঘুরিয়ে দেখায় এবং জর্জ বুঝতে পারে পুরো জীবনটা তার ব্যর্থ নয়, পরিবার-পরিজনের সবাই তাকে ভালবাসে এবং সবার কাছে তার জীবনের একটা গুরুত্ব আছে। আপাতভাবে জর্জের জীবনের অনেক স্বপ্ন পুরণ হয়নি তবু ক্লারেন্স প্রমাণ করে দেয়, এক জীবনে অপরের জন্যে সে অনেক আত্মত্যাগ স্বীকার করেছে। জর্জ না থাকলে তার শহর, তার পরিবার, তার বন্ধুজনদের জীবনটাই ভিন্ন হতো। সব মিলিয়ে জর্জ বুঝতে পারে চমৎকার একটা জীবন সে পার করেছে।

12 Angry Men (১৯৫৭)

মানুষকে দেওয়া সৃষ্টিকর্তার সেরা উপহার তার প্রাণ এবং এই প্রাণ এর মালিক শুধু সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু এই মুভিতে একজন মানুষের প্রাণ বারোজন জুরির হাতে, সে নিয়ে কথা, তর্ক, আলোচনা, খুনসুটি, ঝগড়া, অপমান, স্বগতোক্তি। একজন স্থপতি, একজন সেলসম্যান, একজন রংমিস্ত্রি, একজন শেয়ার দালাল, একজন ঘড়ি নির্মাতা, একজন বিজ্ঞাপন কপিরাইটার, একজন ফুটবল কোচ। এরকম বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন রুচির বিভিন্ন শিক্ষার বিভিন্ন চরিত্রের বারোজন মানুষের মধ্যে একটি ঘরে এক অভূতপূর্ব টেনশন তৈরি হয়ে ত্রয়োদশ একটি মানুষের প্রাণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে। এ কথার মধ্যে দিয়ে পরিচালক সিডনি লুমে যে কী অসাধারণ একটি সিনেমা যে নির্মাণ করেছেন, শেষ দৃশ্যের আগে এসে দর্শকের সে উপলব্ধির ফুরসতও থাকে না।

Psycho (১৯৬০)

আলফ্রেড হিচকক মানেই রহস্য। হিচকক মানেই আলাদা কিছু। ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তাভাবনার জন্য বিখ্যাত এই পরিচালক সিরিয়াল কিলিং নিয়ে কাজ করা শুরু করেন সেই ষাটের দশক থেকেই। ‘সাইকো’ ছবিটির কাহিনী নেওয়া হয়েছে একই নামের রবার্ট ব্লকের উপন্যাস থেকে। তিনি উপন্যাসটি লিখেছিলেন এড গেইন নামের এক মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত সিরিয়াল কিলারের ঘটনা নিয়ে। স্বর্ণকেশী মেরিয়ান ক্রেন অফিস থেকে টাকা চুরি করে পালায়। গাড়ী চালাবার পথে আকাশ জুড়ে বৃষ্টির হামলার সাথে গভীর অন্ধকার নামে। বেগতিক অবস্থায় পড়ে রাস্তায় পাশে এক মোটেলে আশ্রয় নেয়। জায়গাটা বেশ নির্জন। মোটেলের মালিক নরম্যান বেটস একমাত্র অতিথি হয় সে। যদিও নরমানের বেটসের মা অতিথিকে মোটেই পছন্দ করেন নি। ক্রেনের বোন লীলা ও তার গোপন প্রেমিক স্যাম ক্রেনের খুঁজে এলে বেরিয়ে পড়ে সেই রাতের ঘটে যাওয়া সব লোমহর্ষ ঘটনার বর্ণনা।

Cityzen Kane (১৯৪১)

অরসন ওয়েলসের সেরা সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হয় সিটিজেন কেইন। মূল ভূমিকায় অরসেন ওয়েলস নিজেই। এটাই পরিচালকের প্রথম ছবি। মূল ভূমিকায় থাকা চার্লস ফস্টার কেইন নামক একটি চরিত্রের জীবনকে কেন্দ্র করে। গল্পে দেখা যায় মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে কেইন ‘রোজবাড’ শব্দটি উচ্চারণ করে। একজন সাংবাদিক এই শব্দ উচ্চারণের কারণ খুঁজে বের করার গবেষণার মাধ্যমেই সিনেমাটি এগিয়ে যায়। তিনি জানতে পারেন চার্লসের শৈশব কাটে দারিদ্রে। হঠাৎ তার মা খুজে পান একটি সোনার খনি। ছেলে তিনি পড়ালেখার জন্য পাঠান শহরে। অতঃপর তার সংবাদপত্রের ব্যবসায় যোগ দেওয়া এবং পরবর্তীতে ক্ষমতার লোভে পরে হলুদ সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে এই সিনেমার গল্প।

Most Popular

To Top