গল্প-সল্প

“বাবু” বিড়ম্বনা!

"বাবু" বিড়ম্বনা!- Neon Aloy

মোড়ের একমাত্র ফ্লেক্সিলোডের দোকানের নাম, ‘বাবু ভ্যারাইটিজ স্টোর’। বাবুভাই নামে এলাকার এক বড়ভাই কিছুদিন আগে নতুন দোকান দিয়েছেন। ঝামেলার শুরু এখান থেকে। সেদিন মিতু ওর আম্মুর সাথে দোকানে গেছে ফ্লেক্সি দিতে। দোকানদার বাবু ভাই বিনয়ের অবতার হয়ে বললেন, ‘আন্টি আমার দোকান মানে তো আপনার দোকান। আপনি শুধু শুধু কষ্ট করে আসলেন কেন? এরপর থেকে আমাকে একটা ফোন করে বললেই আমি ফ্লেক্সি দিয়ে দিবো। পরে আপনি সজিবকে দিয়ে টাকা পাঠিয়ে দিলেই হবে।’
উল্লেখ্য, সজিব মিতুর ছোট ভাই।
মিতুর আম্মু মিতুকে বললেন, বাবুর ফোন নাম্বারটা নিয়ে রাখ তো। রাত বেরাতে ভালোই কাজে দেবে। সবসময় তো দোকানে আসা ঝামেলা।
মিতু নাম্বারটা নিয়ে ‘ফ্লেক্সি দোকান’ লিখে সেভ করে রাখলো।

ঘটনা ঘটলো তার ঠিক দুইদিন পর রাতে। মিতুর আম্মু উনার এক বান্ধবীকে ফোন দিতে গিয়ে দেখেন ফোনে মাত্র এক টাকা তেত্রিশ পয়সা আছে। ভাবলেন মিতুকে বলবেন দোকানদার বাবুকে কল দিয়ে যেন বলে উনার নাম্বারে ফ্লেক্সি করে দিতে। কিন্তু মিতুর রুমে গিয়ে দেখলেন মিতু ঘুমিয়ে আছে। শুধু শুধু না জাগিয়ে নিজেই দেখি, এমনটা ভেবে মিতুর আম্মু মিতুর বালিশের পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে কন্টাক্ট খুজে টুজে দেখলে ‘বাবু’ নামে নাম্বার সেভ করা। উনি নাম্বারটা নিয়ে নিজের এক টাকা দিয়ে কল করে বললেন, বাবা, আমার নাম্বারে একশোটা টাকা রিচার্জ করে দাও তো। আর্জেন্ট।

ওদিকে মিতুর ফোনে বাবু নামে সেভ করা নাম্বারটা মিতুর বয়ফ্রেন্ড আকাশের। আকাশ হঠাৎ করে শ্বাশুরীর কল পেয়ে যেন মহাকাশ থেকে পড়লো। মিতুর ফোনে টাকা না থাকলে মাঝে মাঝেই মিতু এই নাম্বার থেকে মিসকল দেয়। আকাশের ফোনে তাই নাম্বারটা ‘শ্বাশুড়িমা’ নামে সেভ করা আছে। আকাশ ভাবলো মিতু কি তাহলে ওদের ব্যাপারে আম্মুকে সব বলে দিয়েছে? যাই হোক, সেটা পরে দেখা যাবে। আগে ও তখনই দ্রুত বাইরে গিয়ে শ্বাশুড়ীর ফোনে একশো টাকা লোড করে দিলো।

পরদিন মিতুর সাথে দেখা হতেই আকাশ বিষয়টা উপস্থাপন করলো।

– জানো, গতকাল রাতে আমার ফোনে তোমার আম্মুর নাম্বার থেকে কল আসা দেখে আমি তো ভয়ই পেয়ে গেছিলাম।
– কিসের ভয়? ওয়েট, ওয়েট, আম্মু তোমাকে ফোন করছিলো?
– হ্যা, তো আর কি বলছি! আমি ভাবছি কি না কি বলবে!
– সিরিয়াসলি? আম্মু তোমার নাম্বার কই পাবে? তাছাড়া আম্মু ফোন করে কি বলেছে শুনি?
– বলেছে উনার নাম্বারে একশো টাকা রিচার্জ করে দিতে।
– আকাশ, তুমি আবার জোক করতেছ আমার সাথে? মিথ্যাবাদী কোথাকার। আমার আম্মু ফকির না ওকে? যে, মানুষের কাছে কল দিয়ে রিচার্জ চাইবে।
– তুমি তো ঠিকই চাও, তাই ভাবলাম তোমার আম্মুও..!
– হোয়াট, আকাশ! তুমি আমাকে ফোনে কবে টাকা দিছো সেটার খোটা দিচ্ছো? আর শুধু আমাকে না আমার আম্মুকেও তুমি এর মধ্যে টেনে এনে মিথ্যা বলে অপমানিত করছো! আমি ভাবতে পারিনি তুমি এতোটা নীচে নামবা।
– না ইয়ে মানে মিতু আমি ওটা মিন করিনি।
– তুমি অবশ্যই মিন করছো। আমার আম্মুকে নিয়ে তুমি যা ইচ্ছে তাই বলবা আর আমি মেনে নিবো? ছি: আকাশ ছি:
– ইয়ে আসলে কাল রাতে তোমার আম্মু…!
– এনাফ ইজ এনাফ। তুমি আম্মুকে নিয়ে আর একটা কথা বললেই আজ এখনি আমাদের ব্রেকাপ হবে। আমি আর জীবনে তোমার সাথে কথা বলবো না।
– আচ্ছা মানে, আমি স্যরি। আর বলবো না, আমাকে মাফ করে দাও। ভুল আমারই।

আকাশ ভাবলো এই ছোট বিষয়টা নিয়ে শুধু শুধু ঝামেলা না করাই বেটার। পুরাটা নিজের বোকামির জন্য কমপ্লিকেটেড হয়ে গেছে।

– ইটস ওকে, মনে থাকে যেন। মিতু কাদো কাদো গলায় বললো, আমি তোমার গার্লফ্রেন্ড, আমি তোমার কাছে টাকা চাইতেই পারি। তাই বলে ভেবোনা আমার ফ্যামিলি ছোটলোক। তোমার কাছে টাকা চাইবে।
– আচ্ছা বাবু মাফ চাইছি তো। প্লিজ আর রাগ করেনা। আর কক্ষনো তোমার আম্মুকে নিয়ে কিছু বলবো না। তোমার আম্মু তো আমারো আম্মু, না? এখন একটু হাসো দেখি!
– মিতু কপট ঢং করে চোখ মুছলো।

ওদিকে সজিব, মানে মিতুর ছোটভাই একশো টাকা নিয়ে বাবু স্টোরে গেলো। বাবুভাই সজিবের হাত থেকে একশো টাকা নিয়ে বললেন, কি সজিব, রিচার্জ লাগবে? নাম্বার বলো।

সজিব বললো, না ভাইয়া, আম্মু বলেছে এটা আপনাকে দিতে। কোনো রিচার্জ লাগবে না।
– কিন্তু শুধু শুধু টাকা কেন নিবো?
– সেটা তো জানিনা, আম্মু দিতে বলেছে আমাকে তাই দিলাম। আপনি রাখেন।
বাবুভাই ভাবলেন, এটা মনে হয় অগ্রিম বিল। পরে কখনো আন্টি ফোন দিয়ে ফ্লেক্সি চাইবে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ টাকাটা রেখে দিলেন।

এর ঠিক দুই তিনদিন পর মিতুর আম্মুর আবারো রিচার্জ দরকার হলো। উনি সেদিনই মিতুর ফোন থেকে বাবু নামে সেভ করা নাম্বারটা উনার ফোনে ‘দোকানদার বাবু’ নামে সেভ রেখেছিলেন। সেটাতে কল দিয়ে আবারো বললেন, ‘বাবা আমার নাম্বারে দুইশো টাকা রিচার্জ দাও। আর মিতুর আব্বুর নাম্বারেও দুইশো দিও। নাম্বার লেখ।’
ওপাশ থেকে আকাশ বললো, ‘নাম্বার আছে। আমি পাঠাচ্ছি।’

কিছুক্ষণ পর টাকা আসলো। মিতুর আম্মু এটা ভেবে অবাক হলেন যে, মিতুর বাবার নাম্বার দোকানদার কই পাইছে? পরক্ষণে ভাবলেন নাম্বার পাওয়া আজকাল কোনো ব্যাপার নাকি? হয়তো মিতুর বাবা কখনো ফ্লেক্সি করতে গেছিলেন তখন রেখে দিছে।

আকাশ একবার ভাবলো নাম্বার ফেক। কিন্তু মনে পড়লো, মহিলা মানে ওর শ্বাশুড়ী মিতুর নামও বলেছে। তাছাড়া এই নাম্বারে ওর ফোনে অনেক মিস কলের হিস্ট্রি, নাম্বার ভুল হওয়া ইম্পসিবল। মিতুর আম্মু কি তাহলে আমাকে কোনো পরীক্ষা করছে? সাতপাঁচ ভেবে ও টাকা রিচার্জ করে দিলো। কিন্তু সেকথা মিতুকে বলার সাহস পেলো না। আবার একটা ঝগড়া বাধবে নির্ঘাত। তারচে ব্যাপারটা টাকার উপর দিয়েই যাক।

এদিকে পরদিন বাবুভাই সজিবের হাত থেকে চারশো টাকা পেয়ে যারপরনাই অবাক। তার সাথে এগুলো কি হচ্ছে! সজিব আবার টাকা ফেরতও নেবে না। বাবুভাই টাকাটা রেখে দিয়ে ভাবলেন, আন্টি বা আঙ্কেল দোকানে আসলে বিস্তারিত শোনা যাবে।

একসপ্তাহ পর কাহিনী আরো সিরিয়াস আকার ধারণ করলো। রাতে আকাশের ফোনে মিতুর আম্মুর কল আসলো। ফোন ধরতেই মিতুর আম্মু বললো, বাবা, তোমার আঙ্কেলের একটা ঝামেলা হয়ে গেছে। এদিকে ব্যাংকও বন্ধ। তুমি এখুনি আমার বিকাশে ত্রিশ হাজার টাকা পাঠাও। একটু তাড়াতাড়ি। রাখলাম।
আকাশ ভাবলো, এটা কি তাহলে ফাইনাল পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে ওর? যে, ও মিতুকে বিয়ে করে খাওয়াতে পরাতে পারবে কিনা?

এই পরীক্ষায় তো ফেল হলে চলবে না। আকাশ তখনই কয়েকজনের থেকে ধার কর্জ করে ত্রিশ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলো।

পরদিন সকালে সজিবের হাতে পুরো ত্রিশ হাজার টাকা পেয়ে বাবুভাই যেন আকাশ থেকে পড়লেন। টাকাটা নিয়ে ভাবলেন রাতে দোকান বন্ধ করে উনি নিজেই সজিবদের বাসায় যাবেন। কাহিনী কি শুনতে।

এদিকে মিতুর আম্মু ডেইলি ডেইলি সারাদিন মিতুকে ফোনে কথা বলা দেখে সন্দেহ করলেন যে মেয়ে নির্ঘাত প্রেমে পড়েছে। উনার সন্দেহ আরো জোরদার হলো লুকিয়ে লুকিয়ে মিতুর কথা শুনে।
মিতু বলছে, ‘ওকে বাবু আই লাভ ইউ। উম্মাহ!’
আচ্ছাহ, তাইলে এদ্দূর? এইটা কোন বাবু? ভাবলেন মিতুর আম্মু। দোকানদার বাবু না তো?
মিতু ফোন রেখে বাথরুমে ঢুকতেই উনি লুকিয়ে লুকিয়ে নাম্বার চেক করলেন। যা ভেবেছেন, ঠিক তাই। নাম্বার দোকানদার বাবুর। সেদিনই উনি এই নাম্বার মিতুর ফোন থেকে নিয়েছেন। ছি: ছি: ছি; শেষপর্যন্ত এই? উনি জাস্ট ভাবতে পারছেন না। মিতুকে কিছু না বলে তখনই মিতুর বাবার অফিসে রওয়ানা দিলেন। এই ঘটনা আগে মিতুর বাবাকে বলা দরকার। সমাজে আর কোনো মান সম্মান থাকল না বুঝি।

মিতুর আব্বু পুরো ঘটনা শুনে বিশ্বাসই করতে পারলেন না প্রথমে।

– দেখ, তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে।
– আরে কোনো ভুল হচ্ছে না। আমি সেদিন যখন মিতুকে নিয়ে বাবুর দোকানে গেছি আমার তখনই সন্দেহ হইছিলো। মিতুর দিকে কেমন উল্টাপাল্টা ভাবে তাকাচ্ছিলো হারামজাদাটা। তার উপর সেধে ফোন নাম্বার দিলো। শিট, আমি তখন কেন যে বুঝিনি। আমি নিজে আরো মিতুকে নিতে বলেছিলাম নাম্বার। সেদিন থেকে ঝামেলার শুরু হইছে। তুমি আজই কুত্তার বাচ্চা বাবুরে একটা শিক্ষা দিবা। আমারে আরো বলে আমার দোকান তো আপনারই দোকান। কত বড় সাহস বেয়াদবটার। আমি বলার সাথে সাথে টাকা পাঠায়ে দেয়। সেদিন সজিব বললো, ওর কাছ থেকে নাকি টাকা ফেরত নিতে চায়নি। ও ভাবছে টা কি? দুই টাকার রিচার্জ ফ্রি দিয়ে মিতুর সাথে প্রেম করবে? তুমি আজই কিছু করো।

মিতুর আব্বুকে দোকানে আসতে দেখে বাবু ভাই ভাবলেন টাকার বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন।

– আরে আঙ্কেল, আপনাকেই তো খুঁজতেছি মনে মনে।
– চুপ, একটা কথা না। তুই আমারে চিনস? আমি আস্তে করে বলে যাচ্ছি মিতুর লাইফ থেকে সরে যা। নইলে আমার মতো খারাপ আর কেউ হবেনা। দিস ইজ লাস্ট ওয়ার্নিং।

বাবু ভাই অবাক হয়ে মিতুর আব্বুর চলে যাওয়া দেখলেন। উনি কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলেন না। আশ্চর্য হওয়ার সব ক্ষমতা বোধহয় শেষ হয়ে গেছে। তবে পুরো ব্যাপারের মধ্যে হালকা কানেকশন খুজে পেলেন বাবুভাই। কোনো এক কারনে হয়তো মিতুর আব্বুর ধারনা হয়েছে উনি মিতুকে লাইন মারতেছেন। এজন্য বাংলা সিনেমার নায়িকার বাবার মতো প্রথমে টাকা পাঠাইছেন, পরে হুমকি দিয়ে গেলেন।

কিন্তু বাবু তো মিতুকে ছোট বোনের মতো দেখে। তাহলে ওর বাবার এমনটা ভাবার কারণ কি? কেউ শত্রুতা করে মিতুর আব্বুর কান ভারী করেনি তো? কে সে?

মিতু লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ার নাম করে ফোনে কথা বলতেছে। মাত্রই, ‘বাবু খাইছো?’ প্রশ্ন করে আকাশের উত্তরের অপেক্ষা করছে, এমন সময় মিতুর আম্মু পেছন থেকে খপ করে ফোন কেড়ে নিলো।
মিতু ভয়ে কেপে উঠে আবিস্কার করলো আম্মু আর আব্বু দুজনই দাঁড়ানো।

মিতুর আম্মু ঠাস করে একটা চড় কষালেন।

– বাবু খাইছো? আহা! দামড়া একটা ছেলেরে তুমি করে বলা হচ্ছে। সত্যি বল, বাবু তোকে কি এমন জাদু করেছে যে তুই সমস্ত শিক্ষা দীক্ষা ভুলে গেলি? জবাব দে। ছি ছি ছি, আমি জাস্ট ভাবতে পারিনি তুই এতো নীচে নামবি।

মিতু কোনো কথা না বলে চুপ করে আছে।
এবার মিতুর আব্বু চোখ গরম করলেন, ‘মিতু তুই এই হারামজাদাকে ভুলে যা। আমি কালই তোর জন্য পাত্র দেখবো। পড়ালেখা সব বন্ধ। যে পড়ালেখা তোকে থার্ডক্লাশ একটা ছেলের থেকে দূরে রাখতে পারেনি সেই পড়ালেখা হওয়ার চাইতে না হওয়াই ভালো। এই ফোন আমি নিয়ে যাচ্ছি। বাড়ির বাইরে পা ফেললে পা ভেঙে দিবো, মনে থাকে যেন।

দুইদিন পর।
বাসায় পাত্রপক্ষ এসেছে। মিতুকে দেখতে। বেশ পছন্দ করলেন তারা ওকে। এদিকে আকাশের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। মিতু রাতের বেলা এক ফাকে ছাদে উঠে চারতলার উপর থেকে লাফ দিলো।
মিতুর ঘরে একটা চিরকুট পাওয়া গেলো, “আমি যাকে ভালোবাসি তাকে যদি না ই পাই, তাহলে এ জীবন রেখে কি লাভ!”

মিতু আইসিইউ-তে। জ্ঞান নেই। তবে ডাক্তার বলেছে, এই যাত্রায় বেঁচে যাবে।

মিতুর আম্মু মিতুর আব্বুকে বললো, দেখ, মেয়ে আমাদের একটাই। এইবার বেচে গেছে, পরেরবার যদি আবারো এমন কিছু করে? তুমি প্লিজ বাবুর বাসায় কথা বলো। আমাদের মেয়ে তো বেচে থাক। তাছাড়া ছেলে যে একেবারে খারাপ, তা ও না। দোকান বাদ দিয়ে তোমার সাথে ব্যাবসা দেখবে নাহয়।

– কিন্তু সমাজ কি বলবে? এলাকার লোকজন?
– মানুষের কথার দাম কি আমার মেয়ের জীবনের চাইতে বেশি? তুমি আজই বাবুর বাসায় যাও।

মিতুর আব্বুর থেকে বাসায় বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, বাবু ভাই অবাক হওয়ার শেষ লেভেলে পৌছে গেলেন। ওদিকে বাবু ভাইয়ের বাবা মা খুব খুশি। নিজের প্রায় অশিক্ষিত ছেলের জন্য এতোবড় ঘরে বিয়ের প্রস্তাব? তারা জীবনেও ভাবতে পারেনি। তাড়াহুড়ো করে বিয়ের ডেট ফিক্সড হলো। দুই সপ্তাহ পর বিয়ে। ততোদিনে মিতু সুস্থও হয়ে যাবে।

এদিকে আকাশ প্রায় পাগলের মতন হয়ে গেছে। গত প্রায় একমাস মিতুর কোনো খোঁজখবর নেই। ফোনও বন্ধ, ফেসবুকেও ডিএক্টিভ। এমনকি মিতুর কোনো বান্ধবীও কিছু জানেনা। কি করবে আকাশ! টেনশনে লেখাপড়া হচ্ছে না আকাশের। শরীর খারাপ হয়ে গেছে। কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।

এমন সময় একদিন আকাশের ফোনে মিতুর আম্মুর কল আসলো। আকাশ আশার আলো দেখলো। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মিতুর আম্মু বললো, ‘বাবু তুমি কোথায়? এতো দেরি করছো কেন? বাসায় সব মেহমান ওয়েট করতেছে। নিজের এনগেজমেন্টের দিন এতো দেরি করলে হয়? তাড়াতাড়ি আসো।’
ফোন রেখে মিতুর আম্মু উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘বাবুর সাথে কথা হলো, আসতেছে এখনই।’

আকাশ অবাক হয়ে ভাবলো, আজ এনগেজমেন্ট ওর আর ওকে মাত্র জানানো হচ্ছে? তাছাড়া মিতুর আম্মু ওকে বাবুই বা কেন ডাকতেছে।
তবে সুযোগ যেহেতু আসছে গিয়ে দেখিই না।
ও তাড়াহুড়া করে একটা আংটি কিনে নিয়ে মিতুর বাসার উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দিলো।

মিতুও ওর আম্মুর কথা শুনে অবাক হলো, আকাশকে আম্মু বাবু কেন বলতেছে।

সাজানো হলরুমে মেহমানে ভর্তি। মিতুও সেজেগুজে রেডি। ঠিক এমন সময় ঠিক একই সাথে দরজা দিয়ে দোকানদার বাবুভাই তার ফ্যামিলির সাথে এবং আকাশ একা একা ঢুকলো।

মিতুর আব্বু আম্মু বাবুভাইয়ের দিকে এগিয়ে গেলো।
‘উফ, আপনাদের আসতে এতো দেরি হলো? সবাই বর দেখতে চাচ্ছে আর বরেরই খোজ নেই।’
আর মিতু এক দৌড়ে গিয়ে আকাশকে জড়িয়ে ধরলো।
‘বাবু আমি তোমাকে কত্তো মিস করেছি জানো? শেষপর্যন্ত তোমাকে পেলাম। আমাদের বিয়েটা হচ্ছে ফাইনালি।’

আমন্ত্রিত সকল মেহমান তাদের লাইফে এতো আশ্চর্যজনক কিছু কোনোদিনই দেখেনি। ভবিষ্যতে দেখবে তার সম্ভাবনাও নাই। তারা সমস্ত ভাষা হারিয়ে অবাক হয়ে দুই দলের দিকেই চেয়ে রইলো…!

গল্প শেষ!
এই গল্পের কোনো দ্বিতীয় পার্ট নেই।

Most Popular

To Top