নাগরিক কথা

আড়াই হাজার শতবর্ষী গাছের বিনিময়ে রাস্তা আমরা চাই না

বিখ্যাত কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ ১৯৭১ সালের শেষদিকে কলকাতায় এসেছিলেন। উঠেছিলেন আরেক কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তখন পুরোদমে যুদ্ধ চলছে, বাংলাদেশ থেকে অনেক শরণার্থী ভারত সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছিল। বৃটিশ আমল থেকেই পূর্ব বাংলা ও পশ্চিমবঙ্গের কানেক্টর ছিলো যশোর রোড। প্রাচীন সেই যশোর রোড ধরেই সুনীলসহ বনগাঁ পেরিয়ে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে পৌঁছেন গিন্সবার্গ। যশোর সীমান্ত ও এর আশপাশের শিবিরগুলোতে বসবাসকারী শরণার্থীদের দুর্দশা দেখে সে অভিজ্ঞতার আলোকে গিন্সবার্গ ‘সেপ্টেম্বার অন যশোর রোড’ নামে একটি দীর্ঘ কবিতা লিখেন। পরে সুর দিয়ে এটিকে গানে রুপ দেন। আমেরিকায় ফিরে তাঁর বন্ধু বব ডিলান ও সে সময়ের অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে ফান্ড রাইজিং কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই একাত্তরে যশোর রোডের মাধ্যমে বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহে ভূমিকা রাখেন গিন্সবার্গ।

যশোর রোড প্রাচীন সড়ক। দুপাশের শতবর্ষী বিশাল সব রেইনট্রি বা ফুলকড়ই গাছ এই সড়ককে ভিন্ন এক মহিমা দিয়েছে। অথচ আমাদের স্বাধীনতার স্বারক এই সড়ক চার লেন করতে গিয়ে সরকার এমন আড়াই হাজার গাছ কেটে ফেলতে চাইছে! ভাবতে পারেন? একটা নয়, দুটো নয়, আড়াই হাজার শতবর্ষী গাছ! টাকা হলে এমন চার লেন ছমাসেই নামানো সম্ভব কিন্তু কোন কিছুর বিনিময়েই কি আড়াই হাজার শতবর্ষী গাছ ফিরে পাওয়া সম্ভব? অথচ চাইলে গাছগুলো না কেটেও সড়ক চার লেন করা সম্ভব। কিন্তু কিভাবে আড়াই হাজার গাছ বা আড়াইশো কোটি টাকা লুটপাটের লোভ সামলাবে লুটপাটকারী চক্র?

অনেক বছর পর মৌসুমী ভৌমিক সেপ্টেম্বার অন যশোর রোড বাংলায় গেয়েছিলেন। বোবা গাছগুলোর আর্তনাদ কি ঈশ্বর শুনবেন? আমরা কি কিছুই করতে পারিনা?

“কাদামাটি মাখা মানুষের দল
গাদাগাদি হয়ে আকাশটা দেখে
আকাশে বসত মরা ঈশ্বর
নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে?

কার কাছে বলি ভাত রুটি কথা
কার কাছে বলি কর কর ত্রাণ
কাকে বলি ওগো মৃত্যু থামাও
মরে যাওয়া বুকে এনে দাও প্রাণ! ”

যে যার জায়গা থেকে চেষ্টা করুন। আর কারো দয়ামায়া না হলেও কোন ভালো মানুষের মাধ্যমে ব্যাপারটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে আড়াই হাজার গাছ বাঁচবে। বাঁচবে বাংলাদেশ!

লিখেছেনঃ অপু নজরুল

Most Popular

To Top