বিশেষ

অন্যের অপমান দেখার নেশা বড় নেশা!!

অন্যের অপমান দেখার নেশা বড় নেশা!!

অন্যের অপমান দেখার নেশা বড় নেশা। আর জিনিসটা বাঙালীর কাছে সবচাইতে আকাঙ্ক্ষিত নেশার নাম। মাতাল যেভাবে দেশি মদের গন্ধ পেলে পাগল হয়ে সেদিকে ছুটে যায়, বাঙালী ঠিক তেমনিভাবে অন্যকে একটু পঁঁচানোর চান্স পেলে কোনোভাবেই সেটা মিস করতে চায়না। এইসব স্ক্রিনশট ফর সাবজেক্ট, সালমান মুক্তাদিরের মেইন প্রবলেম হলো সে ফেমাস, হ্যান্ডসাম, স্মার্ট। হাজার হাজার মেয়েরা তার উপর ক্রাশড। ইউটিউব-ফেসবুকে তার লাখ লাখ ফ্যান ফলোয়ার। যে বয়সে এই বাঙালী যুব সমাজ বাপের পকেট আর মায়ের পার্স থেকে পঞ্চাশ-একশো টাকা মারে, সেই বয়সে সালমান অলমোস্ট মিলিওনিয়ার। আপনার-আমার ক্রিয়েটিভ স্ট্যাটাসে যখন নিজের তিনটা ফেইক আইডি মিলায়ে তেতাল্লিশটা লাইক পড়ে, সেখানে সালমানের ‘হাই’ লেখা পোস্টেও লাইক কয়েক হাজার ছাড়ায়। তো সিম্পলি যুব সমাজের জ্বলবে, জ্বলছে। অতি মাত্রায় জেলাস হয়ে তারা নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে সালমানকে পঁঁচাবে, পঁঁচাচ্ছে। পঁঁচানোর কিছু না পেলে বলো সে হিজড়া, সে গে। তাহসানও মেয়েদের ক্রাশ হচ্ছে? ওকেও সেম কথা বলো। আয়নায় নিজেকে দেখেন ভাই; তাহসান, সালমান আপনার থেকে হাজারগুনে স্মার্ট, হ্যান্ডসাম।

আচ্ছা মানলাম তারা যদি মেয়েলি টাইপ, হিজড়াও হয় তাও একজনের শারীরিক প্রবলেম নিয়ে আপনি তাকে ট্রল করবেন? তাইলে তাসকিনের বউকে কালো বলছে যারা, তাদের আর আপনার মানসিকতার পার্থক্য কই? ঐটা রেসিজম আর এইটা জাস্ট মজা? বাহ!

এখন একটাইপের সুশীল সমাজ বলার চেষ্টা করবে সালমানের ভিডিওতে সেক্সুয়াল কন্টেন্ট থাকে। এডাল্ট কমেডি, ডায়ালগ থাকে। সে যুবসমাজকে নষ্ট করছে। বিদেশের যেকোনো স্কেচ কমেডি টাইপ শো দেখুন, এডাল্ট কন্টেন্টে ভরপুর। সেগুলোর দিক দিয়ে সালমান জাস্ট বাচ্চা। পাশের দেশের মিরাক্কেলের কথাই ধরুন। ফ্যামিলি নিয়ে দেখার উপায় নাই। আর টিভি শো’র কথা বাদই দিলাম, হলিউড-বলিউডের মুভির কথা বলি? নাইন্টি পার্সেন্ট কমেডি মুভিই হলো এডাল্ট কমেডি। যেগুলো এইসব সুশীল সমাজের কাছেই পিওর মাস্টারপিস। কাউকে কোনোদিন স্ট্যাটাস দিতে দেখেছেন, ‘হায় হায়, হলিউডের অমুক মুভিতে বেড সীন দেখায়, কিসিং দেখায়, লিভ টুগেদার দেখায়, যুবসমাজ এসব দেখে নষ্ট হয়ে গেলো পুরাই’ লিখে? দেখেননি তো? অনেকগুলো মাস্টারপিস মুভিতে তো ‘ফাক’ শব্দটা যতবার ইউজ করা হয়, নায়কের পুরা মুভিতে অতোগুলো ডায়ালগও থাকেনা। আইএমডিবি টপার, দ্যা মাস্টারপিস ‘দ্যা শশাঙ্ক রিডেম্পশন’ মুভির এইটিন প্লাস ডায়ালগ কি সালমানের ভিডিও থেকে কয়েকগুন বেশি না?

কিন্তু বাঙালীর প্রবলেম হলো সালমান মুক্তাদির। কারন বললাম না, জেলাসি। নিজেদের ভালো না দেখতে পারা।

আর সালমানের ভিডিও দেখে যুবসমাজ নষ্ট হওয়ার কথা শুনলে আমার সবচাইতে বেশি হাসি পায়। আহারে যুবসমাজ, আহা যুবসমাজ। যাদের রাত কাটে এইচডি প্রিন্টে আর দিন কাটে ডিএসইউ/মাইরালা গ্রুপে। বিলিভ মি, নাইন্টি পার্সেন্ট ছেলেপুলের ফোনের হিস্ট্রি চেক করলে দেখবেন লাইন ধরে পর্নহাব, বাজার্স, মিয়া খলিফা, নাতাশা মালকোভা। বাকি যে টেন পার্সেন্ট, তারা মাত্রই হিস্ট্রি ক্লিয়ার করেছে। এরা নাকি সালমানের ভিডিওতে নষ্ট হচ্ছে। হাউ ফানি!

এইবার আসি রিসেন্টলি তার সাথে লভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জেসিয়া ইসলামের বের হওয়া স্ক্রিনশট স্ক্যান্ডালের ব্যাপারে। আমি প্রথমে শুনে ভেবেছিলাম কি না কি! সালমান মনে হয় গভীর রাতে জেসিয়াকে বলেছে, ‘এই তোমার একটা ন্যুড পিক দাওনা, বা তোমার সাইজ কত?’, উত্তরে জেসিয়া বলছে, ‘ছি: আমি এরকম মেয়ে না। আমি ভদ্র ফ্যামিলির মেয়ে।’
তারপর স্ক্রিনশট ফাঁস করে দিয়েছে।

কিন্তু স্ক্রিনশটের ভিডিও দেখে তো আমি অবাক। এ মা, একি! দুইজন সমান তালে উম্মাহ দিয়ে যাচ্ছে। বাবু জান লাভ্যু, বলে ফাটিয়ে ফেলছে। জেসিয়া একসাথে দেখলাম গুনে গুনে সতেরোটা কিসি ইমোজি পাঠিয়েছে সালমানকে। দুষ্টু মিষ্টি কিউট ফ্লার্টিং। দুজনের সম্মতিতে রোমান্টিক কথাবার্তা বললে সেইটা কবে কোন দেশে ক্রাইম ছিল? এই জিনিস কিভাবে স্ক্যান্ডাল হয়! তারপর ছবি দেখলাম জেসিয়া সালমানের গালে কিস করছে। পাবলিক সেই ফটো আপ্লোড দিয়ে পঁঁচাচ্ছে উল্টা সালমানকেই। হায়রে জেলাসী। (স্ক্রিনশট – ফটো জেসিয়া ইসলামের আইডিতে দেখুন)

আর পৃথিবীর কয়টা সেলেব জীবনে একটা মাত্র প্রেম করছে, এই বিষয়টাই যেখানে গবেষনার দাবী রাখে, সেখানে এরা এমন ভাব করছে যেন সালমান কেন একটা মেয়ের সাথেই সারাজীবন প্রেম করবে না? আমি সাধারন ছেলে, আমার গুনলে এখন অব্দি তিন-চারটা গার্লফ্রেন্ড পাওয়া যাবে, কিন্তু সালমান পারবে না। যেন আমরা জীবনেও জানি না যে মিডিয়ায় কি হয়। মিডিয়ার মানুষেরা কেমন! সালমান মুক্তাদিরের ব্যাপারে এমন ভাব করছে যে এই প্রথম এই টাইপের কিছু দেখলাম। আসলে সালমান, পঁঁচানি তো তুমি খাবা অন্য কারনে। এইসব তো বাহানা। তুমি কেন ফেমাস হবা? তোমার উচিত ছিলো আমাদের মতো ডেইলি গার্লফ্রেন্ড নেই কেন টাইপ ডিপ্রেশনমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে শখানেক লাইক পাওয়া। আমরা বাঙালী ভাই। কারো উন্নতি আমরা কখনোই মেনে নেবো না। সেটা তুমি সালমান হও, তাহসান হও, তাসকিন বা সাকিব-ই হও না কেন।

আজকে মেহেদি হাসান লোকটা অভ্র কীবোর্ড বানিয়ে যতটা ফেমাস হয়েছে, এখন একটা স্ক্যান্ডাল বেরোলে তারচে কয়েকগুন বেশি ফেমাস হতে পারতো। আমরা বাঙালী কাউকে না পঁচিয়ে ফেমাস বানাই না। এজন্যই আমাদের ভাগ্যে জোটে হিরো আলম আর কান হেলালের মতন ‘সেলেব’রা।

আর সবশেষে তাহসিনেশন। ইনার ব্যাপারে কি আর বলবো। কোন প্রতিভা ছাড়াই একটা মানুষ কিভাবে ফেমাস হতে পারে দেখতে হলে ওনাকে দেখুন। জানে যে আমার মধ্যে এমন কোনো ক্রিয়েটিভিটি বা ট্যালেন্ট নাই যে আমি সেলেব হতে পারবো। সুতরাং অন্যকে পঁঁচাও। জেলাস বাঙালি আমাকে হিট দেবে। যেটাকে সহজ বাংলায় বলে পরনিন্দা, আরবীতে গীবত।

আমি লাইফে তার একটা ভিডিওই দেখেছিলাম- সুলাইমান সুখন রোস্টিং। জোর করে একজনকে নীচে নামানোর হাস্যকর সব রিজন। সুলাইমান সুখন কবে কোন জবে গিয়ে ফেইলিওর হয়েছে, সাকসেস পায়নি সেগুলোর বর্ণনা। একটা মানুষ তার কোম্পানির সেল বাড়াতে পারেনি এটা তার ব্যর্থতা হতে পারে, কিন্তু দোষ কেন হবে! সে কোন জবে সাকসেসফুল হয়নি এজন্য নাকি তার মোটিভেশনাল স্পিচ দেওয়ার রাইট নাই। ব্যাপারটা এরকম যে আমি পৃথিবীর নাইন্টি পার্সেন্ট বিখ্যাত কোচকে এই কারনে রোস্ট করতে পারি যে তারা তাদের খেলোয়াড়ি জীবনে ব্যর্থ হয়েছিলো, মানে তাদের এখন কোচিং ছেড়ে দিতে হবে। কোচিং না ছাড়লেও অন্তত টাকার বিনিময়ে তো কোচিং করানো যাবেই না। তাহসিনেশন আরেকজনকে পঁঁচায়ে ইউটিউব থেকে ডলার নিতে পারবে; কিন্তু সোলাইমান সুখন কাউকে নিজের মূল্যবান টাইম, শ্রম, ক্রিয়েটিভিটি খরচ করে মোটিভেশন দিয়ে টাকা নিতে পারবে না। ব্যাপার যেন এরকম যে সোলাইমান সুখন তার সেমিনারে নিরীহ বাচ্চাদের ফ্রিতে ঢুকতে দেয়, তারপর বের হওয়ার সময় বলে তিনশো টাকা না দিলে বাসায় যেতে দিবো না। কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় টাকা খরচ করে মোটিভেশন নেয় তো অন্যের কেন জ্বলবে? আপনি স্পিচ দিলে লোক ফ্রিতেও আসবেনা ঠিক আছে, তাই বলে জেলাস হওয়া তো ঠিক না ভাই।

আরেকটা পয়েন্ট দেখলাম সোলাইমান সুখন খারাপ কারন তার পিসিতে নাকি পর্ন থাকে। আচ্ছা তাহসিনেশন জীবনেও পর্ন দেখেনাই? তাহলে তো তার ইন্টার্নাল ডিভাইসে প্রবলেম আছে নির্ঘাত! ইয়ে মানে কম্পিউটারের আরকি!

আসলে এই তাহসিনেশন ভাই বড়ই চালাক। বেছে বেছে এমন পাবলিকদের রোস্ট করবে যাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার কয়েক লাখের উপরে। এতে হিট খাওয়ার চান্স যে বাড়ে! কখনো তো দেখলাম না অমুক মন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁস করেছে, অমুক এমপি টাকা নিয়ে চাকরী দেয়, অমুক পুলিশ ঘুষ খায়; তাহসিন এদেরকে রোস্ট করছে। এসব জায়গায় রিস্ক বেশি, আবার হিট খাওয়ার সুযোগ কম; তাই দূরে থাকাই ভাল। সেই লোক আবার থার্ডক্লাস পরনিন্দা করে সোশ্যাল ওয়ার্কের বুলি ঝাড়ে।

আমি এমনিতে ফেসবুকের এইসব আজাইরা ইস্যু নিয়ে কখনোই লিখিনা। কিন্তু আজ বাধ্য হলাম। দেশের মানুষের এইগুলো কি রোগ হয়েছে! অন্যকে পঁঁচায়ে মানসিক অর্গাজম। ভাই আরেকজনের পেছনে পড়ে না থেকে নিজে কিছু করার চেষ্টা করুন। এতে হয়তো আপনিও একদিন এদের মতো ফেমাস হতে পারবেন। তাতে আপনার লাভ, দেশেরও লাভ। তবে ফেমাস হয়ে গেলে একটু সাবধান থাকবেন। তাহসিনেশন তখন তার ভিডিও’র ভিউ বাড়াতে আপনাকে রোস্ট করবে। আর কাউকে জোর করে পঁঁচাতে হলে তার দোষ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন কিছু না। আপনি তো মানুষ, তাহসিনেশনের মতো ফেরেস্তা তো আর না। তবে রোস্টিং হওয়ার পর হতাশ হবেন না একেবারেই। ইউ নো, আঙুর ফল দেখে শেয়ালের লালা তো ঝরবেই। শেয়াল তখন টক বলে আঙুরকে রোস্ট তো করবেই। তবে তাতে আঙুরের মার্কেট প্রাইস কমেনা। আঙুররা এসব থোড়াই কেয়ার করে!

Most Popular

To Top